হেরা গুহা ও রিসালাত

হেরা গুহা ও রিসালাত – রাসূল সা. এর বয়স যখন ৪০ বছরে উপনীত হলে তখন তার ধ্যান-ধারণা, অনুভব-অনুভূতির মধ্যে গভীরতা আসে।

তার পরিচ্ছন্ন এবং অনমনীয় ব্যক্তিত্বের জন্য স্বজাতীয় লোকদের সাথে তার চিন্তা ও মানসিকতার দূরত্ব অনেক বেড়ে গেল।

তিনি তখন দিন দিন নির্জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন। এই সময়ে তিনি মক্কা থেকে দুই মাইল দূরে হেরাগুহায় নির্জনে ধ্যান  করতেন।

রাসূল সা. এর সাথে তার স্ত্রী খাদিজা রা. ও গুহার নিকটে যেতেন। বছরের রমজান মাসের পুরো সময় উক্ত গুহায় কাঁটিয়ে দিতেন।

এখানে থাকা অবস্থায় তিনি অভাবগ্রস্থদের খাবার খাওয়াতেন। তিনি তার স্বজাতীয় লোকদের মূর্তিপুজায় লিপ্ত দেখে ভীষণ মর্মাহত হতেন।

বিগত সাত বছরে তিনি কয়েকবার ফেরেশতাদের আওয়াজ শুনেছিলেন। এমনকি অদৃশ্য নূরের ঝলকও দেখতে পেয়েছিলেন।

তবে তিনি তখনো কখনো ভাবতেও পারেন নি যে, আল্লাহ তাকে একটা সময় নবী ও রাসূল বানাবেন। তার নিকট ওহী পাঠাবেন।

নবুয়তপূর্ব মোজেজা – হেরা গুহা

এই অবস্থা নবীজিকে পুরোপুরি একাকিত্ব বান্ধব করে তোলে। ফলে তিনি মক্কার পাহাড় ও বিরানভূমিতে সময় অতিবাহিত করতে লাগলেন।

এ সময়ে কখনো কখনো নবী মুহাম্মাদ সা. কে সত্য স্বপ্ন দেখানো হতো। কখনো কখনো উপত্যকা অতিক্রম করার সময় বৃক্ষ ও পাথর থেকে আওয়াজ শুনতে পেতেন।

তারা নবীজিকে ‘আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ’ বলে সম্মোধন করতো। তখন তিনি পেছনে ফিরে তাকাতেন। কিন্তু কাউকে দেখতে পেতেন না।

কেন এমনটা ঘটতো – হেরা গুহা

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যাকে দোজাহানের সরদার বানাবেন তাকে তো আগে থেকে পরিপক্ক করে রাখতে হবে। তাই তিনি নবীজিকে সর্বদা খারাপ কাজ থেকে দূরে রেখেছেন।

জন্মলগ্ন থেকে মূর্তিপূজা তিনি দুচোখে দেখতে পারতেন না। পাপাচার ও অনাচার কাজ কর্ম থেকে দূরে থাকতেন। একটা সময় তিনি ধ্যানে লিপ্ত হতেন।

হেরা গুহা

তখনো যেহেতু পরিপূর্ণরূপে আল্লাহর পরিচয় পান নি। তাই নিজের মতো করে আল্লাহকে স্বরণ করতেন। তার ইবাদত করার চেষ্টা করতেন।

এরপর একটা সময় এলো সেই শুভলগ্ন দিন। যেদিন রাসূলের উপর হেরাগুহায় প্রথম ওহী নাযিল হলো।

তথ্যসুত্র

আর রাহিকুল মাখতুম। পৃষ্ঠা ৭২

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খন্ড ১। পৃষ্ঠা ২৭৮

আরো পড়ুন

আল্লাহ কত দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন?

শিয়া মতবাদ ও আকিদাগত বিচ্যুতি

নবুয়তের পূর্বে রাসূল সা. কেমন ছিলেন

খাদিজা রা. কি তার পিতাকে মাতাল করে রাসূলকে বিয়ে করেছেন?

ফাতেমা রা. কি আবু বকরকে দেখতে পারতেন না?

কুরআনে কি ব্যাকারণগত ভুল আছে?

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমাদের লেখাগুলো সূচিপত্র অনুযায়ী দেখুন www.subject.arhasan.com এই ওয়েবসাইটে। আমরা কোন প্রকাশনীর বই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করি তা জানতে ভিজিট করুন www.arhasan.com/book এই ওয়েবসাইটে। আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করতে পারেন এই লিংক থেকে। আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করুনএই লিংক থেকে

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com