লাশের চেয়েও মেট্রোরেল দামী : লাশের চেয়েও ভবন দামী!

লাশের চেয়েও মেট্রোরেল দামী : লাশের চেয়েও ভবন দামী! – ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান। দেশের আকাশে ছিল কালো মেঘের ঘনাঘটা। পরবর্তী ভবিষ্যদ্বানী দুইটার যেকোনো একটা হওয়ার কথা ছিল। এক, এই মেঘ কেঁটে যাবে এবং নতুন প্রভাত আলো ছড়াবে। দুই, কালবৈশাখী নেমে তছনছ করে দিবে সব। বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে প্রথমটাই ঘটলো। এর জন্য নিজের জান কুরবানী দিতে হয়েছে শত শত ব্যক্তিকে। পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে হাজারো ব্যক্তিকে। স্বাধীনতার নতুন সূর্য দেখা গেল ৫ আগষ্টের বিকেলে।

হাসিনার শাসনামলে দেশে চেতনা ব্যবসায়ীদের রমরমা বানিজ্য ছিল। মানুষকে ধোঁকা দিতে শেখের বেটি ছিল সিদ্ধহস্ত। কোটি কোটি টাকা পাচার এবং সাধারণ মানুষদের উপর নির্যাতন করে দেশে কিছু স্থাপনা তৈরি করেছিল। যেগুলো ছিল তাদের মাইলফলক। পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, ৩০০ ফিট, স্যাটেলাইট ইত্যাদি। এসব স্থাপনা ছিল তার নিকট স্বর্ণের মতো। কখনোই এসবে কিছু হোক, তা চাইতো না।

জুলাই আন্দোলনে যখন ছাত্র-জনতাকে নির্মমভাবে হত্যা করছিল পুলিশলীগ ও সেনাবাহিনী তখন গণদ্রোহে আরো পানি ঢেলে দেয় স্বয়ং হাসিনার কার্যক্রম। মিরপুরের মেট্টোরেল স্টেশনে ছাত্রলীগের ছেলেরাই ভাঙচুর করে। এরপর জাতীয় অভিনয় করে হাসিনা। টাকার ভাগ নেওয়ার জন্য ১০০ কোটি টাকা দিয়ে উক্ত মেট্টোরেল সংস্কার করতে হবে বলে ঘোষণাও দেয় সে। যদিও পরবর্তীতে ২ কোটি টাকাও ব্যয় হয় নি মেট্টোরেল স্বাভাবিক করতে। প্রশ্নের বিষয় হলো, বাকী ৯৮ কোটি টাকা হাসিনা কেন বাজেটের মধ্যে ঢুকিয়েছিল?

ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে। ইনকিলাব মঞ্চ বাংলাদেশে জুলাই পরবর্তী সময়ে বিপ্লবীদের মতিগতি ভালো না দেখে আবির্ভূত হয়। ‘জান দেব, জুলাই দেব না’ স্লোগানটির মাহাত্ম অনেক। উসমান হাদি ভাইকে আগে তেমন চিনতাম না। ইনকিলাব মঞ্চের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং আস্তে আস্তে মিডিয়াতে আসার ফলে চিনতে পারি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। আমি একদিন তাকে মগবাজারে দেখেছিলাম নির্বাচনী প্রচারণাকালে। এটাই ছিল আমার শেষ দেখা। তখনও কল্পনা করতে পারি নি, দুই সপ্তাহ পর এই মানুষটি আর থাকবেন না।

শুরু থেকেই ভারত বিরোধী ও আওয়ামীলীগ বিরোধী ছিলেন হাদী। তাই খুব তাড়াতাড়িই তাদের চক্ষুশূলে পরিণত হন। সিরিয়াল কিলারকে পাঠানো হয় মিশন দিয়ে। দীর্ঘদিন হাদির সাথে থেকে বিশ্বাস অর্জন করতেও সক্ষম হয় সে। অবশেষে বিগত ১২ ডিসেম্বর জুমুআর পর উসমান হাদীকে প্রকাশ্যে রাস্তায় গুলি করে পালায় খুনী। মাথার ব্রেইনে এই গুলি লাগে। ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালে ছিলেন কয়েকদিন। এরপর সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসারত অবস্থায় পরপারে চলে যান তিনি।

বিগত এক সপ্তাহর প্রতিটা মূহুর্ত ছিল উৎকণ্ঠার মতো। মানুষ হাদীর জন্য দোয়া করেছে, কেঁদেছে, রাস্তায় নেমেছে। ১৮ তারিখ রাতে হাদী মারা যাওয়ার পর মূহুর্তেই সারাদেশে ক্রোধের আগুন জ্বলে উঠে আরেকবার। জুলাইয়ের গাদ্দার বিপ্লবীরা আরেকবার বিপ্লবী হ্যাডম দেখানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কোটি টাকা কি আর তা হতে দিবে? অর্ধদিনের মধ্যেই তাদের মতিগতি ঘুরে যায়। ১ দিনের মধ্যেই হাদির লাশ নিলামে বিক্রি হয়। কারা বিক্রি করলো? যাদের সাথে সে এককালে আন্দোলন করেছিল ফ্রন্টলাইনে।

উসমান হাদির জানাযা হয় সংসদ ভবনের চত্বরে। প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ উপস্থিত হয়েছিল। জানাযার আগে ড. ইউনুস হাদীর চেতনা নিয়ে কথা বলে। কিন্তু সে এই নিশ্চয়তা দিতে পারে নি, হাদির খুনিকে ধরতে পারবে কিনা! এদিকে গত কয়েকদিনে হাদির খুনের তদন্ত তেমন অগ্রগতি না হলেও আলোস্টার পুড়ানোর তদন্ত[1] ভালোভাবে চলছে। ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেশ কিছু আলেমকে গুম করা হয়েছে। কাউকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, কারো বা বাসায় সাদা পোশাকধারীরা আসছে। হাসিনার স্টাইলে আবার গুম খুনের রাজনীতি শুরু হয়েছে দেশে।

দেশে পূর্বে আবু সাইদের খুনির বিচার হয় নি, চট্টগ্রামের আলিফ হত্যাকান্ডের বিচার হয় নি, ফরিদপুরের দুই ভাইকে উগ্র হিন্দুরা পিটিয়ে মারার বিচার  হয় নি, উসমান হাদিরও বিচার হবে না। এটাই এদেশের রাষ্ট্রীয় সিস্টেম, রাষ্ট্রীয় কাঠামো। এখানে একটা খুনের মামলা ঘুরবে ৫০ বছর। এরপর রায় হবে। কি রায় হবে, তা তো বুঝাই যায়!


[1] প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার হলো এদেশের কালচারার জমিদার। এটা শুধুমাত্র মিডিয়া হাউজ নয়। এটা অন্যায়ের বৈধতা দানকারী, এটা গুম খুনের রাজনীতির সহায়ক, জঙ্গী নাটকের গুরু। এদেরকে যারা পড়ে, তারা হলো বাংলাদেশের এলিট সোসাইটির সেক্যুলার লোকজন। যাদের অধিকাংশই রিদ্দায় আক্রান্ত। তাদের নিকট ধর্ম হলো, স্রেফ কিছু কৃষ্টি কালচার। জীবনব্যবস্থা হবে সেক্যুলারিজমের

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top