ফিলিস্তিন কি বাস্তবেই ইহুদিদের?

ফিলিস্তিন কি বাস্তবেই ইহুদিদের? – বাইবেলের সর্বশ্রেষ্ঠ গল্পগুলির মধ্যে একটি হলো, মূসা আ. প্রতিশ্রুত ভূমির দিকে তাকাচ্ছেন।

তিনি তাঁর লোকেদের তথা ইস্রায়েলীয়দের, মিশর থেকে বের হয়ে যাওয়ার যাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এরপর অনুর্বর সিনাই মরুভূমি থেকে ফিলিস্তিনের দিকে যাত্রা শুরু করছেন।

বাইবেলের গল্প বলে যে, মুসা জেরিকোর প্রাচীন শহরটি দেখার সাথে সাথেই মারা গিয়েছিলেন।

কিন্তু তার নির্বাচিত উত্তরসূরি, জোশুয়া (ইউশা) শহর জয় করতে এবং ফিলিস্তিন দখল করার জন্য তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখেন।

আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলির সাথে বাইবেলের তত্ত্ব

জেরিকো হলো বিশ্বের প্রথম প্রাচীর ঘেরা শহর। যা এখনও দাঁড়িয়ে আছে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা ঊনবিংশ শতাব্দীতে এর ধ্বংসাবশেষ অনুসন্ধান করেছিলেন।

এই শহরের অন্তত ২৩টি প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পর্কিত প্রমাণ তারা উন্মোচন করেছিলেন। ধ্বংসাবশেষ সমৃদ্ধি, পতন এবং ঔপনিবেশিকতার ইতিহাস বিষয়ক তথ্য তা প্রকাশ করে।

কিন্তু কোন ক্লু কি পাওয়া গেছে? সমস্ত খননকার্য ও গবেষণা সত্ত্বেও, প্রত্নতাত্ত্বিকরা জেরিকোর দুর্বল দেয়াল ভেঙে পড়ার কোনো প্রমাণ পাননি। যেমনটি বাইবেলের গল্পে জোশুয়া বর্ণনা করেছেন।

মূসা আ. কি সত্যিই ঐতিহাসিক শহর জেরিকো দেখেছিলেন?

শুধু তাই নয়, তাওরাতে বর্ণিত জেরিকোর দেয়াল ধসে পড়ার পর যে মহান অলৌকিক ঘটনা ঘটে তার সমর্থন করার মতো কিছুই নেই।

খননকালে ডেভিড (দাউদ আ.), আইজ্যাক (ইসহাক আ.) বা জ্যাকবের (ইয়াকুব আ.) ব্যক্তিত্বের কোনো উল্লেখ বা মিশর থেকে ইহুদিদের সরাসরি আগমনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রফেসর জিভ হারজোগ হলেন তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রত্নতাত্ত্বিক। যিনি দখলদার ইসরাইলের সমস্ত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

তিনি শেষ পর্যন্ত বলতে বাধ্য হয়েছেন, তাওরাতে উল্লেখিত সমস্ত ঘটনা প্রত্নতাত্ত্বিকরা যা খুঁজে পেয়েছেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত।

শেষ পর্যন্ত প্রফেসর হারজোগ বলেন, আমাদের অস্তিত্বহীন প্রমাণের অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়।

অধ্যাপক হারজোগ আরো বলেন, এই গল্পগুলি আসলে বাস্তবে ঘটেনি।

এগুলো স্থানীয়দের লোককথা হতে পারে। পরবর্তীতে সুসংগত বর্ণনাসহ এগুলো ধর্মীয় গ্রন্থে যুক্ত করা হয়েছিল।

ফিলিস্তিন কি বাস্তবেই ইহুদিদের?
ফাইল ছবি: প্রফেসর জিভ হারজোগ

ইসরায়েলি প্রত্নতাত্ত্বিকরা কয়েক দশক ধরে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে তাওরাত ইহুদিদের তাদের প্রাচীন ভূমিতে প্রত্যাবর্তনকে সমর্থন করে।

প্রতিশ্রুত ভূমিতে ইহুদিদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রমাণ খোঁজার উদ্দেশ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক খননগুলি ইস্রায়েলে একটি সাধারণ আবেশে পরিণত হয়েছে।

তিন হাজার বছর আগে ইহুদিরা ফিলিস্তিন দখল করেছিল বলে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু ফিলিস্তিনে তাদের আগমন ছিল একটি অভিবাসন, স্থায়িত্ব নয়।

প্রফেসর হারজোগ শেষ পর্যন্ত বলেছেন, এটি অলীক কিছুর সন্ধান করা বন্ধ করা উচিৎ। যা বাস্তবিক অর্থে অস্তিত্বহীন।

হারজোগ যোগ করেন, ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার বহু বছর পরে, দেশে একটি ইসরায়েলি সংস্কৃতি গড়ে ওঠে এবং ইসরায়েলিরা তখন একটি ভালো অবস্থানে উঠে।

যা তাদের সমালোচনামূলক পদ্ধতির প্রমাণ অনুসন্ধান করতে এবং তাওরাতে লিপিবদ্ধ পৌরাণিক কাহিনীগুলিকে গ্রহণ না করে এবং সেগুলিকে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসাবে বিবেচনা করে। .

প্রফেসর হারজোগের এই উপসংহারটি খুবই আশ্চর্যজনক। যা ইহুদিদের ইতিহাসের পুনঃমূল্যায়নের প্রচেষ্টার সাথে মিলে যায়। ইস্রায়েলে এটা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল।

তাওরাতের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন – ফিলিস্তিন কি বাস্তবেই ইহুদিদের?

রাব্বি স্পিরো, যিনি সারা বিশ্ব থেকে ইহুদি ধর্মীয় ছাত্রদের জেরিকোতে ভ্রমনের জন্য নিয়ে আসেন।

তিনি স্বীকার করেন যে, ইহুদি গল্পগুলির সত্যতার জন্য বৈজ্ঞানিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণগুলি অন্তত দুর্বল।

কিন্তু তিনি যুক্তি দেন, তারা খুঁজে পায় নি বলেই যে ভুল এমনটা তো নয়।

রাব্বি স্পিরো বিশ্বাস করেন যে, প্রফেসর হারজোগ যা করছেন তা ইসরায়েলের জন্য খুবই বিপজ্জনক।

যখন কেউ তাওরাতের ইতিহাস এবং এটির উদ্গট গল্পগুলির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তখন এর অর্থ হল, এটি একটি মিথ এবং ইহুদিদের ফিলিস্তিনে বসবাস করার অন্যদের চেয়ে বেশি অধিকার নেই।

ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা, যারা তাওরাতে ফিলিস্তিন দখলের অধিকার এবং ফিলিস্তিনের প্রাচীন ইহুদি উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে কাজ করছে তাদের জন্য অধ্যাপক হারজোগের দেওয়া তথ্য প্রমাণগুলো একটি বড় সমস্যা সৃষ্টি করে।

অনেক জায়োনিস্ট বসতি স্থাপনকারীরা অধ্যাপক হারজোগকে নতুনভাবে আবার গবেষণার জন্য বন্দোবস্ত করেছিল। যদিও বসতি স্থাপনকারীরা তাকে স্বাগত জানিয়েছে, তার পরিস্থিতি বিপদমুক্ত নয়।

ফিলিস্তিনের প্রাণকেন্দ্র হেবরন শহরে বসবাসকারী ইহুদি চরমপন্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী নোয়াম আরনাউন মন্তব্য করেছেন,

ইহুদিদের নবী ইব্রাহিমকে প্রফেসর হারজোগকে ভুলে যাওয়ার পরেও মানুষ অনেক দিন মনে থাকবে।

এই দেশ যেভাবেই হোক ইজরায়েলের দেশ – ফিলিস্তিন কি বাস্তবেই ইহুদিদের?

কট্টর ইহুদি আরনাউন আরো বলে, সামান্য কিছু সন্দেহ করার মাধ্যমে মানুষের ধারণা পরিবর্তন হবে না।

এই দেশটি ইসরায়েলের সত্যিকারের ভূমি এবং তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য এটিকে পুনর্নির্মাণ করা এবং এখানে বসতি স্থাপন করা।

ইসরাইলের এক সংসদ সদস্য টমি ল্যাপিড হতাশ হয়ে গোমড়া মুখে বলেন, ইহুদিবাদ ও ইসরায়েলকে ভুল প্রমাণ করার এই অপচেষ্টা(!) চলছে।

কিছু সমালোচক আরও এগিয়ে বলেন, তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন।

ইসরায়েলের সংসদ সদস্য টমি ল্যাপিড অধ্যাপক হারজোগের সিদ্ধান্তকে ইসরায়েলের প্রতি ঘৃণা বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেছেন যে, এর পিছনে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং এটি জায়নবাদের প্রতি চরম বামপন্থীদের শত্রুতা।

তিনি আরো বলেন, তাওরাতকে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা হচ্ছে ইসরায়েলকে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা।

এটা নিশ্চিত যে বাইবেলের গল্পগুলি ঐতিহাসিক সত্য নয়। কোনটি সত্য তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই থাকবে!

তথ্যসুত্র

২৪ ডিসেম্বর ১৯৯৯ সালে আরবি বিবিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী অনুবাদ ও লিপিবদ্ধ করা হলো।

আর্কাইভ ভার্সন থেকে দেখুন

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top