খলিফা আবু বকরের মৃত্যু

খলিফা আবু বকরের মৃত্যু – ১৩ হিজরীর জুমাদাল উখরা মাসে খলিফা আবু বকর রা. অসুস্থ হন এবং এই অসুস্থতার দরূন তিনি ইন্তিকাল করেন।

তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। তিনি বুঝতে পারেন, তার সময় শেষ হয়ে আসছে। তখন তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের বলেন,

তোমরা আমার অবস্থা দেখতেই পাচ্ছ। আমার ধারণা, আমি সেরে উঠবো না। আল্লাহ আমার হাত থেকে তোমাদের বাইয়াত খুলে নিচ্ছেন।

সুতরাং তোমরা অন্য একজনকে আমির বানিয়ে নাও।

আবু বকরের মৃত্যু

আবু বকরকে বিষপান

আবু বকরের মৃত্যুর প্রায় ১ বছর পূর্বে একবার আরবের বিখ্যাত ডাক্তার হারিস বিন কালাদা রা. এক সঙ্গে খাবার খেতে বসেছিলেন।

হারিস রা. এক লোকমা খাবার মুখে নিয়ে বলে উঠেন, হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! খাবার থেকে হাত উঠিয়ে ফেলুন।

এতে এক বিশেষ ধরণের বিষ মিশ্রিত আছে। ঠিক এক বছর পর এর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পায়।

ইতিহাস গ্রন্থে এটা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা নেই যে, কে এই বিষ মিশিয়েছিল? তবে আল্লামা ইবনুল আসির রহ. বলেন, ইহুদীরাই মিশিয়েছিল।

এই বিষের ক্রিয়ায় এক বছর পর একই দিনে আবু বকর রা. ও হারিস বিন কালাদা রা. মৃত্যুবরণ করেন।

আবু বকর রা. এর স্থলাভিষিক্ত নির্ধারণ

নিজের ‍মৃত্যুর বিষয়টি অনুভব করার পর হযরত আবু বকর রা. বিখ্যাত সাহাবী আব্দুর রহমান ইবনে আউফ ও উসমান বিন আফফান রা. এর সাথে পরামর্শ করেন।

আবু বকর রা. পূর্ব থেকেই উমরকে খলিফা হিসেবে দেখতে চাচ্ছিলেন। তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রা. বললেন, উমরের ব্যাপারে তোমার অভিমত কি?

তখন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রা. বলেন, আল্লাহর শপথ! তার ব্যাপারে আপনার সিদ্ধান্ত সবচেয়ে উত্তম।

এরপর আবু বকর রা. উসমান রা. কে ডেকে ওমর রা. সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, আমরা কেউ ই ওমরের সমকক্ষ নই। তিনি আমাদের থেকে অনেক উত্তম।

এরপর আবু বকর রা. উসায়েদ ইবনে হুজায়ের রা. কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনিও প্রসংসামূলক বাক্য বললেন।

আবু বকর রা. হযরত তালহা রা. কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ওমর তো লোকদের সাথে কঠোর আচরণ করে।

তখন আবু বকর রা. বললেন,

তা ঠিক হয়ে যাবে। এখন যদি আমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করি তাহলে অন্তত দৃঢ়ভাবে বলতে পারবো যে, সর্বোত্তম ব্যক্তিকে খলিফা বানিয়েছি।

এরপর হযরত আবু বকর রা. অসিয়তনামা লেখার জন্য উসমান রা. কে ডাকলেন। তিনি লিখলেন,

আবু বকর বিন আবু কুহাফার পক্ষ থেকে মুসলমানদের প্রতি অসিয়ত।

এরপরই আবু বকর রা. অজ্ঞান হয়ে যান। উসমান রা. জানতেন যে, তিনি ওমরকে খলিফা বানাতে চাচ্ছেন। তাই তিনি শঙ্কা অনুভব করলেন,

যদি অজ্ঞান অবস্থায় খলিফার মৃত্যু হয়ে যায়! তাই তিনি এরপর লিখে দিলেন, আমি তোমাদের জন্য উমরকে খলিফা হিসেবে নির্ধারণ করছি।

এরপর আবু বকর রা. এর জ্ঞান ফিরে এলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কি লিখেছ? তখন উসমান রা. তা পড়ে শোনান।

আবু বকর রা. বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তোমাকে মুসলমানদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আবু বকর রা. এর মৃত্যু

হযরত আবু বকর রা. ২২ জুমাদাল আখিরাহ ১৩ হিজরীতে মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে দুনিয়া ত্যাগ করেন। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

আবু বকর রা. এর খেলাফতকাল ছিল সর্বোমোট ২ বছর ২ মাস। – আবু বকরের মৃত্যু

তথ্যসুত্র

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খন্ড ৩। পৃষ্ঠা ৯২-৯৫

আবু বকর রা. । কালান্তর প্রকাশনী। পৃষ্ঠা ৫৫৭-৫৬৬

আরো পড়ুন

কেয়ামত সম্পর্কে কুরআনের আয়াত

ফিরাজের যুদ্ধ

আবু বকর রা. এর ইসলাম গ্রহণ

শিয়া মতবাদ ও আকিদাগত বিচ্যুতি

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমাদের লেখাগুলো সূচিপত্র অনুযায়ী দেখুন www.subject.arhasan.com এই ওয়েবসাইটে। আমরা কোন প্রকাশনীর বই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করি তা জানতে ভিজিট করুন www.arhasan.com/book এই ওয়েবসাইটে। আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করতে পারেন এই লিংক থেকে

আবু বকর রা. কে কি বিষপানে হত্যা করা হয়?

এটা একটা প্রসিদ্ধ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়ে থাকে। তবে এটাকেই মৃত্যুর মূল কারণ বলা উচিৎ নয়। কারণ, বিষপানের ঘটনাটা ঘটেছিল আবু বকর রা. এর মৃত্যুর এক বছর পূর্বে।

আবু বকর রা. কত বছর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন?

২ বছর ২ মাস। তিনি খেলফতলাভ করেন ১১ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে। আর তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৩ হিজরীর জুমাদাল আখিরাহ মাসে।

আবু বকর রা. কাকে খেলাফতের স্থলাভিষিক্ত করে যান?

হযরত ওমর রা. কে।

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com