মডারেট চিন্তা ও নোমান আলী

মডারেট চিন্তা ও নোমান আলী খান – মাদ্রাসার সাথে সম্পৃক্ত থেকেও অনেক আগে মাঝেমধ্যে নোমান আলী খান এর লেকচার শুনতাম।

শুরুর দিকে উনার দাঈ হিসেবে আলোচনাগুলো তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। পরিচিত অনেকের পছন্দের ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি।

তিনিও মডারেট চিন্তাধারা থেকে মুক্ত নন। একটা আয়াত আমার খুব বেশি মনে পড়ছে।

সূরা তওবার ৩ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কাফেরদের থেকে মুক্ত।

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় উম্মাহর প্রাণপ্রিয় ব্যক্তি শায়েখ আব্দুল্লাহ আযযাম রহ তাফসীরে সূরা তওবা গ্রন্থে বলেছেন,

অমুসলিমদের মাঝে যারা বসবাস করে, তাদের দায়িত্ব থেকেও আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মুক্ত।

কারণ, অমুসলিমদের সাথে থেকে তাদের মাঝে চিন্তাধারার অনেক পরিবর্তন হয়।

কাফের সমাজে তার মিলিয়ে চলতে গিয়ে তারা এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ কথা বলে বসে, যা বড়ই ভয়ঙ্কর।  আমরা ইলম গ্রহণ করতে হলে পশ্চিমাদের দিকে কেন অগ্রসর হই?

১ জাতে উঠতে।

২ বিজ্ঞান দিয়ে ধর্মকে যাচাই করতে।

৩ ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসেবে প্রচার করতে।

আমাদের সিদ্ধান্ত কেন এমন?

উপরোক্ত তিনটা সিদ্ধান্ত ই ভুল সিদ্ধান্ত। আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত পশ্চিমাদের দৃষ্টিতে জাতে উঠতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপনি কাফির হয়ে যাবেন বা তাদের অনুসরণ করবেন। এই বিষয়ে স্পষ্ট দলীল আছে।

বিজ্ঞান দিয়ে যারা ইসলামকে যাচাই করে, তারা হাই লেভেলের মনস্তাত্ত্বিকভাবে পরাজিত।

একটা উদাহরণ দেই, সূর্য চন্দ্র তারকারাজি যে নিজ নিজ কক্ষপথে চলছে, এটা বিজ্ঞান জেনেছে কিছুদিন আগে।

আর কুরআন বলছে সেই ১৪০০ বছর আগে। বর্তমান বিজ্ঞানীরা একটা কথা বলেন, মহাবিশ্বের মাত্র ৫% বিজ্ঞান জানে। বাকী ৯৫% জানে না।

অথচ এই ৫% নিয়ে কত বাহাদুরি আমাদের। স্রষ্টাকে অস্বীকার করে বসি। আমার নিকট মনে হয় এখানে ০৫% হওয়া উচিৎ। ৯৯৫% আমাদের এখনো অজানা।

শান্তির ধর্ম ইসলাম বলে যারা প্রচার করে বেড়ায়, তাদের অধিকাংশই ইসলামকে পরিপূর্ণ মানে না। কারণ, শান্তি বললে তাদেরই লাভ।

শান্তির নামে যা ইচ্ছা করতে পারা যায়। ইসলাম মানে আত্মসমর্পণ।

সুস্পষ্ট বক্তব্য। এতে কোনো প্যাঁচ নেই। আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিকেই মুসলিম বলে।

ইসলামকে ইসলামের মতো আঁকড়ে ধরতে শিখুন। সব বিষয় নিয়ে সকলের কথা বলা, লেকচার দেওয়া, লেখালেখি করা উচিৎ নয়।

সীমাবদ্ধতা আছে। আমার ধর্মীয় জ্ঞান যতটুকু, ততটুকু মেনেই কাজ করতে হবে।

জনপ্রিয়তার লোভে আমরা যদি “বানোয়াট ইসলাম” প্রচার করি, সাময়িক সময়ের জন্য এটি আনন্দদায়ক হলেও অনন্তকালের জন্য বেদনাদায়ক হবে

আসিফ আদনান ভাইয়ের মূল্যায়ন

একজন ভদ্রলোক কুরআনের ‘তাফসীর’ করেন। বিভিন্ন সময়ে করা তার কিছু মন্তব্য আর অবস্থান –

১। বর্তমান পৃথিবীর সব অমুসলিমকে কাফির বলা ভুল। 

অর্থাৎ পুরো আহলুসসুন্নাহর অবস্থান ভুল।

২। ইমাম ইবনু জারির আত-তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) মুফাসসির ছিলেন না। তিনি নাকি একজন ইতিহাসবিদ ছিলেন।

ব্যাপারটা এমন যে, প্রাইমারি স্কুলের টিচার বলছে আইজ্যাক নিউটন তো পদার্থবিজ্ঞান বুঝতো না।

৩। নারীদের জন্য ঘরের ভেতরে সালাত আদায় করা উত্তম এই ব্যাপারে আলাপ করতে গিয়ে হাদীসের নামে বানোয়াট এক কাহিনী প্রচার করা। একজন সাহাবীকে ‘পোকিমন সাহাবী’ বলা, নাউযুবিল্লাহ।

৪। পুরো ইসলামের ইতিহাসে মক্কা বিজয় ছাড়া আর কোন সময় মূর্তি ভাঙ্গার ঘটনা ঘটেনি। এটা শুধু ঐদিন এবং ঐ অবস্থা ও অবস্থানের জন্য খাস।  

অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশে সাহাবীগণ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম মূর্তি ভেঙ্গেছেন। তাবেঈগণ ভেঙ্গেছেন। অ্যাপারেন্টলি তাঁরা কেউ ব্যাপারটা বুঝতে পারেনি। এই ভদ্রলোক বুঝতে পেরেছেন।

৫। সাইয়্যিদিনা মুসা আলাইহিসসালাম এর স্ত্রী, যিনি একজন পুন্যবান ব্যক্তির (অনেকের মতে একজন নবীর মেয়ে) মেয়েও-

যার লজ্জাশীলতা ও উন্নতচরিত্রের সাক্ষ্য আসমান ও যমীনের মালিক দিয়েছেন, তার ব্যাপারে মিথ্যারোপ করে, তার নিয়্যাতের ব্যাপারে ধারনাবশত আপত্তিকর কথা বলেছে।

৬। সাহাবী ও সাহাবিয়্যাতগণের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আজমাইন) এর কোর্টশিপের ব্যাপারে বানোয়াট বক্তব্য। সাহাবী-সাহাবিয়াতরা দীর্ঘদিন ধরে একসাথে কো-ওয়ার্ক করেছেন, বিজনেস পার্টনারশিপ করেছেন, একে-অপরকে প্রস্তাব দেওয়ার সময় খুব ক্যাজুয়ালি, “hey, I like you” জাতীয় কথাবার্তা বলেছেন, কিংবা বিয়ের আগে বেশ ভালো সময় নিয়ে “রেসপেক্টফুল কোর্টশিপ” করে মন দেওয়া-নেওয়া করেছেন – এই ধরণের ইনসিনুয়েশন। নাউযুবিল্লাহ।

৭। হাসতে হাসতে  নিয়্যাহ বা Intention এর ব্যাপারে এমন এক বাতিল ব্যাখ্যা প্রচার করেছে যা আহলুসসুন্নাহ ওয়াল জামাআহ-র অবস্থান থেকে থেকে আলাদা তো বটেই, অনেক দিক থেকে প্রায় পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।

৮। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জিহাদ এর ধারাবাহিকতা এবং চলমান থাকার ব্যাপার আলিম ও ইমামগণের অবস্থানকে ঐতিহাসিক ভুল বলা।

৯। শাতিমদের ব্যাপারে শরীয়াহর স্পষ্ট হুকুমের ব্যাপারে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা।

আসিফ আদনান ভাইয়ের লেখাটির সাথে কিছু সহায়ক লিংক

Jews and Christians in the Quran – Noman Ali Khan

Nouman Ali Khan Slanders Imam Al Tabari رحمه الله

বিয়ে নিয়ে নুমান আলী খানের মন্তব্য

নুমান আলী খানের বিষয়ে একজন নারীর মন্তব্য

আরো একটি মন্তব্য

Jihad in light of Quran – By Nouman Ali Khan

মডারেট চিন্তা ও নোমান আলী খানের মধ্যে পার্থক্য কি, তা জানা যাবে উপরোক্ত দলীলগুলো একটু সময় নিয়ে ঘেঁটে দেখলে।

লেখাটি শেয়ার করতে সর্ট লিংক কপি করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top