সুলতান আব্দুল হামিদ ও ইহুদিরা – সুলতান আব্দুল হামিদ দ্বিতীয় ১৮৮৭ থেকে ১৯০৯ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকেন।

এই সময়ে উসমানী সাম্রাজ্য আর্থিক অসুবিধা এবং বিপর্যয়ের মধ্যে ভুগছিল। কিন্তু এটি তাদের ফিলিস্তিনে ইহুদিদের অভিবাসনের মুখোমুখি হতে বাধা দেয়নি।

রাশিয়ার ইহুদিদের বিরুদ্ধে প্রথম সিদ্ধান্ত

১৮৮১ সালে ইহুদিরা রাশিয়ান জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের হত্যার সাথে জড়িত ছিল।

তাই রাশিয়ান সরকার ইহুদি বণিক ও সুদখোরদের অবৈধ পদ্ধতির কারণে অর্থনীতির পতন রোধ করার জন্য ব্যবস্থা আরোপ করে।

ফলস্বরুপ রাশিয়া থেকে বিপুল সংখ্যক ইহুদিকে বিতাড়িত করা হয়। ইহুদিরা তখন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে গিয়ে বসতি স্থাপন করা শুরু করে।

সুলতান আব্দুল হামিদ বিপদ আঁচ করতে পেরে ইহুদিদের জন্য প্রথম ডিক্রি জারি করেন

ইহুদি অভিবাসন রোধ

সুলতান আব্দুল হামিদ দ্বিতীয় ১৮৮২ সালে ইহুদিদের অভিবাসন নিষিদ্ধ করে এবং ফিলিস্তিনে ইহুদিদের কৃষি জমি ও বসতি স্থাপন বেড়ে যাওয়ায় তাদের প্রবেশ সীমিত করে।

তখন সুলতান একটি আইন জারি করেন, যাতে পরবর্তীতে ইহুদিরা সমগ্র ফিলিস্তিন কিনে নিতে না পারে।

সুলতানের সাথে মধ্যস্থতা

সুলতানের সিদ্ধান্তের পর ইহুদিরা তাদের একজন ধনী লোক লরেন্স অলিফ্যান্টের মাধ্যমে উসমানীয়দের সাথে সম্পর্ক উন্নতি করার চেষ্টা করে।

তিনি ইস্তাম্বুল ভ্রমণ করেন এবং আমেরিকান রাষ্ট্রদূতকে অভিবাসন আইন পরিবর্তন করতে সুলতানের সাথে মধ্যস্থতা করতে বলেন। কিন্তু কোন লাভ হয়নি।

কঠোর পদ্ধতি

কিছু ইহুদি ফিলিস্তিনে এসে বসতি স্থাপন ও সম্পত্তির মালিক হওয়ার আইনটি লঙ্ঘন করার পরে সুলতান আব্দুল হামিদ দ্বিতীয় এবং তার সরকার ফিলিস্তিনে উসমানী ভিসার জন্য নতুন শর্ত স্থাপন করে।

সুলতান বহিরাগত ও ইহুদিদের মধ্যে জমি বিক্রয় নিষিদ্ধ করে একটি সরকারী ডিক্রি জারি করে।

দুর্নীতি বিরোধী ব্যবস্থা

ইহুদিদের স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের প্রচেষ্টাকে রোধ করার জন্য জেরুসালেমের গভর্নর হিসেবে সুলতান রউফ পাশাকে নিযুক্ত করেন। তিনি তার সততার জন্য পরিচিত ছিলেন।

ফিলিস্তিনের উসমানীয় প্রশাসনের মধ্যে ঘুষ ও দুর্নীতির মোকাবিলা করার জন্য রউফ পাশাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এতদসত্ত্বেও, অনেক ইহুদি ইউরোপে তাদের ধনী লোকদের সাহায্যে উসমানীয় পদক্ষেপগুলিকে বাধা দিতে সক্ষম হয় এবং তারা ১৮৮৩ সালে ৫টি বসতি স্থাপন করতে সক্ষম হয়।

সুলতানের অসন্তোষ

১৮৮৭ সালে সুলতান একটি অফিসিয়াল বার্তা পাঠান ফিলিস্তিনে।

সেটিতে ইহুদিদের বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি সরকারি কর্মীদের দুর্নীতি ও ভুল পদক্ষেপগুলোকে চিহ্নিত করেন।

বিশ্বাসের বাধ্যতামূলক প্রকাশ

উসমানীয় সাম্রাজ্য একটি নতুন আইন জারি করে যে, বিদেশী ইহুদিদের অবশ্যই তাদের ইহুদি বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে পাসপোর্ট বহন করতে হবে।

যাতে ফিলিস্তিনের জাফা বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের জেরুজালেমে যাওয়ার অনুমতি দেয়।

সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ থেকে হার্জেল পর্যন্ত

১৯০১ সালের মে মাসে ইহুদিবাদের “গডফাদার” থিওডর হার্জেল সুলতান আব্দুল হামিদের দ্বিতীয় সাথে দেখা করতে এসেছিলেন এবং তাকে ইহুদি অভিবাসনের অনুমতি দেওয়ার জন্য রাজি করার চেষ্টা করেছিলেন।

কিন্তু তিনি সুলতানের কাছ থেকে সবচেয়ে বিখ্যাত প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলেন: “আমি কখনোই এই ভূমি বিক্রি করবো না। এই দেশ আমার নয়, এটি আমার জনগণের এবং আমার জনগণ রক্ত দিয়ে এই মাটি অর্জন করেছে, এবং পরবর্তীতে তারা তাদের রক্ত দিয়ে এটিকে রক্ষা করবে। কাউকে আমাদের কাছ থেকে এটি কেড়ে নেওয়ার অনুমতি দেই না।”

শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ

সুলতান আব্দুল হামিদ দ্বিতীয় অনেক প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করতে থাকেন, যতক্ষণ না তিনি ১৯০৯ সালে ক্ষমতাচ্যুত হন।

তার প্রস্থানের মাত্র ৮ বছর অতিবাহিত হতে না হতেই ফিলিস্তিন ব্রিটিশদের দখলে চলে যায়। এরপর এটি ইহুদি অভিবাসনের দরজা উন্মুক্ত করে দেয়।

তথ্যসুত্র

সুলতান আব্দুল হামিদ ও ইহুদিরা শিরোনামের এই লেখাটি যদিও ইতিহাসের বিভিন্ন বইতে উল্লেখ আছে। তবে আমি লেখাটি নিয়ে আল-জাজিরা ফিলিস্তিন চ্যানেলে প্রকাশিত আরবি কার্ট থেকে।

পরবর্তীতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভেবে এটির অনুবাদ আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলেও প্রকাশ করি।

লেখাটি শেয়ার করতে সর্ট লিংক কপি করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top