হামাস স্ট্রাটেজি

ফাউন্টেন পাবলিকেশন এর হামাস নেতৃত্ব, কাঠামো এবং সামাজিক, রাজনৈতিক ও সামরিক স্ট্রাটেজি বইটা পড়া শেষ হলো আলহামদুলিল্লাহ।

বইটা প্রকাশিত হওয়ার আগেই অনুবাদক রাকিব ভাইয়ের মাধ্যমে খানিকটা ধারণা পাই এই বই ও হামাস সম্পর্কে।

তখন থেকেই আগ্রহ জন্মে। সংগ্রহ করা হয়েছিল বহুদিন আগে বটে। কিন্তু পড়া শুরু করলাম কিছুদিন আগে।

কিছু প্রশ্ন – হামাস স্ট্রাটেজি

কয়েকটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা যাক।

  • হামাস কি?
  • তাদের উত্থান কিভাবে ঘটলো?
  • তাদের শেকড় কোথায়?
  • কেন তাদের সাথে ফাতাহ ও ফিলিস্তিন অথরাইজেশনের দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব কতটা যৌক্তিক?
  • হামাসের উদ্দেশ্য কি?
  • তাদের শত্রু-মিত্র কারা?

প্রশ্নের উত্তরগুলো এই বইতে বিস্তারিতভাবেই আছে। তবে এটা ঠিক আমরা আমাদের শত্রু-মিত্র নির্ণয়ে বরাবরই ভুল করি।

হামাসও এর ব্যতিক্রম নয়। মূল মাথাকে শত্রু না বানিয়ে সাপের হৃদয়কে শত্রু বানালে সাপটা আরো বেশি করে ছোবল দিবে।

হ্যাঁ, হামাসের কিছু যুক্তি আছে। তারা তাদের শত্রুপক্ষ বাড়াতে চায় না। কিন্তু মনে হয়, এটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ, অলরেডি তারা হামাসকে শত্রু হিসেবেই কাউন্ট করে।

কিভাবে হামাস টিকে আছে

হামাসের দীর্ঘ এই পথচলায় কয়েকটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। কেন তাদের দলে কখনো ভাঙন ধরে না? কেন ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের এত পছন্দ করে?

কিভাবেই বা ২০০৬ সালে তারা ক্ষমতায় গেল, যেখানে হামাস নিজেও কল্পনা করে নি, তারা জয়ী হবে? ইজ্জউদ্দিন কাসসাম ব্রিগেড কিভাবে টিকে আছে?

২০২৩ থেকে শুরু হওয়া তুফানুল আকসা যুদ্ধের বছর পার হওয়ার পরও এই দল স্বমহিমায় মহিমান্বিত।

আজকেও দেখেছি, কাসসাম ব্রিগেড ইসরাইলি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করেছে এবং জায়োনিস্টদের টার্গেট করে শুট করেছে। মাশাআল্লাহ!

প্রকাশক আব্দুর রহমান আদ দাখিল ভাই বইয়ের শুরুতে বলেছেন, এই বই পড়ার পর মনে হবে, আমিও এমন একটা দল করতে পারবো।

হ্যাঁ। তা বটে। তবে আমি মনে করি, দলের ও ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট আদর্শে বলিয়ান থাকা উচিৎ। আর তা হতে হবে ঈমান ও কুফর, আল ওয়ালা ওয়াল বারা, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের উপর ভিত্তি করে।

হামাস এগুলোর কিছুটা মান্য করার চেষ্টা করে, এটা ঠিক। তাদের ব্রিগেডদেরকে আমরা মুজাহিদই মনে করি। কিন্তু মনে করি, আদর্শিক দিক থেকে হামাসের আরো শক্ত হওয়া উচিৎ।

ইসরাইলকে টিকিয়ে রেখেছে ইউরোপ, আমেরিকা ও রাশিয়া। সুতরাং শুধু ইসরাইলকে শত্রু বানিয়ে বাকীদের বন্ধু বানানোর চেষ্টা করা বা সমর্থন নেওয়ার অর্থটা অনেকটা হাস্যকর।

আমরা ফিলিস্তিনের ইতিহাস ১৯৪৮ থেকে ধরি। কিন্তু আমরা মনে হয়, এটি আরো বহু আগ থেকে ধরা উচিৎ। ১৮৭৬ থেকে। যখন সুলতান আব্দুল হামিদ আস সানী ক্ষমতায় এসেছিলেন।

কারণ, এরপরই উসমানীয়দেরকে ভেতর থেকে দুর্বল করা হতে থাকে। ইউরোপ, ফ্রান্স, রাশিয়া মিলে খেলাফত ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে।

থিউডোর হার্জেল সুলতানের নিকট ফিলিস্তিন দাবী করে। সুলতান অস্বীকার করে। ইহুদিরা সুলতানকে ক্ষমতাচ্যুত করে।

১ম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। বলকান, শাম, মিসর ও আরব আস্তে আস্তে হাতছাড়া হয় খেলাফতের থেকে। শেষ পর্যন্ত ১৯১৮ এর বেলফোর ঘোষণা।

এরপর বৃটিশ ঔপনিবেশিক যুগে ফিলিস্তিন প্রবেশ করে। ১৯৪৮ এ তারা বের হয়ে ইহুদিদের হাতে দেশ বিক্রি করে যায়।

নির্মম সত্য

এই অঞ্চলের দ্বন্দ্ব শুরুই হয়েছে ঈমান ও কুফরের ভিত্তিতে। আর তার সমাধানেও যেতে হবে ঈমান ও কুফরের ভিত্তিতে।

শুধুমাত্র ফিলিস্তিন জাতীয়তাবাদ, আরব জাতীয়তাবাদ দিয়ে এই দ্বন্দ্ব কস্মিনকালেও সমাধান সম্ভব নয়। আল ওয়ালা ওয়াল বারা এর নীতিতে আমাদের পরিপূর্ণ বিশ্বাসী হতে হবে। তবেই একদিন এই পবিত্র ভূমি ইনশাআল্লাহ আমাদের হাতে আসবে

Online Shop Link

ফাউন্টেন পাবলিকেশন ওয়েবসাইট । । ওয়াফিলাইফ । । নেয়ামাহ শপ

হামাস স্ট্রাটেজি
হামাস স্ট্রাটেজি

1 thought on “হামাস স্ট্রাটেজি”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top