আসওয়াদ আনাসি এর ফেতনা

আসওয়াদ আনাসি এর ফেতনা – সময়টা ছিল রাসূলের শেষ জীবনে। চারিদিকে ইসলামের জয়-জয়কার। দলে দলে মানুষ মুসলমান হচ্ছে। কেউ বা মুসলমানদের এমন উত্থান দেখে ভয়ে ভয়ে ও ইসলাম গ্রহণ করেছে।

আসওয়াদ আনাসি

ইয়ামেনে আসওয়াদ আনাসির নবুয়ত দাবী

আসওয়াদ যখন শুনতে পায় নবীজি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তখনই সে নবুয়তের দাবী করে বসে। সে নিজেকে রাহমানুল  ইয়ামান বলে দাবী করতো।

সে বলতো, নবী সা. ও নবী। আমিও নবী। তার নিকট নাকি সাহিক ও শাকিক নামে দুজন ফেরেশতা আসতো।

প্রথমদিকে সে নবুয়তের দাবী গোপন রেখে লোকজনকে নিজের পাশে জড়ো করে। যখনসে বুঝতে পারে যে,

এখন যথেষ্ঠ জনসমর্থন আছে, তখনই সে নবুয়তের দাবী করে বসে।

সে ছিল আনাস গোত্রের সদস্য। সর্বপ্রথম আনাস গোত্রের যুবকরা তার ডাকে সাড়া দেয়। এরপর আশেপাশের আরো অনেক গোত্র তাকে সমর্থন করে।

আসওয়াদ আনাসির ডাকে যারা সাড়া দিয়েছিল, তারা নামে মুসলমান হলেও তারা মূলত সন্তুষ্টিচিত্তে মুসলমান হয় নি।

তারা ইসলামের এমন উত্থান দেখে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য মুসলমান হয়।

আসওয়াদ আনাসির ইয়ামেন দখল

রাসূলের যামানায় ইয়ামেনের রাজধানী সানাআর গভর্নর ছিল, শাহার বিন বাজান রা.। সানাআয় আসওয়াদ আনাসির সাথে শাহার রা. এর তুমুল যুদ্ধ হয়।

যুদ্ধে শাহার রা. শাহাদাতবরণ করেন। সানাআবাসী পরাজিত হয়।

আসওয়াদ আনাসির মুসলিম বিদ্বেষ

আসওয়াদ আনাসি মুসলমানদের সহ্য করতে পারতো না। সে মুসলমানদের নির্মমভাবে হত্যা করতো।

সে মুসলমানদের শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে কিছু ভয়ানক পদ্ধতি অবলম্বন করে।

একবার নুমান নামে এক মুসলমানকে ধরে এনে একটি একটি করে অঙ্গ কেটে হত্যা করে। এই ঘটনার পর তার অধীনে থাকা মুসলমানরা নিজেদের ইসলাম গোপন রাখে।

ফারওয়া ইবনে মুসাইক রা. নবীজির নিকট আসওয়াদ আনাসির ব্যাপারে পত্র লিখেন। নবীজি তখন জানতে পারেন এই মুরতাদের কথা।

এদিকে আবু  মুসা আশআরী রা. এবং মুআজ ইবনে জাবাল রা. সাকাকিক ও সাকুন এলাকার পাশে এসে জমায়েত হন।

রাসূল সা. সেখানকার মুজাহিদদের নির্দেশ দেন, যে কোনোভাবেই হোক, যেন আসওয়াদ আনাসিকে হত্যা করা হয়।

আসওয়াদ আনাসির সাথে যুদ্ধ

ইয়ামানে তখন মুসলিম সেনাপতিরা একত্রিত হলো। তারা নবীজির দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

অবশেষে যুদ্ধে মুসলমানরা জয়লাভ করে পুনরায় ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেয়।

আসওয়াদ আনাসিকে হত্যা

হযরত ফিরোজ দাইলামি রা. একরাতে আসওয়াদের ঘরে প্রবেশ করে তাকে হত্যা করেন। এই খবর আল্লাহ তা’আলা ওহীর মাধ্যমে নবীজিকে জানিয়ে দিলেন।

তখন তিনি উপস্থিত লোকদের সুসংবাদ জানিয়ে বললেন, বরকতময় ঘরের বরকতময় ব্যক্তি আসওয়াদকে হত্যা করেছে।

নবীজিকে তখন জিজ্ঞাসা করা হয়, কে তিনি?

নবীজি বললেন, ফিরোজ

এই ঘটনার কিছুদিন পর নবীজি ইন্তিকাল করেন। আর নবীজি এটা ওহীর মাধ্যমে জেনেছিলেন। কোনো লোক মারফতে নয়।

তাই এই খবর বাহিরের তেমন কেউ জানতো না। হযরত আবু বকর রা. খেলাফতের মসনদে আরোহণের পর সর্বপ্রথম ইয়ামেন থেকে দূত এসে আসওয়াদ আনাসির হত্যার বিস্তারিত সুসংবাদ দেয়।

তাই আবু বকর রা. এর নিকট এটাই ছিল সর্বপ্রথম সুসংবাদ।

তথ্যসুত্র

১. মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খন্ড ৩।

২. আবু বকর সিদ্দিক। কালান্তর প্রকাশনী।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমাদের লেখাগুলো সূচিপত্র অনুযায়ী দেখুন www.subject.arhasan.com এই ওয়েবসাইটে।
আমরা কোন প্রকাশনীর বই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করি তা জানতে ভিজিট করুন www.arhasan.com/book এই ওয়েবসাইটে।
আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করতে পারেন এই লিংক থেকে

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com