মুদ্রাস্ফীতি ২০২৩

মুদ্রা তো আমরা সকলেই চিনি। কারেন্সি বা আমাদের টাকা হলো একটি মুদ্রা। ডলারও একটি মুদ্রা। এগুলোকে কাগুজে মুদ্রা বলা হয়। আমরা আজকে এই টাকা-পয়সার সাথে ২০২৩ সালের মুদ্রাস্ফীতি দেখবো।

২০২৩ সাল অন্য দশটি বছরের মতো হলেও এই বছর বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছে অনেক বেশি। প্রায় ২৬% এর কাছাকাছি।

আমরা আজকে আমাদের মুদ্রাস্ফীতি হিসাব করবো স্বর্ণের মূল্য দিয়ে। স্বর্ণ হলো বিনিময়ের একটি প্রাচীন ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি।

পৃথিবীর আদিকাল হতেই মানুষ স্বর্ণ বা রুপা ব্যবহার করে মুদ্রা হিসেবে। এছাড়াও তামা, কাকড়, ধাতব পয়সাও ক্ষেত্রবিশেষে মানুষ ব্যবহার করেছে।

কিন্তু একটা সময় মানুষের নিকট সর্বদা এক থলে স্বর্ণ নিয়ে ঘুরাঘুরি করাটা ঝুঁকি হওয়ায় চেকবই এর প্রচলন শুরু হয়।

আস্তে আস্তে মানুষ চেকবইতে অভ্যস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বর্ণ ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করতে থাকে। একটা সময় সেই চেকবই কাগুজে মুদ্রা হিসেবে আবির্ভূত হয়।

শুরুর দিকে এই কাগুজে মুদ্রা দেওয়া হতো ব্যাংক থেকে। তখন ব্যাংকের নিকট ছাপানো কাগুজে মুদ্রার মূল্যমান পরিমাণ স্বর্ণ জমা করে রাখা লাগতো।

কিন্তু আস্তে আস্তে ব্যাংক ব্যবস্থায় সুদ, দুর্নীতি, হাওয়াই মুদ্রা বানানোয় এই কাগুজে মুদ্রাগুলোর মূল্যমান কমতে থাকে।

আমেরিকা কর্তৃক ১৯৭১ সালে ডলারকে স্বর্ণের বিনিময়ে পরিমাপ নিষিদ্ধ করার পর পৃথিবী থেকে ‘স্বর্ণ পরিমাপ’ হারিয়ে গেছে।

বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর নিকট স্বর্ণ হলো সাজসজ্জার বস্তু। এটিকে কারেন্সি হিসেবে মেনে নিতে অনেক অর্থনীতিবিদও নারাজ।

২০২৩ সালে বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম প্রায় ২৯ বার দাম উঠানামা করেছে। এর মধ্যে বেড়েছে ১৮ বার ও কমেছে ১১ বার।

গত বছর জানুয়ারী ২০২৩ এ স্বর্ণের দাম ছিল ৮৮,৪১৩ টাকা। আর ডিসেম্বর ২০২৩ এ স্বর্ণের দাম হলো ১,১১,০৪১৳ (ভরিপ্রতি ২২ ক্যারেট)।

প্রায় শুরু থেকে শেষে স্বর্ণের দাম ২৬% বেড়েছে। স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়া মানেই হলো মুদ্রাস্ফীতি হয়ে টাকার দাম কমে গেছে।

সেই মোতাবেক বছরের শুরুর ১০০৳ এর মূল্য বছরের শেষে হলো ৭৪৳।

১০০০৳ এর মূল্য বছরের শেষে ৭৪০৳ টাকার কম।

১ লাখ টাকার মূল্য এখন ৭৪,০০০৳।

১০ লাখ টাকার মূল্য এখন ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। নিজেরা সতর্ক হোন।

তথ্যসুত্র – মুদ্রাস্ফীতি ২০২৩

বছরজুড়ে সোনার দামে ওঠানামা, বছর শেষে ইতিহাসে সর্বোচ্চ – প্রথম আলো রিপোর্ট

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এখন যা করণীয়

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top