Ghoul Rifle জায়নবাদীদের দুঃস্বপ্ন

Ghoul Rifle – শহীদ ইজ্জউদ্দিন আল কাসসাম ব্রিগেড, যা ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সামরিক শাখা।

তাদের ত্যাগ ও অবদান গত দশ বছর যাবৎ ফিলিস্তিনের সংগ্রামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।

দখলদার ইহুদীবাদীদের সাথে সংঘাতের ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক এবং এই দলটি ফিলিস্তিনে জিহাদকে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

বিশ্বের সমস্ত পাপিষ্ঠ লোকদের সমর্থিত এই ইহুদিবাদী দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন নতুন সামরিক সরঞ্জাম এবং সক্ষমতা অর্জন করেছে।

আল কাসসাম ব্রিগেড গাজ্জা উপত্যকায় আগ্রাসনের সময় বিভিন্ন এলাকায় দখলদার জায়োনিস্ট অফিসার এবং সৈন্যদের লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি স্নাইপার অপারেশন বাস্তবায়নের ঘোষণা করার পর থেকে Ghoul Rifle (ঘৌল রাইফেল) টি জনসম্মুখে আসে।

আল কাসসাম ব্রিগেডের স্নাইপাররা তাদের অব্যর্থ নিশানার দক্ষতা এবং নির্ভুল নিশানার মাধ্যমে জায়োনিস্টদের বিভিন্ন স্থানে হত্যা করেছে।

Ghoul Rifle এর বৈশিষ্ট্য

আল কাসসাম ব্রিগেডের Ghoul rifle টি দূরবর্তী লক্ষ্য এবং সঠিক নিশানা করতে সক্ষম। এটি প্রায় ১৫০০ মিটার দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

এই রাইফেলটি ১২.৭ মিলিমিটার গোলাবারুদ ব্যবহার করে এবং এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১.৫ মিটার।

বর্তমান বিশ্বের উন্নত স্নাইপার রাইফেলগুলোতে দূরবর্তী নিশানা এবং উন্নত বারুদ ব্যবহার করে।

যেমন, রাশিয়ান ‘ড্রাগুনভ’ রাইফেল ১২০০ মিটার দূর থেকে নিশানা করা যায় আর অস্ট্রিয়ান ‘স্টেয়ার’ রাইফেল ১৫০০ মিটার দূর থেকে নিশানা করতে সক্ষম।

Ghoul rifle টি প্রকাশের পর আল কাসসাম ব্রিগেডের কার্যক্রমে অত্যন্ত দুর্দান্তভাবে এটির সফলতা সকলের সামনে এসেছে।

গত এক সপ্তাহে (২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ এর আগের সপ্তাহ ) এই রাইফেল দ্বারা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুর শিকার হওয়ায় জায়োনিস্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

‘ঘৌল রাইফেল’ এর প্রথম প্রকাশ

আল আসসাম ব্রিগেডের অন্যতম কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার আদনান আর-ঘৌলের ছাত্ররা তাদের শিক্ষকের প্রতি অনুগত ছিল। এই রাইফেলটি তার নামেই নামকরণ করা হয়।

২০১৪ সালে আল কাসসাম ব্রিগেড “আসফে মা’কুল” যুদ্ধের সময় সর্বপ্রথম এই ঘৌল রাইফেল ব্যবহার করে।

সে সময় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সাথে ৫১ দিন ধরে যুদ্ধ চলমান থাকে।

এই যুদ্ধের সময় আল কাসসাম ব্রিগেড অনেক দূর থেকে বেশ কিছু জায়োনিস্ট সৈন্য ও অফিসারদের হত্যা করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে এগুলোর ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হলে বিশ্বে তোলপাড় পড়ে যায়।

প্রথম জনসম্মুখে Ghoul Rifle (ঘৌল রাইফেল)

২০২১ সালে ‘সাইফ আল কুদস’ যুদ্ধের সময় আল কাসসাম ব্রিগেড ‘আ’মা’ নামে একটি অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানটি হয় গাজ্জা উপত্যকার পূর্ব সীমান্তে দখলদারদের নজরদারি এবং নজরদারি টাওয়ারকে লক্ষ্য করে। এর ফলে জায়োনিস্টরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পতিত হয়।

আল কাসসাম ব্রিগেডের স্নাইপাররা যুদ্ধের প্রথমেই গাজ্জা উপত্যকার পূর্ব সীমান্তে ইহুদিবাদী মনিটরিং সিস্টেমকে লক্ষ্য করে কাসসাম ঘৌল রাইফেল ব্যবহার করে অপারেশন পরিচলনা করে।

এর ফলে জায়োনিস্টদের ব্যারাক ও মনিটরিং সিস্টেম প্রায় ভেঙ্গে পড়ে।

তুফানুল আকসা যুদ্ধে ঘৌল রাইফেল

আল কাসসাম ব্রিগেড ৭ অক্টোবর ধরে চলমান তুফানুল আকসা যুদ্ধের সময় এই ঘৌল রাইফেলকে আবার দৃশ্যপটে আনে।

গাজ্জা উপত্যকায় দখলদার জায়োনিস্ট সৈন্যদের প্রবেশের কারণে নতুনভাবে ghoul rifle ব্যবহার শুরু করে কাসসাম ব্রিগেড।

Ghoul Rifle
ঘৌল রাইফেল তৈরিতে ব্যস্ত হামাসের ইঞ্জিনিয়াররা

তুফানুল আকসা যুদ্ধে আল কাসসাম ব্রিগেড ৩০টি সামরিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে ৫৭টি মিশন বাস্তবায়ন করা হয়।

এই অভিযানের মধ্যে ৩৪টি অভিযানে আল কাসসাম ব্রিগেড ঘৌল রাইফেল ব্যবহার করে।

এর ফলে কয়েক ডজন জায়োনিস্ট সৈন্য ও অফিসার গাজ্জায় নিহত হয়।

আল কাসসাম ব্রিগেডের সামরিক ভিডিও ফুটেজে দেখানো হয় যে, অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মুজাহিদরা যুদ্ধক্ষেত্রে কাফেরদের নিশানা করছে।

একটি ক্লিপে দেখা গেছে, জাবালিয়া ক্যাম্পে একজন জায়োনিস্ট অফিসার ট্যাঙ্কের ভেতরে নিশানা করায় নিহত হয়।

এছাড়াও আরো বিভিন্ন স্থানে আল কাসসাম ব্রিগেড জায়োনিস্টদের লক্ষ্যবস্তু করে।

গাজ্জা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে তাল আল হাওয়া এলাকায় কিছু জায়োনিস্ট সৈন্য সাধারণ জনগণকে হত্যার জন্য লুকিয়ে ছিল।

আল কাসসাম ব্রিগেডের স্নাইপাররা দক্ষতার সাথে তাদেরকে জাহান্নামে পাঠাতে সক্ষম হয়। এছাড়াও গাজ্জার পশ্চিমে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দখলদাররা ঘাঁটি বানিয়ে অবস্থান করছিল। সেখানেও তাদেরকে নিশানা করা হয়।

স্নাইপারদের মাঠ পর্যায়ে অপারেশন

জায়োনিস্ট ইসরাইল দখন বিবৃতি দিয়ে বলেছিল, উত্তর গাজ্জা উপত্যকা এবং গাজ্জা শহর তারা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে।

তখনই আল কাসসাম ব্রিগেডের বিশেষ এই স্নাইপার বাহিনী বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত হয়। এর পাশাপাশি কাসসাম ব্রিগেডের নিয়মিত বাহিনী আর্টিলারি এবং অ্যান্টি ট্যাঙ্ক দিয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

আল কাসসাম ব্রিগেডের মুজাহিদদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উত্তর গাজ্জা উপত্যকা থেকে দখলদার জায়োনিস্টরা সরে যেতে বাধ্য হয়।

Ghoul Rifle

আল কাসসাম ব্রিগেড গাজ্জার দক্ষিণে স্নাইপারদের রেখেছে এবং নিয়মিত যুদ্ধ পরিচালনা করছে।

যতক্ষণ না জায়োনিস্টরা নিহত হবে ততক্ষণ এটি চলমান থাকবে।

মুজাহিদরা কয়েক মিনিটের মধ্যেই নির্দিষ্ট স্থানে হামলা করে নিজেদের নির্ধারিত স্থানে চলে আসে। ভূমি রক্ষা করা যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এটি দখল করে শুধু সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করাটাই যথেষ্ঠ নয়। ইতিহসা ও আমাদের সোনালী অতীত আমাদেরকে বলে, বিজয় তাদেরই হয় যারা ন্যায়সঙ্গত অবস্থানে থাকে।

তথ্যসুত্র

গত ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ তারিখ আল কাসসাম ব্রিগেডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত بندقية الغول.. كابوس الضباط والجنود الصهاينة শিরোনামে লেখাটির বাংলা অনুবাদ

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top