আত্মমর্যাদার নিঃশব্দ কান্না – বাংলাদেশের ঘটনা। ৭ নভেম্বর ২০২৫ এ আমার চোখে পড়ে। ঘটনাটি এই দিনেই ঘটেছে বা তার আগের দিন। ঘটনাটি দিনাজপুরের। একটি ক্লিনিকে সন্তান জন্মদানের পর মা সন্তানকে রেখে পালিয়ে যায়। সাথে একটি চিরকুট লিখে যায়।
তাতে লেখা ছিল, “আমি মুসলিম। আমি একজন হতভাগী। পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাচ্চাটিকে রেখে গেলাম। দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন। বাচ্চার জন্ম তারিখ ০৪-১১-২৫। আমি মুসলিম জাতির মেয়ে।”
ঘটনাটা একদিকে আতঙ্কের, আরেক দিকে বিস্ময়ের। একজন শিশুকে কীভাবে তার মা এভাবে ফেলে রেখে যেতে পারে? আমরা সম্ভাব্য কিছু দিক নিয়ে আলোকপাত করতে পারি। মা তার সন্তানকে এভাবে ত্যাগ করে দুইটি কারণে।
অবৈধ বাচ্চা জন্ম দিলে, অথবা পারিবারিক অর্থনীতি একদম শোচনীয় থাকলে। তবে বাংলাদেশে পারিবারিক অর্থনীতি খারাপ হওয়ায় সন্তান এভাবে ফেলে যাওয়ার নজির একদম নেই। তবে অবৈধ বাচ্চা ফেলে যাওয়ার নজির ভুঁড়ি ভুঁড়ি আছে।
বছরখানেক আগে একবার এক নবজাতককে পাওয়া গিয়েছিল ছাত্রী হোস্টেলের পানির ট্যাংকিতে। আরেকবার ময়লার স্তূপে পাওয়া গিয়েছিল এক নবজাতককে। দুই দিন আগে আরেকটা নিউজ চোখে পড়ল। যেখানে একটি হসপিটালে সন্তানের ভ্রূণ নষ্ট করতে গিয়েছিল তারা।
তাকে বের করার পর দেখা গেল শিশুটির শারীরিক আকৃতি গঠন হয়ে গিয়েছে। রাবারের পুতুল যেমন দেখায়, তেমন লিকলিকে শরীর। ডাক্তারের কাঁচি, ছুরির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত।
সমাজে এই পুরো বিষয়টা ঘটে প্রেম, পরকীয়া, জাস্ট ফ্রেন্ডের আড়ালে। বিশ্বের রাঘব বোয়াল ধনী ব্যক্তিদের একটা কমন প্যাটার্ন আছে। তারা আমাদের মতো নারীকেন্দ্রিক এত চিন্তা করে না। অনলাইনে আমাদের পরিচিতরা এবং আমরা যতটা সময় বিভিন্ন ফান পেজের পোস্ট পড়ে কাটাই, ততটা সময়ে একটা সুন্দর বই পড়লেও কিছুটা মস্তিষ্ক খুলত।
আর ফান পেজের কাজই হয় যৌবনের উদ্ভাবনীমূলক পোস্ট দেওয়া। এখন এই পোস্ট পড়ে কে গুনাহের দিকে ধাবিত হবে আর কে কুফরি করছে, তার কোনো মাথাব্যথা তাদের নেই। তারা পোস্ট করছে, এনগেজ হচ্ছে, রিচ হচ্ছে। মাস শেষে হয়তো ডলার আসছে। না আসলেও স্পন্সর পাচ্ছে। তা না হলে অন্তত নিজেকে পাবলিক ফিগার হিসেবে তো তৈরি করা যাচ্ছে।
দায়ী কারা?
কিছুদিন পূর্বে অনলাইনে আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এক গ্রামে বয়স্ক দুইজন ব্যক্তি তাদের ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়েছে। হয়তো দেশীয় কুফরি আইন অনুযায়ী তাদের বিয়ের বয়স হয়নি (ছেলেদের ২১, মেয়েদের ১৮)। কিন্তু কেন আগে বিয়ে দিল, এটার জন্য রীতিমতো ভিডিও করে তাদেরকে জেরা করা হচ্ছে।
বাল্যবিবাহ নামক কুশব্দ আখ্যায়িত করে বিবাহের মতো পবিত্র বন্ধনকে বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে “সন্ত্রাসী কার্যক্রম”। দেশে ২১, ১৮ বছরের নিচের ছেলেমেয়েগুলো চুটিয়ে প্রেম করলে কোনো সমস্যা হয় না। পার্কের চিপায়, অমুকের ফ্ল্যাটে গিয়ে ইজ্জত বিক্রি করলেও ড্যাম কেয়ার মনোভাব। নাটক সিনেমাগুলো অধিকাংশ সময়েই ১৮ বছরের নিচের মেয়েদের প্রধান বা পার্শ্ব চরিত্রে রাখা হয়। কই তখন তো এসব কুলাঙ্গার ব্যক্তিরা প্রশ্ন তোলে না, এখানে তো বাল্যযৌনউষ্কানী হচ্ছে!
বাঙালি কালচার, কুফরি এই কালচার চায় মানুষ আজীবন কুফরের মধ্যে থাকুক। মানুষ হারামের মধ্যে থাকুক। এটাই শয়তানের চাওয়া। এটাই দাজ্জালি শক্তির সফলতা। এতে প্রেমিক প্রেমিকা নামক বেহায়াদের নিকট কল রেট বিক্রি করবে সিম কোম্পানি, জামাকাপড়, শোবিজ, ব্র্যান্ডিং গ্যাজেট বিক্রি করার জন্য কোম্পানি বসে আছে। প্রশ্ন আসতে পারে, এরা কেন এই যুবক যুবতি হারাম সম্পর্ককে টার্গেট করে? কেন বিবাহিত, বিবাহিতাদের টার্গেট করে না?
এর কারণ হলো, বিবাহ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত। এখানে বারাকাহ থাকে। সুকুন থাকে। তাই তখন মানুষকে শয়তানে ধরে কম। সে অপচয় কম করে। তাই এদের পকেট থেকে পয়সা খসানো কষ্টকর। একজন স্বামী তার স্ত্রীর বায়নাকে সম্মান করলেও নিজের পকেটে টাকা না থাকলে ওই বায়না পূরণ করার জন্য হারামের দিকে সহজে যাবে না। কিন্তু হারাম রিলেশনে তারা দেদারসে হারাম কাজের দিকে যাবে।
প্রয়োজনীয়তা
আত্মমর্যাদা বা গায়রত অনেক মহান জিনিস। এটার সম্পর্ক দ্বীনের সাথে। এটার ভার বহনের যোগ্যতা অর্জন করতে হয় হৃদয়ের গহিন থেকে। চাইলেই আত্মমর্যাদাশীল হওয়া যায় না। এই দেশে এত এত সমস্যা, এত এত ব্যর্থতা, এত এত অরাজকতা, এসবের পেছনে মূল কারণ হলো পাশ্চাত্য সমাজের অন্ধ অনুসরণ।
ব্রিটিশ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। ইসলামী শরীয়াহ যত বাস্তবায়ন না হবে, ততদিন এই সমস্যা কখনোই দূর হবে না। পরকীয়া তথা জিনার শাস্তি রজম যদি দেশে একটা বাস্তবায়ন করা হয়, আগামীকাল থেকে এই সমস্যা ৭০% কমে যাবে। পরে আরে কিছু শরীয়াহ আইন বাস্তবায়ন হলে পুরোপুরিই কমে যাবে।
ফলে একজন শিশু পিতা হারা হবে না। একজন শিশু মা হারা হবে না। সে নিজের শেকড় ধরে বাঁচতে শিখবে। নিজের পিতাকে চিনবে। আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। দুআ করবে। কোনো এক ঘটনার পেছনে শুধু একজন ব্যক্তি দায়ী হয় না, পুরো একটি সমাজও দায়ী হতে পারে। এই ঘটনায় আপনি-আমি দায়ী না তো?