সংশয়বাদী

আসিফ আদনান ভাইয়ের ওয়ার্ল্ড ভিউ নিয়ে একটা লেকচার আছে। তা শুনেছিলাম কয়েক সপ্তাহ আগে। আমার চিন্তায় আঘাত করেছিল সেই ভিডিওটি। আসিফ ভাই একটা বই অনুবাদ করেছিলেন বহু দিন আগে। সংশয়বাদী নাম। মূল লেখক দাঈ ড্যানিয়েল হাকিকাতজু।

বইটা কিনেছিলাম মাসখানেক আগে। পড়া শুরু করেছি সম্ভবত গত মাসে। এটি পড়ার পর দেখলাম, আসিফ আদনান ভাই যা বলেছিলেন, তার অধিকাংশই এখানে আছে।

এই বইয়ের বিভিন্ন অংশ আমি আসিফ আদনান ভাইয়ের ওয়েবসাইট থেকে পড়েছিলাম। তাই সেটি আমার জানা আছে মোটামুটি।

সংশয়বাদী বইটির বৈশিষ্ট্য

সংশয়বাদী বইটা কয়েকভাবে বিভক্ত। যেমন, নাস্তিকতা, সেক্যুলারিজম, সাম্য মুক্তি, নারীবাদ, হিজাব, বিজ্ঞানবাদ, লিবারিলিজম, মর্ডানিটি ও জিনা ইত্যাদি।

প্রতিটা ভাগেই লেখক পশ্চিমাদের মূল চিন্তার কাঠামোতে আঘাত করেছেন। নাস্তিকতা অধ্যায়ে লেখক দেখিয়েছেন, মানুষ মূলত বিশ্বাসী।

কেউ অবিশ্বাসী নয়। হয় সে স্রষ্টায় বিশ্বাস করবে অথবা সে বস্তুতে বিশ্বাস করবে। কিন্তু বিশ্বাস আছেই।

যারা বিজ্ঞান বিজ্ঞান করে, তারাও বিজ্ঞানকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে না। বিজ্ঞান নিজেই দোদুল্যমান। সে ক্ষণে ক্ষণে তার বিশ্বাস পালটায়।

আজ যা সত্য, কয়েক বছর পর তা মিথ্যা। আজ যা মিথ্যা, কয়েক বছর পর বিজ্ঞানে তা সত্য। এদের নির্দিষ্ট কোনো উসুল নাই।

সেক্যুলারিজম তো আরেক ভাঁওতাবাজ। ওরা বলে, তারা সাম্যে বিশ্বাসী। তারা সকলের ধর্মকে সম্মান করে।

অথচ তারা মারাত্মক ইসলামবিদ্বেষী। জার্মানি, ফ্রান্সে হিজাব নিষিদ্ধ করে রেখেছে।

অথচ তাদের দেশে নগ্ন ড্রেস পরা জায়েজ। এই মানদণ্ড কে ঠিক করল?

তারা যেটাকে ভালো বলে, সেই ভালোটা কে তাদেরকে বলল? গণতন্ত্র দিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো একটা দেশে ভালো শাসন কায়েম হয় নি।

অনেকেই অনেক বৃহৎ কিছু দেখায়। কিন্তু সমাজের সরকারি বক্তব্য ও মিডিয়ার বক্তব্য বাদ দিয়ে জরিপ চালালে তাদের আসল খোলস বের হয়ে আসে।

স্বাধীনতার নামে, সাম্যের নামে পশ্চিমা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মিথ্যাচার হয়।

ওরা তাদের বক্তব্যকে বলে ঠিক কিন্তু ইসলামকে বলে বেঠিক। তাদের এই ঠিক-বেঠিকের মানদণ্ড কি?

খুঁজলে দেখা যাবে, ভোগবাদ। শয়তানকে খুশি করা। ভোগের নিকট আত্মসমর্পণ করা। তারা বিভিন্ন শব্দ জাদু খেলে মানুষকে বোকা বানায়। যেমন, সাম্য সমতা স্বাধীনতা।

পৃথিবীতে পরিপূর্ণভাবে এই জিনিসগুলো স্থলে এবং আকাশে অথবা সমুদ্রের গভীরে, কোথাও নেই।

স্বাধীনতা একটা ভোকাস কথাবার্তা। একজনের নিকট যা স্বাধীনতা অন্যের নিকট তা পরাধীনতা।

বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ফিতনা

নারীবাদ হলো পৃথিবীতে ঊনবিংশ শতাব্দীতে জেগে উঠা ধর্ম বিদ্বেষের নতুন রূপ।

নারীবাদের ফাস্ট, সেকেন্ড ও থার্ড ওয়েভের ইতিহাস পড়লেই তাদের আসল চেহারা বের হয়ে আসে।

কারা এটি শুরু করেছিল? কেন করেছিল? যখন কোনো মুসলিম নারী এই ফেমিনিজম চিন্তায় আক্রান্ত হয় তখন সর্বশেষ গন্তব্য হলো নাস্তিকতা।

সে এই সংশয় নিয়ে নাস্তিক হতে বাধ্য। যখন সে দুনিয়ার সবক্ষেত্রেই পুরুষ তন্ত্রকে দায়ী করবে তখন নবি-রাসুল, সাহাবি, মুজতাহিদ, ইলমি সিলসিলা ও স্বয়ং আল্লাহকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

লেখক এই বইয়ে মুসলিম নারীদের রিদ্দার দিকে অগ্রসর হওয়ার ৪টা ধাপ উল্লেখ করেছেন।

লেখাটা পূর্বে আসিফ আদনান ভাইয়ের ওয়েবসাইট থেকে পড়েছিলাম। বইতে আবার পড়ি। লেখাটা গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়াও হিজাব নিয়ে লেখাগুলোও যুক্তিসম্মত। পশ্চিমাদের অনেকগুলো প্রশ্নের জবাব চলে এসেছে তাতে। বর্তমানের মানুষ বিজ্ঞানকে মহান মনে করে ।

অথচ এই বিজ্ঞান হলো অনেকটাই ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত। মুসলমানদের অনেকেই বিজ্ঞান দিয়ে কুরআনকে জাস্টিফাই করতে যায়।

এটা হলো আরেক ভ্রষ্টতা। মারাত্মক হীনম্মন্যতা। লিবারিলিজম, মর্ডানিটি, প্রগ্রতিবাদ নিয়েও বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে।

সংশয়বাদী বইটা মাস্ট রিড। পড়া উচিত চিন্তাশীল সকলের।

Buy This Book

রকমারি ।। ওয়াফিলাইফ ।। রাইয়ান শপ

লেখাটি শেয়ার করতে সর্ট লিংক কপি করুন

সংশয়বাদী
সংশয়বাদী

2 thoughts on “সংশয়বাদী”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top