ইহুদী নেটওয়ার্ক ও অতীতকালে তারা

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

হঠাৎ করেই ইহুদীদের উত্থান বা ইহুদী নেটওয়ার্ক এর উত্থান ঘটে নি। গভীর তাৎপর্য লুকিয়ে আছে তাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। ইউসুফ আ. এর মৃত্যুর পর থেকে মিসরেই ইসরাইলের ১২ ছেলের বারোটি গোত্র অবস্থান করছিল।

একটা সময় মিসরের শাসন ব্যবস্থায় জালিম শাসক চেপে বসে। শুরু হয় ইহুদীদের উপর নির্যাতনের খড়গ। এরপর হযরত মুসা আ. এর আগমণ হয়।

আল্লাহ তা’আলা কুদরতীভাবে ইহুদীদেরকে মিসরের শাসকের কবল থেকে মুক্তি দিলেন।

এরপর ইহুদীদেরকে বলা হলো, (ফিলিস্তিন) ভূমিতে প্রবেশ করো। সেখানে কুদরত অনুসন্ধান করো।

কিন্তু তারা সেখানে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানায়। কারণ, সেটি ছিল যোদ্ধাদের এলাকা। শাস্তিস্বরুপ আল্লাহ ৪০ বছর ইহুদীদেরকে ‘তীহ প্রান্তরে’ যাযাবর বানিয়ে রাখলেন।

এরপরে আরো বিভিন্ন সময়ে ইহুদীরা নির্যাতিত হয়েছে। কখনো বুখতে নসরের হাতে, কখনো জালুতের হাতে। তাদের নিকট নির্যাতন-নিপীড়ন নতুন নয়।

কেন ইহুদীরা নির্যাতিত হতো?

বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্য কোনো জাতি ইহুদীদের মতো এতটা নির্যাতনের শিকার হয় নি। তবে এতে জাতিগত বিদ্বেষ ছিল নিতান্তই কম।

বেশিরভাগ সময়ে ইহুদীরা নিজেরাই নিজেদের জন্য খাল কেঁটে কুমির এনেছে। ইহুদীরা হলো, স্বার্থবাজ জাতি।

তারা তাদের মঙ্গলের জন্য যা ইচ্ছা করতে পারে।

তাতে যদি অন্য কারো কষ্টও হয়, তা তাদের দেখার বিষয় নয়। এমনকি ইহুদীরা কখনো কখনো তাদের ধর্মীয় বিধি-বিধানও পরিবর্তন করতে বিন্দুমাত্র ভাবে নি।

গত শতকে ইহুদীদের সংগঠিত বড় একটি উল্লেখযোগ্য কাজ হলো, বলশেভিক বিপ্লব।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়ায় সংগঠিত এই বিপ্লবে লাখ লাখ প্রাণকে হত্যা করা হয়।

এই বিপ্লব যারা ঘটালো, যাদের খলনায়ক হওয়ার কথা তারাই টুপ করে হয়ে গেল মহানায়ক। তারা বনে গেল জাতির গুরু।

লেলিনের পৈশাচিক হত্যাষজ্ঞের কথা কে না জানে! লেলিনের উত্তরসূরীরা চেচেন মুসলমানদের সাথে কি ব্যবহার করেছে, তা তো ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাবার নয়।

ইহুদীরা সর্বদাই তক্কে তক্কে থাকতো দুটি জাতিকে উষ্কে দেয়ার। এতে তারা মাঝখান থেকে লাভবান হতো।

তারা দুটো জাতিকেই অস্ত্র সরবরাহ করতো। আস্তে আস্তে ইহুদী নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলো।

তারা ইহুদী নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে তারা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেত। আর ওদিকে দুটো জাতির লোকেরা তাজা প্রাণ বিসর্জন দিত। এমনটাই ঘটাতো তারা।

সম্পদ সংগ্রহ ও ইহুদী নেটওয়ার্ক

ইহুদীরা পৃথিবীতে নতুন নতুন অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক পন্থা হাজির করতো। ব্যাংকিং সিস্টেম, চক্রাকারভিত্তিক সুদী সিস্টেম ইহুদীদেরই তৈরি করা।

তারা ইংল্যান্ডকে সাইনবোর্ড বানিয়ে বিশ্বজুড়ে উপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করলো। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইহুদীদের সাথে খ্রিষ্টানদের দন্দ্ব অনেক পুরাতন।

কিন্তু চার্চ অব ইংল্যান্ডকে হাতে এনে, ব্যাপ্টিস্ট মতবাদ ইংল্যান্ডের রাজ পরিবারে ছড়িয়ে দিয়ে ইহুদীরা অল্প সময়ের মধ্যেই খ্রিষ্টানদের গর্তে আঁটকে ফেললো।

সময়ের সাথে সাথে যখন নতুন নতুন দেশ ও মহাদেশ আবিষ্কার হলো তখন হঠাৎ করেই আবিষ্কার হয় আমেরিকা মহাদেশ।

পঞ্চাশটি অঙ্গরাজ্য নিয়ে গঠিত যুক্তরাষ্ট্র (আমেরিকা নামে এখন পরিচিত) শুরু থেকেই ইহুদীদের কলকাঠিতে পরিচালিত হচ্ছিল।

প্রবীন ও তরুণ ইহুদীরা নিজেদের উচ্চাভিলাষী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকাকে বিশ্বের মোড়ল বানিয়ে দিল।

ইহুদীদের প্রভাব সেখানে এতটাই বেশি যে, যে কোনো সরকারের আমলে ইহুদীদের জন্য সুবিধাজনক পদ বরাদ্দ রাখা হয়।

হোয়াইট হাউজ তো ইহুদীদের শশুর বাড়ির মতো। জনসংখ্যায় অল্প হয়েও (২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী,

মোট জনসংখ্যার ১.৯% ইহুদী) তারা সর্বব্যাপী কর্তৃত্বশীল।

ইহুদীদের কর্মদক্ষতা ও ইহুদী নেটওয়ার্ক

ব্যবসায়ী হিসেবে ইহুদীদের আবির্ভাবের জুড়ি নেই। সেটা কাপড়ের দোকান হোক কিংবা আন্তর্যাতিক বানিজ্য হোক, সবকিছুতেই তারা অংশ নিবে।

কিন্তু এরপরও অধিক পরিশ্রমের কাজে তারা কখনোই অংশ নিবে না। কারখানায় পণ্য উদপাদন,

যন্ত্রপাতি পরিচালনার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদগুলোতে তারা জ্যান্টাইলদের (যারা ইহুদী নয়, তাদেরকে জ্যান্টাইল বলে) ব্যবহার করে।

অন্যদিকে সেলসম্যান, ম্যানেজার, ক্লার্কসহ সহজ পদগুলো তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। একটা সমীক্ষা দেখলে এটি আরো স্পষ্ট হয়।

প্রুশিয়ানদের (বিলুপ্ত হওয়া একটা ইউরোপীয় রাষ্ট্র। এখন এটি জার্মানীসহ কয়েকটি দেশের সাথে মিলে গেছে।) একটা সমীক্ষা অনুযায়ী,

তাদের জনসংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার জন। এর মধ্যে মাত্র ১৬ হাজার ১৬৪ জন ইহুদী, যার মধ্যে ১২ হাজার জনই ছিল ব্যবসায়ী।

অন্যদিকে জ্যান্টাইল ছিল ২৫ লক্ষ ৩ হাজার ২৩৬ জন, যার মধ্যে মাত্র ১৭ হাজার ছিল ব্যবসায়ী। এই প্রতিবেদনটি প্রায় ১০০ বছর আগের।

এখন তো আরো বেশি ইহুদী বড় বড় বিজনেস দখল করে বসে আছে। এ ছাড়াও ট্রাস্ট, ব্যাংক, কৃষি ও খনিজ সম্পদের মতো আরো অনেক শিল্প তাদের কবজাধীন।

থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও সংগীতে তো তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বর্তমানে আমেরিকায় আমরা দেখতে পাই, ইহুদীদের লবিস্ট অনেক শক্তিশালী। সেখানকার ইহুদী নেটওয়ার্ক এতটাই পাওয়ারফুল যে, সরকারও তাদের বিরুদ্ধে যেতে পারে না।

তাই তো সরকারও তাদের সামনে পুতুলনাচ দিতে বাধ্য হয়। আমরা একটু ইহুদীদের অতীতকালীন শাসনব্যবস্থা ও অর্থব্যবস্থা থেকে ঘুরে আসি।

প্রাচীনকালে ইহুদীরদের অর্থনৈতিক কাঠামো

বনী ইসরাইলের নবী হযরত মুসা আ. সুদ-বাণিজ্য, ঋণী ব্যক্তির জমি দখল করাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেন। তাওরাতে কোনো আয়েশী জীবন-যাপনের স্থান ছিল না।

কিন্তু এই আইন ইহুদীরা ৫০ বছর মান্য করে। এই সময়টাকে বলা হয়, The Year Of Jubilee

নবী মুসা আ. এর মৃত্যুর পর ইহুদীরা পূর্বের ন্যায় সুদী কারবারে ফিরে আসে। তারা কখনো মুনাফার প্রশ্নে আপোস করতে রাজী নয়।

তারা আস্তে আস্তে তাওরাতের বিধান পরিবর্তন করতে থাকে। যেসব বিধান তাদের পথের কাঁটা, তা তারা তাদের অনূকুলে পরিবর্তন করে দেয়।

একটা সময় তারা নতুন একটি আইন প্রণয়ন করে। যার নাম হলো, Law of Stranger

তারা তখন ভ্রাতৃত্ববোধ রক্ষার্থে কিছু নিয়ম মান্য করা শুরু করে। যার মধ্যে একটি হলো এমন যে, জ্যান্টাইলদের টুটি চেপে ধরে সুদ আদায় করতে হবে।

কিন্তু নিজের জাত ভাই অর্থাৎ ইহুদীদের নিকট হতে কোনো সুদ গ্রহণ করা যাবে না।

ইহুদীরা যাযাবর জাতি হয়েও ব্যবসার জন্য কিভাবে তারা পৃথিবীময় চষে বেড়িয়েছে, সেটার কিছু ইতিহাস তুলে ধরা যাক।

অ্যাংলো সেক্সনদের (ইউরোপিয়ান একটি প্রাচীন জাতিগোষ্ঠী। বর্তমানে বিলুপ্ত) সময় বানিজ্যিক দলবল নিয়ে ইহুদীরা ইংল্যান্ডে হাজির হয়।

১৪৪২ সালে সেন্ট থমাস দ্বীপে ইহুদীরা প্রথম চিনি কারখানা গড়ে তোলে। ব্রাজিলেও তারা আফিম ব্যবসায় একচেটিয়াভাবে মার্কেট কবজা করে।

ইহুদীদের বানিজ্যিক কৌশল ও ইহুদী নেটওয়ার্ক

প্রাচীকাল থেকেই ইহুদীরা মানুষকে প্রকৃত সম্পদ থেকে সরিয়ে অপ্রকৃত সম্পদের দিকে ‍ঝুঁকিয়ে দিয়েছিল।

তারা কাগজের নেট, ব্যাংক নোট, দ্বৈত্ব করব্যবস্থা গড়ে তোলে।

তাদের মধ্যে যারা খুব ধনী হতো, তারা সম্পদের প্রোটেকশন দিত বিভিন্নভাবে। এ জন্য তারা কখনো সম্পদের পরিমাণ প্রকাশ করতো না।

ইহুদীরা জ্যান্টাইল ফ্রন্ট নামে নতুন একটা কৌশল উদ্ভাবন করে। তারা জ্যান্টাইলদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতো।

এ জন্য বিপণিবিতান, ব্যাংকিং কোম্পানী, সংগীতের দোকান, থিয়েটাল হল ও মদের দোকানগুলোতে নিয়োজিত অধিকাংশই খ্রিষ্টান বা মুসলিম বা পেগান হয়ে থাকে।

কিন্তু পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ে ইহুদীরা। তা এতটাই সুক্ষ্মভাবে হয় যে, এটা ধরতে পারা অনেকটাই অসম্ভব বলেই বিবেচনা করা যায়।

ইহুদীরা পৃথিবীর যেখানেই গিয়েছে, সেখানেই অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। একসময় স্পেন ছিল স্বর্ণ বানিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু।

ইহুদীদেরকে স্পেন থেকে বের করে দেয়ার পর এর অর্থনীতি এমনভাবে ভেঙ্গে পড়ে, যা আজও পুনরুদ্ধার হয় নি।

জ্যান্টাইলদের রক্ত যেন ইহুদীদের মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে, এ জন্য বিয়ে শাদীর ব্যাপারে রয়েছে তাদের বিশেষ আইন।

ইহুদী নেটওয়ার্ক ছিল বিস্তৃত। পূর্বেরকার সময়ে ইহুদীদের নিকট এত বেশি তথ্য মজুদ থাকতো যে, খোদ রাজা-বাদশাহরাও এত তথ্য জানতেন না।

এর ফলে তথ্যকে কাজে লাগিয়ে ইহুদীরা বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি কবজা করতো।

১৮ শ শতাব্দিতে রথচাইল্ড কর্তৃক ব্যাংকিং সিস্টেম প্রতিষ্ঠা এবং কাগুজে নোট ব্যবহার অর্থনীতিকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।

তথ্যসুত্র

সিক্রেট অব জায়োনিজম, পৃষ্ঠা ১৬-২৩

জ্যান্টাইল কারা

জ্যান্টাইল বলা হয়, নন-ইহুদীদেরকে। ইহুদী ব্যতিত অন্য সকলকে ইহুদীরা জ্যান্টাইল বলে থাকে

আমেরিকা কয়টি দেশ নিয়ে গঠিত

৫০ টি অঙ্গরাজ্য নিয়ে ইউনাইটেড স্টেট অর্থাৎ আমেরিকা গঠিত

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top