হযরত আবু বকর এর রাজনৈতিক জীবন

নবী সা. এর হিজরতকালে হযরত আবু বকর রা. ছিলেন তার সফরের সঙ্গী।

পুরুষদের মধ্যে সবার আগে ইসলাম গ্রহন করেছেন হযরত আবু বকর রা.। আবু জাহল যখন তাকে বললো,

তোমার নবী তো বলছে সে নাকি একরাতে সাত আসমান ঘুরে এসেছে। কিন্তু এটা কি তুমি বিশ্বাস করো? তখন আবু বকর রা. বলেছিলেন, তিনি যদি এর থেকেও আশ্চর্যজনক কিছু বলেন, সেটাও আমি বিশ্বাস করবো।

রাসূল রা. এর ইন্তিকালের পর সবাই হযরত আবু বকর রা. কে একবাক্যে খলিফা হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন।

কেউ ই তার খেলাফত নিয়ে বিরোধিতা করেন নি। কারণ, সবাই জানতেন তিনিই হলেন যোগ্য ব্যক্তি।

এমনকি নবীজি জীবনের সর্বশেষ দিনগুলোতে হযরত আবু বকর রা. কে ইমাম হিসেবে সামনে এগিয়ে দিয়েছিলেন।

এই লেখায় যা যা থাকছে :

রাসূলের ইন্তিকালের আগে

নবীজির মৃত্যুর আগে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। উনার জ্বরের তীব্রতা খুব বেড়ে যায়। ফলে তিন অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরইমধ্যে ইশার নামাজের সময় হয়ে যায়।

তাই চেতনা ফিরে আসতেই তিনি উপস্থিত লোকদের জিজ্ঞাসা করেন, নামাজ কি পড়ে ফেলেছ?  তারা বলেন, না ইয়া রাসূলাল্লাহ।

আয়েশা রা. তখন তাকে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! লোকেরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। তখন রাসূল সা. মসজিদে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু দুর্বলতার কারণে সম্ভব হলো না।

এরপর আবার বেঁহুশ হয়ে পড়লেন। এভাবে তিনবার বেহুশ হয়ে পড়ার পর নবীজি বললেন, “আবু বকরকে বলো, তিনি যেন নামাজ পড়ায়।”

হযরত আয়েশা রা. আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আব্বাজান খুবই নরম দিলের মানুষ। তিনি আপনার জায়গায় ইমামতি করার ভার সইতে পারবেন না।

তখন নবীজি এই কথা উপেক্ষা করে শক্ত ভাষায় বললেন, “আবু বকরকেই আদেশ করো, যাতে তিনি নামাজের ইমামতি করেন।”

এটাই ছিল রাসূলের পরে উম্মতের প্রতিনিধি ও নায়েব বানানোর সুক্ষ্ম ইঙ্গিত। যদিও তখন মুসলমানরা ঈমান-আখলাক, ভ্রাতৃত্ববন্ধন, রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনায় রাসূলের প্রতিনিধি ছিলেন,

তারপরও তিনি উম্মাহর মধ্য থেকে একজনকে নায়েব করে যাওয়ার ব্যাপারে সুক্ষ্ম ইঙ্গিত প্রদান করেছিলেন।

হযরত আবু বকর রা. রাসূলের অসুস্থতার দুশ্চিন্তায় এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে, তাই তিনি তৎক্ষণাৎ রাসূলের হুকুম পালন করতে পারেন নি।

তাই হযরত উমর রা. আগ বেড়ে নামাজ পড়ানোর জন্য দাঁড়ালেন। রাসূল সা. যখন উমরের কণ্ঠ শুনলেন তখন তিনি জোরে আওয়াজ দিয়ে বললেন, “না, না, না। আবু বকরই নামাজ পড়াবে।”

এরপর তিনি বললেন, “আবু বকরকে ছাড়া কাউকে ইমাম আল্লাহ তায়ালাও বানাতে দিবেন না এবং অন্য মুসলমানরাও বানাবে না।”­­

কেন রাসূল আবু বকরের নাম প্রকাশ করেন নি

যদিও রাসূল সা. তার নায়েবের ব্যাপারে স্পষ্টভাবে নাম উল্লেখ করা অনুচিত মনে করতেন। তাই তিনি তা মুসলমানদের শূরা (কমিটি) এর পরামর্শে ছেড়ে দেয়াটাই পছন্দ করতেন।

কিন্তু একদিন হঠাৎ মনে করলেন, এ বিষয়ে যেন মুসলমানরা পরস্পর দ্বন্দ্ব-কলহে লিপ্ত না হয়।

তাই তিনি বললেন, আবু বকর ও তার ছেলেকে ডেকে আনো। আমি কিছু লিখে দিই। এমন যেন না হয়, আবু বকরের উপস্থিতিতে কোনো ক্ষমতালোভী এসে মাঝখানে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

নবীজির মৃত্যুর পর আবু বকর রা. এর ভাষণ

নবীজির মৃত্যুর পর সাহাবারা বিশ্বাস করতে পারেন নি, তাই অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেন।

হযরত উসমান রা. এর অবস্থা এমন হয়ে গিয়েছিল, তিনি শ্রবণশক্তি যেন হারিয়ে ফেলেছেন।

হযরত আলী রা. এক কোণে নির্বাক ও নিঃশব্দে বসে রইলেন। আর উমর রা. যেন নিজের কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন।

তিনি উম্মুক্ত তরবারি হাতে নিয়ে বলতে লাগলেন, যে বলবে রাসূল ইন্তিকাল করেছে আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিব।

হযরত আবু বকর রা. এই সময়ে মহৎ ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।

তিনি নবীজির মৃত্যুর খবর পেয়ে মদীনায় ছুটে আসলেন। সে সময় তিনি মদীনার পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামে ছিলেন।

নবীজির হুজরায় প্রবেশ করে দেখেন, নবীজিকে চাদরবৃত করে রাখা হয়েছে।

তিনি তখন চাদর উঁচিয়ে কপাল মোবারকে চুমু খেলেন। কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর উৎসর্গ হোক। আপনার জীবনও ছিল উত্তম এবং আপনার ওফাত ও উত্তম।

এরপর আবু বকর রা. মসজিদে গমন করলেন। সেখানে উমর রা. পাগলের ন্যায় আচরণ করছিল। উপস্থিত সাহাবারা শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিল।

আবু বকর রা. ওমর রা. কে চুপ করালেন। এরপর সাহাবাদের সম্বোধন করে বললেন,

“বন্ধুগণ! যারা মুহাম্মাদ সা. এর ইবাদত করতে তারা জেনে রাখ, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। আর যারা আল্লাহর ইবাদত করতে তারা জেনে রাখ, আল্লাহ জীবিত আছেন এবং চিরকাল থাকবেন।

কুরআন থেকে দলীল

এরপর তিনি সূরা আলে ইমরানের ১৪৪ নম্বর আয়াত তেলওয়াত করে বলেন,

وَ مَا مُحَمَّدٌ اِلَّا رَسُوۡلٌ ۚ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِهِ الرُّسُلُ ؕ اَفَا۠ئِنۡ مَّاتَ اَوۡ قُتِلَ انۡقَلَبۡتُمۡ عَلٰۤی اَعۡقَابِکُمۡ ؕ وَ مَنۡ یَّنۡقَلِبۡ عَلٰی عَقِبَیۡهِ فَلَنۡ یَّضُرَّ اللّٰهَ شَیۡئًا ؕ وَ سَیَجۡزِی اللّٰهُ الشّٰکِرِیۡنَ

“আর মুহাম্মাদ কেবল একজন রাসূল। তার পূর্বে নিশ্চয় অনেক রাসূল বিগত হয়েছে। যদি সে মারা যায় অথবা তাকে হত্যা করা হয়, তবে তোমরা কি তোমাদের পেছনে ফিরে যাবে ?

আর যে ব্যক্তি পেছনে ফিরে যায়, সে কখনো আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারে না। আর আল্লাহ অচিরেই কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দেবেন।”

এই আয়াতটি ওহুদযুদ্ধের সময় নবীজির মৃত্যুর খবরের গুজব রটে যাওয়ার পর নাযিল হয়েছিল। আজ আবার তার মৃত্যুতে এই আয়াত শুনে বুঝতে পারলেন, আজই হলো এই আয়াত তেলওয়াতের উপযুক্ত সময়।

হযরত উমর রা. আবু বকর রা. এর ভাষণ শুনে নিজেকে শান্ত করলেন। তখন তার বিশ্বাস হলো নবীজি মারা গেছেন। তাই তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে জমিনে পড়ে গেলেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ বলেন, আল্লাহর কসম! আবূ বকর রাঃ এর পাঠ করার পূর্বে লোকেরা যেন জানত না যে, আল্লাহ তা‘আলা এরূপ আয়াত অবতীর্ণ করেছেন।

এরপর সমস্ত সাহাবী তাঁর থেকে উক্ত আয়াত শিখে নিলেন। তখন সবাইকে উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করতে শুনলাম।

সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব রহ. জানিয়েছেন, ‘উমর রাঃ বলেছেন, আল্লাহর কসম! আমি যখন আবূ বকর রাঃ কে উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করতে শুনলাম, তখন ভীত হয়ে পড়লাম এবং আমার পা দু’টি যেন আমার ভার নিতে পারছিল না।

এমনকি আমি মাটিতে পড়ে গেলাম যখন শুনতে পেলাম যে, তিনি তিলাওয়াত করছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেছেন।

মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দেওয়ার প্রশ্ন

রাসূলের মৃত্যুর পর মুসলিম উম্মাহ গভীর শোকে কাতর। প্রত্যেকেই তখন চিন্তামনগ্ন যে রাসূলের পরে এখন মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব কে হাতে তুলে নিবে? কে হবে এখন মুসলিম উম্মাহর রাহবার?

কে হবে এখন মুসলিম উম্মাহর পথপদর্শক? দ্বীন এবং শরীয়তের ক্ষেত্রে মুসলিম উম্মাহ এখন কাকে অনুসরণ করবে?

সে সময় আনসারী সাহাবারা সাকিফায়ে বনু সায়িদায় একত্রিত হলো। এটা ছিল সা’দ ইবনে উবাদা রা. এর বৈঠকখানা।

বনু সাকিফার বৈঠকখানায় সাহাবাদের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা

দিনটি ছিল সোমবার। সময় আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত বা মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত। মদীনায় সে সময় মুসলমানদের দুইটি ভাগ ছিল। একভাগ ছিল মুহাজির। যারা নিজেদের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে ইসলামের আলোয় আলোকিত হয়ে মক্কা ত্যাগ করে মদীনায় হিজরত করেছে।

অন্য দল ছিল আনসার। যারা ইসলামের আলোয় আলোকিত হয়ে মুহাজিরদের নিজেদের ভাই হিসেবে গ্রহন করেছে। মদীনায় অবস্থিত আনসারদের মধ্যে দুইটি বিখ্যাত বড় গোত্র ছিল।

বড় দুই গোত্র

একটা হলো আওস ও অন্যটা হলো খাযরাজ।

এরমধ্যে আবার আওস গোত্রের জনসংখ্যা ছিল কম এবং খাযরাজ গোত্রের জনসংখ্যা ছিল বেশি। তৎকালীন আররে নেতৃত্ব বা অন্যান্য বিষয়াদি নিয়ে আধিক্যতাকেই প্রাধান্য দেয়া হতো।

তাই আনসারী সাহাবারা খাযরাজ গোত্রের সরদার সা’দ বিন উবাদা রা. এর ঘরের চত্বরে একত্রিত হলো।

তারা সেখানে বসে মুসলমানদের ভবিষ্যত নেতা ও অনুকরণীয় ব্যক্তি কে হবে, তা নিয়ে আলোচনা হতে থাকে। এই আলোচনাসভাটি ছিল উম্মুক্ত আলোচনাসভা।

কেউ কেউ বলতে থাকে, ‘এখন খাযরাজ গোত্রের সরদার সা’দ বিন উবাদা রা. এর আমির হওয়া উচিৎ।’

তখন জনৈক সাহাবী বললেন, যদি মুহাজির ভাইয়েরা আমাদের সাথে মতানৈক্য করে তাহলে আমরা তাদের এই প্রস্তাব দিব, আমির দুইজন হবে। একজন আনসারদের মধ্যে অন্যজন মুহাজিরদের মধ্যে।

সা’দ বিন উবাদা রা. এর মন্তব্য

এটা শুনে সা’দ বিন উবাদা রা. বললেন, “এখান থেকেই মুসলমানদের মধ্যে ফাঁটল সৃষ্টি হবে।”

তখন আনসারদের এই আলোচনাসভার কথা হযরত আবু বকর রা. এর কানে গেল। তিনি সে সময় মসজিদে ননবীতে বসে ছিলেন। তিনি তখন উমর রা. ও আবু উবাইদা রা. কে নিয়ে উক্ত আলোচনাসভায় উপস্থিত হলেন।

তিনি তখন দেখতে পেলেন, সেখানে জাহেলী যামানার মতো এক সাহাবী নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের বিবৃতি দিচ্ছে।

আবু বকর রা. তাকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন। তখন তিনি সেখানকার উপস্থিত ব্যক্তিদের মতামত শুনছিলেন। এরপর তিনি সকলকে উদ্দেশ্য করে ইসলামের সূচনাকাল থেকে নিয়ে তখন পর্যন্ত দ্বীনের জন্য সকলের ত্যাগ তিতিক্ষা বর্ণনা করলেন।

সে সময় তিনি রাসূলের বর্ণিত ছোট ছোট হাদীসগুলোও তিনি বর্ণনা করেন।

তিনি তখন উপস্থিত জনতাকে স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, এ সময়ে কুরাইশদের হাতেই নৃত্বত্ব অর্পন করার মাঝে কল্যান নিহিত আছে। কারণ রাসূল সা. সা’দ বিন উবাদা রা. এর উপস্থিতিতেই বলেছিলেন,

“নেতৃত্বের দায়িত্ববান হলো কুরাইশরা। ভালো লোকেরা তাদের ভালো লোকদের পেছনেই চলতে পছন্দ করে। আর মন্দরা মন্দদেরকেই অনুসরণ করে।”

তখন সা’দ বিন উবাদা রা. বলেন, আপনি সঠিক বলেছেন। আমরা পরামর্শদাতা হবো আর আপনারা শাসক হবেন।

বশির বিন সা’দ রা. এর ভাষণ

সে সময় আনসারদের মধ্য হতে হযরত বশির বিন সাদ রা. বললেন,

হে আনসার সম্প্রদায়! নিঃসন্দেহে আমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ময়দানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। যার পেছনে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও রাসূলের আনুগত্য প্রদর্শন।

তাই এটা আমাদের জন্য মোটেও শোভনীয় হবে না যে, আমরা তুচ্ছ পদ-পদবী নিয়ে ঝগড়া বিবাদ করবো। নিঃসন্দেহে রাসূল কুরাইশ বংশের ছিলেন। তাই তার নায়েব বা প্রতিনিধি ও তার বংশ থেকে হওয়া উত্তম।

এতে খলিফা নিযুক্ত হওয়ার বিষয়টি সহজ হয়ে যায়। তখন উক্ত মসলিসে এটা চূড়ান্ত হয় যে, খলিফা একজনই হবেন এবং সেটা কুরাইশদের মধ্য থেকেই নিযুক্ত হবে।

তাই আবু বকর রা. উপস্থিত ব্যক্তিদের বললেন, তাহলে এর পরবর্তী বিষয়টারও সমাধান হয়ে যাক। তাই তিনি বললেন, তোমরা উমর অথবা আবু উবায়দার হাতে বাইয়াত হয়ে যাও।১০

ওমর রা. এর খলিফা হতে অস্বীকৃতি

আবু বকর রা. ওমর ও আবু উবাইদা রা. এর নাম এ জন্য উল্লেখ করেছেন যে, উক্ত মসলিসে আবু বকর ব্যতিত এই দুজনই শ্রেষ্ঠ সাহাবী ছিলেন। একদিক থেকে তারা কুরাইশ বংশের। অন্যদিক থেকে তারা জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী।

হযরত ওমর রা. তখন উপস্থিত লোকদের বললেন, তোমরা তো ভালো করেই জানো, রাসূল সা. ইন্তিকালের পূর্বে আবু বকরকে নামাজের ইমাম বানিয়েছিলেন। আর তিনি নবীজির সবচেয়ে কাছের সাহাবী।

তার মর্যাদাও আমাদের থেকে উঁচু। তাই এমন কে আছে যে আবু বকরের বর্তমানে তার চাইতেও বড় হতে চায়?

উপস্থিত সাহাবারা তখন বললেন, আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন।১১

আবু বকর রা. এর হাতে বাইয়াত গ্রহন

উমর রা. আবু বকর রা. কে সম্বোধন করে বললেন, আমরা সকলে আপনার নিকট বাইয়াত হবো। কারণ, আপনি আমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সম্মানিত ও সর্বোত্তম ব্যক্তি এবং আপনি রাসূল সা. এর প্রিয় বন্ধু।

তিনি আবু বকর রা. বাইয়াত নিতে অস্বীকৃতি জানালেন। তখন হযরত বশির বিন সাদ রা. সর্বাগ্রে আবু বকর রা. এর হাতে বাইয়াত হয়ে নিলেন। এরপর উপস্থিত সাহাবারাও আবু বকর রা. এর হাতে বাইয়াত গ্রহন করলো।১২

বাইয়াতের সময় আলী যুবাইর রা. এর বিলম্বের কারণ

আবু বকর রা. সর্বসম্মতিক্রমে খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর এক এক করে সকলেই তার হাতে বাইয়াত গ্রহন করলো। কিন্তু তখন পর্যন্ত আলী রা. ও যুবাইর রা. উক্ত মজলিসে অনুপস্থিত ছিলেন।

কারণ, তারা রাসূলের কাফন-দাফনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলে এদিকে কি হচ্ছে, তা জানতে পারেন নি।

কিন্তু সে সময় মুনাফিকরা গুজব ছড়াতে থাকে যে, আলী রা. ও যুবাইর রা. আবু বকর রা. কে খলিফা হিসেবে মেনে নেন নি। তাই আবু বকর রা. তাদের দুইজনকে সকলের সামনেই জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনারা কি মুসলমানদের ঐক্যে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চান?’

তারা তখন বললো, এমন কোনো কথা নয় হে খলিফায়ে রাসূল। এ কথা বলে তারা উভয়েও আবু বকর রা. এর হাতে বাইয়াত গ্রহন করেন। এরপর উভয়ই বললেন, আমাদের একটু আপত্তি ছিল যে,

আামির নির্বাচনের পরামর্শসভায় আমাদের উপস্থিত রাখা হয় নি। যদিও আমরা জানি, আপনি রাসূলের সবচেয়ে নিকটতম ব্যক্তি।

উল্লেখিত বাইয়াতের ঘটনায় কারো মনে কোনোরূপ আপত্তি সৃষ্টি হলে মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস (মাকতাবাতুল ইত্তিহাদ থেকে প্রকাশিত) গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডের ৩৫০ পৃষ্ঠায় ৫৭১ নং ফূটনোটটি পড়ার অনুরোধ রইলো।

তিনটি বড় ফেতনা

আবু বকর সিদ্দিক রা. খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পরই তিনটি বড় ফেতনার সম্মুখিন হতে হয়।

প্রথম ফিতনা হলো: নবীজির মৃত্যুর পর আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েকজন মিথ্যা নবুয়তের দাবি করেছিল। তাদের সাথে মোকাবেলা।

দ্বিতীয় ফেতনা হলো: ইরতিদাদ বা মুরতাদ হওয়া। নবীজির মৃত্যুর পর অনেক নতুন মুসলিম ইসলামের আলো নিভে গেছে মনে করে মুরতাদ হয়ে যায়। তাদের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা।

তৃতীয় ফেতনা হলো: জাকাত আদায়ে অস্বীকৃতি।

মদীনার প্রতিরক্ষা

নবীজির শেষ জীবনে হযরত উসামা রা. এর নেতৃত্বে একটি মুজাহিদ বাহিনী গঠন করেছিলেন।

যারা রোমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। কিন্তু নবীজির মৃত্যুর খবরে তা আর অগ্রসর হয় নি।

আবু বকর রা. খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহনের পর সর্বপ্রথম তিনি এই মুজাহিদ বাহিনীকে রোমানদের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন।

যদিও সে সময় আশেপাশে বিদ্রোহ করেছিল বেশ কিছু আরব গোষ্ঠী এবং ফেতনা প্রকাশ পাচ্ছিল।

তারপরও তিনি এই বাহিনীকে মদীনায় রাখা ন্যায়সঙ্গত মনে করেন নি।

তিনি তাদের জিহাদে পাঠিয়ে দিলেন। উসামা রা. এর বাহিনী চলে যাওয়ার পর মদীনার সামরিক শক্তি কমে যায়।

তাই মুরতাদরা মদীনার আশেপাশে একত্রিত হতে থাকে।

আবু বকর রা. শহরকে বিপদজ্জনক অবস্থায় দেখে প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি নেন। তিনি শহরের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন। মদীনাবাসীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

বিদ্রোহীরা ক্রমে ক্রমেই মনোবল হারাতে লাগলো। তারা ভাবতে লাগলো, এমন পরিস্থিতিতে যদি মদীনার অধিবাসীরা রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যায় তাহলে না জানি ভেতরে কত বড় বাহিনী অপেক্ষা করছে।

এর ফলে তারা আর অগ্রসর হতে সাহস পায় নি।

মদীনার পার্শ্ববর্তী বিদ্রোহীদের দমন

প্রায় ৪০ দিন পর উসামা রা. বিজয়ের পতাকা উড্ডীন করে মদীনায় ফিরে আসেন। আবু বকর রা. তাকে মদীনার স্থলাভিষিক্ত করে নিজে মুজাহিদ বাহিনী নিয়ে বিদ্রোহীদের দমনের উদ্দেশ্যে বের হন।

সে সময় আবু বকর রা. আবস, জুবইয়ান, বনু মুররা, বনু কিনানার বিদ্রোহীদের উপর আকষ্মিক হামলা করেন। এর ফলে তাদের লাশের স্তুপ তৈরী হয়ে যায়। আর বাকিরা যেদিকে পারে পলায়ন করে।

মিথ্যা নবুওয়াত দাবীদারদের বিরুদ্ধে জিহাদ

মদীনার আশেপাশে তখন কয়েকজন মিথ্যা নবুয়তের দাবী করেছিল। তাদের মধ্যে একজন হলো, তুলাইহা আসাদী।

আবু বকর রা. তাকে দমন করার জন্য খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. কে প্রেরণ করেন।

খালিদ রা. তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। যুদ্ধের মাঝখানে সে তার স্ত্রীকে নিয়ে পলায়ন করে।

পরবর্তীতে সে দ্বিতীয়বার ইসলাম গ্রহণ করে এবং ইরাকের যুদ্ধে একজন মুসলিম বীর সৈনিক হিসেবে যুদ্ধ করে।

মিথ্যা নবুওয়াত দাবীদারদের মধ্যে আরেকজন ছিল, উম্মে যিমিল।

উম্মে যিমিল এককালে যুদ্ধবন্দী হিসেবে আয়েশা রা. এর বাঁদি ছিল। আয়েশা রা. অনুগ্রহ প্রদর্শন করে তাকে আজাদ করে দেয়।

সে ছিল মারাত্বক ইসলাম বিদ্ধেষী। হযরত খালিদ রা. তার বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করতে থাকে।

সে তখন একটা উটে চড়ে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। মুসলমানরা তার উটকে ধরাশয়ী করে তাকে হত্যা করে।

মিথ্যা নবুওয়াত দাবীদারদের মধ্যে আরেকজন ছিল, আসওয়াদ আনাসী।

এই ব্যক্তি রাসূলের জীবদ্দশায় ফেতনা শুরু করেছিল। পরবর্তীতে হযরত ফিরোজ দাইলামি রা. তাকে হত্যা করেন।

ইয়ামামার যুদ্ধ

আবর অঞ্চলে সে সময়ের সবচেয়ে বড় ফেতনাটি প্রকাশ পেয়েছিল ১১ হিজরীর শেষের দিকে।

এই সময়ে মুসাইলামা কাজ্জাব মিথ্যা নবুওয়তের দাবী করে এবং তার আশেপাশে বিদ্রোহদের জমা করে।

সে সময় এই ফিতনা নজদের (বর্তমান সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল) দিক থেকে উদ্ভব হয়।

মুসাইলামা সে সময় তার নবূওয়ত না মানার কারণে কয়েকজন সাহাবীকে হত্যা করে।

হযরত আবু বকর রা. ইকরিমা বিন আবু জাহলের নেতৃত্বে একটা বাহিনী গঠন করে তাদেরকে বলে, নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত যেন তার যুদ্ধ না করে।

এদিকে হযরত আবু বকর রা. শুরাহবিল বিন হাসানা রা. এর নেতৃত্বে আরেকটা বাহিনী গঠন করে তাদেরকে সাহায্যকারী বাহিনী হিসেবে প্রেরণ করে।

কিন্তু ইকরিমা রা. নজদে পৌছামাত্র শত্রুর উপর হামলা করে বসেন।

মুসাইলামার বাহিনী ছিল তৎকালীন আবরে সবচেয়ে যুদ্ধবাজ জাতি। তাই দুর্ভাগ্যবশত ইকরিমা রা. পরাজয়বরণ করেন।

এই সংবাদ আবু বকর রা. এর নিকট যাওয়ার পর তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর নেতৃত্বে আরেকটি দল প্রেরণ করেন।

তখন এই তিন বাহিনী একত্রিত হয়ে মুসাইলামা বিন কাজ্জাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর আগমণের সংবাদে মুসাইলামা বনু হানিফা থেকে ৪০ হাজার সশস্ত্র যোদ্ধা নিয়ে ময়দানে অপেক্ষা করতে থাকে।

মুসলমানরা পৌছামাত্র তাদের সাথে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।

এই যুদ্ধে হযরত আব্দুল্লাহ বিন হাফস রা. সহ আরো অনেক সাহাবী শহীদ হয়ে যান।

শেষের দিকে মুসাইলামার বাহিনীল পরাজয় ঘটতে থাকে। তাই মুসাইলামা তার দলবল নিয়ে পলায়ন করতে থাকে।

এই সুযোগে হযরত ওয়াহশি রা. বর্শা হাতে নিয়ে তার দিকে এমনভাবে ছুঁড়ে মারেন যে, সাথে সাথে সে সেখানেই লুটিয়ে পড়ে।

এ সময় আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ রা. তরবারির মাধ্যমে শরীর থেকে তার মাথা আলাদা করে ফেলেন।

এই প্রলয়ঙ্কারী যুদ্ধে প্রায় ৩৬০ জন সাহাবী শাহাদাত বরণ করে। যাদের মধ্যে ৩৫ জন হাফেজ ছিলেন।

কুরআন মাজিদ সংকলন

ইয়ামামার যুদ্ধে প্রায় ৭০ জন হাফেজে কুরআন শহীদ হন। সে সময় কুরআন পুর্ণাঙ্গরুপে লিখিত ছিল না কোথাও।

তাই আবু বকর রা. অত্যন্ত পেরেশান হয়ে যান।

তিনি সর্বপ্রথম কুরআনকে লিখে সংরক্ষণ রাখার ব্যাপারে ইচ্ছা পোষণ করেন। তাই তিনি হযরত ওমর রা. এর সাথে এই বিষয়ে কথা বলেন।

উভয়ে পরামর্শ করে হযরত যায়েদ বিন সাবেত রা. কে এই দায়িত্ব দেয়া হয়। হযরত যায়েদ রা. কাতেবে ওহী ছিলেন।

তিনি রাসূলের যামানায় কুরআন এর খেদমত আঞ্চাম দিয়েছেন। তাই যায়েদ রা. এই মহৎ কাজ শুরু করলেন।

কুরআনের একটা লিখিত কপি তৈরি করার পর সেগুলোর আরো কতগুলো কপি তৈরি করে মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

মূল কপিটি তখন উম্মুল মুমিনীন হযরত হাফসা রা. এর নিকট ছিল।

এর মাধ্যমে কুরআনের এক মহৎ খেদমত বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়ে।

স্থলাভিষিক্ত নির্ধারণ

ক্রমে ক্রমেই আবু বকর রা. অসুস্থ হয়ে পড়লেন। বুঝতে পারলেন তার মৃ্ত্যু আসন্ন।

তখন তিনি হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ ও উসমান রা. কে পরামর্শের জন্য আহ্বান করলেন।

তিনি তাদের নিকট স্থলাভিষিক্ত নিয়ে পরামর্শ করলেন। তখন আবু বকর রা. মসলিসে ওমর রা. এর নাম প্রস্তাব করেন।

আব্দুর রহমান বিন আউফ রা. বলেন, তার ফজিলত ও যোগ্যতার ব্যপারে আমার কোনো মতবিরোধ নেই। কিন্তু তার স্বভাব কিছুটা রুক্ষ।

তখন আবু বকর র. বললেন, যখন সে দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে তখন নিজে নিজেই নরম হয়ে যাবে।

তারপরও আবু বকর রা. ওসমান রা. কে বললেন, কাগজ কলম নিয়ে আসতে।

তিনি এনে যখন লিখলেন “রাসূলের খলিফা আবু বকরের পক্ষ হতে মুসলমানদের প্রতি”

তখন আবু বকর রা. অসুস্থতার দরূন অজ্ঞান হয়ে যান।

ওসমান রা. ভয় পাচ্ছিলেন, এই অবস্থায় তার ইন্তিকাল হয়ে যায় নাকি?

তাই তিনি নিজেই লিখে দিলেন, আমি ওমরকে আমার স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করছি।

যখন আবু বকর রা. এর জ্ঞান ফিরে আসলো তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কি লিখেছ? উসমান রা. পড়ে শোনালেন। আবু বকর রা. তার বুদ্ধিদীপ্ততার কারণে দোয়া করলেন।

এরপর তিনি ওমর রা. কে ডেকে বিশেষ কিছু ওসিয়ত ও নসীহত করলেন।

মৃত্যু

আবু বকর রা. ১৩ হিজরী ২২ জুমাদাল উখরা ইন্তিকাল করেন।

তিনি প্রায় দুই বছর খেলাফতের দায়িত্ব সুষ্ঠতার আঞ্চাম দেন। মহান আল্লাহ তাকে উচ্চ মাকাম দান করুন।

তথ্যসুত্র আবু বকর রা.

১. মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। মাকতাবাতুল ইত্তিহাদ প্রকাশনী। খণ্ড ২। পৃষ্ঠা ৩১৪

২. মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খণ্ড ২। পৃষ্ঠা ৩১৫

৩. মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খণ্ড ২। পৃষ্ঠা ৩১৬

৪. মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খণ্ড ২। পৃষ্ঠা ৩১৬, সূনানে আবু দাউদ। হাদীস নং, ৪৬৬১, https://www.hadithbd.com/hadith/filter/?book=25&hadith=4661

৫. মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খণ্ড ২। পৃষ্ঠা ৩১৭

৬. সহীহ বুখারী। হাদীস নং ৪৪৫৪, https://www.hadithbd.com/hadith/filter/?book=12&hadith=4454

৭. মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খণ্ড ২। পৃষ্ঠা ৩৩৮

৮. মুসনাদে আহমাদ। হাদীস নং ৮ https://www.hadithbd.com/hadith/filter/?book=26&hadith=18 । সহীহ বুখারী। হাদীস নং ৩৬৬৮। https://www.hadithbd.com/hadith/filter/?book=12&hadith=3668

৯. মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খণ্ড ২। পৃষ্ঠা ৩৪২

১০. সহীহ বুখারী। হাদীস নং ৩৬৬৮। https://www.hadithbd.com/hadith/filter/?book=12&hadith=3668

১১. মুসনাদে আহমাদ। হাদীস নং ১৩৩। https://www.hadithbd.com/hadith/filter/?book=26&hadith=133

১২. সহীহ বুখারী। হাদীস নং ৩৬৬৮। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খণ্ড ২। পৃষ্ঠা ৩৪৪-৩৪৫

আরো পড়ুন

আবু বকর রা. এর মা সালমা বিনতে সাখর রা. কিভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন

ইসলাম গ্রহণের পর আবু বকর রা. কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন

রোড এক্সিডেন্ট। সচেতন হোন

নামাজে পড়া সূরাগুলোর অর্থ কি?

উবায়দুল্লাহ মাহদী কে ছিলেন?

কিছু প্রশ্নোত্তর

আবু বকর কে?

আবু বকর রা. হলেন নবীজির বিশ্বস্ত বন্ধু ও ইসলামের প্রথম খলিফা।

নবীজির মৃত্যুর পর কে খলিফা হন?

নবীজির মৃত্যুর পর আবু বকর রা. খলিফা হন।

রাসূল কি আবু বকরকে খলিফা বানিয়েছিলেন?

সরাসরি তিনি বলেন নি। তবে বেশ কিছু হাদীসের মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, রাসূল ইঙ্গিত প্রদন করেছিলেন।

নবীজির মৃত্যুর পর আবু বকর কেন ভাষণ দেন?

মুসলমানরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিল। তাই তিনি ভাষণের মাধ্যমে তাদেরকে উজ্জ্বিবিত করেন।

আবু বকর ভাষণে কোন আয়াত বলেছেন?

সূরা আলে ইমরানের ১৪৪ নং আয়াত

বনু সাকিফার বৈঠকখানা কি?

খাযরাজ গোত্রের সরদার সা’দ বিন উবাদা রা. এর ঘরের চত্বরই ছিল বনু সাকিফার বৈঠকখানা

বনু সাকিফার বৈঠকখানায় কি নিয়ে আলোচনা হয়?

মুসলমানদের ভবিষ্যত নেতা নিয়ে আলোচনা হয়।

আবু বকর রা. তাদের নাম খলিফা হিসেবে প্রস্তাব করেন?

ওমর রা. ও আবু উবাইদা রা. এর নাম প্রস্তাব করেন।

কেন আলী রা. বাইয়াত গ্রহনে বিলম্ব করেছিলেন?

তিনি সে সময় রাসূলের কাফন-দাফনে নিয়োজিত ছিলেন।

তিনটি বড় ফেতনা কি কি ছিল?

মিথ্যা নবুয়তের দাবী করা। যাকাত আদায়ে অস্বীকার। মুরতাদ হয়ে যাওয়া।

ইয়ামামার যুদ্ধে কতজন শহীদ হন?

প্রায় তিনশত ষাট জন সাহাবী শহীদ হন। যাদের মধ্যে সত্তরজন হাফেজ ছিলেন।

আবু বকর রা. কাকে স্থলাভিষিক্ত নির্ধারণ করেন?

ওমর রা.কে

কবে আবু বকর রা. মৃত্যুবরণ করেন?

২২ জুমাদাল উখরা, ১৩ হিজরী।

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com