সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস এর বিরুদ্ধে অভিযোগ

একবার জাররাহ ইবনে সিনান আসাদির নেতৃত্বে কুফার কতিপয় ব্যক্তি মিলে হযরত সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রাঃ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলো খলিফার নিকট।

আর এই অভিযোগ এমন সময় উপস্থাপন করা হয় যখন ইরাকের গভর্নর সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস রাঃ পারসিক অগ্নিপূজকরা নিহাওয়ান্দ নামক এলাকায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে আক্রমণের জন্য জমা হচ্ছিলো।

কিন্তু এসব স্বার্থপর লোকেরা নিজেদের হীন চরিতার্থে মুসলমানদের সামনে বিপদ দেখেও মিথ্যা অভিযোগ তুলতে বিরত থাকে নি।

শাসক হিসেবে কেমন ছিলেন সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রাঃ

হযরত সাদ রাঃ ছিলেন একজন ন্যায়-পরায়ন ও সহনশীল মানুষ। তিনি সমাজ থেকে অন্যায়-অনাচার কঠিন হস্তে দমন করেছিলেন।

তিনি সমাজের মিথ্যাবাদীদের জন্য আজরাইলরূপে আবর্তিত হতেন। তাদেরকে তিনি কোনো ছাড় দিতেন না।

এত কিছুর পরও সমাজের হীন চরিত্রের ব্যক্তিরা তাকে মেনে নিতে পারছিল না।

তারা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে উঠেপড়ে লাগলো। তারা অভিযোগ এমন এক সময় উপস্থাপন করে,

যখন খলিফার অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার উপায় বা সময় ছিল না।

কারণ, তখন জিহাদের দামামা বেজে গিয়েছিল। আর এমন সময় মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।

ক্ষমতা নিয়ে এই সময় ঝামেলা তৈরি করা ঠিক নয়।

খলিফার সিদ্ধান্ত -সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস

খলিফা ওমর রাঃ তাদের কথা শুনে তদন্ত করার জন্য কমিটি গঠন করেন।

সেই মুতাবেক তিনি মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা রাঃ কে তদন্ত করার জন্য পাঠান।

মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা রাঃ কুফায় এসে সাদ রাঃ এর সাথে দেখা করেন এবং তার সাথে সেনা শিবিরে গিয়ে সৈন্যদের খোঁজ-খবর নিলেন।

এরপর সাদ রাঃ তাকে কুফার বড় মসজিদে নিয়ে যান। সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রাঃ তদন্তের ব্যাপারে কিছুই জিজ্ঞাসা করেন নি।

মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা রাঃ যখনই কোনো লোকদের নিকট উপস্থিত হতেন তখনি তারা বলতেন, আমরা সাদ রাঃ এর ব্যাপারে ভালোই জানি।

আমরা তার বিরুদ্ধে নই ও যারা তার বিরুদ্ধাচরণ করে, তাদের পক্ষেও নই।

তবে আল জাররাহ ইবনে সিনান এবং তার লোকেরা ব্যতিক্রম আচরণ করলো। তারা ভালো-মন্দ কিছুই বললো না।

কারণ, তাদের নিকট উপস্থাপন করার জন্য কোনো যক্তি বা প্রমাণ ছিল না। আর তারা ইচ্ছা করেই সাদ রাঃ এর প্রশংসা করলো না।

উসামা ইবনে কাতাদাহর মিথ্যা অভিযোগ

এরপর সাদ রাঃ ও মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা রাঃ বনু আবস গোত্রের নিকট গেলেন।

তখন সেই গোত্রের একজন ব্যক্তি উসামা ইবনে কাতাদাহ বললো,

সাদ আমাদেরকে আমাদের হক্ব দেয় না। তিনি বন্টনে সমতা রক্ষা করেন না। তিনি আমাদেরকে জিহাদে যেতে উৎসাহিত করেন না।

সাদ রাঃ তখন বললেন, যদি সে লোক দেখানোর জন্য এমন কথা বলে থাকে তাহলে তাকে যেন আল্লাহ অন্ধ করে দেন ও তার সন্তান বাড়িয়ে দেন।

এই বদদোয়ার ফলে তার চোখ অন্ধ হয়ে যায় ও সে দশ জন কন্যা সন্তান জন্ম দিয়ে দরিদ্রের কষাঘাতে পতিত হয়।

যখনই তাকে তার পরিণতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো তখনই সে বললো, এটা পবিত্র ব্যক্তি সাদের বদদোয়ার পরিণতি।

ওমর রাঃ এর মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামার ফিরে আসা

সাদ রাঃ ও মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা রাঃ একত্রে ওমর রাঃ এর নিকট আসলেন। মুহাম্মাদ রাঃ তাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন।

ওমর রাঃ তখন বললেন, যদি সতর্কতা অবলম্বন না করা হতো তাহলে তাদের চক্রান্তের পথ পরিষ্কার হয়ে যেত। এরপর তিনি সাদ রাঃ কে নিজের নিকট রেখে দেন।

আর কুফার গভর্নর হিসেবে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা রাঃ কে নিযুক্ত করেন।

তথ্যসুত্র

জীবন ও কর্ম: ওমর রাঃ। পৃষ্ঠা ৯১-৯৪

আবু বকর রাঃ এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী পড়ুন

মুতা বিয়ে কি ইসলামে বৈধ? পড়ুন

আল্লাহর কি মানুষের মতো অঙ্গ-প্রতঙ্গ আছে? পড়ুন

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমাদের লেখাগুলো সূচিপত্র অনুযায়ী দেখুন www.subject.arhasan.com এই ওয়েবসাইটে। আমরা কোন প্রকাশনীর বই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করি তা জানতে ভিজিট করুন www.arhasan.com/book এই ওয়েবসাইটে। আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করতে পারেন এই লিংক থেকে। আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করুন এই লিংক থেকে। এই লেখার লেখক সম্পর্কে আরো জানুন এই লিংক থেকে

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com