হিজাব বা বোরকা হলো নারীদের অবয়ব ঢেকে রাখার মাধ্যম। এর মাধ্যমে নারীরা নিজেকে পর-পুরুষ থেকে হেফাজতে রাখবে। নিজেরা নিরাপদ থাকবে। কিন্তু পর্দার এই উপায়টিকেই যখন সৌন্দর্য প্রকাশের মাধ্যম হয়ে যায় তখন তাকে বলা হয় বোরকার ফাঁদ বা হিজাব ট্র্যাপ।

বর্তমানে হাতেগোনা খুব অল্প নারীরাই আছেন, যারা একমাত্র শরীয়াহর নিয়ম পালনার্থে বোরকা পরিধান করেন।

অধিকাংশ নারী বোরকা পরিধান করেও সেখানে নানান স্টাইল ধারণ করে দ্বীনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখান।

আবার কেউ কেউ আছে, বিভিন্ন রঙের কাপড় পরিধান করে অন্যকে আকৃষ্ট করেন।

অথবা পুরো কালো রঙের পরলেও তা এতটাই টাইট ফিটের হয় যে, শরীরের ভাঁজ ফুটে উঠে।

অনেকে আবার মুখ খোলা রেখে শুধু মাস্ক লাগিয়ে ভাবেন, এটাই পর্দা। আবার কেউ কেউ ঠোঁটে, মুখে, চোখে মেকাপ করে খোঁপা বেঁধেও বাহিরে বের হন।

একবার এক পশ্চিমা সাংবাদিক গ্রীষ্মের গরমে এক মুসলিম পর্দানশীল নারীকে জিজ্ঞাসা করেছিল, আপনি যে এই প্রচন্ড গরমে হাত, মুখ ও শরীর ঢেকে আছেন, আপনার গরম লাগে না?

তখন উক্ত নারী উত্তরে বললেন, قُلۡ نَارُ جَهَنَّمَ اَشَدُّ حَرًّا তথা জাহান্নামের আগুনই তো অধিক গরম! (সূরা তওবা, আয়াত ৮১)

বর্তমানে প্রাশ্চাত্যের নারীদের স্টাইল অনুকরণে অনেকে ইসলামের মধ্যে নতুনত্ব আনতে চান।

অথচ তারা ভেবেও দেখেন যা যে, এটা কি আদৌ ইসলাম সমর্থন করে কিনা?

কুরআন-হাদীস পর্দা সম্পর্কে কি বলে?

আমাদের নারীদের অনেকেই দেখা যায় পরিবারের চাপে, বাবা-মায়ের চাপে পর্দা করে। তখন নারী এমন এক পন্থা অবলম্বন করতে চায়, যাতে সাপও মরে লাঠিও অক্ষত থাকে।

অথচ তাদের এই কম বুঝার কারণে সাপ তো মরেই না বরং লাঠি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। তথা পর্দা তো রক্ষা হয়ই না বরং গুনাহ আরো বেশি হয়।

অনেকে ভাবেন, মনে হয় শুধু মাথা ঢেকে রাখা আর শরীর মোটামুটি ঢেকে রাখাকেই বোধহয় পর্দা বলে! যদি সেটাই পর্দা হতো তাহলে কুরআন-হাদীসে এর অনুমতি থাকতো।

কেউ কেউ আবার জিন্স প্যান্ট, টাইট কাপড় পরিধান করে একটি উড়না মাথায় দিয়ে আর মুখে মাস্ক লাগিয়ে বের হওয়াকে হিজাব বলছে।

অথচ এটি সুষ্পষ্ট ভন্ডামী। ইন্দোনেশিয়া বা ইউরোপিয়ান কালচার থেকে এসব ভাইরাস মুসলিম সমাজে প্রবেশ করছে।

পবিত্র কুরআনের সূরা আরাফের ২৬ নং আয়াতে বলা হচ্ছে,

یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ قَدۡ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکُمۡ لِبَاسًا یُّوَارِیۡ سَوۡاٰتِکُمۡ وَ رِیۡشًا ؕ وَ لِبَاسُ التَّقۡوٰی ۙ ذٰلِکَ خَیۡرٌ ؕ ذٰلِکَ مِنۡ اٰیٰتِ اللّٰهِ لَعَلَّهُمۡ یَذَّکَّرُوۡنَ

হে আদম সন্তানেরা! আমি তো তোমাদের জন্য পোশাক পাঠিয়েছি। যা তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকবে এবং সৌন্দর্যস্বরূপ। আর তাকওয়ার পোশাক হলো সর্বোত্তম। এগুলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

এই দুনিয়াতে মুসলিম হয়েও যারা সৌন্দর্য প্রকাশের জন্য বোরকা পরিধান করে, তারা আসলে উলঙ্গ নারী। নবীজি তাদেরকে জাহান্নামী বলেছেন।

সহীহ মুসলিম শরীফের ৫৪৭৫ নং হাদীসে বলা হচ্ছে,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ,‏ صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلاَتٌ مَائِلاَتٌ رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ لاَ يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلاَ يَجِدْنَ رِيحَهَا وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا

হযরত আবু হুরাইরাহ রাযি. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জাহান্নামবাসীদের মধ্যে দু’ প্রকার মানুষ, আমি যাদের (এ পর্যন্ত) দেখিনি। একদল মানুষ, যাদের সঙ্গে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে, তা দ্বারা তারা লোকজনকে মারবে এবং এক দল স্ত্রী লোক, যারা ছিল কাপড় পরিহিতা উলঙ্গ। তারা অন্যদের আকৃষ্ট করতো। তাদের মাথার চুলের অবস্থা উটের হেলে পড়া কুঁজের মতো। ওরা জান্নাতে যেতে পারবে না। এমনকি তার সুগন্ধিও পাবে না অথচ এত এত দূর হতে তার সুঘ্ৰাণ পাওয়া যায়।

বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামরা উক্ত হাদীসে “কাপড় পরিহিতা উলঙ্গ” বাক্যের ব্যাখ্যায় বলেন, এটি দ্বারা ঐ সমস্ত নারীরা উদ্দেশ্য, যারা পাতলা কাপড় পরিধান করায় শরীর দেখা যায়।

অথবা এমন টাইট ফিট কাপড় পরিধান করে, যার দ্বারা শরীরের আকৃতি বুঝা যায়। আবার ঐ সকলা নারীও উদ্দেশ্য, যারা বিভিন্ন ডিজাইনের বোরকা পরিধান করে এবং পুরুষদেরকে নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়ায়।

বোরকার ফাঁদ এড়াতে আমাদের করণীয়

আমরা কি বোরকা শুধুমাত্র সৌন্দর্য প্রদর্শনের পরিধান করি নাকি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পরিধান করি? এই প্রশ্নটি প্রথমে আমাদের নিজেদের করা উচিৎ।

যদি আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভ আমাদের উদ্দেশ্য হয় তাহলে সেভাবেই আমাদের বোরকা পরিধান করা উচিৎ, যেভাবে ইসলাম নির্দেশ করে।

ইসলাম বলে, বোরকার মাধ্যমে সমস্ত শরীর ঢেকে থাকবে এবং কাপড় বা ডিজাইন কোনো পুরুষকে আকৃষ্ট করবে না।

এছাড়াও সর্বদা আমাদের নিজেদের দেখতে হবে, বোরকা পরিধানের মাধ্যমে আমার তাকওয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে কিনা? অন্যথায় তাকওয়া অর্জনের জন্যও আমাদের কাজ করা উচিৎ।

তথ্যসুত্র

ফিতনাতুন নিসা, পৃষ্ঠা ৪০-৪৩

বোরকার ফাঁদ । Saleh Ahmed Toha

Scroll to Top