আবু বকরের প্রতিরোধ এবং কাফেরদের হামলা

আবু বকরের রাসূলের পক্ষে প্রতিরোধ – রাসূল সা. যখন ইসলামের দাওয়াত নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন, মানুষকে তিনি ইসলামের পথে আহবান করতে লাগলেন তখনই কাফেররা রাসূলের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধাচারণ শুরু করলো।

তারা রাসূলকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দিত। কখনো বা তাকে গালি-গালাজ করতো। কখনো বা তাকে প্রহার করতো। এত এত নির্যাতনের মধ্যেও রাসূল কখনো মানুষকে দ্বীনের পথে আহবান করা থেকে বিরত থাকেন নি।

হযরত আবু বকর রা. সর্বদা রাসূলের পাশে দাঁড়াতেন। তিনি কাফেরদের অত্যাচার থেকে রাসূলকে সর্বদা হেফাজত করার চেষ্টা করতেন।

আবু বকরের রাসূলের পক্ষে প্রতিরোধ

উরওয়া ইবনে যুবায়ের রা. বলেন,

আমি একবার আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আসকে প্রশ্ন করি, রাসূলের সঙ্গে মুশরিকদের সবচেয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ অসদাচরণ কি ছিল?

জবাবে তিনি বললেন, একবার রাসূল সা. কা’বার প্রাঙ্গনে নামাজ পড়ছিলেন। এ সময়ে উকবা ইবনে আবু মুইত সেখানে আসে।

সে তার কাপড় রাসূলের গলায় পেঁচিয়ে অত্যন্ত কঠিনভাবে টেনে ধরে। সে সময় হঠাৎ আবু বকর রা. সেখানে উপস্থিত হন।

তিনি উকবাকে রাসূলের নিকট হতে দূরে সরিয়ে দেন। আর বলেন,

তোমরা কি একটি লোককে কেবল এই কারণে হত্যা করতে চাচ্ছ যে সে বলে, আমার রব আল্লাহ।

হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত,

একবার কিছু মুশরিকরা রাসূল সা. কে এতটা জঘন্যভাবে প্রহার করছিল যে, তিনি বেঁহুশ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। তখন আবু বকর রা. তাদের বলতে থাকেন,

তোমরা ধ্বংস হয়ে যাও। তোমরা কি একটি লোককে কেবল এই কারণে হত্যা করতে চাচ্ছ যে সে বলে, আমার রব আল্লাহ।

তখন সেই মুশরিকরা তার দিকে ফিরে জিজ্ঞাসা করলো, এই লোকটা আবার কে?

একজন বললো, সে আবু কুহাফার পুত্র। তারও মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সেও এই মুহাম্মাদকে অনুসরণ করে।

আসমা রা. থেকে বর্ণিত,

একবার মক্কার কাফেররা হারাম শরীফে বসে পরামর্শ করছিল। সে সময় তাদের একজন বললো, তোমরা কি জান যে, মুহাম্মাদ আমাদের দেব-দেবীকে অপমান করছে।

সেই সময় মুহাম্মাদ সা. তাদের পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। তারা তাকে ডেকে বললো, অ্যাই মুহাম্মাদ! তুমি নাকি আমাদের দেব-দেবীদের নামে অপপ্রচার করছো?

নবীজি তখন স্বাভাবিকভাবেই বললেন, আমি তাদের ব্যাপারে যা বলেছি তা সঠিকই বলেছি।

এ কথা শুনে তারা নবীজির উপর হামলা করে। একজন ব্যক্তি আবু বকরের নিকট এসে এই সংবাদ দিল। তিনি তৎক্ষণাৎ তাদের নিকট গিয়ে বললেন,

তোমরা কি একটি লোককে কেবল এই কারণে হত্যা করতে চাচ্ছ যে সে বলে, আমার রব আল্লাহ।

আবু বকরের প্রতিরোধ এর ফলে কাফেররা মুহাম্মাদ সা. কে ছেড়ে আবু বকরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা তার চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলে।

তাকে অনেক নির্যাতন করে। এরপর যখন তিনি ঘরে ফিরে আসেন তখন দেখা গেল মাথায় হাত দিলেই হাতের সাথে চুল চলে আসতো।

আলী রা. একবার এক ভাষণে বললেন,

লোকসকল, তোমরা বলো তো, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাহাদুর কে?

লোকেরা তখন বললো, হে আমির, আপনিই তো সবচেয়ে বড় বাহাদুর। তখন তিনি বললেন,

যে আমার সাথে মোকাবেলা করতে এসেছি, তাকে আমি তার পাওনা আদায় করে দিয়েছি। অর্থাৎ তাকে খতম করে দিয়েছি।

কিন্তু সবচেয়ে বড় বাহাদুর হলেন আবু বকর রা.। কারণ, বদরযুদ্ধে যখন আমরা শামিয়ানা বানিয়ে রাসূলের বডিগার্ড হিসেবে কে থাকবে সেটা নিয়ে আলোচনা করছিলাম,

তখন আবু বকর রা. ই তরবারি নিয়ে রাসূলের গার্ড হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। যখনই কোনো কাফের রাসূলের দিকে অগ্রসর হতো তখনই সে আবু বকরের তরবারির নিচে পড়তো।

কুরাইশরা যখন ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় রাসূলকে কষ্ট দিত তখন তিনিই শুধুমাত্র তার পাশে দাঁড়িয়ে কাফেরদের নির্যাতন থেকে রাসূলকে রক্ষা করতেন। আর তিনি বলতেন,

তোমরা ধ্বংস হও। তোমরা কি একটি লোককে কেবল এই কারণে হত্যা করতে চাচ্ছ যে সে বলে, আমার রব আল্লাহ।

তথ্যসুত্র

১. আবু বকর সিদ্দিক। ড. আলী মুহাম্মাদ আস সাল্লাবী। পৃষ্ঠা ৬১

আবু বকর রা. এর জীবনী। আজিজুল হক আনসারী। পৃষ্ঠা ৪০

২. আবু বকর সিদ্দিক। পৃষ্ঠা ৬১

হযরত আবু বকর রা. এর জীবনী। পৃষ্ঠা ৪০

আবু বকর সিদ্দিক বইয়ের রেফারেন্স অনুযায়ী, আস সাহিহুল মুসনাদ ফি ফাজায়িলিস সাহাবা। পৃষ্ঠা ৩৭

হযরত আবু বকর রা. এর জীবনী বইয়ের রেফারেন্স অনুযায়ী, মুসতাদরাকে হাকেম

৩. আবু বকর সিদ্দিক। পৃষ্ঠা ৬১

আবু বকর রা. এর জীবনী। পৃষ্ঠা ৪০

আবু বকর সিদ্দিক বইয়ের রেফারেন্স অনুযায়ী, মিনহাজুস সুন্নাহ। খণ্ড ৩। পৃষ্ঠা ৪

ফাতহুল বারি। খণ্ড ৭। পৃষ্ঠা ১৬৯

৪. আবু বকর সিদ্দিক। পৃষ্ঠা ৬১-৬২

আবু বকর সিদ্দিক বইয়ের রেফারেন্স অনুযায়ী, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া। খণ্ড ৩। পৃষ্ঠা ২৭১-২৭২

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com