আবু বকর রা. এর স্ত্রী-সন্তানগণ

আবু বকর রা. এর স্ত্রী-সন্তানগণ – হযরত আবু বকর রা. ছিলেন মক্কার জ্ঞানী ব্যক্তিদের একজন। তিনি যেমন সম্ভ্রান্ত পরিবারের ব্যক্তি ছিলেন, তেমনি তার পরিবার-পরিজনও সম্ভ্রান্ত ছিল।

তিনি বিয়ে করেছিলেন ৪ টি। তার সন্তান ছিল মোট ছয়জন। তাদের মধ্যে তিনজন ছেলে এবং তিনজন মেয়ে।

আবু বকর রা.

স্ত্রীদের পরিচয় – আবু বকর রা.

১. কাতিলা বিনতে আবদিল উজ্জা

তিনি ছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ ও আসমা রা. এর মা। তার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে মতানৈক্য আছে। জাহেলী যুগেই আবু বকর রা. তাকে তালাক দিয়েছিলেন।

মদীনায় হিজরতের পর একবার তিনি তার কন্যা আসমা রা. এর নিকট পনির নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু আসমা রা. তাকে ঘরে প্রবেশ করতে দেন নি।

তিনি আয়েশা রা. কে নবীজির নিকট এই বলে পাঠান যে, মায়ের হাদিয়া নেয়া যাবে কিনা?

নবীজি বললেন, “তাকে ঘরে আসতে দাও এবং হাদিয়া গ্রহণ করো।”

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা সূরা মুমতাহিনার ৮ নং আয়াত অবতীর্ণ করেন,

“দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে স্বদেশ থেকে বহিস্কার করেনি তাদের প্রতি মহানুভবতা দেখাতে ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।”

২. উম্মে রুমান বিনতে আমের রা.

তিনি হলেন বনু কিনানা ইবনে খুজায়মার মেয়ে। তার প্রথম স্বামী হারিস ইবনে সাখরা মক্কায় ইনতিকাল করলে আবু বকর রা. তাকে বিয়ে করেন।

উম্মে রুমান ইসলামের প্রাথমিক যুগেই মুসলমান হয়েছিলেন। রাসূলের নিকট বায়আত গ্রহণ এবং মদীনায় হিজরত ও করেছিলেন।

তিনি হযরত আব্দুর রহমান রা. ও আয়েশা রা. এর মা। ষষ্ঠ হিজরীতে তিনি ইন্তিকাল করেন।

৩. আসমা বিনতে উমায়েস রা.

তার উপনাম উম্মে আব্দুল্লাহ। মুসলমানগণ দারুল আরকামে যাওয়ার আগেই তিনি বাইয়াত গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন প্রথম হিজরতকারী একজন মহিলা।

তার প্রথম স্বামী জাফর ইবনে আবি তালেব রা. মুতার যুদ্ধে শহীদ হওয়ার পর তিনি আবু বকর এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

বিদায় হজ্জের দিন তার গর্ভে মুহাম্মাদ বিন আবু বকর জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে আবু বকর রা. ১৩ হিজরীতে ইন্তিকাল করলে তিনি আলী রা. এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

৪. হাবিবা বিনতে খারিজা রা.

তিনি আনসারদের বিখ্যাত খাজরাজ গোত্রের মেয়ে। মদীনার পার্শ্ববর্তী সুনাহ নামক গ্রামে তিনি বসবাস করতেন। আবু বকর রা. এর ইন্তিকালের পর তার গর্ভে উম্মে কুলসুম জন্মগ্রহণ করেন।

সন্তানদের পরিচয় – আবু বকর রা.

১. আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর রা.

তিনি ছিলেন তার সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে বড়। হুদাইবিয়ার দিন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আজীবন তিনি ইসলামের উপর দৃঢ়পদ ছিলেন।

রাসূলের সাহাচর্যে ধন্য হয়েছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি অত্যন্ত বীরত্বের সাথে কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন।

আবু বকর এর খেলাফতকালে মুরতাদদের দমনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

২. আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর রা.

তিনি হিজরতের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দিনভর মক্কার অলিতে গলিতে ঘুরে সংবাদ সংগ্রহ করে রাতে গোপনে সেই সংবাদ নবীজি ও আবু বকর রা. এর নিকট পৌছে দিতেন।

তায়েফের যুদ্ধে তিনি আহত হন। পরবর্তীতে সেই ক্ষতস্থান আর সেরে উঠে নি। আবু বকর এর শাসনামলে তিনি (১১ হিজরী) ইন্তিকাল করেন।

৩. মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর রা.

তিনি বিদায় হজ্জের দিন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কুরাইশের একজন ব্যক্তিত্ববান নওজোয়ান। আমিরুল ‍মুমিনীন আলী রা. তাকে লালন পালন করেন।

আলী রা. তাকে মিসরের গভর্নর বানিয়ে পাঠিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি শহীদ হন।

৪. আসমা রা.

তিনি বয়সে আয়েশা রা. এর বড়। হিজরতের সময় নবীজি মশকের মুখ আটঁকানোর জন্য কোনো কিছু না পাওয়ায় তিনি তার উড়না দুই টুঁকরো করে মশকের মুখ বেঁধে দেন।

তাই নবীজি তাকে যাতুন নিকাতাইন উপাধী দেন। যুবায়ের উবনে আওয়াম রা. এর সাথে তার বিয়ে হয়। পরবর্তীতে গর্ভবস্থায় তিনি হিজরত করেন।

মদীনায় তার গর্ভে আব্দুল্লাহ রা. জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মুহাজিরদের মধ্যে প্রথম সন্তান।

আসমা রা. প্রায় শত বছর বেঁচে ছিলেন। কিন্তু এত বয়ষ্ক হওয়ার পরও তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয় নি এবং দাঁত নড়ে নি।

তিনি রাসূলের থেকে ৫৬ টি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার থেকে ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের, উরওয়া ইবনে যুরায়ের রা. প্রমুখ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৫. আয়েশা সিদ্দিকা রা.

তিনি নবীজির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী ছিলেন তিনি। নবীজি তাকে উম্মে আব্দুল্লাহ উপনাম দিয়েছিলেন।

তিনি নবীজির থেকৈ ২২১০ টি হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইন্তিকালের সময় তার বয়স ছিল ৬৩ বছর কয়েক মাস। ৫৭ হিজরীতে তিনি ইন্তিকাল করেন। ১০

৬. উম্মে কুলসুম বিনতে আবু বকর রা.

উম্মে কুলসুম রহ. জন্মগ্রহণ করেন তার বাবার মৃত্যুর পর। তার মা ছিলেন খাজরাজ গোত্রের মেয়ে হাবিবা বিনতে খারিজা রা.।

পরবর্তীতে উম্মে উলসুম রহ. এর সাথে বিয়ে হয় তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রহ. এর সাথে। তিনি জঙ্গে জামালের যুদ্ধে শহীদ হন। ১১

তথ্যসুত্র

১. আবু বকর সিদ্দিক। ড. আলী মুহাম্মাদ আস সাল্লাবী। কালান্তর প্রকাশনী। পৃষ্ঠা  ৩৮-৩৯

আবু বকর সিদ্দিক বইয়ের রেফারেন্স অনুযায়ী,  তাবাকাতে ইবনে সা’দ। খণ্ড ৩। পৃষ্ঠা ১৬৯

২. সহীহ বুখারী। হাদীস নং ২৬২০

৩. আবু বকর সিদ্দিক। পৃষ্ঠা ৩৯

আবু বকর সিদ্দিক বইয়ের রেফারেন্স অনুযায়ী, আল ইসাবা। খণ্ড ৮। পৃষ্ঠা ৩৯১

৪. আবু বকর সিদ্দিক। পৃষ্ঠা ৪০

আবু বকর সিদ্দিক বইয়ের রেফারেন্স অনুযায়ী, সিয়ারু আলামিন নুবালা। খণ্ড ২। পৃষ্ঠা ২৮২

৫. আবু বকর সিদ্দিক। পৃষ্ঠা ৪০

আবু বকর সিদ্দিক বইয়ের রেফারেন্স অনুযায়ী, আল ইসাবা। খণ্ড ৮। পৃষ্ঠা ৮০

৬. আবু বকর সিদ্দিক। পৃষ্ঠা ৪০

আবু বকর সিদ্দিক বইয়ের রেফারেন্স অনুযায়ী, আল ইসাবা। খণ্ড ৪। পৃষ্ঠা ২৭৮।। আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া। খণ্ড ৬। পৃষ্ঠা ৩৪৬

৭. আবু বকর সিদ্দিক। পৃষ্ঠা ৪১

আবু বকর সিদ্দিক বইয়ের রেফারেন্স অনুযায়ী, নাসবু কুরাইশ। পৃষ্ঠা ২৭৫।। আল ইসাবা। খণ্ড ৪। পৃষ্ঠা ২৪

৮. আবু বকর সিদ্দিক। পৃষ্ঠা ৪১

আবু বকর সিদ্দিক বইয়ের রেফারেন্স অনুযায়ী, নাসবু কুরাইশ। পৃষ্ঠা ২৭৫।। আল ইসতিআব। খণ্ড ৩। পৃষ্ঠা ১৩৬৬

৯. আবু বকর সিদ্দিক। পৃষ্ঠা ৪১-৪২

আবু বকর সিদ্দিক বইয়ের রেফারেন্স অনুযায়ী, সিয়ারু আলামিন নুবালা। খণ্ড ২। পৃষ্ঠা ২৮৭

১০. আবু বকর সিদ্দিক। পৃষ্ঠা ৪২

আবু বকর সিদ্দিক বইয়ের রেফারেন্স অনুযায়ী, তাবাকাতে ইবনে সা’দ। খণ্ড ৫। পৃষ্ঠা ৫৮

১১. আবু বকর সিদ্দিক। পৃষ্ঠা ৪২

আরো পড়ুন

আবু বকরের জন্ম

আবু কুহাফা রা. কে ছিলেন

সালমা বিনতে সাখর রা. কে ছিলেন

আবু বকরের রাজনৈতিক জীবন

আল্লাহ কত দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন?

গোপনে নবীজির ইসলাম প্রচার

FAQ

আবু বকর রা. এর কতজন স্ত্রী ছিল?

৪ জন স্ত্রী ছিল।

আবু বকর রা. এর কতজন সন্তান ছিল?

৬ জন সন্তান ছিল।

আবু বকর রা. এর বড় ছেলের নাম কি?

আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর রা. ।

আবু বকর রা. এর কোন মেয়ের সাথে নবীজির বিয়ে হয়?

আয়েশা রা. এর সাথে ।

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com