ফিহিলের যুদ্ধ

ফিহিলের যুদ্ধ – দামেষ্ক বিজয়ের পরে রোমানরা বড় ধরনের আঘাত পায়। প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে।

রোমান সৈন্যরা পরপর দুইটি যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। তখন তাদের এক সেনাপতি এসব পালিয়ে বেড়ানো সৈন্যদের একত্রিত করে।

তাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০ হাজারের অধিক। বর্তমান জর্দানের বাইসান নামক স্থানে তারা ক্যাম্প স্থাপন করে। হযরত আবু উবায়দা তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য সামনে অগ্রসর হন।

তিনি রোমানদের সাথে যুদ্ধের জন্য ফিহিল ময়দানে অবস্থান করেন। রোমানরা তখন মুসলমানদের এত তাড়াতাড়ি প্রস্তুতিতে ভয় পেয়ে যায়।

রোমানদের সমঝোতার চেষ্টা

তারা আবু উবাইদা রাঃ এর সাথে সমঝোতার চেষ্টা করতে থাকে। আব উবাইদা রাঃ তখন দুত হিসেবে মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ কে পাঠালেন।

রোমানরা তাকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে প্রধান সেনাপতির তাবুতে নিয়ে যায়। সেখানে অত্যন্ত দামী গালিচা বিছানো ছিল।

হযরত ‍মুয়াজ রাঃ সেই গালিচায় না উঠে মাটিতে বসা পছন্দ করলেন। তারা তখন পীড়াপীড়ি করলে তিনি বললেন, আমি গালিচায় বসা পছন্দ করি না। কারণ তাতে গরীবদের হক রয়েছে।

রোমানরা বললো, আমরা আপনাকে সম্মান করতে চাই।

তখন মুয়াজ রাঃ বললেন, তোমরা যাকে সম্মান মনে করো, আমার সেটা কোনো প্রয়োজন নেই। যদি মাটিতে বসাটা গোলামের মতো কাজ হয়ে থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে আমি আল্লাহর গোলাম।

যদি তোমাদের কিছু বলার থাকে তা তোমরা বলতে পার, অন্যথায় আমি ফিরে যাচ্ছি। তারা বললো, আমরা জানতে চাচ্ছি,

কেন আপনারা হাবশা ও পারসিকদের বাদ দিয়ে আমাদের সাথে লড়াই করতে এসেছেন? অথচ আমরা হলাম দুনিয়ার সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্যের অধিকারী!

হযরত মুয়াজ রাঃ প্রতুত্তরে বললেন, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে নিজেদের সীমান্ত সংলগ্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে জিহাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

তাই আমরা আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করছি। আমরা চাই যে, তোমরা মুসলমান হয়ে যাও। তাহলে তোমরা আমাদের ভাই হয়ে যাবে।

যদি তোমরা এটা পছন্দ না করো তাহলে জিজিয়া কর প্রদান করো। আমরা তোমাদের নিরাপত্তা দিব।

আর যদি এটা গ্রহণ না করো, তাহলে তোমাদের সাথে আমাদের যুদ্ধের ময়দানে ফায়সালা হবে।

রোমানদের দূত প্রেরণ

রোমানরা তখন ভয়ে আবু উবাইদা রাঃ এর নিকট দূত প্রেরণ করে। দূত যখন মুজাহিদদের শিবিরে পৌঁছে,

তখন আবু উবাইদা রাঃ মাটিতে বসে তীর সাজিয়ে দেখছিলেন।

দূত এদিক ওদিক তাকিয়ে সিপাহসালারকে খুঁজতে থাকে। সে কিছুই বুঝতে পারছিল না। সকলকে একই রকম দেখাচ্ছিল।

তখন সে পাশ থেকে একজনকে জিজ্ঞাসা করলো, তোমাদের আমির কোথায়? উক্ত ব্যক্তি তখন আবু উবাইদা রাঃ কে দেখিয়ে দিল।

এটা শুনে সে তো পুরো হতবাক হয়ে গেল। তারপর সে সেনাপতির নিকট গিয়ে বললো,

আমাদের রাষ্ট্র আপনাদের জনপ্রতি দুইটি করে স্বর্ণমুদ্রা প্রদান করবে। আপনারা এখান থেকে চলে যান।

আবু উবাইদা রাঃ তখন মৃদু হেসে বললেন,

আমাদের যদি ধন-সম্পদের লোভ থাকতো তাহলে এটা আমাদের জন্য লোভনীয় অফার ছিল। কিন্তু আমরা আল্লাহর দ্বীনের বিজয়ের জন্যই যুদ্ধ করি।

রোমানদের সাথে যুদ্ধ

শেষ পর্যন্ত রোমানরা নিরাশ হয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়। ১৪ হিজরীর জিলকদ্ব মাসে ফিহিলের ময়দানে এই যুদ্ধ সংগঠিত হয়।

মুসলমানদের ডান অংশের নেতৃত্বে ছিলেন আবু উবাইদা রাঃ। বাম অংশের নেতৃত্বে ছিলেন আমর ইবনুল আস রাঃ।

পদাতিক বাহিনীর আমির ছিলেন ইয়াজ বিন গানাম রাঃ। অশ্বারোহী বাহিনীর প্রধান ছিলেন জিরার বিন আযওয়ার রাঃ।

এই যুদ্ধে রোমানদের শোচনীয়  পরাজয় হয়। মুসলমানরা এই অঞ্জল নিজেদের সীমানার অন্তর্ভূক্ত করে নেন।

তথ্যসুত্র

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খন্ড ৩। পৃষ্ঠা ১২০-১২২

আরো পড়ুন

ইয়ারমুকের বিখ্যাত যুদ্ধ

মুসলমানদের দামেষ্ক অবরোধ

আমর ইবনে আস রাঃ সম্পর্কে অভিযোগ

আবু উবাইদ সাকাফি রহঃ এর ঘটনা

নাস্তিকরা যেভাবে উল্টাপাল্টা লজিক দেয়, পড়ুন

আয়েশা রাঃ কে নিয়ে নাস্তিকদের চুলকানী পড়ুন

আল্লাহ কি মানুষের অন্তরে অকারেই সিল মেরে দেন? পড়ুন

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com