গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

হরমুজানের হত্যা – উসমান রা. খেলাফতলাভের সময়ে মুসলমানদের অবস্থা ভালো পর্যায়ে ছিল।

তাই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে উসমান রা. এর কোনো রকম পেরেশানিতে পড়ার কথা ছিল না।

কিন্তু তখন উসমান রা. কে কিছু চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। যার মাধ্যমে অনুমান করা যায় যে,

ইসলামের শত্রুরা তখন লুকিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

মদীনায় আকস্মিক আক্রমণে আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রা. এর এক অগ্নিপূজকের হাতে নিহত হওয়া সাধারণ কোনো ঘটনা ছিল না।

বড় ধরনের ভুল না হলে অবশ্যই এ ষড়যন্ত্রের রহস্য পৃথিবীবাসীর নিকট প্রকাশ হয়ে যেত।

এই হত্যা ছিল বড় ধরনের একটি ভুল।

হরমুজানের হত্যা

হযরত উসমান রা. তখনো খেলাফতের বাইয়াত নেওয়া শেষ করতে পারেন নি, এর মধ্যেই তার নিকট হযরত উমর রা. এর ছেলের মামলা চলে আসে।

হযরত উমর রা. এর ছেলে উবাইদুল্লাহ মদীনায় অবস্থিত মুসলমান হরমুজানকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে ফেলেন। ঘটনাটি হলো,

উবায়দুল্লাহ বিন উমর রা. কে তার বন্ধু হযরত আব্দুর রহমান বিন আবু বকর রা. বলেছেন,

হযরত উমর রা. কে হত্যার জন্য যেই খঞ্জর ব্যবহার করা হয়েছে, তিনি সেটি অগ্নিপূজক আবু লুলু আক্রমণের আগের দিন খঞ্জরসহ হুরমুজানের সাথে দেখেছেন।

হুরমুজান তখন ফিরোজ আবু লুলকে খঞ্জরটি দিচ্ছিল। আব্দুর রহমানকে দেখলে তারা ঘাবড়ে যায় এবং খঞ্জরটি মাটিতে পড়ে যায়।

পরদিন সেই খঞ্জর দিয়ে আবু লুলু উসমান রা. এর উপর আক্রমণ করেন। উবায়দুল্লাহ রা. যখন এই কথা জানতে পারলেন তখন উমর রা. এর প্রাণ ওষ্ঠাগত ছিল।

উমর রা. এর মৃত্যু নিশ্চিত দেখে প্রতিশোধের স্পৃহায় তিনি হুরমুজানকে হত্যা করে ফেলেন। কেননা তার জানা অনুযায়ী সেও ষড়যন্ত্র করেছিল।

কিন্তু তার নিকট এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ ছিল না। এই ঘটনার পর উবায়দুল্লাহ রা. কে গ্রেপ্তার করে সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস রা. এর বাড়িতে বন্দী করে রাখা হয়।

উসমান রা. এর নিকট মামলা পেশ

হযরত উমর রা. শাহাদাত বরণ করার পর এই মামলা উসমান রা. এর নিকট পেশ করা হয়। উসমান রা. প্রবীন সাহাবীদের নিয়ে পরামর্শে বসেন।

উবায়দুল্লাহ বিন উমর রা. যেহেতু প্রমাণ ছাড়া একজন কালিমা পড়া মুসলমানকে হত্যা করেছেন তাই কিসাসস্বরুপ তাকেও হত্যা করা হবে—কিছু সাহাবী এই মত পোষণ করলেন।

কিছু যদিও উবায়দুল্রাহ রা. এর নিকট কোনো প্রমাণ ছিল না, কিন্তু এরপরও তিনি বিশ্বাস করতেন যে, হুরমুজান এতে শরীক ছিল।

তা ছাড়া ফিরোজ উমর রা. কে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করায় এই কাজে আর কে কে সংশ্লিষ্ট ছিল,

তা জানা চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে যদি কিসাস হিসেবে এখন উমর রা. এর ছেলেকে হত্যা করা হয়, তাহলে তা মুসলমানদের জন্য খুবই পীড়াদায়ক হবে।

তখন উসমান রা. একটি যুগপযোগী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ‍উবায়দুল্লাহ রা. কে ভুলবশত হত্যাকারী সাব্যস্ত করে তাকে এই হত্যার দিয়াত বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ দেন।

এরপর উসমান রা. নিজের পক্ষ থেকে বিশাল সংখ্যক অর্থ হুরমুজানের উত্তরাধিকারদের প্রদান করেন। এতে তারাও ইনসাফ পেয়ে সন্তুষ্ট হয়ে যায়।

মুসলমানরাও এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী হুরমুজানের ছেলে উসমান রা. এর সিদ্ধান্তের পর উবায়দুল্লাহকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।

এতে মদীনাবাসীরা আনন্দে তাকে কাঁধে তুলে নিয়েছিল।

হরমুজানের হত্যা
হরমুজানের হত্যা

ফিকহী মূলনীতি

ফকিহগণের একটি প্রসিদ্ধ মূলনীতি হলো, দণ্ডবিধি এবং কিসাস আবশ্যককারী বিষয়গুলো সন্দেহের মাধ্যমে রহিত হয়ে যায়।

তা ছাড়া বর্তমান বিচার-ব্যবস্থাতেও এটা একটা স্বীকৃত বিষয় যে,

কেউ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কাউকে হত্যা করলে তার শাস্তি লঘু হয়ে যায়।

আদালতের ভাষায় এটাকে বেনিফিট অব ডাউট বলা হয়।

উপরোক্ত ঘটনায় একটা বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, হানাফি ফুকাহায়ে কেরাম হাদীসের দলীল সামনে রেখে বলেছেন,

একজন ব্যক্তি হত্যার ক্ষেত্রে অংশীদার একাধিক ব্যক্তিকে কিসাস স্বরূপ হত্যা করা যাবে তখন,

যখন সকলেই হত্যা করার জন্য আক্রমণে অংশীদার থাকবে।

যদি কেউ হত্যা করার আক্রমণে অংশীদার না থাকে বরং এই ক্ষেত্রে শুধু সহায়তা করে থাকে তাহলে শাসক তাকে অংশীদার হিসেবে উপযোগী কোনো শাস্তি দিতে পারেন।

কিন্তু কিসাসস্বরুপ তাকে হত্যা করা যাবে না। তবে ইমাম মুহাম্মাদ রহ. এই বিষয়ে সূক্ষ্ম আলোচনা করেছেন।

তবে মদীনাবাসীদের মাযহাব ছিল যে, হত্যাকাণ্ডে সহযোগীদেরকেও হত্যা করা হবে।

এর মাধ্যমে জানা গেল যে, উবায়দুল্লাহ বিন উমর রা. এর হুরমুজানকে কিসাসের উপযুক্ত মনে করাটা ভিত্তিহীন ছিল না।

বরং এই সন্দেহের পেছনে একটা দলীল অবশ্যই বিদ্যমান ছিল।

তথ্যসুত্র

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৬১-২৬৬

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top