প্রাথমিকযুগে কিভাবে ইসলামের দাওয়াত দেয়া হতো

ইসলামের দাওয়াত দেয়া ও প্রদানের ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রজ্ঞাপূর্ণ পদ্ধতি অবলম্বন করতেন।

তিনি কট্টরপন্থি এবং গোঁড়াপ্রকৃতির লোকদের নিকট থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেন। সে আত্মীয় হোক কিংবা অনাত্মীয় হোক।

নবীজির মতো তখন অন্যান্য মুসলমানরাও এই পদ্ধতি অবলম্বন করতেন। তারাও কট্টরপন্থিদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেন।

এর থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্মপদ্ধতি ও চিন্তার গভীরতা উপলদ্ধি করা যায়।

আবু তালেবের মুখোমুখি – ইসলামের দাওয়াত দেয়া

প্রথম প্রথম নবীজির চাচা আবু তালেব ইসলামের ব্যাপারে জানতেন না। সে সময় নবীজির চাচাতো ভাই অর্থাৎ আবু তালেবের ছেলে আলী রা. মুসলমান হয়ে গিয়েছিল।

একদিন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নামাজ শিক্ষা দিচ্ছিলেন। সে সময় হঠাৎ আবু তালেব সেখানে উপস্থিত হয়।

তিনি নবীজির দাওয়াতি কর্মপদ্ধতিতে সমর্থন করেন। নিজের সন্তান আলীর ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কোনো আপত্তি করেন নি।

বরং তিনি তার আরেক সন্তান জাফরকে নবীজির নিকট যাওয়ার উৎসাহ প্রদান করেন। জাফর ছিলেন আলী রা. এর থেকে দশ বছরের বড়।

নবীজির চাচা আব্বাস – ইসলামের দাওয়াত দেয়া

মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেয়া এর সংবাদ নবীর চাচা আব্বাস জেনে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এর কোনো বিরোধিতা করেন নি।

বরং যথাসম্ভব তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাহায্য করতেন।

কুরাইশদের দৃষ্টিগোচর

ধীরে ধীরে তাওহীদের এই দাওয়াতের সংবাদ কুরাইশদের দৃষ্টিগোচর হয়। তারপরও নবী গোপনে এই দাওয়াতি কার্যক্রম অব্যাহত রাখলেন।

কুরাইশরা এই বিষয়টাকে এতটা গুরুত্ব দেয় নি। প্রথম প্রথম কুরাইশরা এই বিষয়টাকে বৈরাগ্যবাদ কিংবা সংসার বিরাগী হওয়ার মতো বিষয় ভাবলো।

কারণ, আরবে সে সময়  এমন অনেক ব্যক্তি ছিল, যারা মানুষকে বৈরাগ্যবাদের দিকে আহবান করতো। যেমন, উমাইয়া বিন আবু ছালত, কুস ইবনে সা’দাহ, আমর ইবনে তোফায়েল প্রমুখ।

কিন্তু ধীরে ধীরে একটা সময় তারা বুঝতে পারলো, এটা নিছক কোনো বৈরাগ্যবাদ নয়। বরং আলাদা একটি ধর্ম। তখন তারা বনু হাশেমের সম্মান ও মর্যাদার কারণে কিছু বললো না।

তথ্যসুত্র

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খন্ড ১। পৃষ্ঠা ২৮৮-২৯০

আর রাহিকুল মাখতুম। পৃষ্ঠা ৮২

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস বইয়ের রেফারেন্স অনুযায়ী, মুসনাদে আহমাদ। হাদীস নং ৭৭৬

সিয়ারু আলামিন নুবালা। আর রিসালাহ সংস্করণ। খন্ড ১। পৃষ্ঠা ২০৬

তারিখে দিমাশক। খন্ড ৫৪। পৃষ্ঠা ১৬৫

সিরাতে ইবনে হিশাম। খন্ড ১। পৃষ্ঠা ২৬২

দালাইলুন নুবুওয়াহ্। খন্ড ২। পৃষ্ঠা ১৭৫

আরো পড়ুন

বীমা কি ইসলামে হালাল ?

উবায়দুল্লাহ মাহদীর ভ্রান্ত আকীদা

আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার কূট কৌশল

হালিমার বাড়িতে নবীজির শৈশব

মক্কা বিজয়ের দিন আবু বকর

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমাদের লেখাগুলো সূচিপত্র অনুযায়ী দেখুন www.subject.arhasan.com এই ওয়েবসাইটে। আমরা কোন প্রকাশনীর বই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করি তা জানতে ভিজিট করুন www.arhasan.com/book এই ওয়েবসাইটে। আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করতে পারেন এই লিংক থেকে। আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করুনএই লিংক থেকে

আবু তালেব কি কোনো বাধা দিয়েছিল ?

না। আবু তালেব ইসলাম প্রচারে কোনো বাধা দেয় নি। বরং তার ছেলেকে আরো উৎসাহিত করেছেন।

আমর ইবনে তোফায়েল কিসের দিকে আহবান করতো ?

এক খোদা ও বৈরাগ্যবাদের দিকে

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com