সরকারে কেন আলেম প্রতিনিধি প্রয়োজন – হাসিনা সরকারের পতনের পরই দেশে নতুন অন্তবর্তীকালীন সরকার শপথ নিচ্ছে।
যতটুকু জানতে পেরেছি, এতে অনেকটা দাবীর প্রেক্ষিতে একজন আলেম প্রতিনিধি হয়তো রাখা হচ্ছে।
সাধারণত অন্তবর্তীকালীন সরকার সবক্ষেত্রে ৩-৬ মাস হয়। কিন্তু দেশে সম্ভবত এখন ৩ -৬ বছরের হবে। ধরতে গেলে এটাও আরেকটা সংসদে নির্বাচিত সরকারের মতো শাসনামল।
নতুন সরকারে এই আলেম প্রতিনিধি থাকা মানেই যে ইসলামপন্থীরা সকল কাজ অবাধে করতে পারবে, তা কিন্তু নয়।
বলতে পারেন, এটি শুধুমাত্র একটি সাইনবোর্ড। দেখানো হচ্ছে যে, “এই দেখ একজনকে আমরা রেখেছি। যে তোমাদের মতো।”
আলেম প্রতিনিধি থাকাবস্থাতেও এই দেশে আল্লাহ না করুন, শাতিমের মতো ঘটনা অথবা ট্রান্স/সমকাম ফিতনা আবার মাথাচাঁড়া দিয়ে উঠতে পারে। নাস্তিকতার চর্চা এবং ইসলামবিদ্বেষও বাড়তে পারে।
এই ক্ষেত্রগুলোতে উক্ত আলেম প্রতিনিধির কার্যাবলী কেমন হবে, তা হয়তো সামনের দিনগুলোতে বলা যাবে। তবে একটা কথা শুরুতেই জানা থাকা উচিৎ,
ইসলামপন্থীদের অবস্থা পূর্বের থেকে তুলনামূলক কিছুটা ভালো হলেও পুরোপুরি কখনোই হবে না। দেশ এখন নতুন ব্লকে প্রবেশ করছে।
তবে একটি ব্লক পুরোপুরি সক্রিয় হতে অনেকটা সময় লাগে।
তাছাড়া আলেম প্রতিনিধি হিসেবে এমন কাউকে তারা কখনোই নির্বাচিত করবে না, যিনি দেশে খেলাফাহ কায়েমে বিশ্বাসী অথবা শরীয়াহ শাসনে বিশ্বাসী।
গণতান্ত্রিক কোনো দলই শরীয়াহ আইনে বিশ্বাসী নয়।
সেটা হোক আওয়ামীলীগ অথবা বিএনপি কিংবা জামায়াত অথবা চরমোনাই। ডেমোক্রেসির দিক থেকে সবগুলোর আদর্শই কাছাকাছি।
শুধুমাত্র এই দলগুলোর ক্ষেত্রে দেশে ইসলামপন্থীদের সুখ-দুঃখের পাল্লা খানিকটা উঠানামা করতে পারে মাত্র।
যেহেতু আলেম প্রতিনিধি সরকারে থাকা আর না থাকা প্রায় সমান। তারপরও কেন রাখা উচিৎ?
এটার উত্তর হতে পারে “খারাপের ভালো” এর জন্য। একজন আলেম প্রতিনিধি রাখলে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ক্ষেপিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত সহজেই নিবে না।
হয়তো তখন কৌশলের আশ্রয় নিবে। “ডিভাইট এন্ড রুল” করতে পারে।
আর এমনটাই ঘটার সম্ভাবনা বেশি। এমনিতেও ইসলামপন্থীদের মধ্যে অনেক দলাদলি রয়েছে।
এটাকে পুঁজি করে সরকারে আলেম থাকাবস্থাতেও যে ইসলামপন্থীদের হেনস্থা করবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
সঠিক পথে চলা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুনিয়ার সকলেই এক। চাই মুসলিম হোক অথবা কাফের।