বাংলাদেশে দ্রোহের ব্যর্থতা – দক্ষিণ এশিয়ার ছোট্ট এই ভূমিটা যতটা সহজ মনে হয়, এর ভৌগলিক ও রাজনৈতিক সিস্টেম ততটাই কঠিন।
মুসলিম ভূখন্ড থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এই ভূমি এককালে পাকিস্তানের অধীনে থাকলেও রাজনৈতিক কারণে আলাদা হয়ে যায়।
স্বাধীন এই ভূখন্ডে স্বাধীনতার শুরু থেকেই এক এক করে সমস্যা জর্জরিত ছিল। ভারতের ক্রমাগত হস্তক্ষেপ ছিল পাকিস্তান আমল থেকেই।
তাদের জন্য দুইপাশে দুইটা মুসলিম ভূখন্ড ছিল গলার কাঁটার মতো।
দেশ আলাদা হলো। আলাদা পতাকা হলো। কিন্তু এরপর…….? রাজনৈতিক নেতাদের ভুল পদক্ষেপ এবং স্বৈচ্ছাচারিতা দেশের মানুষকে ঠেলে দিল অতল গহ্বরে।
আওয়ামী দুঃশাসনের পুরো চিত্রটা অনেক জটিল। স্বাধীনতার পর থেকেই তারা ছিল দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের শত্রু এবং সংখ্যালঘিষ্ট মানুষের বন্ধু।
এই বামধারার রাজনীতি করার মূল চালিকাশক্তি ছিল হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র ভারত। কারণ, ভারতের এই ভূখন্ডে দরকার শক্তিশালী একটি মিত্র। যারা কুকুরের মতো কখনো ঘাতকতা করবে না।
৫ আগষ্ট বা ৩৬ জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে যুগান্তকারী অধ্যায়। ফ্যাসিবাদের পতনের জন্য দেশের সর্বাত্রক মানুষ আন্দোলন করে আওয়ামী রেজিমকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছিল।
কিন্তু এরপর কি ঘটলো? অন্তবর্তীকালীন সরকারে আওয়ামী লিবারেলপন্থীরা জায়গা করে নিল। এনজিওরা পরিষদের অন্তর্ভূক্ত হলো।
শব্দখেলা শুরু হলো। ইন্ডিয়াকে একদিকে চাপ দিয়ে আরেকদিকে ছাড় দেওয়া শুরু হলো।
বিপ্লব বেহাত হওয়ার ঘটনা শোনা যাচ্ছে অনেক। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবে আহতদের সরকারিভাবে সুচিকিৎসা করা তো প্রায় সম্ভবই হয় নি।
প্রথম কিছুদিন এটি নিয়ে কথা থাকলেও কাজের কাজ কিছুই হয় নি।
লেখক মুহাইমিন পাটওয়ারি ভাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে আহতদের জন্য কাজ করছেন।
তার নিকট অনেক আহতরা আক্ষেপ করে বলেছে, এই দুরবস্থার চেয়ে মৃত্যু শ্রেয় ছিল। এখন এই আহতরা পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে গেছে।
না কোনো সরকারি উদ্যোগ আছে, আর না কোনো টাকা-পয়সার ব্যবস্থা আছে।
এটা তো শুধুমাত্র একটা দিক। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন এই সরকারের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে, রেজিমরা আবার ফিরবে। কারণ, সরকার তাদেরকে সেই পথ তৈরি করে দিচ্ছে।
তিউনিশিয়া, মিসর বিপ্লব হাতছাড়া হয়েছিল একটা সময়। বাংলার বিপ্লবও হাতছাড়া হয়ে গেছে।
সময় এখনো আছে লাগাম টেনে ধরার। যদি তারা চায়……