ফিরাজের যুদ্ধ

ফিরাজের যুদ্ধ – খালিদ রা. ইরাকে ইসলামের বিজয় পতাকা উড়িয়ে আরব গোত্রগুলোকে অনুগত করিয়ে নেয়ার পর ফিরাজ নামক এলাকার দিকে যাত্রা শুরু করেন।

এলাকাটি ছিল শাম, ইরাক ও জাজিরার সীমান্তবর্তী। এ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল নিজের পিঠ আক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখা।

মুসলমানরা তখন ফিরাজ নামক এলাকায় সৈন্য সমাবেশ ঘটালো। এখানে তারা সেনাছাউনি স্থাপন করলো। কিন্তু মুসলমানদের ফিরাজে সৈন্য সমাবেশ ঘটাতে দেখে রোমানরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

ফিরাজের যুদ্ধ

রোমানদের যুদ্ধ প্রস্তুতি

মুসলমানদের ঠেকাতে রোমানরা পারসিক যুবকদের সাহায্য কামনা করে। পাশাপাশি তারা আরব খ্রিষ্টানদেরকেও মুসলমানদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়।

রোমান সৈন্য, পারসিক যুবক ও আরব খ্রিষ্টানদের সম্মিলিত বাহিনী এসে ফুরাত নদীর তীরে ছাউনী স্থাপন করে।

মুসলিম বাহিনী এবং রোমান বাহিনীর মধ্যে শুধুমাত্র ফুরাত নদী প্রতিবন্ধক ছিল।

নদী পারাপার

ফিরাজের যুদ্ধ – রোমানরা বললো, তোমরা নদী পার হয়ে আসো। অথবা আমাদের নদী পার হওয়ার সুযোগ দাও।

হযরত খালিদ রা. বললেন, তোমরাই নদী পার হয়ে এপারে চলে আসো। তখন রোমানরা বললো, তাহলে তোমরা পিছনে সরে যাও।

খালিদ রা. বললেন, তা হবে না। তোমরা নদীর নিকটস্থ নিচু ভূমিতে অবস্থান করতে পার। এই ঘটনা সংগঠিত হয় ১২ হিজরীর ১৫ জিলকদ মাসে।

যুদ্ধ

রোমান ও পারসিকরা নদী পার হওয়ার আগে বলছিল, নিজ দেশকে বাঁচাও। এই ব্যক্তি দ্বীনের জন্য লড়ছে এবং সে খুবই মেধাবী। আল্লাহর শপথ! এই ব্যক্তি বিজয়ী হবে আর আমরা অপমানিত হবো।

এরপরও তারা নদী পার হয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ।

হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. মুসলমানদের বললেন, তাদের উপর হামলা করো এবং তাদেরকে কোনো অবকাশ দিও না।

এই যুদ্ধের শেষের দিকে রোমান ও পারসিকরা মনোবল হারিয়ে ফেলে। তারা পালাতেও পারছিল না। তাদের পেছনে নদী।

ফলে সম্মিলিত বাহিনীর প্রায় সকল সৈন্যই ইন্তিকাল করে। যুদ্ধে শত্রু বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লক্ষ।

খালিদ রা. ফিরাজে ১০ দিন অবস্থান করেন। এরপর মুসলিম বাহিনীকে হিরায় চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

এভাবেই মুসলমানরা সর্বপ্রথম দুই পরাশক্তি এবং আরবদের যৌথ হামলা মোকাবেলা করেন। আল্লাহ মুসলমনাদের যুদ্ধে বিজয় দান করেন।

তথ্যসুত্র

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খন্ড ৩। পৃষ্ঠা ৮১

আবু বকর সিদ্দিক। পৃষ্ঠা ৪৬৭-৪৬৮

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস বইয়ের রেফারেন্স অনুযায়ী, তারিখে ইবনে খালদুন। খন্ড ২। পৃষ্ঠা ৫১৩-৫১৪

আবু বকর সিদ্দিক বইয়ের রেফারেন্স অনুযায়ী, তারিখুত তাবারী। খন্ড ৪। পৃষ্ঠা ২০১

আরো পড়ুন

খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. এর পারস্য অভিযান

মুসান্না বিন হারিসা রা. যখন ইরাকের রণাঙ্গনে

রোমানদের সাথে হযরত খালিদ বিন সাঈদ রা. এর যুদ্ধ

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমাদের লেখাগুলো সূচিপত্র অনুযায়ী দেখুন www.subject.arhasan.com এই ওয়েবসাইটে।
আমরা কোন প্রকাশনীর বই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করি তা জানতে ভিজিট করুন www.arhasan.com/book এই ওয়েবসাইটে।
আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করতে পারেন এই লিংক থেকে

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com