বদরের যুদ্ধে আবু বকর – প্রতিটি যুদ্ধের ময়দানে রাসূলের সাথি ছিলেন হযরত আবু বকর রা.। তিনি খুব কাছ থেকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাসূলের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

আল্লামা জামাখশারী রহ. বলেন, হযরত আবু বকর রা. সর্বদা নিজেকে রাসূলের জন্য কুরবান করেছেন। শৈশবে তারা ছিলেন খেলার সাথী।

কিশোর বয়সে একত্রে চলাফেরা করতেন। যৌবনে সর্বদা একে অপরের পাশে ছিলেন।

ইসলাম আসার পর আবু বকর রা. ইসলামের জন্য অকাতরে খরচ করেছেন।

যুদ্ধের ময়দানে

মদীনায় হিজরতের পর সর্বপ্রথম যুদ্ধ ছিল বদরের যুদ্ধ। এই যুদ্ধের মাধ্যমেই প্রথম কাফেরদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ হয়।

যেখানে মুসলমান সৈন্য ছিল মাত্র ৩১৩ জন। আর কাফেরদের সৈন্য ছিল ১০০০ জন।

রাসূল সা. তখন আল্লাহর কাছে দোয়া করতে লাগলেন।

যদি আজ মুসলমানদের পরাজয় হয় তাহলে ইসলাম এখানেই ধুলিস্যাত হয়ে যাবে। নবী কারীম সা. যুদ্ধের ময়দান বিন্যাস করলেন।

বদরের যুদ্ধে আবু বকর রা. ছিলেন  নবীজির দেহরক্ষী।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যেই কাফেরই নবীজির নিকটবর্তী হতো তাকেই শেষ করে দিতেন আবু বকর রা.

বদর যুদ্ধের পর

বদর যুদ্ধে অনেক কাফের মুসলমানদের হাতে বন্দী হলো। তাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭০ এর অধিক।

এত এত বন্দীকে কি করা যায়, সেটা নিয়ে পরামর্শে বসলেন নবীজি।

হযরত আবু বকর রা. মতামত দিলেন, এই বন্দীরা তো আমাদের বংশের লোক। তাই তাদেরকে মুক্তিপণ দিয়ে ছেড়ে দিলে হয়তো ভালো হবে।

এতে আমরা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবো। আর তারাও হয়তো আল্লাহর ইচ্ছায় একসময় মুসলমান হয়ে যাবে।

হযরত ওমর রা. মতামত দিলেন, এই কাফেরদের গর্দান উড়িয়ে দিন। তাদেরকে আমাদের হাতে তুলে দিন। কারণ, এরা কুফরের নেতা এবং তাদের পরামর্শদাতা।

আকিল বিন আবু তালেবকে আলী রা. এর নিকট এবং অমুককে আমার হাতে তুলে দিন। আমরা তাদের গর্দান উড়িয়ে দিব।

আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা রা. মতামত দিলেন, এমন একটি উপত্যকার সন্ধান করুন, যেখানে অনেক খড়ি আছে। আর তাদেরকে সেখানে জ্বালিয়ে দিন।

তথ্যসুত্র

১. আবু বকর সিদ্দিক রা.। ড. আলী আস সাল্লাবী। কালান্তর প্রকাশনী। পৃষ্ঠা ১০১-১০৬

২. আবু বকর রা. জীবনী। আজিজুল হক আনসারী। সোলায়মানিয়া বুক হাউজ। পৃষ্ঠা ৬৯-৭৫

FAQ

বদর যুদ্ধে রাসূল সা. এর দেহরক্ষী কে ছিলেন?

হযরত আবু বকর রা. বদর যুদ্ধে রাসূলের দেহরক্ষী ছিলেন।

আবু বকর রা. বদর যুদ্ধের বন্দীদের ব্যাপারে কি বলেছিলেন?

হযরত আবু বকর রা. মতামত দিলেন, এই বন্দীরা তো আমাদের বংশের লোক। তাই তাদেরকে মুক্তিপণ দিয়ে ছেড়ে দিলে হয়তো ভালো হবে। এতে আমরা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবো। আর তারাও হয়তো আল্লাহর ইচ্ছায় একসময় মুসলমান হয়ে যাবে।

বদর যুদ্ধে কতজন মুসলমান অংশগ্রহণ করে?

৩১৩ জন মুসলমান।

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top