নেই আর ইসমাইল হানিয়া

নেই আর ইসমাইল হানিয়া – সকালে আজকে একটি সংবাদ দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়ি। কল্পনাও করতে পারি নি।

প্রথমে ভেবেছিলাম বানোয়াট। পরে নির্ভরযোগ্য সোর্সগুলো ঘেঁটে দেখলাম, আসলেই ঘটেছে।

মহান মুজাহিদ নেতা হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ভাই ইসমাইল হানিয়া শহীদ হয়েছেন । তিনি শহীদ হয়েছেন গাজ্জার বাহিরে।

ইরানের রাজধানী তেহরানে। প্রেসিডেন্টের বাসভবন থেকে ১২০ মিটার দূরত্বে থাকা একটি বাড়িতে তিনি অবস্থান করছিলেন।

এখানে সম্ভবত ড্রোন অথবা মিসাইল দিয়ে হামলা করা হয়।

হানিয়া ইরানে এসেছিলেন নব্য নির্বাচিত ইরানের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে। এরপর শহীদ হলেন। যদিও এর জন্য দোষ চাপানো হচ্ছে ইসরাইলের ঘাঁড়ে।

আর ইসরাইলও অনেক আনন্দিত। তারা জোরগলাতেই বলেছে, এই হামলা তারা পরিচালনা করেছে।

কিন্ত প্রশ্ন আসে কাতার, তুরষ্ক, লেবানন, জর্ডান ও গাজ্জায় যেই হানিয়াকে ইসরাইল হত্যা করতে পারে নি, তাকে প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে ১২০ মিটার দূরত্বে ইরানে কিভাবে হত্যা করলো?

একটু ভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করি। ২০১৫ সালে শায়েখ আতিকউল্লাহ হাফিঃ অনেকগুলো লেখা লিখেছিলেন শিয়াদের নিয়ে।

সেখানে তিনি দেখিয়েছেন, রাফেযী শিয়া ও ইহুদিদের মধ্যে কোনো বড় পার্থক্য নেই।

আর আমরা যে ইরানের এত হুমকি দেখি ইসরাইলের প্রতি, এগুলো সব আইওয়াশ।

নেই আর ইসমাইল হানিয়া

ইসমাইল হানিয়ার প্রতি কেন ইরান এবং ইসরাইল ক্ষুব্ধ? ইসরাইল কেন ক্ষুব্ধ, তা তো আর আলাদাভাবে বলার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ইরান কেন ক্ষুব্ধ?

ইরান বহু আগ থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের সুপারম্যান হতে চায়। এজন্যই তারা মধ্যপ্রচ্যের বিভিন্ন স্থানে পক্সি যোদ্ধা রাখে।

লেবানন, ইরাক, সিরিয়া, ইয়ামেনে ইরানের পক্সি যোদ্ধা আছে। ফিলিস্তিনে বা গাজ্জাতে তা ছিল না।

হামাসকে যদিও ইরান সাহায্য করেছিল বেশ কিছু স্বার্থের কারণে। কিন্তু হামাস ইরানকে একটি শিয়া ভূমি হিসেবেই দেখতো।

গাজ্জায় শিয়া কোনো কার্যক্রম পরিচালিত করা নিষিদ্ধ। এরপরও করা হয়েছিল কয়েকবার। কিন্তু ততবারই হামাস তা সমূলে ধ্বংস করে দেয়।

এই ক্ষোভ ইরানকে প্রতিশোধ পরায়ণ হতে বাধ্য করেছে। রাফেজী শিয়ারা কখনোই মুসলিম উম্মাহর পক্ষে ছিল না। ১৩০০ বছর আগ থেকেই এটা প্রসিদ্ধ।

নেই আর ইসমাইল হানিয়া । তিনি আমাদের আদর্শ।  জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর পথপ্রদর্শক।

তার আদর্শ আজীবন গেঁথে থাকবে উম্মাহর সন্তানদের হৃদয়ে। হাইয়্যা আ’লার জিহাদ….

রেফারেন্স ও ভিডিও

ইসমাইল হানিয়ার বিভিন্ন বক্তব্যের চম্বুকাংশ

হানিয়ার পুরোনো কিছু ভিডিও কালেকশন একসাথে

তুফানুল আকসা যুদ্ধের সূচনাকালে ৭ অক্টোবরে ইসমাইল হানিয়া শুকরানা সেজদা

ইসমাইল হানিয়া কবে জন্মগ্রহণ করেন?

২৯ জানুয়ারী ১৯৬২ সালে গাজ্জার শাতি শরণার্থী ক্যাম্পে জন্মগ্রহণ করেন ইসমাইল হানিয়া

ইসমাইল হানিয়া কবে মৃত্যুবরণ করেন?

৩১ জুলাই ২০২৪ মোতাবেক ২৪ মহররম ১৪৪৬ হিজরী তারিখে ইরানের তেহরানে গুপ্ত হামলায় ইসমাইল হানিয়া মৃত্যুবরণ করেন

1 thought on “নেই আর ইসমাইল হানিয়া”

  1. আবু আব্দুল্লাহ

    তিনি ছিলেন এই উম্মাহর পথিকৃৎ। তিনি সেই পথেই চলেছেন, যেই পথে ছিল শায়েখ ইজ্জউদ্দিন কাসসাম এবং শায়েখ আহমাদ ইয়াসিন রহ.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top