ওমরের বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয়

ওমরের বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয় – হযরত ‍ওমর রাঃ এর খেলাফতের তৃতীয় বছরেই শামের বৃহত্তম অঞ্চল ও দামেশক, হালব, এন্তাকিয়া এবং কিন্নাসারিনের মতো বড় বড় শহর মুসলমানদের কবজায় চলে আসে।

তখনো মুসলমানরা বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে অগ্রসর হয় নি। কারণ, এতে ঐতিহাসিক ও আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্ট হতে পারতো।

এই শহর যেন যুদ্ধ ব্যতিতই মুসলমানদের হাতে আসে, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। শামে তখন মুসলিম কমান্ডার ছিলেন হযরত  আবু উবাইদা রাঃ।

কিভাবে সংগঠিত হয় বুহাইব যুদ্ধ, পড়ুন

তার অধীনে ছিলেন হযরত আমর ইবনুল আস রাঃ এবং খালিদ বিন ওয়ালিদ রাঃ। হযরত আমর ইবনে আস রাঃ প্রথম খলিফা আবু বকর রাঃ এর যুগেই এদিকে আসেন।

বাইতুল মুকাদ্দাস শহর অবরোধ

১৬ হিজরীতে সাহাবায়ে কেরামের সম্মলিত বাহিনী এই শহর অবরোধ করে। ততদিনে রোম ও পারস্য সাম্রাজ্য মুসলমানদের কবজায়।

তাই স্থানীয় খৃষ্টানরা মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ করাটা অর্থহীন মনে করে। কারণ, তাদের এত বেশি সৈন্য নেই।

আর রোম সাম্রাজ্য থেকে তারা কোনো সাহায্যও পাবে না।

তাই তারা সন্ধির প্রস্তাব পেশ করে। যেহেতু বাইতুল মাকদিস ইহুদী, খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের নিকট পবিত্রতম জায়গা,

তাই তারা মুসলিম খলিফাকে এসে সন্ধিচুক্তি করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে।

যাতে কোনো ভুল বুঝাবুঝি না থাকে। মুসলিম সেনাপতি আবু উবাইদা রাঃ তৎক্ষণাত উমর রাঃ এর নিকট দূত প্রেরণ করেন।

এরপর সেই দূত ফিলিস্তিনবাসীদের আকাঙ্খা ব্যক্ত করে। তিনি সেখানে যাওয়ার জন্য অভিজ্ঞ সাহাবাদের সাথে পরামর্শ করেন।

হযরত আলী রাঃ মতামত দিলেন, যেহেতু বাইতুল মাকদিস মর্যাদাপূর্ণ শহর তাই সেখানে খলিফার যাওয়াটাই উত্তম হবে।

এরপর এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

ওমর রাঃ এর ফিলিস্তিন সফর

হযরত ওমর রাঃ মদীনায় নিজের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আলী রাঃ কে নির্ধারণ করে ফিলিস্তিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।

তার সাথে একটি উট ও একজন খাদেম ছিল। কোনো দেহরক্ষী বা অতিরিক্ত লোক ছিল না।

তিনি আরবের মরুভূমি দিয়ে সফর শুরু করলেন।

ইয়ারমুকের যুদ্ধের ভয়াবহতা পড়ুন

যখন তিনি শামে প্রবেশ করেন তখন তার জামা-কাপড় ছিড়ে গিয়েছিল আর ধূলিমলিন হয়ে গিয়েছিল। তখন সেখানের এক ইহুদী তাকে দেখে চিনে ফেলে।

সে বলতে থাকে, হে ফারুক! তুমি বাইতুল মাকদিসের বিজেতা। মুসলিম সৈন্যরা ওমর রাঃ এর অপেক্ষায় ছিলেন। যখন তিনি বাহিনীর নিকট আসলেন তখন একজন বললো,

হে আমিরুল মুমিনীন! শামের খ্রিষ্টান পাদরিরা আপনাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অপেক্ষা করছে। অথচ আপনার কাপড়-চোপড় সব নোংরা হয়ে আছে?

তখন তিনি বললেন, আল্লাহ যাদেরকে ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন তার অন্য কিছু দিয়ে সম্মান তালাশ করা অনুচিত।

প্রতিনিধি দলে সাথে সাক্ষাৎ ও বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয়

উমর রাঃ বাইতুল মুকাদ্দাসে যাওয়ার জন্য অন্য একটি জামা পরিধান করলেন। আগেরটি ধুয়ে দিলেন।

এরপর তিনি নেতৃস্থানীয় লোকদের সাথে দেখা করলেন।

ইরানের হিজাব খুলে আন্দোলন আমাদের কি বার্তা দেয়, পড়ুন

সেখানে সন্ধির শর্তাবললি নির্ধারিত হয় এবং তাতে চুক্তি সাক্ষরিত হয়।

এরপর চুক্তি অনুযায়ী তিনদিনের মধ্যে রোমান সৈন্যরা শহর থেকে বের হয়ে যায়। ওমর রাঃ শহর ঘুরে দেখেন। এরপর কিছুদিন শামে অবস্থান করে মদীনায় ফিরে আসেন।

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com