আবু উবায়েদ সাকাফি

আবু উবায়েদ সাকাফি – আবু বকর রাঃ এর ইন্তিকালের পূর্বেই মুসান্না বিন হারিসা রাঃ ইরাকে যুদ্ধের জন্য সৈন্য সংগ্রহ করতে মদীনায় আসেন।

তখন আবু বকর রাঃ ওমর রাঃ কে বলেন যে, আমার মৃত্যু যেন তোমাকে জিহাদে লোক পাঠাতে বাধা না দেয়। তুমি অতিসত্তর ইরাকে জিহাদের জন্য লোক পাঠাও।

এরপর উমর রাঃ আবু বকর রাঃ এর মৃত্যুর পর তিন দিন পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে লোকদের জিহাদের দাওয়াত দেন। সে সময় মানুষ পারসিকদের শক্তি সম্পর্কে অবগত ছিল।

তাই তিনদিনেও কোনো ব্যক্তি জিহাদে শরীক হওয়ার জন্য অগ্রসর হয় নি। তৃতীয় দিন হযরত মুসান্না বিন হারিসা রাঃ খুবই উজ্জ্বিবিত হওয়ার মতো বক্তব্য প্রদান করলেন।

তিনি জানালেন যে, ইরাকের বেশিরভাগ অঞ্চল আল্লাহ খালিদ রাঃ এর মাধ্যমে বিজয়দান করেছেন। এখন আর অল্প একটু ভূমি বাকী আছে।

এরপরও মানুষ অগ্রসর হলো না। চতুর্থ দিন সর্বপ্রথম একজন ব্যক্তি জিহাদের জন্য অগ্রসর হলেন।

জিহাদের জন্য অগ্রসর

চতুর্থদিন সর্বপ্রথম বনু সাকিফ গোত্রের আবু উবায়েদ সাকাফি রাঃ জিহাদের জন্য প্রথম নাম লেখান।

তার নাম লেখানোর পর সাকিফ গোত্রের অন্যান্য যুবকরাও নাম লেখায়।

হযরত আবু উবায়েদ সাকাফির পরে জিহাদে সাড়া দেন সালিত ইবনে কাইস আল আনসারী রাঃ।

যখন পূর্ণ বাহিনী তৈরি হয়ে গেল, তখন ওমর রাঃ আবু উবায়েদকে কমান্ডার নিযুক্ত করলেন।

 তখন আরো অভিজ্ঞ সাহাবীরা বললো যে, আরো দক্ষ ব্যক্তি থাকতে আপনি তাকে কেন দায়িত্ব দিচ্ছেন? তখন ওমর রাঃ বললেন,

যেই ব্যক্তি জিহাদের জন্য প্রথম অগ্রসর হয়েছে, তাকেই দায়িত্ব দেয়াটা উত্তম মনে করি। এরপর আবু উবায়েদ সাকাফিকে বললেন,

তোমার থেকে বড় বড় সাহাবী ও সমর দক্ষ ব্যক্তিরা এখানে রয়েছে। তাই তুমি সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তাদের মতামত নিয়ে নিবে।

আর সালিত রাঃ কে আমি তোমার পরামর্শক হিসেবে নিযুক্ত করলাম। উপস্থিত লোকেরা বললো, আমরা তাকে মেনে চলবো।

পারস্যের বিভিন্ন প্রদেশে বিদ্রোহ

সে সময় পারস্যের রাজনৈতিক অবস্থা শোচনীয় পর্যায়ে ছিল। অনেক অঞ্চল মুসলমানরা দখল করে নিয়েছে।

তাই তারা আরো হতাশায় রাজধানীর ক্ষমতা নিয়ে রাজ পরিবারে দ্বন্দ্ব বেধে যায়।

একজন শাসক সকালে ক্ষমতায় বসতো। বিকেলেই অন্যজন তাকে পরাজিত করে গদি দখল করতো।

শেষ পর্যন্ত পারস্যের সিংহাসনে বসার মতো কোনো পুরুষ ছিল না।

তখন সভাসদরা পারভেজের মেয়ে বুরানকে ক্ষমতায় বসায়। বুরান রাজনৈতিক দিক থেকে দক্ষ ব্যক্তি ছিল।

সে তখন সামরিক বিষয়ে মুসলমানদের সাথে লড়াইয়ের জন্য পারস্যের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি রুস্তমকে দায়িত্ব প্রদান করে।

রুস্তম আরব সীমান্তের কৃষকদের ভয় দেখিয়ে তাদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের জন্য উসকে দেয়।

সে মুসলমানদের নিকট হতে ইরাকের কিছু অঞ্চল পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

মুসান্না রাঃ তখন মদীনা থেকে সাহায্যকারী দল নিয়ে ফিরে এসেছেন। তিনি জানতে পারেন যে,

রুস্তমের এক সেনাপতি ফুরাত নদীর তীর ঘেষে এগিয়ে আসছে।

মুসান্না রাঃ তখন হিরা অঞ্চল খালি করে পেছনে আসেন এবং আবু উবায়েদ সাকাফি রহঃ এর জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।

একটা সময় তারা এসে মুসান্না রাঃ এর সাথে মিলিত হয়। দুই বাহিনী একত্রে মিলিত হওয়ার পর পারসিক বাহিনীর সাথে যুদ্ধ শুরু হয়।

যুদ্ধে পারসিকদের পরাজয় ঘটে। আর পারসিকদের সেনাপ্রধান জাবান বন্দী হয়। কিন্তু মুসলমানরা তাকে চিনতো না।

তাই সে সহজেই খানিকটা মুক্তিপণ দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। পরবর্তীতে সে রুস্তমের সাথে মিলিত হয়।

তথ্যসুত্র

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খন্ড ৩। পৃষ্ঠা ১৩৮-১৪০

জীবন ও কর্ম: ওমর রাঃ। খন্ড ২। পৃষ্ঠা ১২৮-১৩১

আরো পড়ুন

সাঈদ বিন আমের রাঃ এর ব্যাপারে অভিযোগ

ওমর রাঃ এর সময়ে রাস্ট্রের সীমানা

মাত্র ২০০৳ টাকায় মাইক্রোসফট এক্সেল কোর্স করতে চাইলে এখান থেকে এনরোল করুন

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com