সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে শরীফার গল্প থাকছে

এনসিটিবি কর্তৃক জানানো হয়, নতুন কারিক্যুলামে সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে শরীফার গল্প নামক সমকামিতা প্রচারকারী গল্পটি থাকছে।

গত বছর থেকেই এই গল্পটি ও আরো কিছু লেখা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে শিক্ষিত মানুষেরা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাবিদ ও আলেমরা।

বাদ যাচ্ছে শরীফার গল্প। এই বিষয়ে নিউজ প্রকাশিত হয় ১৭ মে ২০২৪ তারিখে। দেখুন নিচের বাটনগুলোতে। আমাদের মূল লেখাটিও রাখা হলো তাদের কর্মকাণ্ড বুঝার সুবিধার্থে

কিন্তু তারা কারো কথা না শুনে একগুঁয়েমি করে উক্ত গল্পটি রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২২ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত একটি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে,

শরিফার গল্পে নাকি কোনো বিতর্কিত বিষয় নেই। এটি অন্য দশটা গল্পের মতো। তাই তা পরবর্তীতে পাঠ্যবইতে রাখা হবে।

ট্রান্সজেন্ডার তথা নারী থেকে পুরুষ হওয়া বা পুরুষ থেকে নারী হওয়া, এটি কখনোই বায়োলজিক্যালি সম্ভব নয়। অধিকাংশ ট্রান্সজেন্ডাররা মূলত সমকামী।

সমকামীদের নিয়ে বিশ্বে বড় বড় প্লাটফর্ম আছে। যেখানে এটি LGBT নামে পরিচিত।

এই অক্ষরগুলোর ফুল মিনিং দেখলেই তো এটি ক্লিয়ার হয়ে যায়।

L = Lesbian তথা যেই নারী অপর নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয় ও দৈহিক কাম চরিতার্যে লিপ্ত হয়। অর্থাৎ সমকামী নারী।

G = Gay তথা যেই পুরুষ অপর পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হয় ও দৈহিক কাম চরিতার্যে লিপ্ত হয়। অর্থাৎ সমকামী পুরুষ।

B = Lesbian তথা যেই পুরুষ অপর পুরুষের প্রতি বা নারীর প্রতি অথবা যেই নারী অপর নারীর প্রতি বা পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হয়। অর্থাৎ উভকামী।

T = Transgender তথা যেই পুরুষ নারী সাজে বা নারী দাবী করে বা যেই নারী পুরুষ সাজে বা পুরুষ দাবী করে।

এই বিষয়গুলো দেখলে কারো কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়, ট্রান্সজেন্ডার কি? এর মিশন-ভিশন কি?

শরীফার গল্পে সমস্যা খুঁজে পাচ্ছে না আলীয়া মাদ্রাসার শিক্ষকরা
ক্লিক করে ইউটিউব থেকে ভিডিওটি দেখুন

আলীয়া মাদ্রাসার ভাঙ্গা মেরুদণ্ড – সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে শরীফার গল্প

বর্তমানে স্কুল আর আলীয়া মাদ্রাসার সিলেবাস ও পাঠ্যসূচি প্রায় একই রকম।

আলীয়াতে আরবি সাবজেক্ট বাদে অন্য সকল সাবজেক্ট এনসিটিবি কর্তৃক নির্ধারণ করা হয়।

সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে শরীফার গল্প নিয়ে দেশে তুমুল বিতর্ক শুরু হওয়ার পরে আলীয়া মাদ্রাসার বড় বড় তিনজন ব্যক্তিকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবির দায়িত্বরত ব্যক্তিরা একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ উঠিয়েছে হেফাজতে ইসলামের উপর।

সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে শরীফার গল্প নিয়ে শুধুমাত্র আলেমরাই কথা বলে নি। দেশের বড় বড় ডাক্তার, সমাজবিদ, গবেষক কথা বলেছেন।

ড. সরোয়ার হোসাইন স্যার, ডা. শামসুল আরেফিন শক্তি, আসিফ আদনান, ডা. মাহদী হাসানসহ আরো অনেক ব্যক্তিরা এটি নিয়ে কথা বলেছেন।

আমাদের দ্বীনী ভাইদের অনেকে এবং দ্বীনী ডাক্তাররা উক্ত কমিটিতে থাকা ব্যক্তিদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেছেন এবং এই ফিতনা সম্পর্কে কথা বলেছেন।

কিন্তু এই সদস্যরা ফান্ড পেয়ে দ্বীনী ভাইদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছে।

আর এই কমিটির সদস্যরা নাকি সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ের শরীফার গল্পে কোনো ভুল খুঁজে পায় নি।

এটি হলো খুবই হতাশাজনক একটি কাজ। তারা নিজেদের নামের সাথে আলেম শব্দটি ব্যবহার করেও আলেম শব্দটির সম্মান রক্ষা করতে পারে নি।

ট্রান্সজেন্ডার ও হিজড়া দ্বন্দ্ব – সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে শরীফার গল্প

ব্র‌্যাক যখন থেকে বাংলাদেশে সমকামিতা বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করে তখন থেকেই তারা শব্দ জাদু শুরু করে।

তারা ট্রান্সজেন্ডার বা সমকামীদেরকে হিজড়া নামে মিডিয়াতে ও পত্রিকাতে উপস্থাপন করে।

এর ফলে বড় একটি ভুল মেসেজ সকলের নিকট চলে যায়।

হিজড়া কারা, হিজড়া কেন হয়, জনসংখ্যার কত পার্সেন্ট হিজড়া এসব নিয়ে বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু এরপরও কেউ কথাগুলো কানেও তুলছে না।

নির্লজ্জের মতো আবারও হিজড়াকে ট্রান্সজেন্ডারের সাথে তুলনা করছে বুদ্ধিহীন লোকেরা। এমনকি এনসিটিবির চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যটি তো আরো মারাত্মক।

এটি সামনে আসার পর তো এখন নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করা উচিৎ যে, সরকার ২০১৩ সালে কাদেরকে স্বীকৃতি দিয়েছে? হিজড়াদেরকে নাকি সমকামীদেরকে?

যারা জেনে ‍বুঝে সমাজে মিথ্যা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে, একদিন তাদের ফাঁদে তারা নিজেরাই ফেঁসে যাবে।

আফসোস, যদি তাদের বাবা-মা সমকামী হতো তাহলে আর তাদেরকে এই পৃথিবীবাসী দেখতো না।

আরো পড়ুন

সপ্তম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে শরীফার গল্প থাকছে – নয়াদিগন্ত প্রতিবেদন

পাঠ্যবইতে থাকবে শরীফার গল্প – সংবাদ নিউজ

লেখাটি শেয়ার করতে সর্ট লিংক কপি করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top