গোপনে নবীজির ইসলাম প্রচার

নবীজির গোপনে ইসলাম প্রচার – কুরআন শরীফে দ্বিতীয়তে নাজিল হওয়া সূরা মুদ্দাসসিরের প্রথম তিন আয়াত নাজিলের মধ্য দিয়েই নবীজিকে ইসলাম প্রচার করার জন্য বলা হয়েছে।

তিনি তখন বুঝতে পারলেন, তার কাজ কি। তার কি করতে হবে। কিভাবে অগ্রসর হতে হবে।

সর্বপ্রথম তিনি নিজের ঘর থেকেই কার্যক্রম শুরু করলেন।

পরিবারের নিকট ইসলামের দাওয়াত

নবীজির স্ত্রী হযরত খাদিজাকে তিনি ইসলামের দাওয়াত দিলেন। স্বামীর কথা শুনে কোনোরূপ কিছু না ভেবেই কালিমা পড়ে মুসলিম হয়ে যান।

এরপর নবীজির চাচাতো ভাই আলী ইবনে আবু তালেব রা. ও ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম হয়ে যান।

তখন তার বয়স ছিল ১০ বছর।

হযরত যায়েদ বিন হারিসা ছিলেন নবীজির পালকপুত্র। তিনিও কোনোরূপ ইতস্তত ব্যতিতই ইসলাম গ্রহণ করে নেন।

বন্ধুদের নিকট গোপনে ইসলাম প্রচার

জাহেলিয়্যাতের যুগে নবীজির অন্যতম বন্ধু এবং বিভিন্ন কাজে সহকর্মী ছিলেন কুহাফা উম্মুল খায়েরের পুত্র হযরত আবু বকর।

হযরত আবু বকর রা. বিভিন্ন পণ্ডিতদের মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন যে, একজন নবী অচিরেই আগমণ করবে।

তাই যখন নবীজি হযরত আবু বকরের নিকট ইসলাম পেশ করেন,

সাথে সাথেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করে নেন। প্রাপ্তবয়ষ্ক পুরুষদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন।

এরপর থেকে আবু বকর রা.ও ইসলাম প্রচারের কাজে আত্মোনিযোগ করেন।

হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা. এর দাওয়াতের মাধ্যমে উসমান ইবনে আফফান, জুবাইর ইবনে আওয়াম, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ,

সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ও তালহা বিন উবায়দুল্লাহ রা. সহ আরো বেশ কিছু ব্যক্তিরা ইসলাম গ্রহণ করে।

এরাই ছিলেন প্রথম মুসলিম। ইতিহাসে তাদেরকে সাবা-কিনুল আউয়ালিন বলা হয়। অর্থাৎ তারা ছিলেন প্রথম সারির ইসলাম গ্রহনকারী।

ইসলাম প্রচার ছড়িয়ে পড়া

প্রথম যুগে ইসলাম প্রচার করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট এরিয়া কিংবা গোত্র নির্দিষ্ট ছিল না।

যেসব ব্যক্তিদের সত্য গ্রহণ করার আগ্রহ থাকতো, তাদেরকেই সাহাবারা ইসলামের দাওয়াত দিতেন।

এতে দেখা যায়, আস্তে আস্তে তরুণরা ইসলামের ছায়াতলে ভীর জমাতে থাকে। তাদের মধ্য থেকে অন্যতম ব্যক্তিরা হলেন,

হযরত আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, আরকাম বিন আবুল আরকাম, উবাইদা বিন হারিস, উসমান বিন মাজউন এবং সাঈদ বিন যায়েদ রা.।

একটা সময় ইসলাম দরিদ্র ও ক্রীতদাসদের নিকট ছড়িয়ে পড়ে। তারা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করতে থাকে। সেই প্রেক্ষিতে  হযরত বেলাল বিন রাবাহ হাবশী রা., খাব্বাব বিন আরাত, সুহাইব রুমি, হযরত ইয়াসির ও তার স্ত্রী সুমাইয়া এবং তাদের সন্তান আম্মার রা. ও ইসলাম গ্রহণ করেন।

হযরত বেলাল ছিলেন উমাইয়া বিন খালফের গোলাম। খাব্বাস বিন আরাত ছিলেন একজন বিত্তবান মহিলার গোলাম।

সুহাইব রুমি রা. একজন বিদেশী তরুণ ছিলেন। হযরত ইয়াসিরের পরিবার ছিল নিঃস্ব একটি পরিবার।

এ ছাড়াও আরো অনেক ব্যক্তি তখন ইসলাম গ্রহণ করেন। এ সময় কুরআন ধারাবাহিকভাবে নাযিল হতে থাকে। বিভিন্ন বিধি-বিধান আল্লাহর পক্ষ হতে নবীজির নিকট আসতে থাকে।

তথ্যসুত্র

আর রাহিকুল মাখতুম। ‍পৃষ্ঠা ৮০-৮১

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খন্ড ১। পৃষ্ঠা ২৮৬-২৮৮

আরো পড়ুন

কিভাবে হাজরে আসওয়াদ প্রতিস্থাপন করা হয়

মাহমূদ আফেন্দীর পরিচয় ও জীবনকথা

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমাদের লেখাগুলো সূচিপত্র অনুযায়ী দেখুন www.subject.arhasan.com এই ওয়েবসাইটে। আমরা কোন প্রকাশনীর বই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করি তা জানতে ভিজিট করুন www.arhasan.com/book এই ওয়েবসাইটে। আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করতে পারেন এই লিংক থেকে। আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করুনএই লিংক থেকে

সর্বপ্রথম কে ইসলাম গ্রহণ করেন ?

নারীদের মধ্যে হযরত খাদিজা রা.। বালকদের মধ্যে হযরত আলী রা.। গোলামদের মধ্যে হযরত যাযেদ রা.। প্রাপ্তবয়ষ্ক পুরুষদের মধ্যে হযরত আবু বকর রা.।

আবু বকর রা. এর দাওয়াতের মাধ্যমে কারা ইসলাম গ্রহণ করেন ?

হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা. এর দাওয়াতের মাধ্যমে উসমান ইবনে আফফান, জুবাইর ইবনে আওয়াম, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ও তালহা বিন উবায়দুল্লাহ রা. সহ আরো বেশ কিছু ব্যক্তিরা ইসলাম গ্রহণ করে।

এরাই ছিলেন প্রথম মুসলিম। ইতিহাসে তাদেরকে সাবা-কিনুল আউয়ালিন বলা হয়। অর্থাৎ তারা ছিলেন প্রথম সারির ইসলাম গ্রহনকারী।

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com