ওহী নাযিলের পরবর্তী অবস্থা

ওহী নাযিলের পরবর্তী অবস্থা – হযরত জিবরাইল আ. এসে সূরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত নাযিলের পর নবীজির ভয় পেয়ে যান। নবীজি তখন জিম্মাদারির সীমাহীন অনুভূতির কারণে কাঁপছিলেন।

নবীজির মনে হচ্ছিল, এই কাজের চিন্তাফিকির ও গুরুদায়িত্বের কারণে তার প্রাণ উড়ে যাবে। তিনি ঘরে পৌঁছেই স্ত্রী খাদিজাকে বললেন,

আমার গায়ে কম্বল জড়িয়ে দাও। আমার প্রাণ হয়তো উড়ে যাবে।

তখন হযরত খাদিজা রা. তাকে অভয় দিয়ে বললেন, আল্লাহ তা’আলা আপনাকে অপমান করবেন না। আপনি আত্মীয়দের হক আদায় করেন, অভাবীদের সাহায্য করেন ও মেহমানদারী করেন।

ওয়ারাকা ইবনে নওফেলের নিকট – ওহী নাযিলের পরবর্তী অবস্থা

হযরত খাদিজা রা. তখন নবী সা. কে আপন চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনে নওফেলের নিকট নিয়ে গেলেন। ওয়ারাকা ছিলেন খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী।

সে সময় তিনি ছিলেন বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও দৃষ্টিহীন। খাদিজা তাকে বললেন, ভাইজান! আপনি আপনার ভাতিজার কথা শুনুন।

ওয়ারাকা তখন নবীজিকে বললেন, ভাতিজা! তুমি কি দেখেছ?

রাসূল সা. তখন তাকে সব খুলে বললেন। সব শুনে ওয়ারাকা বললেন, তিনি সেই দূত, যিনি হযরত মুসা আ. এর নিকট আসতেন।

হায়, আমি যদি সেই সময় বেঁচে থাকতাম যখন তোমার জাতি তোমাকে বের করে দিবে। রাসূল সা. অবাক হয়ে বললেন,

সত্যিই কি আমাকে আমার জাতি বের করে দিবে? ওয়ারাকা বললেন, হ্যাঁ। তুমি যে ধরণের বাণী লাভ করেছ এ ধরণের বাণী যখনই কেউ পেয়েছে তার সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে।

আমি বেঁচে থাকলে তোমাকে অবশ্যই সাহায্য করবো। এর কিছুদিন পরই ওয়ারাকা মারা যান।

ওহী নাযিলের পরবর্তী অবস্থা

ওহী স্থগিত ও নবীজির বেচাইনি – ওহী নাযিলের পরবর্তী অবস্থা

এই ঘটনার পর সাময়িকভাবে ওহী নাযিল হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রাসূল সা. খুবই চিন্তিত ও পেরেশান হয়ে পড়েন।

তিনি অস্থির হয়ে মক্কার পাহাড়, উপত্যকায় ঘুরতে থাকেন। মনে কোনো প্রশান্তি পাচ্ছিলেন না। প্রভু তার কাছ থেকে কি চান?

এ সময়ে মাঝেমাঝে গায়েব থেকে আওয়াজ আসতো, নিঃসন্দেহে আপনি সত্য রাসূল। তখন তিনি মনে প্রশান্তি অনুভব করতেন।

এরপর আল্লাহ তা’আলা সূরা মুদ্দাসসিরের আয়াত নাযিল করলেন।

یٰۤاَیُّهَا الۡمُدَّثِّرُ ۙ﴿۱﴾ قُمۡ فَاَنۡذِرۡ ۪ۙ﴿۲﴾ وَ رَبَّکَ فَکَبِّرۡ ۪﴿ۙ۳﴾

‘হে চাদর আবৃত ব্যক্তি, উঠুন এবং মানুষকে সতর্ক করুন। আর আপনার প্রভুর বড়ত্ব প্রকাশ করুন’

এরপর থেকে ওহী ধারাবাহিকভাবে নিয়মিত নবীজির নিকট আসতে থাকে।

তথ্যসুত্র

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খন্ড ১। পৃষ্ঠা ২৮৪-২৮৬

আর রাহিকুল মাখতুম। পৃষ্ঠা ৭৪-৭৬

আরো পড়ুন

হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের ঘটনা

ফ্রি ফায়ার খেলতে গিয়ে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

মক্কা বিজয়ের দিন আবু বকর রা.

নামাজ শিক্ষা

কাবা ঘর কি মূর্তিপূজার মতো মুসলমানরা পূজা করে

ইসমাইল আ. কি দাসীর পুত্র ছিলেন

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমাদের লেখাগুলো সূচিপত্র অনুযায়ী দেখুন www.subject.arhasan.com এই ওয়েবসাইটে। আমরা কোন প্রকাশনীর বই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করি তা জানতে ভিজিট করুন www.arhasan.com/book এই ওয়েবসাইটে। আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করতে পারেন এই লিংক থেকে। আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করুনএই লিংক থেকে

নবীজির উপর প্রথম ওহী নাযিল হয় কোথায়?

হেরা গুহায়। তখন সূরা আলাকের প্রথম ৫ আয়াত নাযিল হয়।

ওয়ারাকা নবীজিকে কি বলেছিলেন?

তিনি সেই দূত, যিনি হযরত মুসা আ. এর নিকট আসতেন। হায়, আমি যদি সেই সময় বেঁচে থাকতাম যখন তোমার জাতি তোমাকে বের করে দিবে।

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com