মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেরদের ষড়যন্ত্র

মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেরদের ষড়যন্ত্র – পৃথিবীর পলিসি সিস্টেম সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়। মানব রচিত আইনগুলো কখনোই আজীবন একই সিস্টেমে চলে না।

তাদের আপডেট করা লাগে। কৃত্তিমতা যুক্ত করা লাগে। আরো অনেক ছলছাতুরির আশ্রয় নেওয়া লাগে।

গণতন্ত্রের মাধ্যমে খিলাফাহ ধ্বংস করে দেওয়া হলেও কুফফার শক্তির ইচ্ছা শুধু খিলাফাহ ধ্বংস নয়।

বরং কাফেররা চায় আরো কিছু। আরো বহু কিছু। তারা চায়, মুসলমানরা নিঃশেষ হয়ে যাক।

মুসলমানরা পৃথিবী থেকে বিতাড়িত হয়ে যাক। মুসলমানরা সমূলে ধ্বংস হয়ে যাক।

কাফেরদের এই চাওয়া-পাওয়া এত সহজে পূরণ হবে না। কারণ, প্রকৃত মুসলিম অথবা জন্মগত মুসলমানরা কখনোই কাফেরদের নেতৃত্বে একবাক্যে মেনে নিতে পারে না।

তারা চায়, মুসলিম রাষ্ট্র। মুসলিম সরকার। মুসলিম পরিষদ।

এখন এই মুসলিম রাষ্ট্র, সরকার, পরিষদ কি বাস্তবিক হবে নাকি পোশাকি হবে, সেটা নিয়ে সাধারণ মুসলমানরা তেমন একটা ভাবে না।

সাধারণ মুসলমানরা সাইনবোর্ড দেখলেই খুশী, ভেতরে কি হচ্ছে না হচ্ছে সেটা নিয়ে ভাবার সময় তাদের নাই। তাদের এই অজ্ঞতার সুযোগটাই নেয় কাফেররা।

কাফেররা সরকারী বড় বড় পদগুলোতে মুসলমানদেরকেই রাখে। মুসলিম নাম দিয়েই দেশ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

জনগণ ফুঁসে উঠলে পরিষদের সদস্যদের পাঞ্জাবি-টুপি পরিধান করিয়ে সামনেও রাখে।

আর যদি বছর বছর হজ্জ, উমরাহ্, কিছু লিল্লাহ বোডিংয়ে দান-সাদাকাহ করে, তাহলে তো জনগণ পুরোই নিয়ন্ত্রণে।

“এত ভালো একখান মানুষ, এত টাকা মসজিদ মাদ্রাসায় দেয়, সে কি খারাপ হতে পারে? না না। কোথাও হয়তো ভুল হচ্ছে।” এমনটাই ধারণা করে সাধারণ মানুষ।

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ শুধু জানে, আমরা মুসলিম। কিন্তু সে মুসলিম ইকোনমি বুঝে না। সে মুসলিম ল’ দেখলে নাক সিঁটকায়। মুসলিম ইতিহাসের কথা না হয় বাদই দিলাম।

এই মানুষেরা শুধু কিছু কালচার, কিছু সিস্টেম, কিছু ধারাকেই সুন্নাহ মনে করে। ইবাদাত মনে করে। মুসলমানদের কাজ বলে মনে করে।

মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেরদের ষড়যন্ত্র কতটা ভয়াবহ, তা সাধারণ এসব মুসলমানেরা কল্পনাও করতে পারবে না।

2

২০১৩ সালে যখন নবীজির প্রতি অবজ্ঞা করার কারণে মানুষ ফুঁসে উঠেছিল, আন্দোলন গড়ে তুলে ছিল,

লংমার্চ কিংবা শাপলা চত্বরে জমায়েত হয়েছিল তখনও, ষড়যন্ত্র করে এই জিনিষটাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে উপস্থাপনা করা হয়েছিল।

রাজিব হত্যাকাণ্ড, আরো কিছু হত্যাকান্ড ঘটার পর অনেক জন্মসুত্রে মুসলিম বলে প্রচার করতে লাগলো, ইসলাম যদি শান্তির ধর্মই হয়, তাহলে আবার মেরে ফেলে কেন?

আবার কেউ কেউ তো আরো আগ বাড়িয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছিল, যার দ্বারা বুঝাই গেছে তাদের জ্ঞানের দৌড় কতটুকু।

একটি ঘটনা আতিক উল্লাহ হাফিঃ তার বইতে এনেছিলেন, এক ব্যক্তি বাসে বসে বলছিল,

‘ব্লগাররা কি লিখেছে এটা নিয়ে মোল্লারা ফুঁসে উঠেছে। আরে মানুষের দুই কাঁধে থাকা দুই ফেরেশতা তো ব্লগার। তারাও তো লিখে। এমন কেউ ফেরেশতাকে মারে না ক্যান?’

উক্ত ব্যক্তির ভাষ্যনুযায়ী, ব্লগার মানে ছিল যারা ইন্টারনেটে লেখালেখি করে।

তার উক্ত ধারণা খারাপ ছিল না বটে। কিন্তু তারা জানার কমতি ছিল।

সে ব্লগারের অর্থ বুঝলেও নবী অবমাননার অর্থ বুঝে নি। কুরআন অবমাননার অর্থ বুঝে নি। ঈদ নিয়ে কটাক্ষ করার অর্থ বুঝে নি।

মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেরদের ষড়যন্ত্র এখন শুধু কুফরী শক্তিরাই করে না, অনেক মুসলমানদেরকেও মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেররা ব্যবহার করে থাকে।

3 – মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেরদের ষড়যন্ত্র

আমাদের সমাজে এমন কালচারাল সমস্যা আরো অনেক আছে। তারা স্বাভাবিক থাকতে চায় সর্বদা। ইসলামকে কেউ গালি দেক, এটা তাদের সহ্য হবে। কিন্তু কেউ গালির প্রতিবাদ করলে তা সহ্য হবে না।

কেউ নবীজি সা. এর অবমাননা করুক, এটা তার আতে ঘাঁ লাগবে না। কিন্তু নবীর অবমাননা নিয়ে প্রতিবাদ করলেই তাকে বানাবে উগ্রবাদী।

কেউ ইসলাম বিরোধী ফেমিনিজম বা নারীবাদ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করলে সেটা তার নিকট খুশীর বিষয়। কিন্তু কেউ নারী নেতৃত্ব হারাম বললেই তাকে অশিক্ষিত, মৌলবাদী ট্যাগ দিয়ে জেল জরিমানা করে অবস্থা খারাপ করে দেয়।

বিদেশী পরাশক্তিরা খিলাফাহ ধ্বংস করে সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ শিক্ষা দিলে সেটা হবে তার নিকট সভ্যতায় উঠার মূলমন্ত্র। কিন্তু বিপরীতে কেউ খিলাফাহ বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে তাকে খারেজি, জাহমী 1, জঙ্গী বলে মেরে ফেলতেও দ্বিধাবোধ করবে না।

মূলত এরা নিজেরাই হলো মুসলমানদের জন্য হুমকি স্বরুপ। তারা নিজেরাও কোনো মুসলমান নয়।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে থাকতে হয় বিধায় অথবা বাপ-মা, স্বামী-স্ত্রী মুসলমান বিধায় তারা মুসলিম দাবী করে সমাজে চলাফেরা করে।

আমাদের দেশের এই শ্রেণীর মুসলমানদের ঈমান এতটাই শক্ত যে, মন্দিরে গিয়ে পূজা অর্চনায় অংশগ্রহণ করলেও তার ঈমান থাকবে।[1]

তাদের ঈমান হলো সেই গল্পের মতো, হযরত আশরাফ আলী থানভী রহ. তার ‘মুসলমানের হাসি’ নামক বইতে গল্পটা এনেছিলেন।

এক ব্যক্তি ভালো হওয়ার পর নামাজ পড়া শুরু করলো। কিন্তু তার প্রতিবেশী বা নিকটস্থ কেউ খেয়াল করলো, সে ওজু না করেই নামাজ পড়ছে। তাই একদিন তাকে জিজ্ঞাসা করলো, ভাই নামাজের আগে ওজু করেছেন? লোকটি বললো, আমার ওজু তো এখনো ভাঙ্গে নি। প্রতিবেশী লোকটি অবাক হয়ে বললো, এমন মহৎ পরিসরের ওজু কিভাবে করলেন যে, এতদিন হয়ে গেল অথচ ওজু ভাঙ্গলো না? তখন সদ্য ভালো হওয়া ব্যক্তিটি মুচকি হেসে বললো, আমি ভালো হওয়ার পর ওজু করে সেই ওজুর পানি একটা কাঠের বাক্সে রেখে দিয়েছি। বাক্সটা তো এখনো অক্ষত আছে। তাহলে তো আমার ওজুও ঠিক আছে। আমার ওজু ভাঙ্গলো কোথায়?

আমাদের বর্তমান সমাজে ইসলামের নাম বিক্রি করে খাওয়া ব্যক্তিদের ঈমানও এমনই ধরণের।

তাদের ঈমান হলো ইস্পাত দিয়ে তৈরি।  শত ইসলাম বহির্ভূত কার্যক্রমে যুক্ত থাকলেও তার ঈমান ভাঙ্গে না।

4 – মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেরদের ষড়যন্ত্র

বর্তমানে খিলাফাহ ধ্বংস করার পর থেকেই কাফেররা সতর্ক।

তারা ঢালাওভাবে মুসলমানদের উপর আক্রমণ করবে না। কারণ, সেভাবে চললে তারা বেশিদিন টিকতে পারবে না।

তাই তাদের প্ল্যান হলো ভিন্ন। তারা মুসলমানদের মধ্য থেকেই কিছু মুসলমানদের তৈরি করবে।

তারা হবে সেকুল্যারিজমে বিশ্বাসী, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, ইসলামী মূল্যবোধ সম্পর্কে অজ্ঞ এবং কাফেরদের চাটুকার।

এজন্যই আমেরিকার র‌্যান্ড ফাউন্ডেশন কর্তৃক মুসলমানদের শ্রেণীবিভাগ নিয়ে গবেষণা করেছিল ৯/১১ হামলার পর

কাফেররা তাদের নিয়োগকৃত ব্যক্তিদেরকে সামনে সাইনবোর্ড হিসেবে রেখে তাদের আইন-নীতি আস্তে আস্তে মুসলিম সমাজে প্রবেশ করবে।

কুফরী শক্তি সাংস্কৃতিকভাবে, শিক্ষাখাতে, অর্থনীতি খাতে, দেশের নীতি-নির্ধারণের ক্ষেত্রে মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করবে।

এছাড়াও তারা মুসলিম সমাজে আলেম বলে পরিচিত, এমন কিছু ব্যক্তিকেও কিনে নিবে। তার মাধ্যমে বিভিন্ন ফাতওয়া, ট্যাগ প্রচার করে সাধারণ মুসলমানদের সচেতন হওয়া থেকে বিরত রাখবে।

এভাবেই একটি মুসলিম দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম থাকার পরও মুসলমানরা হয়ে যাবে পরাধীন।

কাফেররা তাদেরকে যতটুকু দিবে, ততটুকুই গ্রহণ করবে তারা। এর বাহিরে তাদের আর কোনো রাস্তা নেই।

মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেরদের ষড়যন্ত্র নবীজি সা. এর সময় থেকেই বহমান ছিল।

কুরাইশ, বনু কোরায়জা, বনু নযীর, বনু কায়নুকা, আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা, মুসায়লামা কাজ্জাবের ইতিহাস পড়লেই এসব দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে যায়।

সুতরাং এখনো সময় আছে জেগে উঠুন। ঘুম থেকে উঠুন। পরিবারকে বুঝান, পরিচিতজনদের বুঝান।

আত্মীয়দের বুঝান। আপনার যতটা সম্ভব সতর্ক করে যান। ইনশাআল্লাহ আপনারা জেগে উঠলেই কাফেরদের চক্রান্ত ধূলিসাত হয়ে যাবে।

আর কষ্ট করে নিচের ছবিগুলো দেখুন। বুঝার চেষ্টা করুন বাস্তবতা। বুদ্ধিমানদের জন্য ইশারা যথেষ্ঠ।

মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেরদের ষড়যন্ত্র

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট নামক এক পেজ থেকে এই পোস্টটি করা হয়। যদিও পরবর্তীতে এটি তারা ডিলিট করেছে। কিন্তু তাদের পরিসংখ্যান ও প্ল্যান দেখুন। কিভাবে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে তারা প্রবেশ করে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে

মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেরদের ষড়যন্ত্র

এই পোস্টটি দেশের স্বনামধন্য এক ভাই তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে করেন। যেখানে তিনি নিজস্ব রিসার্চের আলোকে আগাম কিছু সতর্কবার্তা লিখেছেন। ২০২৩ সালে শিক্ষাব্যবস্থায় ট্রান্সজেন্ডার প্রবেশ করিয়ে দেশের সভ্য মানুষের বিপরীতে সমকামিতা বাস্তবায়নের পথে কাজ করেছে দিপুমনি। এবার সে আরো কিছু কাজ করবে হয়তো। শিক্ষাব্যবস্থাকে কিভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, এই PDF টি দেখুন

muslim world in bangladesh
muslim world in bangladesh

[1] ইসলাম নিয়ে ২০২৪ এ শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের বক্তব্য দেখুন

  1. আর্কাইভ থেকে দেখুন ↩︎

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top