প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার

নবীজি সা. নবুয়তলাভের তিন বছর পর আল্লাহর নির্দেশে প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ করে বলেছেন,

 وَ اَنۡذِرۡ عَشِیۡرَتَکَ الۡاَقۡرَبِیۡنَ وَ اخۡفِضۡ جَنَاحَکَ لِمَنِ اتَّبَعَکَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ 

আর তুমি তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক কর। যারা তোমার অনুসরণ করে, সেই সব মু’মিনের প্রতি বিনয়ী হও।

সূরা শুআরা। আয়াত ২৬-২৭

অন্য এক জায়গায় বলেছেন,

 فَاصۡدَعۡ بِمَا تُؤۡمَرُ وَ اَعۡرِضۡ عَنِ الۡمُشۡرِکِیۡنَ 

“আপনাকে যেই বিষয়ের আদেশ দেয়া হয়েছে, তা পরিষ্কারভাবে শুনিয়ে দিন। আর মুশরিক এবং অস্বীকারকারীদের কোনো পরোয়া করবেন না।”

সূরা হিজর। আয়াত ৯৪

কখন আল্লাহ প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার এর নির্দেশ দিলেন ?

হাদীসের মাধ্যমে এই বিষয়টা স্পষ্টরূপে দিন-তারিখসহ উল্লেখ নেই। তবে এতুটুকু সত্য এবং জানা যায় যে, সে সময় নবুয়তের তিন বছর পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

অনেক মুহাদ্দিসরা নবীজির নবুয়তলাভ রবিউল আওয়াল মাসে হয়েছে বলে উল্লেখ করে থাকেন।

তবে প্রসিদ্ধ মত হলো, নবীজি নবুয়তলাভ করেছেন রমজান মাসে। এর পক্ষে ইবাইদ ইবনে উমায়ের রহ., মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক রহ. সহ অনেকেই সুষ্পষ্ট দলীল উল্লেখ করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক উল্লেখ করেন যে, সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে উল্লেখ আছে,

شَهۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡهِ الۡقُرۡاٰنُ هُدًی لِّلنَّاسِ وَ بَیِّنٰتٍ مِّنَ الۡهُدٰی وَ الۡفُرۡقَانِ

রমযান মাস হলো এমন একটি মাস, যেই মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।

তাই উপরোক্ত মত এবং নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার নির্দেশ চার রমজানে ঘটেছে।

সাফা পাহাড়ে আল্লাহর পথে আহবান – প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার

আয়াত নাজিল হওয়ার পর নবীজি সা. সাফা পাহাড়ের চূড়ায় উঠলেন। এরপর লোকদের আহবান করতে লাগলেন, ইয়া সাবাহাহ! (দুশমনরা যখন আক্রমণ করতো তখন আরবরা এই শব্দ ব্যবহার করতো)

কুরাইশরা তখন সাফা পাহাড়ের নিকট দৌঁড়িয়ে হাজির হয়। কেউ নিজেরাই আসে। কেউ বা কোনো প্রতিনিধিকে পাঠায়।

নবীজি তখন বলতে শুরু করলেন, হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানেরা, হে ফিহারের সন্তানেরা, হে কা’বের সন্তানেরা!

আমি যদি তোমাদের বলি, এই পাহাড়ের পেছনে শত্রুদল আছে এবং তারা তোমাদের আক্রমণ করবে। তাহলে কি তোমরা বিশ্বাস করবে?

সকলেই বলে উঠলো, অবশ্যই আমরা বিশ্বাস করবো। কারণ, তারা নবীজিকে এতটাই সত্যবাদী মনে করতো যে, তার কথা তারা নির্দ্বিধায় মেনে নিত।

তখন নবীজি তাদেরকে বললেন, আমি তোমাদের ব্যাপারে কঠিন শাস্তির ভয় করছি, যা তোমাদের একেবারেই নিকটে।

কুরাইশরা তখন এই কথা শুনে ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু আবু লাহাব বললো, ধ্বংস হও তুমি! এ জন্যই কি তুমি আমাদের ডেকে এনেছ?

এরপর সকলেই ক্রুদ্ধ হয়ে নিজের গন্তব্যে ফিরে যায়। সেদিন যদি আবু লাহাব নবীজির বিরোধিতা না করতো তাহলে অনেকেই আল্লাহর পথে ফিরে আসতো।

এই প্রেক্ষিতে আল্লাহ সূরা লাহাব নাজিল করেন। “ আবু লাহাবের হাত ধ্বংস হোক। সে নিজেও ধ্বংস হোক।”

তথ্যসুত্র

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খন্ড ১। পৃষ্ঠা ২৯৫-২৯৬

আল বিদায় ওয়ান নিহায়া। খন্ড ৩। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পৃষ্ঠা ৭৫-৭৬

আর রাহিকুল মাখতুম। পৃষ্ঠা ৮৩

আরো পড়ুন

হালিমার বাড়িতে নবীজির শৈশবকাল কেমন ছিল

নবীজির সাথে মদীনায় আবু বকরের হিজরত

নবীজির মিমাংসিত হাজরে আসওয়াদের ঘটনা

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমাদের লেখাগুলো সূচিপত্র অনুযায়ী দেখুন www.subject.arhasan.com এই ওয়েবসাইটে। আমরা কোন প্রকাশনীর বই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করি তা জানতে ভিজিট করুন www.arhasan.com/book এই ওয়েবসাইটে। আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করতে পারেন এই লিংক থেকে। আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করুনএই লিংক থেকে

কোন আয়াতের মাধ্যমে নবীজিকে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার কথা বলা হয়েছিল ?

সূরা শুআরার ২৬ ও ২৭ নং আয়াত এবং সূরা হিজরের ৯৪ নং আয়াত

আবু লাহাব নবীজির দাওয়াত প্রদানে কি বলেছিল ?

আবু লাহাব নবীজির দাওয়াত প্রদানকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বললো, ধ্বংস হও তুমি! এ জন্যই কি তুমি আমাদের ডেকে এনেছ?

সাফা পাহাড়ে নবীজি কি বলেছেন ?

নবীজি তাদেরকে বললেন, আমি তোমাদের ব্যাপারে কঠিন শাস্তির ভয় করছি, যা তোমাদের একেবারেই নিকটে।

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com