ফিলিস্তিন কীভাবে স্বাধীন হবে – গাজ্জায় যখন একটি শিশু আহত হয় তখন যেন আমারই আপন ভাই আহত হচ্ছে। যখন একজন পিতা শহীদ হচ্ছে তখন যেন আমারই পিতার লাশ আমি দেখছি।
যখন পশ্চিম তীরে একজন যুবককে আটক করা হয় তখন যেন আমারই আত্মীয়কে আটক করা হচ্ছে। যখন একজন মা নিজের সতীত্ব হারান তখন যেন…..। নাহ্ আর ভাবতে পারছি না।
অথচ প্রতিদিন আহত, নিহতদের পরিসংখ্যা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। কারাগারে বন্দিদের সংখ্যা বেড়েই চলছে।
ফিলিস্তিন। মুসলিম বিশ্বের ছোট্ট ভূখণ্ডগুলোর একটি। ত্যাগের দিক থেকে তারা সমস্ত মুসলমানদের সর্বাগ্রে রয়েছে। এমন কোনো ত্যাগ নেই, যা তারা দিচ্ছে না।
গৃহহীন হওয়া থেকে শুরু করে পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ, শিশুর সামনে বাবার লাশ, বোনের হাতে ভাইয়ের ছিন্নবিচ্ছিন্ন দেহ, পৃথিবীর সবেচেয়ে নির্মম দৃশ্যের অবতারণা ঘটছে এই ভূমিতে।
ফিলিস্তিনের চলমান সংঘাত কোনো ভূমিকেন্দ্রিক বা জাতি কেন্দ্রিক ইস্যু নয়, এটি হলো ধর্মীয় ইস্যু।
ঈমান বনাম কুফরের লড়াই। এই লড়াইয়ে ধর্মীয় আবেগ-উদ্দীপনাই হলো একমাত্র অস্ত্র।
শত্রুরাও এই ধর্মকেই পুঁজি করে অগ্রসর হচ্ছে। ইহুদি-খ্রিষ্টানরা ধর্মের আড়ালেই এই ভূখণ্ডকে দখল করেছিল।
এই ভূমিতে কোনো সংলাপ, চুক্তির মাধ্যমে কুফফারদের মোকাবেলায় টিকে থাকা কখনোই সম্ভব নয়।
যদিও বাস্তবিকভাবে শত্রুরা ধর্মের আড়ালে পুঁজিবাদ ও সেক্যুলারিজমকে গ্রহণ করে। কিন্তু সেটা এখানে মুখ্য বিষয় নয়।
ইতিহাসের বাস্তবতায় পবিত্র ভূমি
১৬ হিজরিতে যখন বাইতুল মাকদিস জয় করতে মুসলমানরা এই ভূমিতে আসেন তখন ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রণ ছিল রোমান খ্রিষ্টানদের হাতে।
এই সময় জনৈক সাহাবীকে এক পাদরি জিজ্ঞাসা করল, তোমরা কেন এই ভূমিতে এসেছ? তখন জবাবে উক্ত সাহাবী বললেন, এটি একটি পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ ভূমি। এখান থেকেই নবীজি ﷺ মেরাজে গিয়েছিলেন এবং এই ভূমিতে রয়েছে অসংখ্য নবীদের কবর। তাই তোমাদের চাইতে আমরা এই ভূমির বেশি হকদার।
আবু উবায়দা রা. এই ভূমিতে মুসলমানদের অধিকারের প্রশ্নে ধর্মীয় দিকটিই তুলে ধরেছিলেন। পূর্ববর্তী নবীরা যে-ই দাওয়াহ নিয়ে এসেছিলেন, আমরাই একমাত্র সেই দাওয়াহ এর ওপর রয়েছি। তাই আমরা মুসলমানরাই এই ফিলিস্তিন ভূমির অধিক হকদার।
ঠিক একই দৃশ্যের অবতারণা ঘটেছিল ক্রুসেড যুদ্ধের সময়। ১০০০ খ্রিষ্টাব্দে ইউরোপীয় খ্রিষ্টানরা এই ভূমিতে মুসলমানদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ধর্মীয় দিককেই ইস্যু করে।
সম্পদের লোভে, কিংবা নতুন ভূমির লোভে নয়। তখন পর্যন্ত উপনিবেশবাদ আবিষ্কার হয়নি।
ক্রুসেডের সময় ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যারা এই যুদ্ধে যোগদান করবে তাদের পাপ মোচন হয়ে যাবে এবং তারা জান্নাত পেয়ে যাবে।
এই ঘোষণার ফলে কারাগারের দাগী আসামিরা পর্যন্ত এই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
চোর-ডাকাত, মাস্তান, ছিনতাইকারী, ব্যবসায়ী, নাইট টেম্পলার, পাহাড়ি খ্রিষ্টানরা সহ কেউ বাদ ছিল না এই যুদ্ধ থেকে।
ঠিক একইভাবে ইহুদিরা যখন ১৮শ শতকে বাইতুল মাকদিসে এসে বসতি স্থাপন শুরু করল, প্রথম জায়োনিস্ট কনফারেন্স হলো তখনও এর পেছনে ছিল সেই একই ধর্মীয় মূল্যবোধ।
তারা ‘প্রতিশ্রুত ভূমির স্লোগান তুলে খলিফা আবদুল হামিদ রহ. এর নিকট ফিলিস্তিন ভূমি চাইল।
বিনিময়ে উসমানীয় খিলাফতের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দেওয়ার ওয়াদা করল।
ইহুদিরা যখন ইউরোপে ছিল তখন তারা ছিল নির্যাতিত। ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া কর্তৃক বহুবার তারা নির্যাতিত হয়ে দেশ হতে বিতাড়িত হয়েছে। ইউরোপের প্রান্তে প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছে।
কিন্তু তারা সেখানে এমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি, যার ফলে তারা বিজয়ী হবে অথবা তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে।
বিপরীতে আমরা ফিলিস্তিনে দেখি, এখানে তারা এক দিনে এসেই ফিলিস্তিন দখল করে নেয়নি। আস্তে আস্তে ভূমির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
ক্ষেত্রবিশেষে যুদ্ধ করেছে, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, কূটনৈতিক খেলা দেখিয়েছে। এখানে তারা ইউরোপের মতো ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়নি। এর পেছনের মূল কারিগর হলো ধর্মীয় ইস্যু।
ইউরোপে তাদের মধ্যে ভূমির ব্যাপারে কোনো ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতি কাজ করেনি। কিন্তু ফিলিস্তিনে তাদের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতি কাজ করেছে।
তাই মাটি কামড়ে হলেও তারা এই ভূমি ছাড়ছে না। প্রয়োজনে অন্য রাষ্ট্রগুলোকে বিভিন্ন মাধ্যমে ম্যানিপুলেট করছে, এরপরও এই ভূমি তারা ছাড়তে নারাজ।
মুসলমানদের হাতে যেভাবে বারবার ফিলিস্তিন ভুমি এসেছিল
সর্বপ্রথম ১৪ হিজরিতে মুসলমানরা দামেশক জয় করে। তৎকালীন সময় এটি ছিল অন্যতম শক্তিশালী শহর। এখানে সেনাক্যাম্প ছিল।
দেড় বছরের মাথায় ১৬ হিজরিতে মুসলমানরা বাইতুল মাকদিস জয় করেন। এরপর থেকে ফিলিস্তিন ভূমি দীর্ঘদিন মুসলমানদের হাতে ছিল।
প্রথম বাইতুল মাকদিস জয়ের সময়কার একটি বিখ্যাত ঘটনা আছে।
যখন মুসলিম সেনারা জেরুসালেম অবরোধ করল তখন সেখানকার সবচেয়ে বড়ো পাদরি দূত পাঠিয়ে বলল, যদি তোমাদের খলিফা স্বয়ং এখানে আসেন তাহলে আমরা বিনা যুদ্ধেই বাইতুল মাকদিস তোমাদের হাতে তুলে দেবো।
সময়টা ছিল ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর রা. এর জামানা। তিনি এই সংবাদ শুনতে পেয়ে একজন গোলামকে সাথে নিয়ে মদীনা থেকে ফিলিস্তিনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন।
দীর্ঘ সফরের পর তিনি ফিলিস্তিনে এসে পৌঁছান। এই সময় তার পরিহিত জামায় অনেকগুলো (কোনো কোনো বর্ণনানুযায়ী ৭টি) জোড়াতালি ছিল।
তখন খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. খলিফা উমরকে নতুন একটি জামা এনে দিয়ে বললেন, হে আমিরুল মুমিনীন! এই জামাটি পরিধান করে নিন। আপনাকে ছেঁড়া জামা পরিহিত অবস্থায় দেখলে কাফিররা বিরূপ মন্তব্য করবে।
তখন খলিফা উমর রা. বললেন, হে খালিদ! আল্লাহ আমাদের ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। অন্য কোনো কিছুর মধ্যে সম্মান তালাশ করা অনুচিত।
এই পবিত্র ভূমি পরবর্তী সময়ে মুসলমানদের হাতছাড়া হয় দুর্বল আব্বাসীয়দের আমলে। এই সময় মুসলিমবিশ্বে বিভিন্ন সালতানাত গড়ে ওঠে।
আর সালতানাতগুলো ছিল খলিফার থেকে স্বাধীন। এমনকি তারা একটা সময় খলিফাকে শুধু নামকাওয়াস্তে রেখে দিত।
এই সময়টাতে সেলজুক সালতানাত ছিল শক্তিশালী একটি মুসলিম সালতানাত। দামেশক, বাগদাদ তখন ছিল সেলজুকদের অধীনে।
কিন্তু মিশর ছিল এই সময়ে শিয়া সাম্রাজ্যের অধীনে। ইতিহাসে যাকে ফাতেমী সাম্রাজ্য বা উবাইদি সাম্রাজ্য নামে ডাকা হয়।
মিশরের নিয়ন্ত্রণ উবাইদিদের হাতে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রণও ছিল উবাইদিদের হাতে।
যেভাবে ফিলিস্তিনের পতন ঘটলো ক্রুসেডারদের সময়কালে
সেলজুক এবং উবাইদিরা ছিল পরস্পর আলাদা চিন্তাধারার। তারা ঐক্যবদ্ধ ছিল না। শিয়ারা সূচনালগ্ন থেকেই ছিল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের দুশমন।
যখন ক্রুসেডাররা ১০৯৬ খ্রিষ্টাব্দে বাইতুল মাকদিস অবরোধ করে তখন স্থানীয় শিয়া সেনাপতি সহজেই ফিলিস্তিনকে ক্রুসেডারদের হাতে তুলে দেয়।
মুসলিম স্পিরিট নিয়ে সে লড়াই চালিয়ে যেতে পারেনি। ফাতেমীদের ২০০ বছরের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান ছিল না ইসলামের জন্য।
তবে ইসলামের ক্ষতির লিস্ট করলে কয়েক পৃষ্ঠা লেখা যাবে। বর্তমান ইরানের লম্ফঝম্প দেখে অনেকে তাদেরকে মহান কিছু মনে করেন।
ভাবেন, হয়তো এরাই কুদস জয় করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এরা হলো সেই উবাইদিদের উত্তরসূরি। উবাইদিরাও কুদসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এমন লম্ফঝম্প করত।
কিন্তু আখেরে তারা উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারেনি। এমনকি করার ইচ্ছাও পোষণ করেনি।
ক্রুসেডারদের বাইতুল মাকদিস দখলের পর বিভিন্ন মুসলিম সেনাপতি এই পবিত্র ভূমিকে জয় করার লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন।
যাদের মধ্যে ইমাদুদ্দিন জিনকি ও নুরুদ্দিন জিনকি রহ. এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তারা এই সময় বিভিন্ন এলাকা, দুর্গ জয় করেছিলেন।
কিন্তু বাইতুল মাকদিস জয় করা সম্ভব হয়নি। ফিলিস্তিনে পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর মূল কারণ ছিল, মিশর তখনও ছিল ফাতেমী সাম্রাজ্যের হাতে।
তারা ফাতেমীদের থেকে এই মিশর ছিনিয়ে নিতে পারেননি। এটাই ছিল সেই বাস্তবতা অর্থাৎ মিশর যতক্ষণ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসবে না ততক্ষণ পর্যন্ত ফিলিস্তিনও নিয়ন্ত্রণে আসবে না।
এটা মুসলমানদের কাছে স্পষ্ট ছিল আবার ক্রুসেডারদের কাছেও স্পষ্ট ছিল।
একজন খ্রিষ্টান ঐতিহাসিক ১১০৭ সালে লিখেছিলেন, আমার ভয় হয়, মুসলমানরা হয়তো আমাদের বাধা এড়িয়ে মিশর নিয়ন্ত্রণে নেবে এবং দামেশক নিয়ন্ত্রণে নেবে। এর মাধ্যমে আমরা ফিলিস্তিনকে হারাব।
পরবর্তীতে নুরুদ্দিন জিনকি রহ. মিশরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন এবং সালাহউদ্দিন আইয়ুবীকে মিশরের গভর্নর বানিয়ে ছিলেন।
তিনিই ফাতেমী সাম্রাজ্যকে মিশর থেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী দামেশক, সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেন এবং পূর্ণ শক্তিতে ফিলিস্তিনে আক্রমণ করেন।
এর মাধ্যমেই ক্রুসেডারদের হাত থেকে সুলতান বাইতুল মাকদিস জয় করতে পেরেছিলেন।
তাহলে মূলনীতি হলো, যখন মুসলমানরা মিশর, সিরিয়া নিয়ন্ত্রণে নেবে তখন বাইতুল মাকদিস তারা জয় করবে পারবে।
দ্বিতীয়বার বাইতুল মাকদিস দখল
১২১০ সালের দিকে মিশর এবং শাম (বর্তমান সিরিয়া ও এর আশেপাশের অঞ্চল) বিভক্ত হয়ে আলাদা দুইজন শাসকের অধীনে চলে গেল।
এর ফলে মিশরের শাসক সিরিয়ার শাসকের বিরুদ্ধে ক্রুসেডারদের সাথে সন্ধিচুক্তি করে।
এই চুক্তির ফলে বাইতুল মাকদিস আবার খ্রিষ্টানদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ১২৪৪ সালে সুলতান নাজমুদ্দিন আইয়ুব রহ. মিশর ও সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুনরায় বাইতুল মাকদিস ক্রুসেডারদের নিকট হতে জয় করেন।
এরপর থেকে মামলুক সালতানাত, উসমানীয় সালতানাত ও খিলাফতের অধীনে এই মিশর, সিরিয়া এবং ফিলিস্তিন পরিচালিত হতে থাকে।
১৮৮২ সালে ব্রিটিশরা কায়রো দখল করে। এর মাধ্যমে মিশরের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ মুসলমানদের হাত হতে ছুটে যায়।
শেষ পর্যন্ত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৮ সালে বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রণ মুসলমানদের হাত হতে ছুটে যায় এবং ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ পর্যন্ত যা আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এরই মধ্যে জাতিরাষ্ট্রের ধোঁয়া তুলে এবং সাইকো-পিকেট চুক্তির মাধ্যমে পুরো আরব অঞ্চলকে বিভক্ত করে দেওয়া হয়।
মিশর, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান নামে আলাদা আলাদা রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। প্রত্যেকটা রাষ্ট্র অপর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সদা তৎপর।
ফিলিস্তিনের চলমান সংঘাতের সমাধান কি?
আমরা যদি এই ফিলিস্তিনকে আবার আমাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাই তাহলে একমাত্র সমাধান হলো ধর্মীয় বয়ান থেকে অগ্রসর হওয়া।
এর বাহিরে যদি আমরা সেক্যুলার বয়ান, মানবাধিকার, লিবারেল মূল্যবোধ সামনে আনি তাহলে কখনোই এর সমাধান সম্ভব নয়।
ফিলিস্তিনের এই প্রতিরোধ আন্দোলনে যখনই লিবারেল (সহনশীলতা) বয়ান সামনে আসবে তখনই এটি আস্তে আস্তে দুর্বল হবে।
বরং এই প্রতিরোধ আন্দোলন, ইন্তিফাদা জারি থাকবে একমাত্র ইসলামী চেতনার মাধ্যমেই।
এই পুরো ইতিহাসের বয়ান থেকে আমরা আরেকটা বিষয় জানতে পারি। বাইতুল মাকদিস বিজয়ের চাবিকাঠি ফিলিস্তিন ভূমির মধ্যে নয়। বরং এই চাবি সংরক্ষিত মিসরে, সিরিয়ায়, জর্ডানে।
বাইতুল মাকদিস সর্বদা এর আশেপাশের শক্তিশালী ভূমির উপর নির্ভরশীল।
তাই ফিলিস্তিন নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রথমে এর আশেপাশের শক্তিশালী ভূখণ্ডের উপর প্রথমে নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।
যখন এই শহরগুলো আদর্শবান মুসলিম নেতৃত্বের হাতে আসে তখনই ফিলিস্তিনের উপর এর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
আবার যখন এই শহরগুলো শক্তিশালী আদর্শবান নেতৃত্ব হারায় তখন বাইতুল মাকদিসও তার শৌর্যবীর্য হারিয়ে ফেলে। দখল হয়ে যায় অন্য কোনো শক্তির নিকট।
তাই বর্তমানে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার জন্য এই পৃথিবীর প্রচলিত কোনো বৈধ পন্থা নেই। এটি যেই পন্থায় মুক্ত হবে সেটি কখনোই এই বিশ্ব মেনে নিবে না, গ্রহণ করবে না।
ফিলিস্তিন মুক্ত হবে এই বিশ্বের প্রচলিত পন্থার বাহিরেই। তা মুক্ত হবে জিহাদের মাধ্যমে, ইদাদের মাধ্যমে, শক্তিশালী মুসলিম নেতৃত্বের মাধ্যমে।
এক সালাহউদ্দিন আইয়ূবী আসলেই ফিলিস্তিন মুক্ত করা সম্ভব হবে না।
প্রয়োজন হবে সালাহউদ্দিনের আশেপাশে থাকা সেই সকল নিষ্ঠাবান উপদেষ্টাগণ, যারা কাধে কাধ মিলিয়ে সালাহউদ্দিনকে সাহস যুগিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, নিজেকে কুরবানী দিয়েছেন।
আমাদের নিজেদেরকে এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সেভাবেই গড়ে তুলতে হবে, যেভাবে গড়ে তুললে আমরা নিজেরা সালাহউদ্দিন হবো অথবা সালাহউদ্দিনের সেনাপ্রধান, উপদেষ্টা, পরামর্শক হতে পারবো।
তবেই একটি ‘তায়েফায়ে মানসুরা’র মাধ্যমে আবার বাইতুল মাকদিসে ইসলামের পতাকা উড্ডীন হবে।
সিরিয়ায় দীর্ঘকাল নুসাইরী কাফিরদের শাসন থাকার পর বর্তমানে খানিকটা মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখনো পুরোপুরি নয়।
বাকী আছে মিশর, জর্ডান ও লেবানন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো মিশর। এই ভূখন্ডগুলো নিয়ে সূদুরপ্রসারী পরিকল্পনা আমাদেরকে মঞ্চিলে মাকাসিদে পৌঁছে দিবে ইনশাআল্লাহ।
সহায়ক
ফিলিস্তিনের ইস্যু – ইতিহাস যে শিক্ষা দেয় – ইমরান রায়হান হাফিঃ
আল-কুদসের মুক্তি কোন পথে? | আসিফ আদনান | Asif Adnan | Seminar – 4
মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস