আবু বকরের যুগে ফেতনার আত্মপ্রকাশ

আবু বকরের যুগে ফেতনার আত্মপ্রকাশ – খলিফা আবু বকর রা. খেলাফতের মসনদে আরোহনের পর পরই তাকে তিনটা ফেতনার মোকাবেলা করতে হয়।

যেই ফেতনাগুলো প্রকট আকার ধারণ করছিল।

প্রথম ফেতনা ছিল, মিথ্যা নবুওতের দাবী করা।

দ্বিতীয ফেতনা ছিল, ইরতিদাদ বা মুরতাদ হয়ে যাওয়া।

তৃতীয় ফেতনা ছিল, জাকাত আদাযে অস্বীকৃতি জানানো।

আবু বকর রা. উক্ত ফিতনাগুলোর সমূলে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছেন। তিনি রাসূলের আদর্শ সামনে রেখে কোনো ধরণের প্রতিবন্ধকতাকে গুরুত্ব দেন নি।

ফেতনার আত্মপ্রকাশ

মিথ্যা নবুয়ত দাবীদারদের বিরুদ্ধে জিহাদ

আবু বকর রা. মদীনা থেকে ২০ কি.মি. দূরে অবস্থিত যিলকাসসা নামক স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করেন। মুজাহিদ বাহিনীকে এগারভাগে বিভক্ত করেন।

প্রত্যেক ভাগে অভিজ্ঞ সাহাবীদেরকে আমির নির্ধারণ করেন। এরপর তিনি যুদ্ধের নকশা তৈরি করেন। সে নকশা অনুযায়ী তিনি এই এগারোটি বাহিনীকে আরব উপদ্বীপে ছড়িয়ে দেন।

এর দ্বারা মিথ্যা নবুওয়তের দাবিদার এবং তাদের অনুসারীদের দমন করাই প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

জাকাত আদায়ে অস্বীকারকারীদের সঙ্গে জিহাদ

নবীজির ইন্তিকালের পর একদল লোক নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকার পরও জাকাত আদায় করতে অস্বীকার করে।

এমনকি তারা খেলাফতের মূল স্তম্ভ মদীনায় প্রতিনিধিদল ও পাঠায়।

তারা এই দাবী পেশ করে যে, তাওহীদ রিসালাতসহ ইসলামের অন্যান্য সকল বিধি-বিধান তারা মান্য করবে। কিন্তু জাকাত আদায় করতে পারবে না।

যেন তাদের জিম্মা থেকে জাকাত মাফ করে দেয়া হয়।

কিছু কিছু সাহাবী এমনকি হযরত ওমর রা. ও এই নাজুক পরিস্থিতিতে খলিফা আবু বকর রা. কে তাদের আবদার মেনে নেয়ার অনুরোধ করেন।

কিন্তু আবু বকর রা. তাদের এই আবদার মানলেন না। তিনি এই লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন।

হযরত ওমর রা. আবু বকর রা. কে বললেন, যারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ পড়ে তাদের বিরুদ্ধে কি আপনি যু্দ্ধ করতে চাচ্ছেন?

আবু বকর রা. এসব কথাকে উপেক্ষা করে ইসলামকে মূল রূপে রাখতে প্রত্যয়ী হন। এ কারণে তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ!

যে ব্যক্তি জাকাতকে নামাজের মতো গুরুত্ব না দিবে, আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো।

রাসূলের যামানায় যে ব্যক্তি জাকাতের জন্য একটা বকরির বাচ্চা প্রদান করতো,

এখন যদি সে তা প্রদান না করে তাহলে আমি তার বিরুদ্ধে তরবারি হাতে নিব।

অনেকেই এটা ভেবে ভুল করে থাকেন যে, কি দরকার ছিল আবু বকরের এই যুদ্ধ ঘোষণা করার। অথচ নবীজি বলেছেন,

আমি মানুষের জন্য লড়াই করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে যে, আল্লাহ ব্যতিত কোনো ইলাহ নেই এবং তারা নামাজ কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে।

(সহিহ মুসলিম। হাদীস নং ১৩৮)

মুরতাদদের বিরুদ্ধে জিহাদ

নবীজির ইন্তিকালের পর অনেক ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায়। তারা ভেবেছে, মুহাম্মাদ যেহেতু মৃত্যুবরণ করেছে, তাই ইসলামও শেষ হয়ে গেছে।

তাদের বিরুদ্ধে আবু বকর রা. যুদ্ধ শুরু করেন। সাহাবাদের বড় বড় দলকে তাদের নিকট পাঠিয়ে দেন। এদের মধ্য থেকে কেউ ইসলাম গ্রহণ করে ফিরে আসে।

কেউ বা ইসলামকে অস্বীকার কবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে তরবারি উঠিয়ে নেয়। তবে তারা বেশিদিন টিকতে পারে নি।

সাহাবারা এই ফেতনা থামিয়ে দিতে সক্ষম হন। – ফেতনার আত্মপ্রকাশ

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমাদের লেখাগুলো সূচিপত্র অনুযায়ী দেখুন www.subject.arhasan.com এই ওয়েবসাইটে।
আমরা কোন প্রকাশনীর বই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করি তা জানতে ভিজিট করুন www.arhasan.com/book এই ওয়েবসাইটে।
আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করতে পারেন এই লিংক থেকে

FAQ

আবু বকরের যুগে কি কি ফেতনা প্রকাশ পায়?

মিথ্যা নবুয়তের দাবী করা। মুরতাদ হয়ে যাওয়া। যাকাত আদায়ে অস্বীকার করা

মুরতাদ কি?

ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করাকে মুরতাদ বলা হয়।

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com