আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি – ৫ই আগস্টে হাসিনার পতনের আগ থেকেই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে প্রায় নিষিদ্ধের পর্যায়ে চলে গিয়েছিল।

জুলাই আন্দোলনের সময় বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং ছাত্রলীগের গুন্ডাদের উপযুক্ত প্রাপ্য দেওয়া হয়।

পুরো জুলাইয়ের সময়েই আওয়ামী লীগ পুলিশ লীগের সাথে বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার উপর হামলা করেছে, উষ্কানী দিয়েছে, আহত-নিহত করেছে।

অবশেষে ছাত্র-জনতার প্রবল দ্রোহের মুখে হাসিনার পতন ঘটল। সে পালিয়ে ইন্ডিয়া চলে গেল। তার নেতাকর্মীরাও পালিয়ে গেল।

কেউ কেউ ধরা পড়ে জেলে গেল। নেতাকর্মীদের লুটপাটের টাকায় করা ঘরবাড়িকে ছাত্র-জনতা জয় বাংলা করে দিলো।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের আপামর সর্বস্তরের জনগণের প্রাণের দাবি ছিল, আওয়ামীলীগকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা।

যাতে এরা আর কখনোই ফিরে আসতে না পারে। ছাত্রনেতাদের একাংশ ড. ইউনুসকে এনে ক্ষমতায় বসাল দেশ সংস্কারের জন্য।

জুলাইয়ের শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে ইউনুস ক্ষমতায় আসলো। দেশের মানুষ খুবই আশা-ভরসা করেছিল, এই লোক দেশকে উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বাস্তবতা হলো, যারা সাম্রাজ্যবাদ ও সেক্যুলারদের ধোঁকাসমুহ জানে তারা পরবর্তী সময়ে কি ঘটবে, তা পূর্বেই উপলব্ধি করতে পেরেছিল।

কিন্তু দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ইউনুসের ব্যাপারে সুধারণাই করছিল। ইউনুস ক্ষমতায় বসেই এনজিও এবং শাহাবাগীদের নিয়ে সরকার গঠন করল।

যে-ই এনজিওরা জুলাই আন্দোলনে ছিল হাসিনার পক্ষে, সেই এনজিওরাই হাসিনার পতনের পর ক্ষমতায় চলে আসলো।

নতুন করে মাস্টারমাইন্ড নামক কীট-প্রত্যঙ্গ হাজির করল ড. ইউনুস। শুরু থেকেই দেশ ও জাতির স্বার্থ বাদ দিয়ে পশ্চিমা স্বার্থকেই প্রাধান্য দিতে লাগল তারা।

জুলাইয়ের সময় থেকেই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি ছিল জনগণের। কিন্তু দেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হওয়ার পরও এটা হলো না।

নামকাওয়াস্তে গত অক্টোবরে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে ইউনুস সরকার।

এতে কি আওয়ামী লীগ দমে যায়? পুরোদমে অনলাইনে আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা ও মিডিয়া সেল সক্রিয় হলো।

বিভিন্ন ইস্যুতে তারা দেশ-বিদেশে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করল। এটার কোনোই নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি ইউনুস সরকার।

শুরু থেকেই ইউনুসের ক্যাবিনেটে অন্য দেশের এবং আওয়ামী লীগের এজেন্টরা সক্রিয় ছিল।

তারা এখনও সক্রিয়। কিন্তু তাদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

2

দেশে জাতিসংঘের অফিস, করিডর, নারী কমিশনসহ আরও বিভিন্ন অমানবিক কাজ ইউনুস করা শুরু করে।

দেশের জনগণের কোনোরূপ মতামত না নিয়েই নিজের ইচ্ছামতো এমনভাবে কাজ করছে যে, সে নিজেই এখন নতুন সফট স্বৈরাচার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

বিগত সরকারের অনেককেই ইউনুস সেফ এক্সিট দিয়ে দেশত্যাগে সাহায্য করেছে।

জুলাইয়ের নিহত এবং আহতদের জন্য কোনো কাজই পরিচালনা করা হচ্ছে না।

দেশের টাকার মান আগের চেয়ে আরও কমে যাচ্ছে। ইউনুসের বিরুদ্ধে যদিও মানুষ এখন ফুঁসে উঠেছে, কিন্তু মুখ ফুটে এখনও কিছু বলেনি তারা।

যে-ই প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ছিল এই দেশের শত্রু এবং আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত দালাল, সেই প্রথম আলোর প্রকাশনী থেকেই জুলাইয়ের ইতিহাস ছাপানোর দুঃসাহস দেখায় ইউনুসের ক্যাবিনেটে জায়গা নেওয়া দালালরা।

০৮ মে ২০২৫ তারিখে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে ছাত্র-জনতা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাও করে।

সেখানে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এই আন্দোলনকে দমানোর জন্য আট তারিখেই আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। মানুষ কি এতই মাথামোটা যে, কিছুই বোঝে না তারা?

আন্দোলন অব্যাহত রাখলো ছাত্র-জনতা। আওয়ামীলীগকে এখনও তারা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি। বরং তারা বলতে চাচ্ছে, আওয়ামীলীগকে রাজনৈতিক দল থেকে নাম কেটে দেবে। দল থাকুক।

আসলে এরা বুঝেও না যে, আওয়ামী লীগ আসলে কী? বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল থেকেও আইডিওলজি হিসেবেই বেশি কাউন্ট করে।

আওয়ামী লীগের নিজস্ব চেতনা রয়েছে, নিজস্ব ন্যারেটিভ আছে। দল রাখা মানে এ সকল ন্যারেটিভকেও জীবিত রাখা।

এতে আখেরে আওয়ামী লীগেরই লাভ। আজ না হোক, কাল তারা আবার এই ন্যারেটিভের উপর ভর করেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে হাজির হবে।

তখন এক এক করে শোধ তুলে নেবে জুলাইয়ের সকল সমর্থক, নেতাকর্মী ও আহতদের থেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top