জামায়াত নিষিদ্ধ থেকে জঙ্গী কার্ড

জামায়াত নিষিদ্ধ থেকে জঙ্গী নিষিদ্ধ – বাংলাদেশের মানুষকে আওয়ামী সরকার দমন করতে কয়েকটি রোল প্লে করে।

যদি দেখতে সেক্যুলার হয় তাহলে সে বিএনপি। আর যদি সে ইসলামপ্রিয় হয় তাহলে জামায়াত শিবির। আর যদি হুজুর হয় তাহলে জঙ্গী। এগুলো বাংলাদেশের কমন ট্যাগ।

দেশ যেহেতু চলে গণতান্ত্রিকভাবে, তাই এখানে বেশ কিছু গণতান্ত্রিক ইসলামী দল আছে।

আমার জানামতে, জামায়াত, চরমোনাই, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলনসহ আরো অনেক দল আছে।

তবে এর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং শক্তিশালী দল হিসেবে জামায়াত এবং চরমোনাইকে ধরা যায়।

এই দেশে জামায়াতের বয়স দেশের বয়স থেকেও বেশ পুরোনো।

তাই সময়ে সময়ে জামায়াতের নেতাদের বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে জেলে নেওয়া হয়েছে, ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

কর্মীদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

দেশের ইসলামী দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ই এ যাবৎকালে সবচেয়ে বেশি কঠিন সময় পার করেছে। এর একমাত্র কারণ ছিল, জামায়াতের বয়স দেশের বয়স থেকেও বেশি।

দেশের কোণে কোণে জামায়াতকে শায়েস্তা করার নামে পুলিশ লীগ এবং ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বাহিনী দাঁড়ি থাকা যুবক, নামাজ পড়ুয়া যুবক, ভারত বিরোধী যুবকদের সমানে গ্রেপ্তার করেছে।

কোথাও শুধুমাত্র জামায়াত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করেছে লীগের চেলারা।

আবরার ফাহাদ থেকে নিয়ে আবু সাঈদ, সকলকেই দেওয়া হয়েছে জামায়াতের ট্যাগ।

“আরে সে তো শিবির!” যেন শিবির হলেই তাকে হত্যা করা বৈধ!

বাংলাদেশে কেউ যদি শিবির হয়, কেউ যদি হুজুর হয়, তাহলে পরোক্ষভাবেই যেন তাকে হত্যা করা জায়েজ হয়ে যায়।

কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথে জামায়াতের দ্বন্দ্ব বহু পুরোনো। তাই সরকার এই কওমীয়ানদের জামায়াত বলে গ্রেপ্তার করতে পারে না বা দমননীতি চালাতে পারে না। এতে তা মার্কেট পাবে না।

এখানে নতুন কৌশল খাটায় সরকার। মাদ্রাসার ছাত্রদের এবং সঠিক মানহাজের উপর চলা ব্যক্তিদেরকে জঙ্গী, উগ্র ট্যাগ দিয়ে গ্রেপ্তার করে বিনা বিচারে জেল অথবা হত্যা করেছে।

তাই তো দেখবেন, ২০১৩ সালের এত বড় মাদ্রাসার ছাত্রদের করা বিপ্লবকে জঙ্গীবাদী আখ্যা দিয়ে তার নিশানা পর্যন্ত মুছে দেওয়া হয়েছে।

একটা কবিতা মনে পড়ছে। যা মার্টিন নেমলার বলেছিলেন।

যখন ওরা প্রথমে কমিউনিস্টদের জন্য এসেছিলো,

আমি কোন কথা বলিনি, কারণ আমি কমিউনিস্ট নই।

তারপর যখন ওরা ট্রেড ইউনিয়নের লোকগুলোকে ধরে নিয়ে গেল,

আমি নীরব ছিলাম, কারণ আমি শ্রমিক নই।

তারপর ওরা যখন ফিরে এলো ইহুদিদের গ্যাস চেম্বারে ভরে মারতে,

আমি তখনও চুপ করে ছিলাম,কারণ আমি ইহুদি নই।

আবারও আসল ওরা ক্যাথলিকদের ধরে নিয়ে যেতে,

আমি টু শব্দটিও উচ্চারণ করিনি, কারণ আমি ক্যাথলিক নই।

শেষবার ওরা ফিরে এলো আমাকে ধরে নিয়ে যেতে, আমার পক্ষে কেউ কোন কথা বলল না।

কারণ, কথা বলার মত তখন আর কেউ বেঁচে ছিল না।

মার্টিন নেমলার ছিলেন জার্মানীর নাৎসি বিরোধী একজন ধর্মযাজক।

প্রথম জীবনে তিনি যদিও হিটলারের সমর্থক ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি হিটলারের দল ত্যাগ করেন।

তার বিখ্যাত উপরোক্ত কবিতাটির সাথে মিলিয়ে যদি আমরা বলি,

যখন ওরা প্রথমে উগ্রপন্থীদের জন্য এসেছিলো,

আমি কোন কথা বলিনি, কারণ আমি উগ্রপন্থী নই।

তারপর যখন ওরা জঙ্গীদের নামে লোকগুলোকে ধরে নিয়ে গেল,

আমি নীরব ছিলাম, কারণ আমি জঙ্গী নই।

তারপর ওরা যখন ফিরে এলো রাজাকারদের জেলে ভরে মারতে,

আমি তখনও চুপ করে ছিলাম, কারণ আমি রাজাকার নই।

আবারও আসল ওরা জামায়াত শিবিরদের ধরে নিয়ে যেতে,

আমি টু শব্দটিও উচ্চারণ করিনি, কারণ আমি জামায়াত শিবির নই।

শেষবার ওরা ফিরে এলো আমাকে ধরে নিয়ে যেতে, আমার পক্ষে কেউ কোন কথা বলল না।

কারণ, কথা বলার মত তখন আর কেউ বেঁচে ছিল না।

বাংলাদশে প্রেক্ষাপটে এটি একটি চরম বাস্তবতা। আজ দেখা যাচ্ছে, জামায়াতকে সরকার নিষিদ্ধ করে জনগণকে এবং জামায়াতকে টোপ গিলাতে চাচ্ছে।

আগামীতে তারা চরমোনাই এবং অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর সাথেও একই রকম কাজটি করবে। কারণ, ওরা ফ্যাসিবাদ। ওরা সন্ত্রাস। ওরা খুনি।

বিভিন্ন ইসলামী দল এবং গ্রুপগুলোর মধ্যে আকীদা কেন্দ্রিক অনেক বিভক্তি আছে। এটা আমি কখনোই অস্বীকার করছি না।

এটি এমন একটি বিষয়, যা সহজে ঠিক হবে না। যতদিন এই ভূমি মুসলমানদের না হবে, ততদিন এই আকীদার বিভক্তি থাকবেই।

আমরা যদি এই বিভক্তি থেকে বের হয়ে সকলে একত্রে কাজ করতে বের হই তাহলে ওরা আমাদের সামনে অসহায়।

তারা আমাদের জঙ্গী বলে, শিবির বলে জেলে নিবে। এর বেশি কিছু করতে পারবে না। তারাও জানে, আমরা জঙ্গী নই, শিবির নই।

কিন্তু এরপরও তারা সফল হবে আমাদের বিভক্তির কারণে। কারণ, যখন একটি দলের উপর আঘাত এসেছিল তখন আমরা চুপ ছিলাম।

জামায়াত নিষিদ্ধ থেকে জঙ্গী কার্ড আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের পুরোনো খেলা। এটি তাসের তুরুপের মতো। ফুঁ দিলে ভেঙ্গে যাবে।

আজ যাকে জঙ্গী বলে জেলে নিল, তার পক্ষে যদি আপনি কথা না বলেন তাহলে আগামীকাল আপনিও জেলে থাকবেন।

আজ যাকে শিবির বলে জেলে নিল, তার ব্যাপারে যদি আপনি চুপ করে থাকেন তাহলে আগামীকাল আপনিও জেলের ভাত খাবেন।

দেশের বৃহত্তর অংশের মানুষ ইসলামপ্রিয়। তারা নামাজ পড়ে, দাঁড়ি রাখে, পর্দা করে।

এই কাজগুলোকেই তারা জামায়াত ও জঙ্গী হওয়ার জন্য শর্ত বানিয়েছে।

এই লীগ এতটাই নিচে নেমেছিল এই জঙ্গী কার্ড খেলতে গিয়ে যে, তারা ফাজায়েলে আমল বইকে পর্যন্ত জঙ্গীবাদী বই বলে আটক করেছিল।

তাদের এই জঙ্গী কার্ড বহু পুরোনো। ৯/১১ এর হামলার পর বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের উপর যেই জঙ্গী তকমা লেগেছে, তার শতভাগ নির্ভূল ব্যবহার করেছে লীগ।

এর দ্বারা তারা ভারত ও পশ্চিমাদের সহানুভূতি পেয়েছে সমনতলে। যদিও এখন আর তারা এসব খায় না। এরপরও পুরোনো স্বভাব অনুযায়ী এই কাজটি করে।

এই বিষয়ে চাইলে আসিফ আদনান ভাইয়ের জঙ্গীর আদিখ্যেতা শিরোনামের লেখাটি পড়তে পারেন। তাতে সকল বিষয়েই কথা উঠে এসেছে।

পূর্বের মতোই আবার বলি। আজ একদলের ব্যাপারে আপনি চুপ থাকবেন তো আাগামীকাল আপনাকে অন্যদল থেকে ধরে নিয়ে যাবে। আপনার পক্ষে কথা বলার লোক থাকবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top