সমকামী সন্ত্রাসীদের হুমকি – জুলাই আন্দোলন শুরু থেকেই ছিল স্বার্থের উপর প্রতিষ্ঠিত। গণমানুষের চাওয়া-পাওয়াকে শুরু থেকেই থোড়াই কেয়ার করা হয়েছে।
কখনো মতাদর্শের নামে, কখনো ফান্ডিং এর নামে, কখনো ধর্মের নামে আমজনতাকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনের সময় যারা কুরআনের আয়াত পড়ে মানুষকে আন্দোলনে নামতে উজ্জীবিত করেছে, তারাই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে এনজিও নির্ভর সরকার গঠনে সাহায্য করেছে।
যাদেরকে বিপদে পড়তে দেখে দেশের আপামর জনতা নিজেদেরকে কুরবান করেছে, তারাই দেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্বহীন করে তুলেছে।
জুলাই সফল হওয়ার পর থেকেই একটা খচখচানি ভাব অন্তরে ছিল। আর এই খচখচানি ভাবটা যৌক্তিক! আগামী দিনে দেশের অবস্থা কেমন হবে? মানুষ কি তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পাবে? দেশের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে চলমান দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, খুন-গুম, হত্যা, চাঁদাবাজি, পাশ্চাত্য বস্তাপচা মতাদর্শ বিস্তার কি বন্ধ হবে?
তখনই মনে হয়েছিল, তা হবে না। কেননা এমন ব্যক্তিদেরকে দেশের প্রধান বানানো হয়েছিল, যারা গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে বরাবরই ব্যর্থ।
তারা নিত্যনতুন শব্দের মাধ্যমে, বাক্যের মাধ্যমে মানুষকে ধোঁকা দিতে পারদর্শী। এমন শব্দে তারা সংস্কার করছে, সাধারণ মানুষদের বোঝার উপায় নেই, তারা আসলে কী করছে!
এত কিছুর পরও দেশের সাধারণ মানুষ তাদেরকে তেমন দোষারোপ করেনি। মানুষ বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছে। যদিও চাঁদাবাজি বেড়েছে পূর্বের তুলনায় ৪ গুণ।
হাসিনার শেষ সময়কালেই দেশে শব্দ জাদুর মাধ্যমে এমন কিছু আইন বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে, যা গণমানুষের ইচ্ছার বিপরীত ও মুসলমানদের চিন্তাচেতনার বিপরীত।
ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামিতাকে স্বাভাবিকীকরণের নামে শরীফ-শরীফার গল্প, BRAC বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকামীদের নিয়ে কার্যক্রম ও রিসার্চ চলমান ছিল।
শেষের দিকে বেশ কিছু গণ্যমান্য প্রফেসর ও দাঈ, আলেম ও অ্যাক্টিভিস্টদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এই কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। কিন্তু তা নির্মূল হয়নি।
2
জুলাই গণ অভ্যুত্থানের ১ বছর পর আমরা কি পেলাম আর কি হারালাম, তা নির্ণয় করছি না। কেননা না পাওয়ার লিস্ট ও হারানোর লিস্ট অনেক লম্বা।
তা অন্য আলাপের জন্য থাকুক। কিন্তু আমরা এমন কিছু পেয়েছি, যা অনাকাঙ্ক্ষিত, যা হাসিনার সময়েও ঘটেনি।
দেশের বেশ কিছু সমকামীদের গ্রুপ কিছুদিন আগে ড. সরোয়ার হোসাইন ও আসিফ মাহতাব স্যারদের হত্যার হুমকি দেয়।
তারা উক্ত ব্যক্তিদ্বয়ের কর্তিত মাথা আর্ট করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়। একটাবার ভাবুন, কেউ আপনাকে এমন হত্যার হুমকি দিচ্ছে এবং আপনার কর্তিত মাথার ছবি প্রদর্শন করে বেড়াচ্ছে। কেমন লাগবে তখন?
হতাশার বিষয় হলো, দেশের অন্যান্য বড়ো বড়ো প্রফেসর, সরকারপক্ষের ব্যক্তিবর্গ এটাকে স্বাভাবিক হিসেবে নিয়েছে।
এমনকি তারা উক্ত হুমকিদাতার পক্ষে সাফাই গাইছে। হাসিনার আমলে মুজিবকে গালি দিলে জেল হতো, অন্যান্য সরকারের আমলেও সরকারপক্ষের কাউকে হুমকি দিলে তাকে আইনের মারপ্যাঁচে ফেলে দিত।
কিন্তু এখানে এখন আইন কোথায়? ব্রিটিশদের বিকৃত আইন কি এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছে যে, তাদের মতাদর্শের ন্যায় আইনও পরিবর্তন হয়!
ড. সরোয়ার স্যারকে তো বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এসব নিয়ে কথা বলার কারণে।
দেশে তো এখন জাতিসংঘের মাজার হয়েছে। স্থায়ী কবর যেহেতু রচনা হয়েছে, তাই মাজারের পাগলা ভক্তরা এখন তো লাফালাফি করবেই।
3
সমকামিতা, ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে বারবার কথা বলার কারণ হলো, এটি এই জামানার অন্যতম ভয়াবহ ফিতনা।
আল্লাহ লুত আ. এর জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন এই কাজের কারণে।
হাল আমলের এই ফিতনায় যেন আপনার সন্তানরা পতিত না হয়, সেই জন্যই তো আমাদের প্রচেষ্টা।
কিন্তু এলিট শ্রেণির এরা চায়, তাদের সন্তানরা এমন হোক। আমি আশঙ্কা করি, এলিটদের বহুসংখ্যক সমকামী।
অন্যথায় সমকামিতার মতো প্রকৃতি বিরুদ্ধ একটি কার্যক্রমকে তারা কখনোই বৈধতা দিত না।
এনজিও বান্ধব এই সরকার সমকামিতাকে আরও স্বাভাবিকীকরণের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এটি তাদের গ্লোবাল মিশন।
আমাদের মধ্যে এই সরকারের পক্ষে সাফাই গাওয়া লোকের অভাব নাই।
হাসিনাকে তাড়িয়ে যে আরও বড়ো হাসিনাকে বসানো হয়েছে, সেদিকে আন্দোলনকারীদের কোনো ভ্রুক্ষেপই ছিল না।
বুঝমানরা তখনই সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু কেউই কারও কথা শুনতে প্রস্তুত ছিল না।
আজ তারা হত্যার হুমকি দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরদের, আগামীকাল সমকামী সন্ত্রাসীদের হুমকি এর শিকার হবো আমরা।
কেননা আমরা তাদের বিকৃত কার্যক্রমের বিরোধিতা করেছি। বিশ্বে এলজিবিটি কার্যক্রম কোন পর্যায়ে চলে গেছে, বিগত কয়েক বছরের জাতিসংঘ, আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের দিকে তাকালেই দেখতে পাবেন।
আর এদের কার্যক্রমগুলো অগ্রসর করার জন্য সৈনিক হিসেবে কাজ করে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় এনজিওগুলো।
দুঃখের বিষয় হলো, ফিলিস্তিনেও তারা এমন বিকৃত মতাদর্শ প্রচারণার পক্ষে কাজ করছে। আমরা যত চুপ থাকব তারা ততই ছোবল দেবে।
তাই উচিত হলো, সাপের মাথা গুঁড়িয়ে দেওয়া। এর জন্য যা করা উচিত, সেটিই করা।