প্রথম আলোর অন্ধকার দিক

প্রথম আলোর অন্ধকার দিক – নিরপেক্ষ মিডিয়ার কথা সর্বদা শোনা গেলেও মিডিয়া কখনোই নিরপেক্ষ হয় না। তারা এমন কারো তাবেদারী করে, যেখানে তাদের স্বার্থ রয়েছে।

এটা দুনিয়ার প্রায় সকল প্রিন্ট মিডিয়া ও নিউজ মিডিয়ার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। জায়োনিস্ট ইহুদিদের প্রটোকলে লেখা আছে, মিডিয়াগুলো আমরা নিয়ন্ত্রণ করবো অর্থের মাধ্যমে অথবা এদের কালো অধ্যায়ের মাধ্যমে।

বাংলাদেশে স্বৈরাচার হাসিনার শাসনামলে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার পত্রিকা সরাসরি আওয়ামীলীগ ও ভারতের তাঁবেদারি করেছে।

আমাদের নিকটবর্তী রাষ্ট্র ভারত। আর বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে আছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার জাল। তারা সমাজের বিভিন্ন সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য বানানোর চেষ্টায় থাকে।

তাদের এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশে যেন সর্বদা ভারতের গোলাম হিসেবে অনুগত থাকে।

এজন্যই এই দেশের জন্মলগ্ন থেকেই ভারতীয় গোয়েন্দাদের তৎপরতা দেখা যায়।

বিগত সময়ে যত ধরণের জঙ্গী নাটক হাসিনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখাতো, এই সবগুলোর স্ক্রিপ্ট লেখা হতো কাওরান বাজার প্রথম আলোর অফিসে।

তারা এই জঙ্গী ট্যাগ বিদ্রোহের চেষ্টা করা সেনাকর্মকর্তা থেকে নিয়ে মাদ্রাসার সাধারণ ছাত্রদের উপরও প্রয়োগ করতো।

এসব মিডিয়ার সম্পাদক, সাংবাদিকদের হাত এতটাই বড় হয়ে গিয়েছিল যে, তারা জেলে বিভিন্ন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতো।

তারা গুম করা ব্যক্তিদেরকে গুম থাকাবস্থায় জবানবন্দী নিত। এমনকি তারা পুলিশের ন্যায় নির্যাতনও করতো।

কালবেলা পত্রিকার সম্পদক শায়েখ হারুন ইজহারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল জেলে থাকাবস্থায়।

যখন ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে বিভিন্ন আলেমরা গ্রেপ্তার হলো তখন এই পত্রিকাগুলো আলেমদের নামে অপবাদমূলক শব্দ প্রতিনিয়্যত ব্যবহার করতো। জঙ্গী ট্যাগ তো ছিলই।

স্বাধীনতা ২.০ পরবর্তী সময়

গত ৫ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে গণবিক্ষোভ ও দ্রোহের মুখে হাসিনা পাসপোর্ট ব্যতিত ‍ভারতে পালিয়ে যায়। ছাত্র-জনতার এই গণদ্রোহে আওয়ামীলীগের পতন ঘটে।

পরবর্তীতে অন্তবর্তীকালীন সরকার ঘটিত হয়। কিন্তু এখানেই বড় একটা খটকার বিষয় ছিল।

এই নতুন সরকারে যারা ছিল তাদের অধিকাংশই ছিল এনজিওর লোক।

তাদের অনেকেই এই গণদ্রোহের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই তারা সরকারে চলে আসে। এরপর অনেক পানি গড়িয়ে পড়ল।

ভারত প্রায় ৩বার পানি আগ্রাসন চালালো বাংলাদেশের উপর। বাঁধ খুলে দিয়ে দেশের অনেক জেলা ডুবিয়ে দিল। ভারতীয় মিডিয়া তখন আওয়ামীলীগের মুখপাত্রের ভূমিকায় চলে আসলো।

দেশীয় তাবেদার মিডিয়াগুলো ইনিয়ে বিনিয়ে ভারতের আগ্রাসনকে জায়েজ করার চেষ্টা করলো। তারা শব্দজাদু খেলা শুরু করলো।

আওয়ামীলীগ বিভিন্নভাবেই উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলো। বিভিন্ন আন্দোলন করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করলো।

বিগত সময়ে বিপর্যস্ত দলগুলো (বিএনপি, জামাআত) নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করলো। কিন্তু তারা তাদের গোলামি থেকে বের করতে পারে নি।

যখনই আওয়ামীলীগের বিগত ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমের কারণে দলটি নিষিদ্ধ করার কথা উঠলো তখন এই বিপর্যস্ত দলগুলো আওয়ামীলীগের পক্ষে সাফাই গাওয়া শুরু করলো।

তারা আওয়ামীলীগকে ক্ষমা করতে রাজী হলো। নির্বাচনে তাদেরকে আমন্ত্রণ জানালো।

জামাআত এত মাইর খাওয়ার পরও শিক্ষালাভ করে নি। এরপরও তারা লীগের তাবেদারী শুরু করলো।

প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার এখানেও শব্দজাদু খেলে লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করতে লাগলো।

তারা স্বৈরাচার হাসিনা শব্দের পরিবর্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শব্দ ব্যবহার করতে লাগলো।

অনেকেই প্রথম আলোর ব্যাপারে হাসিনার একটা বক্তব্য সামনে আনে। যা সে সংসদে দিয়েছিল। কিন্তু এই পুরোটাই ছিল আইওয়াশ।

জায়োনিস্টদের প্রটোকলে আছে, তারা তাদের সংবাদমাধ্যমের ব্যাপারে মাঝেমধ্যে কিছু মেকি বিরোধিতা আনবে। কিন্তু তা নির্দিষ্ট সীমারেখা পর্যন্তই।

প্রথম আলোর আমলনামার আর্কাইভ

প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে দেশের সচেতন জনতা ২২ নভেম্বর ২০২৪ থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিল ঢাকাস্থ তাদের অফিসের নিকট।

তখন একশ্রেণীর সুশীললীগ ও আফসোসলীগ এর বিরোধিতা করে। তারা বিকল্প বের করার দাবী করে।

অনেকটা জায়োনিস্টদের বিরুদ্ধে কথা বললে তাদের আবিস্কৃত ফেসবুক চালানোর মতো!

২৫ নভেম্ভর ২০২৪ তারিখে কাওরান বাজার প্রথম আলো অফিসের সামনে গরু যবেহ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা।

কিন্তু প্রথম আলো তাদের পাপেট উপদেষ্টাদের মাধ্যমে মূহুর্তেই পুলিশ ও আর্মি জড়ো করে ফেলে। মাগরিবের পর কারেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পুলিশ আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ করে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এমনকি কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে।

অথচ বিগত কয়েকদিনে অনেকগুলো আন্দোলন হলো এই দেশে।

ইসকনের মহাসমাবেশ হলো রংপুরে। তারা বাংলাদেশকে ওপেন থ্রেট দিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুললো। অথচ কোনো ব্যবস্থা নেই।

শহীদ তিতুমীর কলেজের ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবীতে মহাখালীর রাস্তা ও রেললাইন ব্লক করলো। পথচারীদের আহত করলো। মানুষকে দুর্ভোগে ফেললো।

রিকশালীগ ফিরে আসার চেষ্টা করলো। আরো বিভিন্নভাবে আন্দোলন হলো দেশে। কিন্তু কোথাও এমন নৃশংস কান্ড ঘটে নি।

কোথাও লাঠিচার্জ করে কাউকে আহত করা হয় নি। আটক করা হয় নি। রাতের আধারে ৫ই মে এর মতো বিদ্যুৎ বন্ধ করে আক্রমণ করা হয় নি।

এমনকি প্রথম আলোর সামনে পুলিশের আক্রমণে একটা পথচারী ছেলের পায়ের রগ ছিঁড়ে গেছে। আছে কি কোনো বিচার?

এই পুলিশলীগের মৃত্যুতে মানুষ আগে আলহামদুলিল্লাহ পড়তো। এখনো পড়ে।

আমি বিশ্বাস করি, ভালো আত্মসম্মানবোধ থাকা ব্যক্তিরা পুলিশে চাকুরি করে সরকারের চাকর হতে পারে না।

আলেম, দাঁড়িটুপি থাকা ব্যক্তিদের রক্তের মূল্য পানির দামে বিক্রি হয়। এটা বাস্তব কথা। কিন্তু দিনশেষে তাদের দ্বারাই জাগরণ তৈরি হয়

প্রথম আলোর অন্ধকার দিক নিয়ে কিছু আলোকচিত্র পড়ুন

প্রথম আলোর দালালি থ্রেড

আমলনামা প্রথম আলোর

প্রথম আলো আসলে কি?

আমাদের করণীয় এর কিছু দিকনির্দেশনা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top