ট্রান্সজেন্ডার ধর্মীয়ভাবে কতটুকু সমর্থিত

ট্রান্সজেন্ডার ধর্মীয়ভাবে কতটুকু সমর্থিত – ট্রান্সজেন্ডারের আরেক নাম হলো সমকামিতা। LGBT মতাদর্শের মাধ্যমে বহু আগেই কিছু বিকৃত চিন্তার মানুষেরা সমকামিতাকে সামাজিকরণের চেষ্টা করছে।

যত যাই কিছুই হোক, এই কর্ম কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। রক্ষণশীল পরিবারগুলো বা বুঝমান ফ্যামিলিগুলো কখনোই এই ঘৃণিত কাজে সাড়া দেয় নি।

পৃথিবীতে এই তো কিছুদিন আগেই নারী অধিকার নিয়ে কত আন্দোলন হলো। দেশে দেশে বিল পাশ হলো। নারীদের ঘর থেকে বের করে চাকুরিতে যুক্ত করে চাকর বানানো হলো।

এত কিছুর পরও স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের স্বার্থ কমে নি। সময়ে সময়ে আরো বেড়েছে। আমাদের নিকট যেটা ভোগের বস্তু কিংবা সাধারণ কিছু, বিনিয়োগকারীদের নিকট সেটা মিলিয়ন ডলারের মুনাফা।

তাই তারা আরো নিকৃষ্ট কিছু অবতারণার সুযোগ খুঁজলো। তাদের দরকার মুনাফা। তা যেই উপায়ে হোক না কেন!

ইসলামসহ সকল ধর্মমতেই সমকামিতা হলো নিকৃষ্ট যৌনাচার। যা কোনোভাবেই সামাজিকভাবে স্বীকৃত নয়। এটি পৃথিবীতে প্রথম এনেছিল কওমে লূতেরা।

অর্থাৎ হযরত লূত আ. এর সম্প্রদায় এই জঘন্য কাজ প্রথম করেছিল। তারা সমলিঙ্গের প্রতি আসক্তি হতো। এর শাস্তিস্বরুপ আল্লাহ তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছেন।

তাদের শাস্তির নিদর্শন হিসেবে এখনো মৃত সাগর পৃথিবীতে জ্বলজ্বল করে উদাহরণ হিসেবে আছে। আমরা এখানে পৃথিবীর বিখ্যাত ধর্ম মোতাবেক একটু পর্যালোচনা করি।

হিন্দুধর্মে ট্রান্সজেন্ডার বা সমকামিতার সমর্থন কতুটুকু?

বিশ্বের বৃহত্তম তৃতীয় বড় ধর্ম হিসেবে হিন্দুধর্মকে উল্লেখ করা হয়। ভারতসহ বিশ্বের আরো বহু দেশে অনেক হিন্দুধর্মের ব্যক্তি বসবাস করেন।

হিন্দুদের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো অনুসরণীয় কিছু না থাকায় সমকামিতা বিষয়ক তাদের দৃষ্টিভঙ্গি একেকজনের একেকরকম।

HAF বা হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন এই বিজ্ঞান বিবর্জিত সমকামিতাকে সমর্থন করে এবং সেটার পক্ষে তারা প্রচারণা এবং ফান্ডিংও করে। [1]

তবে HRC যদিও সমকামিতাকে সমর্থন করে এবং ফান্ডিং দেয়, তারপরও তাদের প্রকাশিত তথ্যমতে, হিন্দুদের ধর্মশাস্ত্র অনুসারে বিবাহ হলো অনুমোদিত। এর মাধ্যমে প্রজনন সিস্টেম চালু থাকে। তাই অনেক হিন্দুরা সমকামী বিয়েকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন। [2]

তবে হিন্দু গ্রন্থগুলি যেমন মনুস্মৃতি, বেদসহ আরো বেশ কিছু গ্রন্থে সমকামিতাকে পাপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এমনকি তা আইনতভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবেও ধরা হয়।

পৌরাণিক কাহিনীবিদ দেবদত্ত পট্টনায়েক হিন্দু সাহিত্যে সমকামিতার স্থানটিকে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করে বলেন, “যদিও এটি মূলধারার অংশ নয়। তবে এর অস্তিত্ব স্বীকার করা হয়েছিল কিন্তু অনুমোদিত হয়নি।”

২০১৬ সালে বিশ্বের বৃহত্তম স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন, হিন্দু সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) বিজেপির মিত্র, সিনিয়র নেতা দত্তাত্রেয় হোসাবলে বলেছিলেন যে, সমকামিতাকে অপরাধমূলক কাজ হিসেবে গণ্য করা উচিত।

প্রভাবশালী ডানপন্থী হিন্দু গোষ্ঠী আরএসএস এর একজন উচ্চপদস্থ সদস্য প্রকাশ্যে বলেছেন যে, তিনি সমকামিতাকে বেআইনি বলে বিশ্বাস করেন না।  তবে আরএসএসের এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান ছিল না, যেহেতু এটি ব্যক্তিগত বিষয়। পরবর্তীতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারার অংশগুলিকে বাতিল করার পর আরএসএস বলেছে, একই লিঙ্গের লোকেদের মধ্যে সম্পর্ক অস্বাভাবিক হলেও এটি একটি অপরাধমূলক কাজ নয়।

১৮৬০ সাল থেকে ভারতে সমকামিতা অবৈধ ছিল। ২০১৮ সালে দিল্লি হাইকোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায়ে ভারতে সমকামিতাকে বৈধতা হিসেবে ঘোষণা করে।

যেখানে আদালত উল্লেখ করেছে যে বিদ্যমান আইনগুলি ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার (ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ এবং সমতা (অনুচ্ছেদ ১৪) এবং বৈষম্যের নিষেধাজ্ঞা (অনুচ্ছেদ ১৫) লঙ্ঘন করেছে৷

২০০৪ সালের একটি সমীক্ষায় বেশিরভাগ স্বামী (হিন্দু সন্ন্যাসী) বলেছেন, তারা সমকামী বিবাহের ধারণার বিরোধিতা করেছেন। [3]

মূলকথা হলো এই যে, হিন্দুধর্মে যেহেতু তেমন কোনো গ্রন্থকে তারা নির্দিষ্টভাবে মান্য করে না, তাই তাদের একেকজনের এই বিষয়ে বক্তব্য একেকরকম।

ট্রান্সজেন্ডার বা সমকামিতাকে হিন্দুধর্মের ধর্মীয় ব্যক্তিরা অবৈধ হিসেবেই মনে করেন।

কিছু মানুষ মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে। আর কিছু মানুষ স্রোতে গা ভাসিয়ে বৈধ হিসেবে বলেন। [4]

বৌদ্ধ ধর্মে ট্রান্সজেন্ডার বা সমকামিতা কতুটুকু সমর্থন করে?

বৌদ্ধ ধর্মে সমকামিতাকে ঘৃণার চোখে দেখা হয়। এছাড়াও পায়ূকামসহ বিকৃত যৌনাচারকে ঘৃণা করে বৌদ্ধরা।

তবে তাদের এই বিষয়ে ধর্মীয় গ্রন্থের এত বেশি রেফারেন্স না থাকায় অনেকটা উদার হতে চেষ্টা করে তারা।

বর্তমানে তাদের কেউ কেউ সমকামিতার ক্ষেত্রে উদার পরিচয় দিয়ে বলেন, এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। স্বেচ্ছায় যা ইচ্ছা করতে পারে ইত্যাদি।

৫ম শতাব্দীর বৌদ্ধ লেখক বুদ্ধঘোষ ubhatobyanjanaka শব্দের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, এক লিঙ্গের দেহের অধিকারী কিন্তু “শক্তি” বা অন্য লিঙ্গের মানুষ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

লিওনার্ড জিউইলিং যুক্তি দেন যে, এই বিবরণে বুদ্ধঘোষ আসলে “উভলিঙ্গ” নয় বরং উভকামীতা বা সমকামিতাকে বর্ণনা করেছেন।

এদিকে জ্যানেট গ্যাতসো উল্লেখ করেন, জিউইলিং তার নিজের যুক্তিতে ফেঁসে গেছেন। কারণ পান্ডাকাদের (Pandaka একটি সংস্কৃত যৌনতামূলক শব্দ। অর্থ: পুরুষত্বহীন, বন্ধ্যাত্ব, যৌন অরিপক্কতা) সমকামী হিসেবে তিনি লিখেছিলেন,

“বিনয়া, প্রকৃতপক্ষে, সামাজিকভাবে আদর্শ পুরুষ এবং পান্ডাকার মধ্যে যৌন সম্পর্কের থেকে আদর্শ পুরুষের মধ্যে যৌন ক্রিয়াকলাপকে আলাদা করতে পারে।

শান্তিদেব এবং অশ্বঘোষের মতো ধ্রুপদী মহাযান পণ্ডিতরা অ-যোনি যৌনতাকে (পুরুষের সাথে পুরুষের যৌন মিলন) যৌন অসদাচরণ বলে মনে করতেন।

১৭ তম গ্যালওয়াং কারমাপাসহ তিব্বতি বৌদ্ধ বংশের বিভিন্ন সমসাময়িক শিক্ষক, এলজিবিটিকিউ লোকেদের প্রতি বোঝাপড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে সমলিঙ্গের সম্পর্কগুলি অগত্যা সাধারণ মানুষের জন্য অসদাচরণ গঠন করে না।

১৪ তম দালাইলামা (বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক নেতা) বলেন,” বৌদ্ধ ধর্ম দৃষ্টিকোণ থেকে, লেসবিয়ান এবং সমকামী যৌনতাকে বিকৃত যৌন কর্ম হিসাবে বিবেচনা করা হয়।”

দালাইলামা আরও বলেছেন যে, ওরাল সেক্স, অ্যানাল সেক্স এবং হস্তমৈথুন সহ বিপরীত লিঙ্গ সঙ্গীর সাথে সঙ্গম ব্যতীত অন্য যে কোনও যৌন মিলন বৌদ্ধ দৃষ্টিকোণ থেকে অনুচিত। আর সমকামিতা, তা পুরুষের মধ্যে হোক বা হোক না কেন। মহিলাদের মধ্যে, নিজের মধ্যে অনুপযুক্ত নয়।

১৯৮৯ সালে থাই সঙ্ঘের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে “সমকামী” নিযুক্ত করা নিষিদ্ধ।

পরবর্তীতে দেশের অন্যতম প্রখ্যাত সন্ন্যাসী ২০০৩ সালে দাবি করেছিলেন যে ১,০০০ সমকামী সন্ন্যাসীকে সংঘ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

জাপানিজ বৌদ্ধধর্মের ব্যক্তিরা আবার সমকামিতাকে সমর্থন করে বহু আগ থেকেই।

১৬ শতক থেকে জাপানে পশ্চিমা খ্রিস্টান ভ্রমণকারীরা জাপানি বৌদ্ধদের মধ্যে সমকামিতার ব্যাপকতা এবং গ্রহণযোগ্যতা (অস্বস্তি সহকারে) লক্ষ্য করেছেন।

১৭ শতকের একজন জাপানি বৌদ্ধ পণ্ডিত কিতামুরা কিগিন লিখেছেন, বুদ্ধ পুরোহিতদের মধ্যে বিষমকামীতার চেয়ে সমকামিতার অনুসরণকারী বেশি ছিল। [5]

এছাড়াও চীনে প্রচলিত বৌদ্ধধর্মও সমকামিতাকে সমর্থন করে। বিকৃত যৌনাচারকে সমর্থন করে। তবে আমরা যেই জিনিষটা দেখতে পাই,

তা হলো, প্রাচীন বৌদ্ধধর্মে এই সমকামিতা বা ট্রান্সজেন্ডারকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটাকে পাপ কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেহেতু তাদের নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় গ্রন্থ নেই, তাই এই বিষয়ে তাদের দিকনির্দেশনাও অনেক কম। জানাশোনার পরিধি আরো কম।

খৃস্টান ধর্মে সমকামিতা বা ট্রান্সজেন্ডার কতুটুকু সমর্থন করে?

খৃস্টান ধর্মে ট্রান্সজেন্ডার বা সমকামিতাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।

এছাড়াও বাইবেলে বর্ণিত বিভিন্ন উদ্ধৃতি প্রমাণ করে, সমকামিতা হলো পাপ কাজ।

খৃস্টানদের মধ্যে কয়েকটি ভাগ রয়েছে। যথা: ক্যাথলিক, অর্থডক্স, প্রোটেস্ট্যান্ট। এছাড়াও আরো কিছু ছোট ছোট ভাগ আছে।

তবে উপরের তিনটা গোষ্ঠী বা গির্জা সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং তাদের অনুসারীও পৃথিবীতে অনেক।

এদের মধ্যে ক্যাথেলিক আর অর্থডক্সরা সমকামিতাকে নিষিদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করে।

প্রোটেস্ট্যান্টরা আবার এটাকে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক হিসেবে বর্ণনা করে। বাইবেলে সদোম এবং গোমোরা নামে দুইটি সম্প্রদায়ের কাহিনী উল্লেখ আছে।

যাদেরকে স্রষ্টা এই নিষিদ্ধ সমকামিতায় লিপ্ত হওয়ার কারণে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। কেউ কেউ বলে থাকে, যীশু সমকামিতা বিষয়ক কোনো কথা বলেন নি।

কিন্তু বাইবেলে দেখা যায়, যীশু শুধুমাত্র দুটি অবস্থা উদ্ধৃত করেছেন – বিবাহ এবং ব্রহ্মচর্য (খাসী পুরুষ)। তিনি অবিবাহিতদেরকে ‘নপুংসক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

ক্যাথলিক চার্চ বিবাহ বহির্ভূত সকল যৌন কাজকে পাপ বলে মনে করে। তবে তারা সাম্প্রতিক সময়ে সমকামীদের প্রতি সহনশীল।

১১ মার্চ ২০২৩-এ, ৮০ শতাংশের বেশি জার্মান রোমান ক্যাথলিক বিশপের সমর্থনে সিনোডাল পাথ ২৭টি জার্মান রোমান ক্যাথলিক ডায়োসিসে সমকামী দম্পতিদের জন্য আশীর্বাদ অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়।

তবে উক্ত কাজের পর রোমান ক্যাথলিকের প্রধানসহ রক্ষণশীল খৃস্টানরা তীব্র নিন্দা করেছিল। [6]

তবে খৃস্টান বুঝমান ডাক্তাররা কখনোই এই সমকামিতাকে জেনেবুঝে সমর্থন করেন নি।

এ বিষয়ে মার্টিন হ্যালেট বিস্তারিত কিছু লেখা লিখেন। তিনি কিছু গির্জা কর্তৃক সমকামিতার অনুমোদন দেওয়া দেখে খুবই অবাক হয়েছিলেন।

এ বিষয়ে তার Homosexuality: a Christian response শিরোনামে প্রকাশিত লেখাটা দেখা যেতে পারে।

ইহুদি ধর্মে ট্রান্সজেন্ডার বা সমকামিতা কতুটুকু সমর্থন করে?

এককথায় বলতে গেলে ইহুদি ধর্মে তৌরাহ এর বর্ণনা অনুযায়ী, সমকামিতার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ইহুদি ধর্মে সমকামিতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

Deuteronomy 23:18 অনুগামীদের বলে: “ইস্রায়েলের কন্যাদের মধ্যে কেউ কেদেশা (পতিতা) হবে না এবং ইস্রায়েলের পুত্রদের মধ্যে কেউ কাদেশ (যিনাকারী) হবে না।

নেগিয়ার আইন অবিবাহিত পুরুষ এবং মহিলার মধ্যে স্নেহপূর্ণ স্পর্শ নিষিদ্ধ করে (ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ব্যতীত)। কারণ এই স্পর্শকে “কাছে যাওয়া” (যৌন মিলনের মতো) একটি নিষিদ্ধ সম্পর্ক বলে মনে করা হয়।

যেহেতু সমকামী পুরুষ যৌনতাকে অন্যান্য যৌন নিষেধাজ্ঞার সাথে অ্যারায়োটের ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নেগিয়ার নিষেধাজ্ঞা দুই সমকামী পুরুষের মধ্যেও প্রযোজ্য বলে মনে করা হয়।

ইহুদিদের মৌখিক আইন বলে যে, মৃত্যুদণ্ড কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে যখন দুইজন পুরুষ পায়ূ যৌনক্রিয়ায় ধরা পড়ে, আর এই কাজের জন্য দুজন সাক্ষী থাকে।

প্রাচীনকাল থেকেই ইহুদিরা হলো নিজের বেলায় নাই নাই, অন্যের বেলায় ষোল আনা।

তেমনি ইহুদিদের মধ্যে অর্থোডক্স দলেরা আবার সমকামিতার পক্ষে সাফাই গাঁয়।

ইহুদিদের সমন্বয়ে গঠিত সেনহাড্রিনেও এই সমকামিতাকে অপরাধমূলক কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। রক্ষণশীল ইহুদিরা আবার মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে।

তারা বলে, সমকামীদের ক্ষমা করে দেওয়া যায়। আবার বলে, এটা তো পাপ কাজ। ২০১২ সালের জুনে, রক্ষণশীল ইহুদিবাদের আমেরিকান শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে ১৩-০ ভোটে সমকামী বিবাহ অনুষ্ঠানের অনুমোদন দেয়।

উত্তর আমেরিকার ইহুদি ধর্মের বৃহত্তম শাখা সংস্কার ইহুদি ধর্ম আন্দোলন সমকামিতা এবং উভকামিতার উপর ইহুদি আইনের ঐতিহ্যগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাখ্যান করেছে।

২০০৩ সালে, ইউনিয়ন ফর রিফর্ম ইহুদিবাদ সমকামীদের উপর তার অধিকার-পন্থী নীতি উভকামী এবং ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের জন্য প্রয়োগ করে, “ট্রান্সজেন্ডার এবং উভকামী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তি এবং স্বীকৃতির জন্য সমর্থন” শিরোনাম একটি রেজোলিউশন জারি করে।

ইহুদি এলজিবিটি অধিকারের প্রবক্তা এবং সহানুভূতিশীল পাদরিরা সমকামী, সমকামী, উভকামী এবং ট্রান্সজেন্ডার প্যারিশিয়ানদের থাকার জন্য ইহুদি জীবনের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে। [7]

আশ্চর্যের বিষয় হলো, জায়োনিস্ট ইহুদিদের প্রতিষ্ঠিত ইসরাইলে সমকামিতা নিষিদ্ধ নয়।

অথচ তারা তো তাওরাতের ভবিষ্যদ্বানী অক্ষরে অক্ষরে পালন করার জন্য উদ্রীব!

কিন্তু ধর্মীয় গ্রন্থের আদেশ-নিষেধ তারা কখনোই মান্য করে নি। নিজেদের যেভাবে মন চেয়েছে, সেভাবেই চলেছে। ইসরাইলকে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে সমকামীদের রাজধানী বলা হয়।

তেলআবিব হলো বিশ্বের ১ নম্বর সমকামীদের শহর হিসেবে গড়ে উঠা পর্যটন কেন্দ্র।

প্রতিবছর তেলআবিবে সমকামীদের প্যারেডে ৫ হাজার পর্যটকসহ ১ লাখ ব্যাক্তি অংশগ্রহণ করে।

ইসরায়েল গে ইয়ুথ ” (IGY) অনেক ক্যাম্পেইন করে। এটি ২০০টিরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে ইসরায়েল জুড়ে ২২টি শহরে কাজ করে। [8]

যেই জাতি এমন জঘন্য এবং ঘৃণ্য কাজের সাথে জড়িত, সেই জাতি কিভাবে নিজেকে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে ঘোষণা দেয়?

ইসলাম ধর্মে ট্রান্সজেন্ডার এবং সমকামিতাকে কতুটুকু সমর্থন করে?

আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দ্বীন ইসলামে ট্রান্সজেন্ডার বা সমকামিতা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

পূর্বে আল্লাহ লূত আ. এর জাতিকে এই অপরাধের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।

ইসলামে আল্লাহ তা’আলা সম্ভোগ হিসেবে শুধুমাত্র নারী-পুরুষের বিয়েকে অনুমতি দিয়েছেন। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে আবার মৃত্যুদণ্ড হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ মানুষকে নারী বা পুরুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এ বিষয়ে আল্লাহ সূরা লাইল, আয়াত ৩ এ উল্লেখ করা হয়েছে। [9]

নবীজি সা. মানুষকে বিপরীত লিঙ্গের ন্যায় আচরণ করতে নিষেধ করেছেন। হাদীসে আছে,

আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস রাঃ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর লা’নাত সে পুরুষদের ওপর যারা নারী সাদৃশ্য ধারণ করে এবং সে সকল নারীদের ওপর যারা পুরুষ সাদৃশ্য ধারণ করে। (বুখারী, ৫৮৮৫)

আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ লা’নাত করেছেন ঐ সমস্ত নারীর প্রতি যারা অন্যের শরীরে উল্কি অংকণ করে, নিজ শরীরে উল্কি অংকণ করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্য ভূরু-চুল উপড়িয়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে। সে সব নারী আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি আনয়ন করে।…………………. (বুখারী, ৪৮৮৬)

সমকামিতার বিষয়ে হাদীসে অনেক হুশিয়ারী দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে,

ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ এমন লোকের দিকে তাকাবেন না, যে সমকামিতায় লিপ্ত হয়। (তিরমিজী, ১১৬৫) [10]

সমকামিতা আর ট্রান্সজেন্ডারকে কেন একই বলা হয়?

অনেক মনে একটা প্রশ্ন জাগে, কেন সমকামিতা আর ট্রান্সজেন্ডারকে একইরকম হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়? আমরা একটা গল্প দিয়ে শুরু করি।

একজন ছেলে শারিরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ। কিন্তু একদিন হঠাৎ তার মাথায় ভূত চাপলো, সে নিজেকে নারী হিসেবে দাবী করলো।

অথচ তার পুরুষাঙ্গ আছে। তার কোনো মাসিক হয় না। সে গর্ভবতী হতে অক্ষম। তার স্তন নেই ইত্যাদি। কিন্তু এরপরও সমাজ তাকে নারী হিসেবে মেনে নিল।

এই ট্রান্সওমেন বা ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি যখন বিয়ে করবে তখন সে নিশ্চয় আরেক পুরুষকে বিয়ে করবে। কারণ, সে তো নারী দাবী করে।

তাহলে জিনিষটা তো হলো এমন যে, পুরুষে পুরুষে বিয়ে করলো।

আবার একটি মেয়ে যদি শারিরিকভাবে সুস্থ হয়ে নিজেকে পুরুষ দাবী করে। তাহলে সে পরবর্তীতে অন্য এক নারীকে বিয়ে করবে।

অথচ দুজনই শারিরিকভাবে নারী। তাদের স্তন আছে। গর্ভাশয় আছে। তাদের মাসিক হয় ইত্যাদি। এভাবেই সমকামিতা বিশ্বময় প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে কুলাঙ্গাররা।

কেউ কেউ বলে থাকেন, হিজড়ারা ট্রান্সজেন্ডার। এমনকি এখন গুগলেও হিজড়াদেরকে ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

অথচ বাস্তবতা হলো সম্পূর্ণ বিপরীত। হিজড়ারা কখনোই নারী-পুরুষের বাহিরে নয়। পৃথিবীতে ৯৯.৯৮% মানুষ পুরুষ বা নারী হিসেবে জন্ম হয়।

বাকী ০.০১৮% মানুষ জন্মের সময় অ্যান্ড্রোজেন রিসিপ্টর নামক একটি জিনে পরিবর্তনের কারণে হরমোন তৈরিতে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হিজড়া হিসেবে জন্মগ্রহণ করে।

তবে বেশিরভাগ হিজড়ারাই পুরুষ হয়ে থাকে। ৫ হাজার শিশুর মধ্যে ১ জন হিজড়া হতে পারে।

এ বিষয়ে “হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার শব্দের অস্পষ্টতায় দেশে ভয়াবহ বিপর্যয়ের ঝুঁকি” শিরোনামের আর্টিকেলটি পড়া যেতে পারে।

তথ্যসুত্র

[1] HAF Policy Brief: Hindu Teachings Inclusive of LGBT People শিরোনামে তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আর্টিকেল দেখুন

[2] Stances of Faiths on LGBTQ Issues: Hinduism শিরোনামে প্রকাশিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য

[3] Hinduism and LGBT topics শিরোনামে প্রকাশিত উইকিপিডিয়া আর্টিকেল

[4] LGBTQ and Hinduism শিরোনামে প্রকাশিত oxford bibliographies আর্টিকেল

[5] বিস্তারিত দেখুন Buddhism and sexual orientation শিরোনামে উইকিপিডিয়ার আর্টিকেল। এছাড়াও দেখতে পারেন, ইন্দোনেশিয়ান একটি ঘটনা নিয়ে বৌদ্ধ ধর্মে সমকামিতা নিয়ে লেখা পিডিএফ

[6] Christianity and homosexuality শিরোনামে প্রকাশিত উইকিপিডিয়ার আর্টিকেল।

[7] Jewish views on homosexuality শিরোনামে প্রকাশিত উইপিডিয়ার লেখা। আরো দেখুন Homosexuality in Jewish Law শিরোনামে প্রকাশিত জুইশ ভারচ্যুয়াল লাইব্রেরী কর্তৃক প্রকাশিত আর্টিকেল।

[8] LGBTQ Life in Israel শিরোনামে প্রকাশিত reformjudaism.org ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আর্টিকেল

[9] আরো দেখুন, সূরা নিসা, আয়াত ১। সূরা রুম, আয়াত ২১। সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৩৬

[10] আরো বিস্তারিত পড়ুন, ট্রান্সজেন্ডার মতবাদ PDF, আসিফ আদনান, ৪২-৪৯। সমকামিতা মতাদর্শ এত বড় ইস্যু হয়ে উঠল কিভাবে? শিরোনামে প্রকাশিত ড. সরোয়ার হোসাইনের লেখা।

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top