মোবাইল কেন আপনার বন্ধু নয়?

মোবাইল কেন আপনার বন্ধু নয়? – এই কয়েকদিন আগে একটা নিউজ দেখে চোখ আটঁকে গেল। মোবাইল ফোন বা সেলফোনের আবিষ্কারক মার্টিন কুপার বলেছেন, জীবনকে উপভোগ করতে হলে মোবাইল কম ব্যবহার করতে হবে। কথাটা শতভাগ সত্য।

মোবাইল আমাদের জীবনের অনেক অংশকে সহজ করে তুলেছে। এটা মানতে হবে।

যেখানে আগে এক জায়গায় বসে মানুষ দূরের কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারতো না, সেটা আজ কত সহজ!

৫০ বছর আগেও মানুষ ভাবে নি, যুক্তরাষ্ট্রে বসে মধ্যপ্রাচ্যের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে।

অথচ এখন এটা খুবই সাধারণ ব্যাপার। এমনকি সরাসরি একে অপরকে দেখতেও পারছে।

মোবাইল এর অপকার

মোবাইলের যত রোগ

ফেইসবুক

ফেইসবুক নামক ওয়েবসাইটটি খোলা হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে কমিউনিকেট করার জন্য।

কিন্তু তা বর্তমানে এতটাই কমিউনিকেট করছে, কেউ কেউ তো এই সাইটের পেছনে দিনে ১০-১২ ঘন্টা করে সময় ব্যয় করছে।

এই ফেইসবুকের মাধ্যমে মানুষ লাভবান হচ্ছে কতুটুকু? ফেইসবুকের মাধ্যমে বর্তমানে ব্যবসা করা যায়, এটা জানি।

কিন্তু এটা তো খুব কম ব্যক্তিরাই করছে। সাধারণ ইউজাররা তো শুধুমাত্র মেসেজিং, ও চ্যাটিং করার জন্যই ফেইসবুক ব্যবহার করে।

এখন এই কথার মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্যে এই নয়, আপনি ফেইসবুক চালাবেন না।

আপনি ফেইসবুক চালান, কিন্তু তাতে একটা লিমিট থাকা চাই।

নির্ধারিত একটি সময় ব্যতিত আপনি ফেইসবুক থেকে বিরত থাকুন। তবেই আপনি জীবনের অন্যতম একটা আনন্দ পাবেন।

আপনার যদি মেসেঞ্জার খুব বেশি দরকার পড়ে, তাহলে মেসেঞ্জার রেখে ফেইসবুক ডিলিট করে দিন।

কারণ, এই হোম পেজে ক্রল করতে করতে আপনার জীবনের মহামূল্যবান সময় শেষ হয়ে যাবে। আপনি টেরও পাবেন না।

ইউটিউব

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভিডিও ফ্লাটফর্ম হলো ইউটিউব। আপনি যেই কোনো বিষয়ের ভিডিও এতে পাবেন।

আপনি যদি চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে পড়ালেখা করে থাকেন তাহলে এই ইউটিউবে আপনি অসংখ্য লেকচার পাবেন।

কিংবা আপনি যদি আমার মতো ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র হন তাহলে অসংখ্য ভিডিও লেকচার ও বিভিন্ন টুলস সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।

আপনি যদি ফিজিক্স নিয়ে পড়েন তাহলে ম্যাথের সমাধান খুব সহজেই ইউটিউবে পেয়ে যাবেন।

কিন্তু এত এত সুবিধা থাকার পরও ইউটিউবে আপনি সময় নষ্ট করছেন প্রতিনিয়্যত।

আপনি নিজের জীবনের মহামূল্যবান সময়গুলো ইউটিউবে কাঁটিয়ে দিচ্ছেন লিমিট ছাড়াই।

নাটক, সিনেমা, শর্ট ভিডিও ও ফানি ভিডিও দেখে আপনি মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন।

আপনি ইউটিউবে মাইক্রোসফট অফিসের কাজগুলো শিখুন। আপনি ইউটিউবে ওয়েবসাইট বানানোর কাজগুলো শিখুন।

ইউটিউবে আপনি সি প্রোগ্রামিং, জাভা স্ক্রিপ, পাইথন পোগ্রামিং, এইচটিএমএল, সিএসএস এর কাজগুলো শিখুন।

আপনার কোনো ওয়েবসাইট থাকলে আপনি, আপনি SEO এর কাজগুলো শিখুন।

সময় নষ্ট করার দ্বারা কেউই লাভবান হবে না।

টিকটক

এককালে মানুষ আনন্দের জন্য যাত্রা কিংবা মঞ্চ নাটকের আয়োজন করতো। এখন আর এসব লাগে না।

মানুষের ঘরগুলো এখন নাটকের মঞ্চ হয়ে গেছে। মানুষ এখন টিকটক, লাইকি, স্নাপটিউব আরো কতগুলো এই রিলেটেড অ্যাপের মাধ্যমে জীবনটাকে খেলার মঞ্চ বানিয়ে ফেলেছে।

কেউ বা পুরুষ হয়ে স্ত্রীলোকের পোশাক পরে লাফালাফি করছে। কেউ বা সুস্থ সবল মানুষ হয়ে পাগলের মতো আচরণ করছে।

আপনি এই অ্যাপ রেখে কোন জায়গায় লাভবান হবেন? ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক লাগিয়ে, দু একটা ফিল্মের ডায়লগ দিয়ে একটা লাফ দিয়ে নিজেকে কতটা উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবেন?

সেলফি

আজকে (8 July 2022) গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজের জন্য গেলাম বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমে।

মাগরিবের নামাযের আযান দিচ্ছে। মুখরিত হয়ে উঠেছে আযানের সু মধুর আওয়াজ। আমি ও অন্য সকলের ন্যায় মসজিদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম।

এক কোণায় দেখলাম, মাদ্রাসার কিছু ছাত্র এই সময়ে সেলফি তোলায় ব্যস্ত। আমি এখানে সেলফির বিরুদ্ধে বলছি না।

একটা হুকুম আছে। সেটা হলো,

অবস্থা বুঝে তোমাকে কাজ করতে হবে।

আমরা প্রায় সময় দেখি, নামাযের সময়, ঈদের দিন মসজিদে মানুষ সেলফি তোলার হিড়িক ফেলে দেয়। এত এত সেলফি, বাব্বা!

কিন্তু এই সেলফি যখন যেখানে ইচ্ছা, সেখানেই তোলা যায় না। মাসখানেক আগে ফেইসবুকে এক বান্দাকে দেখলাম, তিনি ওমরাহ করতে গেছেন।

এটা অত্যন্ত ভালো কাজ। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে বিমানে উঠা থেকে শুরু করে, ওমরার প্রতিটি পয়েন্টে পয়েন্টে সেলফি তোলে ফেইসবুকে জানান দিচ্ছেন।

এই সব লোকেরা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের যামানায় থাকলে ভালো হতো। এদেরকে তিনি ঠিক করতে পারতেন।

হজ্জ্ব, ওমরাহ্, কুরবানী, দান-সদকা এসব জায়গাগুলোতে সেলফি তোলা একটি মারাত্বক বেয়াদবী মূলক কাজ।

আপনার সৃষ্টিকর্তা তো কখনো সেলফি তোলে আপনাকে কিছু দান করেন নি।

আপনি কেন তাহলে তার দেয়া সম্পদ থেকে কাউকে কিছু দেয়ার সময় এতগুলো ছবি তোলেন?

বেশ কিছুদিন আগে সিলেটের বন্যায় দেখেছি, মানুষ অসহায় হয়ে পানিবন্দী। নেই তাদের কাছে কোনো খাবার।

কিন্তু দান করার নামে কিছু ব্যক্তিরা এত এত সেলফি ও লাইভ এবং ভিডিও করেছে, যা একজন সুস্থমস্তিষ্কসম্পূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে মেনে নিতে পারছি না।

লোক দেখানো কোনো ইবাদত আল্লাহ কবুল করেন না। এটাই সত্য কথা। এটাই বাস্তব কথা।

মোবাইল ও ইন্টারনেটের খারাপ থেকে নিচে বাঁচুন। পারলে অন্যকে বাঁচান। সমাজ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

শিশুরা তাহলে হেসে খেলে বড় হবে। তাহলেই আমার লেখাটি স্বার্থক।

আরো পড়ুন

পারস্য অভিযান ও খালিদ রা.

রোমানদের সাথে সাহাবাদের যুদ্ধ

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com