ফিলিস্তিন আসলে কার লেখাটির মূল শিরোনাম হলো, “ফিলিস্তিনের ভূমিপুত্র কারা?” লিখেছেন: জাবের আহমাদ

ফিলিস্তিন প্রাচীনকাল থেকেই একটি সমৃদ্ধ ও কেন্দ্রীয় অঞ্চল। বিশেষ করে কুদস, আরিহা এবং তার পাশ্ববর্তী অঞ্চলে সুদূর প্রাচীনকালেই জনবসতী গড়ে উঠেছে।

তাছাড়া এই দু’টি অঞ্চলকে প্রাচীন শহরগুলোর মধ্যে গণ্য করা হয়। এই ভূমি ইহুদী ও খৃষ্টান এবং মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ।

ইহুদীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ হচ্ছে, বনী ইসরাঈলের অধিকাংশ নবী এই ভূমিতে অবস্থান করেছেন।

ইহুদীদের স্বর্ণযুগ বলে খ্যাত সুলাইমান আ. এর রাজত্ব এই ভূমিকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো।

তাছাড়া তাদের ধারণা মতে: ফিলিস্তিন তাদের আদি আবাস ও প্রতিশ্রুত ভূমি এবং মুসজিদে আকসার স্থানেই প্রতিষ্ঠিত ছিলো দাউদ আ. এর ইচ্ছা অনুসারে সুলাইমান আ. কর্তৃক নির্মিত একটি ইবাদত গৃহ। যাকে তারা ‘হায়কালে সুলাইমানী’ বলে স্মরণ করে।

খৃষ্টানদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ হচ্ছে, ঈসা আ. (যাকে তারা ‘যিশুখৃষ্ট’ নামে ডাকে এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী তিনি আল্লাহর পুত্র এবং তিন ঈশ্বরের একজন) এর জন্ম, দাওয়াত প্রচার, শুলে নিজেকে উৎসর্গ করণ(?) এই পবিত্র ভূমিতে হয়েছে।

তাছাড়া খৃস্টাব্দ চতুর্থ শতাব্দীতে বাইজেন্টাইন সম্রাট কনস্টান্টাইনের নির্দেশে ঈসা আ. এর স্মৃতিবিজড়িত জায়গাগুলোতে গির্জা, চার্চসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়।

যেমন, كنيسة القيامة  চার্চ অফ দ্য হলি সেপালচার, كنيسة المهد চার্চ অফ দ্য নিটিভিটি ইত্যাদি।

মুসলমানদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ হচ্ছে, এই ভূখন্ডটি পবিত্র কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, বরকতপূর্ণ এবং অধিকাংশ নবীদের স্মৃতিবিজড়িত ভূমি।

এছাড়াও মুসজিদুল আকসা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মুসলমানদের কিবলা ছিলো এবং সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ সা. এর ঐতিহাসিক ঊর্ধ্বগমণ তথা মি’রাজের প্রথম অংশ ইসরা তথা মক্কা থেকে মুসজিদুল আকসা অভিমুখি রজনী ভ্রমণ ও সকল নবী আ. কে নিয়ে সালাত আদায়ের ঘটনাসমূহ এখানে সংঘটিত হয়েছিলো।

এসব কারণে তিনটি ধর্মের অনুসারীরাই এই ভূখন্ড শাসনের ইচ্ছাপোষণ করতো।

তবে প্রশ্ন হচ্ছে, প্রকৃতপ্রক্ষে এই ভূখন্ডের মালিকানা কোন ধর্মানুসারীদের বা ফিলিস্তিনের ভূমিপত্র কারা? আমরা এই প্রশ্নের উত্তর ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও যুক্তি ভিত্তিকভাবে খোঁজার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।

এই লেখায় যা যা থাকছে :

প্রথমে আমরা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবো: ইনশাআল্লাহ..

ইহুদীদের দাবী, ফিলিস্তিন হচ্ছে তাদের প্রতিশ্রুত ভূমি ও ঈশ্বর তাদের জন্য এটা নির্ধারণ করেছেন।

এ বিষয়ে তারা বাইবেলের পুরাতন নিয়মের আদিপুস্তক থেকে দলিল দেয়।

আদিপুস্তক: ১৫-১৮: সদাপ্রভূ‚ সেই দিনই আব্রামের জন্য এই বলে একটা ব্যবস্থা স্থাপন করলেন, “মিশরের নদী থেকে আরম্ভ করে মহানদী ইউফ্রেটিস (ফুরাত) পর্যন্ত সমস্ত দেশটা আমি তোমার বংশকে দিলাম। আরো বলা হয়েছে ১৭-৭/৮: এই ব্যবস্থার সম্ভন্ধ যে কেবল তোমার আর আমার মধ্যে চলবে তা নয়; তা চলবে তোমার সন্তানদের ও আমার মধ্যে বংশের পর বংশ ধরে। এটা হবে একটা চিরকালীন ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় আমি তোমার এবং তোমার পরে তোমার বংশের লোকদের ঈশ্বর হলাম। যে কেনান দেশে তুমি এখন বিদেশী হয়ে বাস করছো তার সবটাই চিরকালের সম্পত্তি হিসাবে আমি তোমাকে ও তোমার বংশকে দিলাম। আমি তাদের সকলেরই ঈশ্বর হলাম। 1

তাদের আরো দাবী আছে যে, বর্তমানে টেম্পল মাউন্ট বা বাইতুল মুকাদ্দাস এর স্থানে হাইকালে সুলাইমানী (?) ছিলো।

দলিল হচ্ছে; বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট বা পুরাতন নিয়মের রাজাবলি ১ম এর ৬ষ্ঠ অধ্যায় ও বংশাবলি ২য় এর ৩য় অধ্যায়, শিরোনাম: উপাসনা-ঘর তৈরি।

আর খৃষ্টানদের দাবী হচ্ছে, ঈশ্বরের পুত্র (?) যিশুখৃষ্টের জন্ম, ধর্মপ্রচার, ‘আত্মোৎসর্গ, পুণোরুত্থান’ (?) আসমানে গমন এবং প্রত্যাবর্তন। 2 

এসবই এই ভূখন্ডে হয়েছে এবং হবে, যার আলোচনা বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্ট বা নতুন নিয়মের ইঞ্জিল (?) বা গসপেল চতুষ্টয়ে।

তাছাড়া যিশুখৃষ্টের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে চতুর্থ শতাব্দীতে বিভিন্ন গির্জা ও ধর্মীয় স্থান নির্মিত হয়েছে।

এসব কারণেই তারাও এই ভূমির মালিকানা পেতে চায়, যদিও তাদের দাবী ইহুদীদের মতো সূদৃঢ় নয়। তাদের অনুপ্রেরক হচ্ছে: ওল্ড টেস্টামেন্টের কয়েকটি অনুচ্ছেদ।

যাত্রাপুস্তক: ৩-৮/১৭ এবং গণনা পুস্তক: ১৩-১/২/২৭; যেখানে বলা হচ্ছে, ঈশ্বর তাদের এমন ভূমি দান করবেন যাতে রয়েছে দুধ ও মধুর প্রাচুর্য।

মূলত তাদের ও ইহুদীদের দলিলগুলো একই। এখন যদি তাদের দলিলগুলো পর্যালোচনা করে দেখি তাহলে আমরা এর সাথে কিছু শর্তের উল্লেখ পাই।

যেমন: আদিপুস্তকের যেখানে সদাপ্রভ‚ আব্রাহাম ও তার বংশের জন্য ব্যবস্থার কথা বলেছেন, সেখানেই তিনি আগে শর্তমূলক বলে নিয়েছেন।

আদিপুস্তক: ১৭-১/২ : আমিই সর্বশক্তিমান ঈশ্বর। তুমি আমার সঙ্গে যোগাযোগ-সম্বন্ধ রাখ এবং আমার ইচ্ছামত চল। তোমার জন্য আমি আমার ব্যবস্থা স্থির করব…।

আরো স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে; দ্বিতীয় বিবরণ: ৩০-১৬-১৮ : আজ তোমাদের কাছে আদেশ এই যে, তোমরা তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভূকে ভালবাসবে, তাঁর পথে চলবে এবং তাঁর আদেশ, নিয়ম ও নির্দেশ মেনে চলবে। তাহলে তোমরা বাঁচবে এবং সংখ্যায় বেড়ে উঠবে, আর যে দেশ তোমরা দখল করবার জন্য যাচ্ছ সেখানে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভূ তোমাদের আশীর্বাদ করবেন। কিন্তু যদি তোমাদের অন্তর তাঁর কাছ থেকে সরে যায় এবং তোমরা তাঁর অবাধ্য হও আর যদি তোমরা দেব-দেবতার পূজার টানে তাদের কাছে মাথা নীচু কর, তবে আজ আমি তোমাদের দিচ্ছি যে, তোমরা নিশ্চই ধ্বংস হয়ে যাবে। জর্ডান নদী পার হয়ে যে দেশ তোমরা দখল করতে যাচ্ছ সেখানে তোমরা বেশী দিন বেঁচে থাকবে না। 3

আর মুসলিমগণও এই ভূখন্ডের মালিকানার ইচ্ছা রাখে। যার কারণ পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। এর দলিল হচ্ছে; পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন:

وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا کَآفَّۃً لِّلنَّاسِ بَشِیۡرًا وَّ نَذِیۡرًا وَّ لٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ

(হে নবী!) আপনাকে তো আমি সমগ্র মানব জাতির প্রতি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে প্রেরণ করেছি। (সূরা সাবা: ২৮)

وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ

(হে নবী!) আপনাকে তো আমি জগতসমূহের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। (সূরা আম্বিয়া: ১০৭)

کُنۡتُمۡ خَیۡرَ اُمَّۃٍ اُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ تَنۡهَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ وَ تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰهِ ؕ وَ لَوۡ اٰمَنَ اَهۡلُ الۡکِتٰبِ لَکَانَ خَیۡرًا لَّهُمۡ ؕ مِنۡهُمُ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ وَ اَکۡثَرُهُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ

তোমরা সর্বোত্তম জাতি, যাদের বের করা হয়েছে (নির্বাচন করা হয়েছে) মানুষের কল্যাণার্থে, (তোমাদের কর্তব্য হচ্ছে) তোমরা সৎ কাজের আদেশ করবে, অসৎ কাজের নিষেধ করবে এবং আল্লাহ তা’আলার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখবে। (সূরা আলে ইমরান: ১১০)

وَ قٰتِلُوۡهُمۡ حَتّٰی لَا تَکُوۡنَ فِتۡنَۃٌ وَّ یَکُوۡنَ الدِّیۡنُ لِلّٰهِ ؕ فَاِنِ انۡتَهَوۡا فَلَا عُدۡوَانَ اِلَّا عَلَی الظّٰلِمِیۡنَ

আর তোমরা তাদের (অবিশ্বাসীদের) বিরূদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে যতক্ষন না ফিতনা (অশান্তি, বিশৃঙ্খলা, শিরক ও ধর্মদ্রোহিতা) নিঃশেষ হয় এবং আল্লাহ তা’আলার দ্বীন (বিধি-বিধান বিশ^ জুড়ে) প্রতিষ্ঠিত হয়। (সূরা বাকারাহ: ১৯৩)

قَاتِلُوۡهُمۡ یُعَذِّبۡهُمُ اللّٰهُ بِاَیۡدِیۡکُمۡ وَ یُخۡزِهِمۡ وَ یَنۡصُرۡکُمۡ عَلَیۡهِمۡ وَ یَشۡفِ صُدُوۡرَ قَوۡمٍ مُّؤۡمِنِیۡنَ

অতপর আমি তাদের (পাপাচারী সম্প্রদায়) স্থলাভিসিক্ত রূপে তোমাদেরকে তাদের পর পৃথিবীতে নির্ধারণ করলাম, যেন আমি প্রত্যক্ষ করতে পারি যে, তোমরা কেমন আমল করো। (সূরা ইউনুস: ১৪)

উপরোক্ত আয়াতসমূহকে মুসলমানদের কার্যক্রম ও দায়িত্ববোধ অনুযায়ী বিন্যাস দেয়া হয়েছে। 4

উপরে তিনটি পক্ষেরই ধর্মীয় দাবীর ভিত্তি উল্লেখ করা হলো। এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম যে, আল্লাহ তা’আলা সবাইকে মালিকানা লাভের সুযোগ দিয়েছেন এই শর্তে যে, আল্লাহর বিধি-বিধান মেনে চলতে হবে।

কোন ধর্মানুসারীরা আল্লাহর শর্তকে মেনে চলেছে?

ইহুদীদের আল্লাহ সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু তারা সুলাইমান আ. এর মৃত্যুর পর অবাধ্য হয়ে গিয়েছিলো।

যিশাইয়া: ১-২-৩ : হে আকাশ শোন, হে পৃথিবী শোন, সদাপ্রভ‚ বলেছেন, “আমি ছেলেমেয়েদের লালন-পালন করেছি ও তাদের বড় করে তুলেছি, কিন্তু তারা আমার বিরূদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। গরু তার মনিবকে চেনে, গাধাও তার মালিকের যাবপাত্র চেনে; কিন্তু ইসরায়েল তার মনিবকে চেনে না”।  5

আর বর্তমান ফিলিস্তিনে প্রতিষ্ঠিত ইসরাইলের কথা কী বলবো?!! … সূর্যের আলো মতো তা সকলের কাছেই পরিষ্কার!

অতপর খৃষ্টানদের সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু তারা সীমালঙ্গন করলো। ধর্মে বিকৃতি ঘটালো, যিশুকে ‘ঈশ্বরের পুত্র এবং স্বয়ং ঈশ্বরের ঘোষণা করলো।

তার সরল-সঠিক শিক্ষাকে পৌত্তলিক ধ্যান-ধারনার মিশ্রণে নব্যধর্মের রূপ দেয়া হয়; পৌলবাদ। এর জের ধরে শুরু হওয়া নিষ্ফল মতানৈক্য ও মতবৈষম্যের হাঙ্গামা খৃষ্টান সম্প্রদায়কে জড়িয়ে ফেলে।…

অধিকাংশ ঘরোয়া বিবাদই বিরাট আকারের রক্তাক্ত সংঘর্ষের রূপ নেয়। শিক্ষাঙ্গন, গির্জা, ও মানুষের বাড়ি-ঘর প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে পরিণত হয় এবং গোটা দেশটাই হয়ে পড়ে গৃহযদ্ধের শিকার। তাছাড়া ইহুদী ও পৌত্তলিক রোমানদের উপরেও চলে নির্যাতন। 6

এরপর আল্লাহ মুসলমানদেরও সুযোগ দিলেন, ফিলিস্তিন দেখলো এক অভিনব শাসন এবং রবের প্রতি পূর্ণ আত্মনিবেদন।

স্থানীয় গির্জার প্রধান যাজক সোফ্রনিয়াস খলিফা উমর রা. এর সাথে একটি চুক্তিনামাতে স্বাক্ষর করেন। যার একটি কপি আজো চার্চ অফ দ্য হলি সেপালচারে সংরক্ষিত আছে।

চুক্তিতে স্থানীয় জনগনের জান, মালের পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়া হয় এবং নিজ ধর্ম পালনে স্বাধীনতা দেয়া হয়।

৬৩৭ হি. তে খলিফা উমর রা. এর অধীনে মুসলমানদের জেরুসালেম বিজয় শহরটির সমগ্র ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রেখে খলিফা উমর রা. এর চক্তিনামা অনুযায়ী মুসলমানরা শহরটিকে শাসন করে।

আজকের এমন ঘোলাটে পরিস্থিতিতে উমর রা. এর চুক্তিনামা মেনে চললে সংকটের সমাধান করা সম্ভব।  7

কেউ ইচ্ছা করলে নিরপেক্ষভাবে ফিলিস্তিনে মুসলিম শাসনের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখতে পারে। সে শুধুই দেখতে পাবে, ইহুদীদের অবাধ্যতা এবং খৃষ্টানদের সীমালঙ্গন থেকে মুক্ত, স্বচ্ছ ও নির্মল এক সমাজ।

এই পর্যায়ে আমরা ঐতিহাসিকভাবে এবং যৌক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখবো: ইনশাআল্লাহ..

প্রাগৈতিহাসিককাল থেকে দীর্ঘ একটি সময় পর্যন্ত মানুষ যাযাবরের মতো বসবাস করতো। যখন যে স্থানে জীবন ধারন সহজ হতো তারা সেই স্থানে চলে যেতো।

একপর্যায়ে দজলা-ফোরাতের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠে সর্বপ্রথম জনবসতি, শহর বা লোকালয়। এরই ধারাবাহিকতায় নূহ আ. এর পৌত্র কানান বিন হামের বংশধর কানআনিরা (الكنعانيون ) খৃষ্টপূর্ব তৃতীয় বা চতুর্থ সহস্রাব্দের কোন একসময় উর্বর ও স্থায়ী পানির উৎসের সন্ধানে আরব উপদ্বীপ থেকে বের হয়ে ফিলিস্তিনে এসে স্থায়ী জনবসতি ও সমৃদ্ধ শহর গড়ে তুলে; যাকে আমরা ‘আরিহা’ নামে জানি।

খৃষ্টপূর্ব ২৫০০ সহস্রাব্দের দিকে ‘জেবুসি’ নামক (اليبوسيون) কানআনিদের একটি শাখাগোত্র ‘কুদস’ শহরটি গড়ে তুলে।

এভাবে পুরো ফিলিস্তিনে কনআনিদের বংশধর ও অন্যান আরব গোষ্ঠী ছড়িয়ে পড়ে। 

এই পর্যন্ত এসে বুঝা গেলো যে, এই কানআনি আরবরাই এর মূল প্রতিষ্ঠাতা এবং অধিকারী।

সেই সময় তো ইহুদী-খৃষ্টানদের কোন অস্তিত্বই ছিলো না। খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শুরুর দিকে ইবরাহীম আ. ক্যালদানীয়ান নগরী ‘ঊর’ থেকে দ্বীন রক্ষা ও প্রচারার্থে বের হয়ে ফিলিস্তিনে বসবাস করতে থাকেন।

এখানে তার দুই সন্তান জন্ম গ্রহন করেন, ইসমাইল ও ইসহাক আ.। ইসহাক আ. এর সন্তান ইয়াকুব আ. এর অপর নাম ছিল ‘ইসরাইল’।

এই জন্য তার বারো সন্তান ও তাদের বংশধরদের ‘বনী ইসরাইল’ বলা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাসের দৃষ্টিকোন থেকে তাদের ‘ইহুদী’ বলা হয়।

এই বারোজনের একজন ইউসুফ আ. যখন ‘আযীযে মিশর’ হলেন তখন কেনআনে (ফিলিস্তিনে) ভীষণ দূর্ভিক্ষ দেখা দিলে একপর্যায় ইয়াকুব আ. স্বপরিবারে মিশরে চলে আসেন।

এখান থেকে বুঝা যায় যে,

এক. সেই সময় মানুষ বিভিন্ন শহর প্রতিষ্ঠা করে স্থির হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনে তারা অভিবাসন করতো। আর এভাবেই একস্থানে তার জন্ম হলেও অন্য স্থানে তার মৃত্যু হতো।

দুই. ওল্ড টেস্টামেন্টে বর্ণিত ইবরাহীম আ. কে দেয়া সূসংবাদ দেয়ার বিষয়টি যদি সঠিক হতো তাহলে তিনি কেন স্বপরিবারে মিশরে অভিবাসন করলেন? স্থানীয় আদিবাসী কেনাআনিরা তো অভিবাসন করেনি…!!

ফেরআউনের পরবর্তী সময়ে বনী ইসরাইল

দীর্ঘ একটি সময় পর ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি লাভের জন্য মুসা আ. বনী ইসরাইলকে সাথে নিয়ে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে সিনাই উপত্যকায় নিয়ে যায় এবং তাদেরকে পবিত্র ভূমির সূসংবাদ দেন।

কিন্তু তারা ধৃষ্টতা দেখালে আল্লাহ তাদেরকে ৪০ বছরের জন্য সেই ভূমিতে ঢুকতে দেননি।

ওল্ড টেস্টামেন্টের যিহোশূয় পুস্তকের বর্ণনা অনুযায়ী ইউশা ইবনে নূন আ. তাদেরকে নিয়ে ফিলিস্তিনে প্রবেশ করেন।

বিভিন্ন অঞ্চল জয় করেন এবং একপর্যায় আরিহাতে (জেরিকো বা যেরিহো) বড় একটি যুদ্ধের মাধ্যমে অনেক অঞ্চল বনী ইসরাইলের অধীন হয়ে যায়।

তা সত্ত্বেও কানাআনিদের অনেক অঞ্চল তখনও তাদের অধিকারে আসেনি। 8 এই অঞ্চলগুলো ইউশা আ. বনী ইসরাইলের বারো গোষ্ঠীর মধ্যে ভাগ করে দেন।

ওল্ড টেস্টামেন্টের বিচারকর্তৃগণের বিবরণে বলা হয়েছে; ১-২১: কিন্তু বিন-ইয়ামীন গোষ্ঠীর লোকেরা যেরূশালেমে বাসকারী যিবূষীদের উৎখাত করতে পারে নি। বিন-ইয়ামীন গোষ্ঠীর সংগে যিবূষীরা আজও সেখানে বাস করছে। ৩-৫/৬: এর ফলে ইস্রায়েলীয়রা কানানায়, হিত্তীয়, ইমোরীয়, পরিষীয়, হিব্বীয় এবং যিবূষীয়দের মধ্যে বাস করতে লাগল। তারা তাদের মেয়েদের বিয়ে করত এবং নিজেদের মেয়েদের তাদের ছেলেদের সংগে বিয়ে দিত…। 

এভাবে বনী ইসরাইলের স্বর্ণযুগ আসে। দাউদ ও সুলাইমান আ. রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। সুলাইমান আ. কতৃক মুসজিদুল আকসার সংস্কার সাধিত হয়।

তবে সুলাইমান আ. এর মৃত্যুর পর বনী ইসরাইলরা ‘ইয়াহুদা’ (জুডাহ) ও ‘ইসরাইল’ নামক দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।

এ সময়ে ইসরাইলা আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়ায় ইসরাইল রাজ্য আশুরিওদের আক্রমনে ধ্বংস হয়ে যায়।  অন্যদিকে ইয়াহুদা রাজ্য প্রথমে মিশরের রাজার লুটপাটের শিকার হয়।

তারপর ব্যাবিলনের শাসক নেবুচাদ নেজার বা বুখতে নাসর কর্তৃক আক্রমনের শিকার হয়ে বাইতুল মুকাদ্দাস বিরান হয়ে যায়। 9 সে বিপুল সংখ্যক ইহুদীকে সে বন্দি করে নিয়ে যায়।

অতঃপর পারস্য সম্রাট সাইরাস ব্যাবিলন দখল করে ইহুদীদের মুক্ত করে জেরুসালেম ফিরে যাওয়া অনুমতি দেন।

ফলে একদল ফিরে যায় ও আরেকদল ব্যাবিলনে (ইরাক) রয়ে যায়।

এরপর শুরু হয় গ্রিক শাসন। শুরুতে ভালো থাকলেও পরবর্তীতে তাদের উপর শুরু হয় নির্যাতন ও নিপীড়ন। এই সময় অনেক ইহুদী মিশরে অভিবাসন করে।

ঈসা আ. এর আগমনের পর ইহুদিরা

৬৪/৬৩ খৃস্টপূর্বে ফিলিস্তিন রোমানদের অধীনে চলে যায়। এর কয়েক দশক পর বনী ইসরাঈলদের মাঝে আল্লাহ তাআ’লা ঈসা আ. কে প্রেরণ করেন।

কিন্তু ইহুদীরা রোমানদের সাথে মিলে ঈসা আ. ও তার অনুসারীদের বিরোধিতা শুরু এবং তাকে হত্যার ফন্দি আঁটতে থাকে।

একপর্যায় রোমানরা ঈসা আ. কে হত্যা করার জন্য খুঁজতে থাকলে এক ইহুদী তাদেরকে সহায়তা করে।

তখন আল্লাহ তাআ’লা ঈসা আ. কে আসমানে তুলে নেন।

কিন্তু একজনকে আল্লাহ ঈসা আ. এর মতো করে দেন। ইহুদীর কথা ও খৃষ্টানদের বিশ্বাস অনুযায়ী ঈসা আ. কে ক্রুশে চড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।

وَّ قَوۡلِهِمۡ اِنَّا قَتَلۡنَا الۡمَسِیۡحَ عِیۡسَی ابۡنَ مَرۡیَمَ رَسُوۡلَ اللّٰهِ ۚ وَ مَا قَتَلُوۡهُ وَ مَا صَلَبُوۡهُ وَ لٰکِنۡ شُبِّهَ لَهُمۡ ؕ وَ اِنَّ الَّذِیۡنَ اخۡتَلَفُوۡا فِیۡهِ لَفِیۡ شَکٍّ مِّنۡهُ ؕ مَا لَهُمۡ بِهٖ مِنۡ عِلۡمٍ اِلَّا اتِّبَاعَ الظَّنِّ ۚ وَ مَا قَتَلُوۡهُ یَقِیۡنًۢا . بَلۡ رَّفَعَهُ اللّٰهُ اِلَیۡهِ ؕ وَ کَانَ اللّٰهُ عَزِیۡزًا حَکِیۡمًا

(সূরা নিসা; ১৫৭-১৫৮) তারা তাকে হত্যা করেনি এবং শুলিতে চড়ায় নি; বরং তাদের জন্য বিষয়টি সদৃশ্যপূর্ণ করে দেয়া হয়েছে… ধারণার অনুসরণ ব্যতীত তাদের এ বিষয়ে কোন জ্ঞান ছিল না। প্রকৃতপক্ষে তারা তাকে হত্যা করে নি। বরং আল্লাহ তাকে তার কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞময়।

আর গসপেল বা সুসমাচার চতুষ্টয়ে যিশুকে তার বারো শিষ্যের একজন ‘যিহুদা ইষ্কারিয়োৎ’ কতৃক ধরিয়ে দেয়া ও ক্রুশে চড়ানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।  10

এরপর থেকে খৃষ্টানদের প্রতি চলতে থাকে ধারাবাহিক নির্যাতন ও নিপীড়ন।

এরই মধ্যে ৬৬-৭০ সালের মধ্যে ইহুদীরা জেরুসালেমে বিদ্রোহ ও গোলযোগের সৃষ্টি করলে সেনাপতি টাইটাস পুরো শহরকে পুড়িয়ে দেয়।

অনেক ইহুদীকে হত্যা করে এবং অনেক ইহুদীকে বন্দি করে নিয়ে যায়।

পরবর্তীকালে তাদের ‘খতনাপ্রথা’ নিষিদ্ধ করার কারণে আবার ইহুদীরা বিদ্রোহ শুরু করে।

তখন রোমান সম্রাট হাদ্রিয়ান কঠোরহস্তে বিদ্রোহ দমন করেন এবং সকল ইহুদীদের জেরুসালেম থেকে বের করে দেন।

জেরুসালেমকে নতুনভাবে গড়ে তুলেন এবং শহরের নতুন নাম রাখেন, ইলিয়া।

চতুর্থ শতাব্দীতে রোমান সম্রাট ‘পৌলবাদী খৃষ্টধর্ম’ গ্রহণ করেন।

ফলে খৃষ্টানদের জীবনে স্থিরতা আসা শুরু হয় এবং ইহুদীরাও কিছুটা নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার লাভ করে। তবে এই অবস্থাও বেশী সময় যায় নি।

একপর্যায় ইরানীরা আক্রমণ চালিয়ে জেরুসালেমে ধ্বংস তান্ডব চালায়, খৃষ্টান মধ্যে গণহত্যা চালায়।

এই সুযোগে ইহুদীরা খৃষ্টানদের উপর তাদের আক্রোশ পূর্ণ করে।

এরপর আবার জেরুসালেম রোমানদের হাতে ফিরে আসে। “ইতিহাসের এই দীর্ঘ সময়ে এটা পাওয়া যায় না যে,

ফিলিস্তিনের আদিবাসী কানাআনি ও জিবুসীরা এতো ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কখনো এই ভূমি ত্যাগ করেছে কিনা।

তবে অন্য জাতিগোষ্ঠীগুলো এসেছে, আবার চলেও গিয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীরা হয়তো নত স্বীকার করেছে এবং ধর্ম গ্রহণ করেছে।

নয়তো নত স্বীকার করলেও তাদের ধর্ম গ্রহণ করে নি।”

ইসলামী স্বর্ণযুগে ইহুদিরা ও জেরুসালেম শহর

জুলুম-অত্যাচার চলমান চক্রবৃত্তে মানবতা যখন শ্বাসরূদ্ধ হয়ে কাতরাচ্ছিলো, তখনই আরবে আগমন ঘটে সর্বশেষ নবীর।

তার শিক্ষায় আলোকিত হয়ে মুসলমানরা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে এই আলো জ্বালিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে।

এই ধারাবাহিকতায় মুসলিমরা সন্ধির মাধ্যমে জেরুসালেম শহর জয় করে। 

পাদ্রীর সাথে কৃত উমর রা. এর সন্ধিচুক্তিই এই বিষয়ে প্রমাণ। পাদ্রী দাবী করেছিলেন যে, ইহুদীদের জন্য কুদসে বসবাস নিষিদ্ধ করতে হবে।

উমর রা. ‘আল্লাহর কিতাব এটা সমর্থন করে না’ বলে তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন।

তবে এতটুকু অনুমতি আছে যে, ইহুদীরা তোমাদের বসতীতে বাস করবে না। 11

এই চুক্তি পর স্থানীয় জনগণ ধীরে ধীরে, সময়ে সময়ে ইসলামধর্ম গ্রহণ করেছে। এভাবে একসময়ের ‘পৌত্তলিক ফিলিস্তিন’ হয়ে উঠে ‘মুসলিম ফিলিস্তিন’।

তারপর উমাইয়াদের আমলে ফিলিস্তিনে বড় আকারে নির্মাণ কার্যক্রম সম্পাদিত হয়। আব্বাসীদের আমলে সংস্কার ও সম্প্রসার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

আব্বাসীয়রা দূর্বল হয়ে পড়লে মিশরের ফাতেমীয়রা (উবাইদীয়রা) ফিলিস্তিন দখল করে নেয়।

যেহেতু তারা শিয়া মতবাদের ছিলো, সেহেতু আহলে সুন্নাতের সাথে তাদের দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত শুরু হয়।

সেই সময় ইউরোপে পোপ-কর্তৃক মুসলিমদের বিষয়ে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছিল এবং নিজেদের প্রতি জনগণের আক্রোশকে সন্তুষ্টিতে রূপান্তরিত করতে ক্রুসেডের ডাক দেয়।

ইউরোপ থেকে আগত তীর্থযাত্রীদের মধ্যে অনেক ডাকাত ও লুটেরা থাকতো।

তারা বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে শাসকগণ কঠোর পদক্ষেপ নেন।

ইউরোপীয়রা এটাকে ফুলিয়ে ফেঁপিয়ে প্রচার করেছে; “সংখ্যালঘুদের উপর মুসলিমদের নির্যাতন বাড়ছে ও মুসলমানরা ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে”।

তবে ইতিহাস স্ব-যত্নে সংরক্ষণ করেছে যে, মুসলমানরা তাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে এই অঞ্চলের, বিশেষত বাইতুল মুকাদ্দাসের স্থিতিশীলতা, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য পূর্ণনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ধর্ম পালনে স্বাধীনতা প্রধান করেছে। 12

কারণ, মুসলমানগণ ফিলিস্তিনের বাইতুল মুকাদ্দাসকে সেভাবে ভালোবাসে যেভাবে ভালোবাসে হিজাযের মক্কা ও মদিনাকে।

তাছাড়া মুসলমানদের প্রতি আল্লাহ তাআ’লা তাদের অধীনস্তদের সাথে ন্যায়পরায়ণ হতে আদেশ করেছেন। যথা-

اِنَّ اللّٰهَ یَاۡمُرُکُمۡ اَنۡ تُؤَدُّوا الۡاَمٰنٰتِ اِلٰۤی اَهۡلِهَا ۙ وَ اِذَا حَکَمۡتُمۡ بَیۡنَ النَّاسِ اَنۡ تَحۡکُمُوۡا بِالۡعَدۡلِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ نِعِمَّا یَعِظُکُمۡ بِهٖ ؕ اِنَّ اللّٰهَ کَانَ سَمِیۡعًۢا بَصِیۡرًا

(সূরা নিসা ৫৮ আয়াত) নিশ্চই তোমাদের নিদের্শ দিচ্ছেন, আমানতকে তার মলিকের কাছে পৌছে দিতে। তোমরা যখন মানুষের মাঝে ফায়সালা করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সাথে ফায়সালা করবে। আল্লাহ তোমাদের কত উত্তম উপদেশই না দিচ্ছেন; নিশ্চই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও  সর্বদ্রষ্টা। 13

মুসলমানদের বিষয়ে ইউরোপীয় ইতিহাসবিদদের মন্তব্য

কয়েকজন খৃষ্টান ঐতিহাসিক এই বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। ইউরোপের বিখ্যাত ঐতিহাসিক ভ্যাসিলিভ (Giorgi Vasiliev)  উল্লেখ করেন:

খৃষ্টানরা নির্বিশেষে সকলে ইসলামি শাসনের ছায়ায় ধর্মীয় ও অন্যান্য ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করতো।

তাদেরকে শুধু তাদের পুরোনো গির্জাগুলো সংরক্ষণের অনুমতিই দেয়া হয় নি,

বরং নতুন গির্জা ও মঠ নির্মাণের অনুমতিও দেয়া হতো। নিজেদের গ্রন্থাগারে তারা খৃষ্ট-ধর্মতত্ত্বের গ্রন্থাদি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে পারতো।

আরেক ঐতিহাসিক থমসন (James Westfall Thompson) বলেন:

সেলজুক রাষ্ট্রের অধীনে যেসব খৃষ্টান বসবাস করতো, তারা খোদ বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের প্রাণকেন্দ্রে বসবাসকারীদের চেয়ে অধিক সুখ-শান্তিতে ছিল।

স্বয়ং আল-কুদসের বিশপ ও গির্জাধ্যক্ষ থিওডোসিয়াস (Theodosius) কনস্টান্টিনোপলের বিশপের কাছে ২৫৫ হিজরি সনে (৮৬৯ খৃষ্টাব্দ) পাঠানো এক পত্রে মুসলমানদের মহৎ হৃদয়, গণসহমর্মিতা ইত্যাদি গুণের প্রশংসা করেন।

তিনি আরো বলেন মুসলমানরা ন্যায়পরায়ণ জাতি। আমরা তাদের কাছ থেকে কখনো কোনো ধরনের ক্ষতি বা সীমালঙ্ঘনের সম্মুখীন হই না। 14

অন্যদিকে ক্রুসেড যুদ্ধে খৃষ্টানরা জেরুসালেম দখল করার পর তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে ফরাসী ঐতিহাসিক মিশো লিখেছেন:

ক্রুসেডাররা সেদিন এমন পাশবিকতার পরিচয় দিয়েছে, যার দৃষ্টান্ত ইতিহাসে দুষ্কর। তারা আরবদেরকে উঁচু-নিচু গম্বুজ থেকে, বাড়ির ছাদ থেকে ছুঁড়ে হত্যা করে। জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে দেয়। ঘর থেকে বের করে টেনে-হিঁচড়ে পশুর মতো মাঠে নিয়ে যায়। ক্রুসেডার যোদ্ধারা তাদেরকে নিহত মুসলমানদের লাশের ওপর রেখে হত্যা করে। সেই গণহত্যা কয়েক সপ্তাহ চলতে থাকে। শুধুমাত্র আল-মাসজিদুল আকসার জন্যই সত্তর হাজার মুসলমান শহীদ হয়।  15

কিন্তু সুলতান গাজী সালাহুদ্দিন আইউবী রহ. যখন বাইতুল মুকাদ্দাস জয় করলেন তখন তিনি কোন ধরণের খারাপ আচরণ করেন নি।

এই বিষয়ে ঐতিহাসিক লেনপুল ক্রুসেড যুদ্ধের বিখ্যাত চরিত্র আরনোল – যে সুলতানের যেই মহানুভবতা স্বচোক্ষে প্রত্যক্ষ করেছে – তার বর্ণনা উল্লেখ করেছেন:

সুলতান ক্রুসেড যুদ্ধের নিহত যোদ্ধা ও গ্রেফতার নাইটদের স্ত্রীদের সঙ্গেও ভদ্রোচিত আচরণ করেছেন। যখন সেসব নারী সুলতানের সামনে নিজেদের বিপর্যস্তের কথা উল্লেখ করে তখন সুলতানের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। সেসব মহিলার মধ্য হতে যাদের স্বামী বন্দি ছিল, তৎক্ষণাৎ তাদের মুক্ত করে দেয়া হয়। যেসব নারীর স্বামী যুদ্ধে নিহত হয়েছিল, তাদেরকে তাদের পদমর্যাদা অনুসারে অর্থ-কড়ি হাতে তুলে দিয়ে সসম্মানে বিদায় করে দেয়া হয়। এভাবে তিনি নানাভাবে প্রত্যেকের হৃদয় জিতে নেন। সুলতানের সেই বদান্যতা ও মহানুভবতার কথা স্মরণ করতো।  16

এরপর মামলুকদের আমলেও বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম সাধিত হয়। তার মধ্যে একটি হলো পুরো শহরে পানি সরবরাহের জন্য বহু ঝরণা ও নালা খনন করা হয়। এরপর উসমানিদের উত্থান ঘটে। ফিলিস্তিন তাদের অধীন চলে আসে। তারাও এই ভূখন্ডের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। এই বিষয়ে বর্তমান তুর্কি ঐতিহাসিক জাকারিয়া কুরসুন বলেন: “ওসমানিয়রা কুদস শহরকে তার পবিত্রতার কারণে সেখানে বড় বড় নিদর্শনাবলি রেখে গিয়েছে। শুধুমাত্র শহরের প্রাচীরের মধ্যে প্রায় দুই হাজার ওসমানিয় ওয়াকফ রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, বাজার, মুসাফির খানা এবং হাম্মামখানা রয়েছে। একজন গবেষক অবশ্যই লক্ষ্য করবে যে, কোন ছোট আয়তনের শহর এই ধরণের গুরুত্ব ও উদ্যোগ লাভ করে নি, সেটা আনাতোলিয়া হোক, বলকান হোক বা ওসমানিয় যে কোন অঞ্চল হোক!!” ১৫৩৫ সনে ইতালীয় এক ইহুদী কুদসে তার ভ্রমনের পর স্থানীয় ইহুদীদের জীবন-যাপন সম্পর্কে তার সফরনামায় উল্লেখ করেছে; “আমরা এখানে নির্বাসিত (ধিকৃত) নই যেমনটা আমরা স্বয়ং ইতালিতে হয়ে থাকি। বরং এখানে ইহুদীদের মধ্য থেকেও কর ও খাজনা উসূলকারী নির্বাচীত হয়। তাছাড়া ইহুদীদের জন্য এখানে বিশেষভাবে নির্ধারিত কোন কর নেই।”   17

এর থেকে আমরা বুঝতে পারি, সেই সময়ে জেরুসালেম কতটা স্থিতিশীলতা, নির্বিঘ্নতা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলো।

উসমানীয় খেলাফতে জেরুসালেম – ফিলিস্তিন আসলে কার

ওসমানি খেলাফত শুধুমাত্র তার উন্নতি ও অগ্রগতির সময়ই এই অঞ্চলের প্রতি লক্ষ্য রেখেছে এমন নয়। বরং তার দূর্বলতা ও অবনতির সময়ও তারা এর যত্ন নিতে ভুলে নি।

এক্ষেত্রে সুলতান আব্দুল হামিদ আস-সানী রহ. এর প্রচেষ্টার কথা কেউ বুলতে পারবে না।

তিনি উম্মাহর একক অতন্দ্রপ্রহরী হয়ে চতুর্মখী ষড়যন্ত্র থেকে ইসলামী ভূমিকে বিশেষত ফিলিস্তিনকে জায়নিষ্টদের চক্রান্ত থেকে রক্ষা করে যাচ্ছিলেন।

ইউরোপীয়রা তার বিষয়ে অপপ্রচার চালায় এবং নাম দেয়; ‘লাল সুলতান’। আর ওসমানি খেলাফতকে ঠাট্টা বলতো ইউরোপের ‘রুগ্ন পুরুষ’।

এরপরও তিনি তার সামর্থ অনুসারে এই ভূখন্ডে কিছু কাজ করেছেন।

১৮৯১ সনে কুদস শহরের পশ্চিম পাশে শাইখে বদরের নিকট আঞ্চলিক পর্যায়ের একটি হাসপাতাল তৈরি করেন।

পরের বছর উপকূলীয় অঞ্চল জাফা থেকে জেরুসালেম পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপন করেন।

১৯০৬ সনে শহর-প্রাচীরের বাহিরে বাবুস সাহিরার নিকটে রশিদিয়া স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

এছাড়াও আরো বিভিন্ন প্রকল্প আঞ্জাম দিয়েছেন। জায়নিষ্ট ইহুদীদের চক্রান্ত থেকে এই অঞ্চলকে রক্ষা করার তিনি নিয়ম করেছিলেন যে,

ফিলিস্তিনে বহিরাগত ইহুদীদের মধ্য থেকে শুধুমাত্র পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরাই আসতে পারবে এবং ৩১ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করে চলে যেতে হবে।

অমুসলিম পর্যটকদের জন্য অবস্থানের মেয়াদ ছিল ৩ মাস। 18 তবে তিনি স্থানীয় সম্প্রদায় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সচেষ্ট ছিলেন।

এই বিষয়েটি স্পষ্ট হয়ে যাবে ১৯২১ সালে জুলাই মাসে ইউনিভার্সিটি অব দ্যা সাউথ কতৃক প্রকাশিত Zionism and the Jewish Problem শিরোনামে আর্টিকেলটি দেখলে।

আর্টিকেলটির লেখক ড. জন পিটার্স (D. John P. Peters) জায়োনিষ্টদের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রত্যক্ষদর্শী।

আর্টিকেলটিতে তিনি উল্লেখ করেন; ১৯০২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিলিস্তিন সফরে গেলে জেরুসালেমে ইহুদীদের বিভিন্ন কৃষি ও শিল্প কার্যক্রমগুলো দেখে আসার আমন্ত্রন জানানো হয়। অতপর তিনি বলেন:

এটা দেখে আমি এতটাই অবাক হই যে, সেখানে কোনো সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদই নেই। ইহুদী, মুসলিম ও খ্রিষ্টান সব গোত্রের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কৃষিকাজ করে যাচ্ছে। সেখানে সাম্প্রদায়িকতার লেশমাত্র ছিল না। সহযোগিতা ও সহমর্মিতা ছিল তাদের সকল কাজের মূল উদ্দীপনা। সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সেখানে গড়ে উঠেছে সুন্দর এক সমাজব্যবস্থা। দেশে ফিরে আসার পর ওপর থেকে আমাকে চাপ দেয়া হয়, যেন এই বিষয়টি কোনো পত্রিকায় প্রকাশ না করি। খুব দুঃখ নিয়ে বলতে চাই, এই বল প্রয়োগ আসে আমেরিকার বিশেষ একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি থেকে। ইহুদী, মুসলিম ও খ্রিষ্টান শান্তিতে বসবাস করুক, তা তারা মেনে নিতে পারে না। তাদের অভিযোগ, মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের সংস্পর্শে ইহুদী সম্প্রদায় সংক্রমিত হয়ে পড়েছে। তারা চায়, ইহুদীদের জন্য পৃথক একটি সমাজব্যবস্থা থাকবে। ভূমি দখলের প্রতিযোগিতায় তাদের দ্বিতীয় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে না। ১৯১৯ ও ১৯২০ সালে যখন পুনরায় ফিলিস্তিন সফরে যাই, তখন দেখি ইহুদীরা ভীষণ সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠেছে। 19 তাদের মাথায় ভূমি দখলের ভূত আগাগোড়া চেপে বসেছে।… কিন্তু যেসব ভূমি অধিগ্রহণ করে ইহুদীরা কৃষিকাজ করছে, তা কখনোই তাদের ভূমি ছিল না।…(জেরুসালেম) শহরটি এখন সাম্প্রদায়িক জায়োনিষ্টদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। কমিউনিজমের চেতনা পুরো ফিলিস্তিনকে পেয়ে বসেছে। হিব্রু প্রতিষ্ঠানগুলো (ইহুদীদের প্রতিষ্ঠান) গির্জা ও মুসজিদ নিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে।….. 20

এর থেকেই আমরা বুঝতে পারি, সুলতানের শঙ্কা পরবর্তীতে বাস্তবে পরিণত হয়েছিলো।

কিন্তু ততদিনে ইহুদীরা ইউরোপ ও আমেরিকাকে হাতে নিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিশেষত ওসমানীয়দের বিরূদ্ধে ‘গ্রেট গেইম’ সম্পন্ন করে এবং মুসলিম অঞ্চলগুলোকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

খেলাফত ধ্বংসের আগে-পরে জেরুসালেম – ফিলিস্তিন আসলে কার

১৯১৪ তে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। ব্রিটেনের প্রররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোর জায়নবাদী ইহুদী ব্যাংকার লর্ড রথচাইল্ডকে জবাবী পত্র লিখেন, যাকে ‘বেলফোর ঘোষণা’ বলা হয়।

এই পত্রে ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। অন্যদিকে ইউরোপীয়দের অন্তর থেকে ক্রসেড যুদ্ধের ক্ষত তখনো সেরে উঠেনি।

এই হিসেবে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড জর্জ কর্নেল এলেনবিকে আদেশ দেয়, যেন জেরুসালেমকে যেকোনো মূল্যে খ্রিষ্টানদের ‘বড়দিন’ আসার পূর্বেই বিজয় করে নেয়।

যাতে জাতিকে শুভদিনে এই সুসংবাদ দিতে পারে। অতপর মুসলমানদের মধ্য গাদ্দারদের কারণে হোক বা যেভাবেই হোক ৯ই ডিসেম্বর ১৯১৭ সালে জেরুসালেম বৃটিশদের দখলে চলে যায়। 21

এরপর থেকে শুরু হয় স্থানীয় অধিবাসীদের উচ্ছেদ অভিযান, যাদের অধিকাংশই ছিল মুসলিম।

কারণ, এই অঞ্চল মুসলিমদের অধীনে আসার পর সাহাবায়ে কেরাম রা. ও অন্যান্য মুসলিমদের স্থানীয় অধিবাসীদের দাওয়াতি কার্যক্রম ও উত্তম ব্যবহার এবং বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের মাঝে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে এবং সময়ের পরিক্রমায় মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।

১৮৩৯ সালে ইহুদী প্রত্নতত্ত্ববিদ ‘মুসা মন্টিফিউরি’র সমিক্ষা অনুযায়ী ঐসময় ইহুদীদের অবস্থা ছিল মোট জনসংখ্যার ২% এর বেশী না।

তাও আবার তাদের অধিকাংশ ১৪৯২ সালে আন্দালুসে (স্পেনে) মুসলিম শাসনের পর মুসলমানদের সাথে পালিয়ে আসা ইহুদীদের উত্তরসূরী। 22

এই পরিসংখ্যান ১৯০২ সাল পর্যন্ত পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু বৃটিশরা ফিলিস্তিন দখল ইহুদী অভিবাসন বেড়ে যায়। ফলে স্থানীয় অধিবাসীরা বিশেষত মুসলিমরা নিপীড়িত হতে থাকে।

যেমনটি আমরা দেখেছি ড. জনের পূর্বোল্লেখিত আর্টিকেলে। তাছাড়া এই বিষয়ে ইসরাঈলের প্রথম প্রেসিডেন্ট ড. ওয়াইজম্যানের সাথে বিতর্ক হয়েছিল।

বিখ্যাত ইহুদী অস্ট্রিয় সাংবাদিক লিউপোল্ড উইসের সাথে এই বিতর্কে ওয়াইজম্যান কোন যুক্তিই দেখাতে পারেনি ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে। 23

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিস্তিনে ইহুদী অভিবাসন আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায় এবং এর পিছেনে যুক্তি হিসেবে ‘হলোকাস্ট’ নামক হিটলার কতৃক ইহুদী গণহত্যার কাল্পনিক কিচ্ছার অবতারণা ঘটায়। 24

ইহুদিদের কুটচাল – ফিলিস্তিন আসলে কার

ইহুদিরা অতিসত্ত্বর ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ইহুদী রাষ্ট্র ঘোষণার দাবী জানাতে থাকে।

এর মধ্যে জাতিসঙ্ঘ ফিলিস্তিন ভূখন্ডকে ‘দ্বি-জাতি তত্ত্বের’ ভিত্তিতে প্রস্তাব পেশ করে।

কিন্তু ইরাক, সৌদিআরব ও সিরিয়া সমর্থিত আরব হাইয়ার কমিটি এই দাবীকে প্রত্যাখান করে। তারা চুড়ান্তভাবে জানিয়ে দেয় যে,

বাইবেলে যাদের কেনানের বা কেনানাইট বলা হয়েছে, আধুনিক নৃতাত্ত্বিক গবেষণা অনুসারে ফিলিস্তিনী আরব মুসলিমরাই মূলত সেই কেনানাইট ও ফিনিসীয়দের বংশধর।

তাই এই ভূমির উপর জায়োনবাদীদের মালিকানার দাবির ঐতিহাসিক ও আইনগত কোনো ভিত্তি নেই।

ফিলিস্তিনী আরব মুসলিমরাই প্রকৃত অর্থে এই ভূখন্ডের ভূমিপুত্র। 25

কিন্তু এই অভিবাসী ইহুদীদের অবস্থা কী? তারা কি আসলেই বাইবেলে উল্লেখিত বনী ইসরাইলের বংশধর?!

১৯৭৬ সালে হাঙ্গেরিয়ান এক ইহুদী ঐতিহাসিক আর্থার কেসলার (Arthur Koestler) একটি বই লিখেন এবং নাম দেন; The Thirteenth Tribe

যার আরবি অনুবাদের নাম হচ্ছে; (القبيلة الثالثة عشر و يهود اليوم) ।

লেখক নিজে অধিকৃত ফিলিস্তিনে জায়োনিষ্ট আন্দোলনের সাথে কাজ করেছিলেন এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা তার সামনে প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত।

তিনি বইটিতে দেখিয়েছেন যে, খ্রিষ্ট অষ্টম শতাব্দীতে তুর্কি খাজার সাম্রাজ্যের – যার বিস্তৃতি কাস্পিয়ান সাগর থেকে কৃষ্ণ সাগর পর্যন্ত – সম্রাট তার দলবলসহ ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করে।

সময়ে সময়ে বিভিন্ন আক্রমণে এই সাম্রাজ্য ভেঙ্গে পড়ে। 

সর্বশেষ মঙ্গোলিয়ানদের আক্রমণে এই গোত্রের বেশির ভাগ লোক পূর্ব ইউরোপে চলে যায় এবং সেখান থেকে তারা পশ্চিম ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়ে।

এসব ইহুদীদের ‘এস্কিনাজি ইহুদী’ (Ashkenazi Jews) বলা হয়।

আর যেসব ইহুদী মুসলিমদের এলাকা তথা প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাতে বসবাস করতো, তাদের ‘সেপার্ডিক ইহুদী’ (Sephardic Jews) বলা হয়।

আর সেপার্ডিকরাই মূলত বনি ইসরাইলের উত্তরসূরী।

তিনি শক্তিশালী যৌক্তিক প্রমাণ পেশ করে দেখান যে, বর্তমান ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রায় ৮০% ইহুদী হচ্ছে এস্কিনাজিক ইহুদী।

বাইবেলে উল্লেখিত বনি ইসরাইলের সাথে এদের কোনভাবে সম্পৃক্ততা নেই। বকি ইহুদীরা সেপার্ডিক এবং বনি ইসরাইলের সাথে সম্পৃক্ত।

ইসরাইলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তথ্য অনুসারে শুধুমাত্র ১৯৯৯ সালে অভিবাসীদের ৫০% ইহুদী নয়। 26

এত কিছু সত্ত্বেও ১৯৪৮ সালে ইসরাইলকে আমেরিকা ও সোভিয়েত রাশিয়াসহ ইউরোপীয় কয়েকটি রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়।

ইহুদিদের ফিলিস্তিন দখলের পর – ফিলিস্তিন আসলে কার

ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফিলিস্তিনী মুসলিমদের জীবনের সবচেয়ে দূর্বিষহ ও বিভীষিকাময় হয়ে উঠে।

যা আজো তাদের জীবনকে অন্ধকার এক দুঃস্বপ্নে মতো ঘিরে রেখেছে।

১৯৪৮ সাল এবং তার আগে পরে চল্লিশটির মতো গণহত্যার রেকর্ড পাওয়া গিয়েছে ঐ সময়ের পত্রপত্রিকা ও সংরক্ষিত নথি থেকে।

যেগুলো তারা মুসলমানদের উপর চলিয়েছিল ঠাণ্ডা মাথায় এবং সেগুলো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল।

কিন্তু ফিলিস্তিনীদের ছোট ছোট প্রতিরোধের কারণে আরো কত মানুষ তারা হত্যা করেছে, তা আল্লাহই ভালো জানেন!!! 27

আর বর্তমানে পুরো বিশ্ববাসীর চোখের সামনে ফিলিস্তিনের গাজাবাসীদের উপর দিয়ে ইহুদীরা যে,

হত্যাযজ্ঞ ও মৃত্যুর মিছিল তৈরি করছে, তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না!

অথচ মুসলমানরা তাদের শাসনামলে কখনো এমনটি করেছে বলে ইতিহাসে উল্লেখ নেই।

অন্যদিকে ইহুদী ও খৃষ্টানরা মুসমানদের সাথে কী করেছে সেটা আমরা উল্লেখ করে এসেছি।

এই হিসেবে সাধারণ বিবেচনাবোধ ও যুক্তিই আমাদের বলে যে, ইহুদী ও খৃষ্টনরা কোনভাবেই শাসনকার্য পরিচালনার উপযুক্ত নয়, এর জন্য কোন দলিলের প্রয়োজন নেই।

বরং কেউ যদি বর্তমানে সর্বস্বীকৃত আন্তর্জাতিক নীতিমালাগুলোর প্রতি লক্ষ্য করে তাহলেই তার সামনে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।

আর ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও তারা শাসনকার্য পরিচালনার উপযুক্ত নয়। কারণ, তারা মৌলিক বিধান লঙ্ঘন করেছে;                  

যাত্রাপুস্তক ২০/১৩ : খুন কোরো না। ২৩/৯ : বিদেশীদের উপর অত্যাচার কোরো না।

এখানে মূলত আমরা সাময়িক সময়ের ধরে নিয়েছি যে, ইহুদী ও খৃষ্টানরা ভূমির মালিক এবং স্থানীয় মুসলিমরা হচ্ছে বিদেশী।

অন্যথায় আমরা পূর্বের আলোচনা মাধ্যমেই বুঝতে পেরেছি যে, ইহুদী ও খৃষ্টনরা কোনভাবেই ভূমির প্রকৃত মালিক বা ভূমিপুত্র নয়।

না ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, না ঐতিহাসিক ও যৌক্তিক বিবেচনায়। এই ক্ষেত্রেও তারা তাদের ধর্মগ্রন্থের অবাধ্য হয়েছে;

যাত্রাপুস্তক ২০/১৬ : কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ো না। ২৩/১-২ : মিথ্যা গুজব রটাবে না। তা করে অন্যায়ের পক্ষ নিয়ে দুষ্ট লোককে সাহায্য করবে না। দশজনে অন্যায় করছে বলে তুমিও তা করতে যেয়ো না…।

এটা এইভাবে যে, তারা পুরো বিশ্বে প্রচার করে বেড়াচ্ছে; “ফিলিস্তিনের ভূখন্ড তাদের”।

এর জন্য তারা মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে..। অথচ গবেষক ও প্রত্নতত্ত্ববিদরা এই দাবী প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রখ্যাত ইসরাইলি প্রত্নতত্ত্ববিদ ‘ইসরাইল ফিঙ্কেলস্টাইন’ (Israel Finkelstein) তার এক গবেষণামূলক গন্থে উল্লেখ করেছেন:

“ফিলিস্তিন (ইহুদীদের) প্রতিশ্রুত ভূমি নয়। জেরুসালেমের সাথে ইহুদীদের কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় নি।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা এমন কোন ঐতিহাসিক নিদর্শন পায় নি, যা ওল্ড টেস্টামেন্টে বর্ণিত ঘটনাসমূহকে সমর্থন করে।”  28

ইহুদিদের একরোখা মনোভাব – ফিলিস্তিন আসলে কার

উপরোক্ত প্রমাণগুলো তাদের সামনে থাকলেও তারা কেন মানছে না? শুধু তাই নয়, বরং তারা স্থানীয় মুসলমানদের সাথে ‘যাচ্ছেতাই’ আচরণ করছে।

তাদেরকে রাখবে কি রাখবে না, মারবে কি মারবে না; তা নির্ধারণ করছে! তাছাড়া ইসরাইলকে আমেরিকা ও ইউরোপীয় শক্তি সাহায্য করছে!

প্রকৃত সত্য হলো, যুক্তির কথা অধিকাংশ মানুষের অন্তর পর্যন্ত পৌছে না এবং অনেকে বুঝতে পেরেও গ্রহণ করে না।

এই বিষয়টি আল্লাহ তা’আলা কতই না স্পষ্ট করে বলেছেন :

*যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, তমি যদি তাদের নিকট সমস্ত নিদর্শন পেশ কর, তবুও তারা তোমার ক্বিবলার অনুসরণ করবে না এবং তুমিও তাদের ক্বিবলার অনুসারী নও। তারাও একে অন্যের ক্বিবলার অনুসারী নয়। তোমার নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পর তুমি যদি তাদের প্রবৃত্তি অনুসরণ করো.. তাহলে নিশ্চই তুমি জালেমদের অন্তর্ভক্ত হবে। আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে তেমনই চিনে যেমন তারা তাদের পুত্রদেরকে চিনে; কিন্তু তাদের একদল জেনে বুঝেও সত্যকে গোপন করে। প্রকৃতসত্য তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকেই এসেছে। সুতরাং তুমি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। (সূরা বাকারাহ : ১৪৫-১৪৭)

*(হে নবী!) তুমি বলে দাও, হে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তোমাদের কাছে প্রকৃতসত্য এসে পৌঁছেছে। অতপর যারা সঠিক পথ অবলম্বন করবে, সে নিজের কল্যাণের জন্যই সঠিক পথ অবলম্বন করবে। আর যারা পথভ্রষ্ট হবে তাদের পথভ্রষ্টতা তাদের উপরই বর্তাবে। আর আমি তোমাদের কর্মবিধায়ক নই। (সূরা ইউনুস : ১০৮)

আর তিনি আমাদের যা বলেছেন তাই আমাদের জন্য চুড়ান্ত সত্য এবং অন্তরের সস্তি ও পরিতৃপ্তির একমাত্র উৎস; আল্লাহ তা’আলা কতই না সুন্দর বলেছেন :

وَ اتَّبِعۡ مَا یُوۡحٰۤی اِلَیۡکَ وَ اصۡبِرۡ حَتّٰی یَحۡکُمَ اللّٰهُ ۚۖ وَ هُوَ خَیۡرُ الۡحٰکِمِیۡنَ

তোমার নিকট যে ওহী পাঠানো হচ্ছে, তুমি তার অনুসরণ কর এবং সবর কর, যতক্ষণ না আল্লাহ ফয়সালা করেন। আর তিনিই উত্তম ফয়সালাকারী। (সূরা ইউনুস, আয়াত ১০৯)

ফুটনোট ও তথ্যসুত্র

  1. আদিপুস্তক: ১২-১/৭, ১৩-১৪-১৭, ১৭-৮। বি.দ্র. শেষোক্ত দু’টি বর্ণনায় বলা হচ্ছে: “… চিরকালের জন্য দিবো বা দিলাম…।” এই প্রতিশ্রুতির বিষয়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওল্ড টেস্টামেন্টের অধ্যাপক আলফ্রেড জালুম বলেন: ‘প্রতিশ্রুতিটি নিঃশর্ত নয়, বরং অনির্দিষ্টভাবে একদীর্ঘ সময় বুঝানো উদ্দেশ্য।’ ↩︎
  2. মহাপ্রলয়ের পূর্বে যিশুখৃষ্টের প্রত্যাবর্তন এর কথা গসপেল চতুষ্টয়ে নেই। এর আলোচনা আছে, প্রেরিতদের কাজ: ১-১১ এবং প্রকাশিত বাক্য: ২২-১২ তে ↩︎
  3. আরো দেখুন, ওল্ড টেস্টামেন্টের যিরমিয়: ৯-১৩-১৬ এবং যিহিষ্কেল: ৩৩-২৪-২৯ ↩︎
  4. এ সম্পর্কে আরো কিছু আয়াত দেখুন, সূরা আম্বিয়া: ১০৫-১০৬, সূরা হাজ্জ: ৪০-৪১ এবং সূরা নূর: ৫৫-৫৭ ↩︎
  5. এই বিষয়ে পূর্ণ যিশাইয়া পুস্তক পড়া যেতে পারে। ↩︎
  6. মুসলিমদের পতনে বিশ্ব কী হারালো: পৃষ্ঠা ৪৩-৪৭ এবং ইহুদী ও খৃষ্টান জাতির ইতিহাস: পৃষ্ঠা ৩৩২-৩৩৪। আরো দেখুন:
    المعهد اللإكليريكي للبطريكية اللاتينية এর ওয়েবসাইটে الشرق المسيحي عشية الفتح الإسلامي শিরোনামে ↩︎
  7. ফিলিস্তিনের বুকে ইজরাইল: পৃষ্ঠা ৬৫, আসাদ পারভেজ। সাথে দেখুন; Jerusalem and Umar ibn al-Khattab বিষয়ক আর্টিকেল slpj.org ওয়েবসাইটে। ↩︎
  8. এই স্থানে বলে রাখা ভালো যে, বাইবেলের বর্ণনা অনুসারে “ইউশা ইবনে নূন আ. বিভিন্ন অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন এবং জালিয়ে দিয়েছেন”। এই বর্ণনাগুলোতে ভয়ঙ্কর রকমের বাড়াবাড়ি করা হয়েছে। যেহেতু তিনি একজন নবী ছিলেন সেহেতু তার পক্ষে এমন মন্দ স্বভাবী হওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া বাইবেলের অন্যান বর্ণনার প্রতি লক্ষ্য করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। অন্যদিকে বৃটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক অধ্যাপিকা ক্যাথলিন মেরি কেনন উল্লেখ করেছেন যে, বাইবেলে বর্ণিত সময়ে জেরিকো শহরে অগ্নিদগ্ধের কোন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায় নি। আর এই প্রত্নতত্ত্ব অনুসদ্ধানে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। ↩︎
  9. জেরুসালেমে বখতে নাসার (نبوخذ نصر) কয়েকটি আক্রমণ পরিচালনা করেছিলো, খৃস্টপূর্ব ৬০৬, ৫৯৮, ৫৮৮। উল্লেখিত আক্রমণটি ছিলো তৃতীয় আক্রমণ। আল্লাহ এই বিষয় অধিক অবগত। ↩︎
  10. মথি ২৬ ও ২৭ অধ্যায়, মার্ক ১৪ ও ১৫ অধ্যায়, লূক ২২ ও ২৩ অধ্যায় এবং যোহন ১৮ ও ১৯ অধ্যায়ে দেখুন। তবে বারনাবার পুস্তকের ২১৫ ও ২১৬ অধ্যায়ের আলোচনা কোরআনের বর্ণনার অনুরূপ। কিন্তু পাদ্রিরা এই গ্রন্থ পড়তে নিষেধ করে এর কপি ছাপাতে বন্ধ করে দেয়। যদিও বারনাবা যিশুর একজন খাছ শিষ্য ছিলেন। ↩︎
  11. আল কলম (পুষ্প), আল কুদ্সসংখ্যা, তৃতীয় প্রকাশনা-২, পৃষ্ঠা; ৫৭ ↩︎
  12. ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ বাক্যটি বর্তমান সময়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিন্ন এক মর্মার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। যার সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। এই জন্য বাক্যটি উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকা হলো। ↩︎
  13. বিষয়টি আরো ভালোভাবে বুঝার জন্য দেখুন: সূরা নাহলের ৮৯-৯৭ আয়াত ↩︎
  14. ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা. ১১৬-১১৭ মাকতাবাতুল হাসান ↩︎
  15. মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস, ৯ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭, মাকতাবাতুল আযহার ↩︎
  16. মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস, ৯ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১৪৭, মাকতাবাতুল আযহার ↩︎
  17. Arabic TRT কর্তক প্রকাশিত একটি আর্টিকেল, মুহাম্মাদ তাহের ওগলু, ১৬ মে ২০২১, শিরোনাম;
    لم يتنازلوا عن شبر واحد.. كيف خدم العثمانيون القدس و المسجد الأقصى↩︎
  18. এই বিষয়ে আলোচনা দেখুন: aljazeera.net ওয়েবসাইট থেকে নিম্নোক্ত আর্টিকেলটি;
    القدس في عهد السلطان عبد الحميد الثاني ১/৭/২০১৬ ইং. ↩︎
  19. এখানে একটি বিষয় স্মরণে রাখতে হবে যে, ড.জনের প্রথম দু’টি ভ্রমন তথা ১৮৯০ ও ১৯০২ সালের ভ্রমন ছিল ওসমানি সুলতান আব্দুল হামিদ আস-সানী রহ. এর শাসনকালে। আর তৃতীয় সফর ১৯১৯, ১৯২০ সালে হয় যখন ফিলিস্তিন বৃটিশদের অধীনে। এই বৃটিশরাই জায়োনিষ্টদের মুসলিমদের ভূমি দখলে সমর্থন দিয়েছিল এবং এদের সবধরনে সহায়তা করেছিল। ↩︎
  20. সিক্রেটস অব জায়োনিজম, গার্ডিয়ান পাবলিকেশনস, পৃ. ১৯৪-১৯৬ ↩︎
  21. ইতিহাসের আয়নায় বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা, রুহামা পাবলিকেশন, পৃ.২৩০-২৪১। আরো দেখুন: রক্তে আঁকা ফিলিস্তিন; ফেরা প্রকাশন এবং আল-কলম পুষ্প (আল কুদসসংখ্যা) তৃতীয় প্রকাশনা-২ ↩︎
  22. aljazeera.net থেকে প্রকাশিত ২০১৭ মার্চ মাসের ৬/১৩/২০ তারিখে ফিলিস্তিনী কলামিষ্ট আসেম নাবিহ এর আর্টিকেল। শিরোনাম: الأحقية التاريخية في فلسطين । আল-কলম পুষ্প (আল কুদসসংখ্যা) তৃতীয় প্রকাশনা-২, পৃ. ১২৫ ↩︎
  23. dailynayadiganta.com ওয়েবসাইট থেকে ৭/১১/২০২৩ তারিখে প্রকাশিত প্রখ্যাত গবেষক মুসা আল হাফিজের আর্টিকেল; শিরোনাম: ‘ইসরাইলের বৈধতার প্রশ্ন ও ড.ওয়াইজম্যানের ফ্যালাসি’। আরো দেখুন; প্রখ্যাত ইহুদী সাংবাদিক লিউপোল্ডের (যিনি পরবর্তীতে ইসলামধর্ম গ্রহণ করেন এবং নাম রাখেন: মুহাম্মাদ আসাদ) আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ “দ্যা রোড টু মক্কা”। এর বাংলা অনুবাদের নাম: “মক্কার পথে”। ↩︎
  24. এই বিষয়ে দেখুন; dailynayadiganta.com ওয়েবসাইট থেকে ৩১/১০/২০২৩ তারিখে প্রকাশিত প্রখ্যাত গবেষক মুসা আল হাফিজের আর্টিকেল; শিরোনাম: ‘মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত ইহুদিবাদী রাষ্ট্র↩︎
  25. ফিলিস্তিনের বুকে ইজরাইল, গার্ডিয়ান পাবলিকেশনস; পৃ. ১৮২ ↩︎
  26. এই বিষয়টি বিস্তারিত দেখুন: amad.ps (أمد للإعلام) ওয়েবসাইট থেকে ৩০/১০/২০২১ তারিখে প্রকাশিত কলামিষ্ট আযিয বা’লুশার আর্টিকেল; শিরোনাম: “ليس لليهود حق تاريخي في فلسطين↩︎
  27. আল-কলম পুষ্প (আল কুদসসংখ্যা) তৃতীয় প্রকাশনা-২, পৃ. ১৫-৫২ ও ১১০-১১২ ↩︎
  28. raialyoum.com ওয়েবসাইট থেকে ২০/১১/২০২১ তারিখে প্রকাশিত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক যুহাইর আন্দ্রাউসের আর্টিকেল; শিরোনাম: عالم اللآثار الإسرائيلي الشهير يسرائيل فنكلشتاين في كتاب بحثي علمي : فلسطين ليست أرض الميعاد.. এই বিষয়টির জন্য আরো দেখুন; BBC Arabic News (news.bbc.co.uk) থেকে ২৪/১১/১৯৯৯ তারিখে প্রকাশিত প্রত্নতাত্ত্বিক প্রফেসর হারজোগ (Ze’ev Herzog) এর একটি আর্টিকেলের উপর একটি কলাম; শিরোনাম: “عالم آثارإسرائيلي يشكك في فكرة أرض الميعاد↩︎

উপরোক্ত প্রবন্ধটি লিখেছেন, জাবের আহমাদ। শিক্ষার্থী, দাওয়া বিভাগ ২য় বর্ষ, জামিয়াতুশ শায়খ জমিরউদ্দিন আল ইসলামিয়া, রাঙ্গামাটি।

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top