প্রথমে মোংলা ট্রানজিট, এরপর নিয়ন্ত্রণ

প্রথমে মোংলা ট্রানজিট তারপর কি? চীনের জন্য বাংলাদেশ কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে যথেষ্ঠ আর্টিকেল ও বই আছে। সেদিকে আমি যাচ্ছি না। তবে কিছু তথ্য শেয়ার করতে চাই এখানে।

চীনের মোট ভূমি থেকে প্রায় ৪৩% ভূমি হলো চীনের বহির্ভূত। অর্থাৎ তা আগে চীনের অংশ ছিল না। পরবর্তীতে চীনের অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

১. পূর্ব তুর্কিস্তান বা শিনজিয়াং প্রদেশ। যা চীনের মোট ভূমির ১৭.৩%

২. তিব্বত। যা চীনের মোট ভূমির ১২.৫%

৩. ইনার মঙ্গোলিয়া। যা চীনের মোট ভূমির ১২.৩%

চীন হলো একটি সমাজতান্ত্রিক দেশ। আর চীন বর্তমানে One China নীতিতে বিশ্বাসী।

চীনের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী হান চাইনিজ। যাদেরকে দেখতে সাধারণ গো-বেচারা মনে হলেও এরা মারাত্মক ইসলাম বিদ্বেষী।

চীনের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল হলো পূর্ব তুর্কিস্তান বা শিনজিয়াং প্রদেশ।

পূর্বে এটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল থাকলেও ২০১৪ সাল থেকে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে শুরু করে।

তখন স্বায়ত্বশাসন সরিয়ে এটির দায়িত্ব দেওয়া হয় সমাজতান্ত্রিক একজনের উপর।

তারপর থেকে চীন এই অঞ্চলের ‍মুসলমানদের তিন শয়তান তথা বিচ্ছিন্নবাদ, জঙ্গিবাদ, উগ্রতা আখ্যা দিয়ে নির্বিচারে হত্যা এবং রিএডুকেশন সিস্টেমের নামে বন্দী করা শুরু করে।

চীন বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম অর্গান সাপ্লাইদাতা। তারা এই অর্গানগুলো উইঘুর মুসলমানদের হত্যা করে বা গুলি করে খুলে আনে।

এই লেখায় যা যা থাকছে :

2

একটু পেছনে যাই। চীনে সমাজতন্ত্র আসার পর এবং এই অঞ্চলগুলো চীনের সাথে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই চীনের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় ধর্মীয় জনগোষ্ঠীগুলো।

সমাজতন্ত্ররা পুরোপুরি নাস্তিক। কাস্তে আর হাতুড়ি নিয়ে যাদের দেখতে পান, তাদের নিকট কর্ম ও কড়ি হলো ভ্যালু।

যে কর্ম করতে পারে না, তার কোনো ভ্যালু তাদের নিকট নেই।

সমাজতন্ত্রের নিকট বৃদ্ধ ও বৃদ্ধারা দেশের জন্য বোঝা। এদের কোনো ভ্যালু তাদের নিকট নেই।

সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর চীন মাঝেমধ্যেই ধর্মীয় জনগোষ্ঠীদের উপর বিভিন্ন উল্টাপাল্টা নীতি আরোপ করে ক্ষেপিয়ে তুলতো।

এরপর মানুষ যখন রাস্তায় নামতো তখনই পুলিশ ও সেনাবাহিনী লেলিয়ে দিত।

এমনটা ঘটতে ঘটতে এতটাই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল যে, সরাসরি যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে গুলি করতেও চীন সরকারের বুক কাঁপতো না।

 কারণ, ধর্মীয় গোষ্ঠী হলো তাদের নিকট আবর্জনা। এরা প্রগ্রতির শত্রু। উন্নয়নের শত্রু।

আর চীনে এই নির্যাতনের শিকার হয়েছে উইঘুর মুসলমানরা এবং ক্ষুদ্র আরো কিছু ধর্মের অধিবাসীরা। এখনো চীন নির্যাতন করে যাচ্ছে উইঘুর মুসলমানদের।

3

এবার আসি বাংলাদেশী স্টাইলে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৪টি নীতির একটি হলো, সমাজতন্ত্র। সেই কাস্তে আর হাতুড়ির দল।

যাদের নিকট ধর্মের কোনো মূল্য নেই। যাদের নিকট বৃদ্ধদের কোনো ভ্যালু নেই।

উইঘুর মুসলমানদের শুরুর ঘটনার মতো এখানেও বিভিন্ন ইস্যু তুলে প্রথমে উস্কানী দেয় এরপর পুলিশ, বিজিবি, RAB, আর্মি দিয়ে গুলি চালায়। গণহত্যা চালায়। এরা এসব কাজ কেন করে?

পেছন দিক দিয়ে অন্য একটা বড় কর্ম পরিচালনার জন্য। যাতে সেটি সাময়িকভাবে প্রকাশ হলে সেটা নিয়ে কেউ না লাফায়।

হয়তো আগামী আরো কিছুদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলবে। আরো তীব্রও হতে পারে। শিথিল পরিসরেও হতে পারে।

কিন্তু কেউ মোংলা বন্দর কেন ভারতকে দেওয়া হলো, এটা নিয়ে রাস্তায় নামবে না। প্রতিবাদ হবে না। জীবন দিবে না।

ঘটনাটা উল্টো করে ভাবুন। ধরুন, ছাত্র আন্দোলন হয় নি। শান্ত পরিবেশ। দিকে দিকে খবর বের হচ্ছে দুর্নীতির। প্রশ্নফাঁসের।

বিসিএসের প্রশ্ন কোরবানীর গরুর দামে বিক্রি হওয়ার। এদিকে সীমান্তে হত্যা। ওদিকে রেললাইন।

আবার এখন নতুন করে মানুষ যখন জানতো সমুদ্র বন্দরও তাদের নিকট।

তাহলে পরিস্থিতিটা কি হতো! হয়তো হয়তো গণজাগরণ হতো না। এত বড় মিছিল হতো না।

কিন্তু নিউজটা মানুষের মুখে মুখে থাকার কারণে অদূর ভবিষ্যতে হলেও কিছু হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

তাই কৌশলে একটি রায় দিয়ে ক্ষেপিয়ে তোলা হলো। ১০০০ লাশ ফেলে দেওয়া হলো। ১৫০০০ কে হাসপাতালে পাঠানো হলো।

স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি বন্ধ করে আলোচনার ধাপ অফ করা হলো। ইন্টারনেট বন্ধ করা হলো। চোর এসে চুরি করে নিয়ে গেল। এখন ২ দিন পর আমরা জানলাম, বন্দর আর আমাদের হাতে নেই। কি বৈচিত্র!

মোংলা সমুদ্র বন্দর ভারতকে ট্রানজিট দিয়েছিল ২০১৮ সালে। আর ২০২৪ সালে বন্দর নিয়ন্ত্রণের ভার তুলে দেওয়া হলো ভারতের হাতে।

সামনে হয়তো আরো বড় কিছু তুলে দেওয়া হবে। তারপর আরো কিছু। এরপর আরো কিছু। এভাবে একদিন আমাদের হাতে থাকবে শুধু হাওয়া।

পড়ুন নিচের সংবাদসমূহ

ভারতের কাছে হেরে গেল চীন

চীনকে হারিয়ে বাংলাদেশের কৌশলগত মোংলা বন্দরে অধিকার পেল ভারত, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

চীনকে টেক্কা দিয়ে মোংলা বন্দরে ভারতের জয়!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top