ফ্রি ফায়ার গেম খেলতে না দেয়ায় আত্মহত্যা

ফ্রি ফায়ার গেম খেলতে না দেয়ায় আত্মহত্যা – পিসির সামনে বসে আছি। আজকে হঠাৎ করেই টুইটার অ্যাকাউন্টে লগইন করলাম। সর্বশেষ কবে টুইটার ওপেন করেছি, তা মনে নেই।

বাংলাদেশে টুইটার তেমন একটা চলে না। এখানে অখাদ্য ফেইসবুক খুব চলে। একটা সময় টুইটারে অ্যাকটিভিস্ট হতে চেয়েছিলাম।

ফ্রি ফায়ার গেম খেলতে না দেয়ায় আত্মহত্যা

কিন্তু সময় সঙ্গ দেয় নি। আমি পুরোনো পোস্টগুলো এক এক করে দেখছি। কত স্মৃতি কিংবা কত ভারাক্রান্ত তথ্য ভরে আছে আমার টুইটারে।

ক্রল করতে করতে একটা জায়গায় থেমে যেতে বাধ্য হলাম। ঘটনাটা ৪ মে ২০২১ সালের কথা। আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে।

কত তাড়াতাড়ি আমাদের সময় চলে যায়। সেটা ছিল বিডি ২৪ লাইভ ডট কমের একটা নিউজ। শিরোনাম হলো,

ফ্রি-ফায়ার গেইম খেলতে না দেয়ায় মাদ্রাসার ছাত্রের আত্মহত্যা

ছেলেটির নাম মুহাম্মাদ সাগর। বয়স মাত্র ১৪। তার বসবাস হলো কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামে।

সেখানেই সে তার বাবা-মায়ের সাথে থাকে।

২০২০ সালে ছিল পুরো পৃথিবীর জন্য একটা আযাবের বছর। করোনা ভাইরাসের ভয়ংকর তাণ্ডবে আমরা তো ভেবেছিলাম,

আগামীকাল বোধ হয় আমার মৃত্যু হবে।

আল্লাহ তা’আলা সেই কঠিন দিনগুলো দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। এই কঠিন দিনগুলো সবাই ছিল ঘরবন্দী।

বিধি-নিষেধের পাল্লায় পড়ে সবাই ঘরে থাকতে বাধ্য হয়েছে।

সাগরও তার বাবা-মায়ের সাথে গ্রামের বাড়িতে থাকে। এই বাড়িতে থাকা অবস্থায় সে ফ্রি ফায়ার গেমে আসক্ত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় সে তার মায়ের মোবাইলে ফ্রি ফায়ার গেম খেলতো।

গত ৪ মে ২০২১ রোজ মঙ্গলবার সাগর তার মায়ের কাছে মোবাইল চায় গেম খেলার জন্য।

কিন্তু মা তাকে মোবাইল দিতে অস্বীকার করে। এতে সে অভিমান করে ঘরের দরজা লাগিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে।

ছেলেটি কুমিল্লা শুভপুর হাফেজিয়া বড়মাদ্রাসার ছাত্র ছিল। এই তো জীবন।

সামান্য রাগ আর অভিমানে ঝড়ে পড়ে গেল ফুলের মতন সুন্দর জীবনটি।

আরো মৃত্যু

শুধুমাত্র এই সাগরই নয়। আরো অনেকে এই গেম খেলতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। আজকে ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে আরো কিছু তথ্য উদগাটন করলাম।

২০২১ সালের ২৬ মে তারিখে ঢাকা শাহজাহানপুরে ঘটে আরেক দূর্ঘটনা। পত্রিকার শিরোনাম হলো,

‘ফ্রি ফায়ার গেম’ খেলতে না পেরে ২ আত্মহত্যা!

শাহজাহানপুর এলাকায় দরজা আটঁকিয়ে গত ২৬ মে ২০২১ তারিখে আত্মহত্যা করে উম্মে হাবিবা বর্ষা নামে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

তার বয়স ছিল সবেমাত্র ১২। এমনকি সে মৃত্যুর আগে একটা চিরকুটও লিখে যায়। তাতে লেখা ছিল,

‘আমি ফ্রি ফায়ার গেম খেলে নামি খেলোয়াড় হতে চাই। বাবা-মা গেম খেলতে দিতো না; বকাঝকা করত।

তাই আমি চলে গেলাম। আমাকে আর বকাঝকা করতে হবে না। গুডবাই বাবা, গুডবাই মা।’

কত বড় মারাত্মক কথা! আপনি চিন্তা করেছেন? ১২ বছরের মেয়ে ফ্রি ফায়ার খেলে বড় খেলোয়াড় হতে চায়।

যেখানে আমাদের দেশে ফিজিক্যালি বিভিন্ন খেলার মাধ্যমে মানুষ খেলোয়াড় হতে চায়, সেখানে সে ভার্চুয়াল একটা গেমের মাধ্যমে সে খেলোয়াড় হতে চায়।

দোষ কাদের

বাংলাদেশে এই ফ্রি ফায়ার গেমটা খুব প্রসিদ্ধ পেয়েছে গেমিং চ্যানেল ইউটিউব ও ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে।

আমি ২০২১ সালে কিছু ব্যক্তিদের ভিডিও দেখিছিলাম। যাদের এখন মিলিয়ন মিলিয়ন সাব্সক্রাইবার।

ব্যক্তিগতভাবে আমি এর জন্য Mr. Triple R (মি. ত্রিপল আর) সহ আরো বেশ কিছু ইউটিউব চ্যানেলকে দোষী মনে করি।

আমি এই আর্টিক্যালে যেই মেসেজটা দিতে চেয়েছি, তা হলো, বিভিন্ন গেম এবং অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার আমাদেরকে অলস এবং অকর্মা করে তুলছে।

এসব গেম কখনো সরকার বন্ধ করবে না। কারণ, সরকারের এতে সুক্ষ্ম লাভ আছে। কিন্তু আমাদের পরিবার যে এর কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি?

এখানে তো শুধুমাত্র ২০২১ সালে নিউজ আনলাম। ২০২২ সালে তো এমন আরো অনেক ঘটনা ঘটেছে। কিছুদিন আগে একটা মেয়ে মারা গেল টিকটক ভিডিও করতে গিয়ে।

মোবাইলের ভার্চুয়াল জগতটি আমাদেরকে অলস করে তুলছে। আমাদের মন-মানসিকতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। আমরা এখন কোাথায় রাগ-অভিমান করতে হবে, সেটাও ঠিকমতো বুঝতে পারি না।

আমাদের পরিবারকে সতর্ক রাখা আমাদেরই কর্তব্য।

যখন আপনার ভাই কিংবা আপনার বোন অথবা আপনার সন্তান মারা যাবে তখন কেউ কিন্তু আপনার পাশে দাঁড়াবে না। কিন্তু আপনি আজীবন নিজেকে অপরাধী ভেবে মানসিক ভারসাম্য হারাবেন।

আল্লাহ আমাদের বুঝার তওফিক দান করুন। আমীন।

আরো পড়ুন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজনীতির কালো থাবা

মদ হারাম হওয়ার আয়াত

ইয়ামামার যুদ্ধ

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com