খলিফা হিসেবে উমর রাঃ

খলিফা হিসেবে উমর রাঃ – দুই বছর খলিফার দায়িত্ব পালন করার পর ১৩ হিজরীতে আবু বকর রাঃ খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিলো।

হযরত আবু বকর রাঃ বুঝতে পারলেন, তার আয়ু শেষ পর্যায়ে আছে। তিনি তখন উপস্থিত সাহাবাদেরকে বললেন, তোমরা আল্লাহর হুকুমে আমার বাইয়াত থেকে মুক্ত হয়ে গেছ।

এখন তোমাদের প্রতি আমার কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তোমরা এখন যাকে ইচ্ছা খলিফা হিসেবে বেছে নাও। আমি বেঁচে থাকতেই তোমরা খলিফা নির্ধারণ করে নাও।

যাতে আমার মৃত্যুর পর তোমরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে না যাও।

সাহাবাদের দায়িত্ব গ্রহণে অনীহা প্রকাশ – খলিফা হিসেবে উমর

কে পরবর্তী খলিফা হবেন তা নিয়ে সাহাবারা আলোচনায় বসলেন। যাকেই বলা হচ্ছিলো তিনিই নিজের বদলে অন্যকে প্রাধান্য দিচ্ছিলেন।

একটা সময়ে তারা কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছিলেন না। ফলে তারা আবু বকর রাঃ কে বললেন,

হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! আমরা আপনার উপরই এই দায়িত্ব দিচ্ছি।

তখন আবু বকর রাঃ বললেন, তাহলে আমাকে একটু সময় দিতে হবে। আমাকে ভেবে দেখতে হবে,

কাকে আল্লাহ তা’আলা তার বান্দাদের জন্য বেশি পছন্দ করেন।

অভিজ্ঞ সাহাবাদের সাথে আবু বকর রাঃ এর পরামর্শ

আবু বকর রাঃ তখন অসুস্থ অবস্থায় এই দায়িত্ব আঞ্জাম দেয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। তিনি বিখ্যাত সাহাবী আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাঃ কে তলব করলেন।

তিনি উপস্থিত হওয়ার পর তাকে বললেন, আমাকে ওমর বিন খাত্তাব সম্পর্কে বলো।

এ কথা শুনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাঃ বললেন, আপনি যা জানতে চাচ্ছেন তা আমার চেয়ে আপনিই বেশি ভালো জানেন।

আবু বকর রাঃ বললেন, এর পরেও তুমি তোমার মতামত দাও।

তখন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাঃ বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি তাকে যেমন ভাবেন তার থেকেও তিনি উত্তম ব্যক্তি।

এরপর আবু বকর রাঃ নবীজির জামাতা উসমান রাঃ কে তলব করলেন। তিনি আসার পর তাকেও বললেন,  আমাকে ওমরের সম্পর্কে বলো।

উসমান রাঃ বললেন, তার সম্পর্কে আপনিই ভালো জানেন।

আবু বকর রাঃ বললেন, এর পরও তুমি বলো।

তখন ওসমান রাঃ বললেন, আল্লাহর কসম! তার প্রকাশ্য জীবনের তুলনায় তার অন্তর অনেক বেশি উত্তম। আমাদের মধ্যে তার সমকক্ষ কেউ নেই।

আবু বকর রাঃ বললেন, আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন। ওমরের মতো ব্যক্তি যদি না থাকতো তাহলে আমি তোমাকেই মুসলমানদের অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত করতাম।

তারপর আবু বকর রাঃ বিখ্যাত আনসারী সাহাবী উসাইদ বিন হুদাইর রাঃ কে তলব করলেন। তাকেও একই প্রশ্ন করলেন।

তিনি বললেন, আপনার পরে আমাদের মধ্যে যদি কেউ উত্তম হয়ে থাকে, তবে তিনিই সেই ব্যক্তি। আল্লাহর অসন্তুষ্টিতে তার অসন্তুষ্টি।

আল্লাহর সন্তুষ্টিতে তার সন্তুষ্টি। তার প্রকাশ্য আচরণের তুলনায় তার অন্তর আরো বেশি উত্তম। তাই তার মতো যোগ্য আর কেউ নেই।

এ ছাড়াও আরো কয়েকজন সাহাবীকে আবু বকর রাঃ তলব করে উমরের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।

শুধুমাত্র তালহা বিন উবায়দুল্লাহ রাঃ ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন।

তিনি উমর রাঃ এর রূক্ষ মেজাজ নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন। তখন আবু বকর তালহাকে বললেন, আমাকে যদি আল্লাহ জিজ্ঞাসা করে, কাকে রেখে এসেছ?

তখন অন্তত বলতে পারবো, উমরকে রেখে এসেছি। এরপর আর তালহা রাঃ কিছু বলেন নি।

উমর রাঃ কে একান্তে উপদেশ – খলিফা হিসেবে উমর

আবু বকর রাঃ উমরের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার পর সেনাপ্রধানের মাধ্যমে একটা ফরমান পাঠিয়ে দেন মদীনার অন্যান্য সাহাবাদের নিকট ও আনসারদের নিকট।

এরপর উমর রাঃ কে ডেকে তার আদেশের কথা জানান এবং মৃত্যুশয্যায় উমর রাঃ কে মূল্যবান নসিহত করেন। উমর রাঃ এমন গুরুদায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন।

এতে আবু বকর রাঃ তাকে শাসাতে বাধ্য হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি আবু বকর রাঃ এর সিদ্ধান্ত মেনে নিলেন।

আবু বকর রাঃ তখন কষ্ট করে মসজিদে গিয়ে অন্যান্য সাহাবাদের সামনে আসলেন।

এরপর বললেন, উমরের ব্যাপারে আমি যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেই সম্পর্কে তোমরা কি একমত?

সকলে বললেন, আমরা তার কথা শুনবো এবং মান্য করবো।

এরপর উসমান রাঃ আবু বকর রাঃ এর অসিয়তনামা পাঠ করলেন। এই অসিয়তনামায় উমর রাঃ এর নাম পরবর্তী খলিফা হিসেবে লিখিত ছিল।

সকলেই তখন উমর রাঃ এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করলেন। সেদিনই আবু বকর রাঃ ইন্তিকাল করেন

ওমর রাঃ তার দায়িত্ব পালনে দেরী করেন নি।

তিনদিনের মধ্যেই সৈন্য সংগ্রহ করে মুসান্না বিন হারিসা রাঃ এর নেতৃত্বে ইরাকে জিহাদের জন্য দল পাঠিয়ে দিলেন।

তথ্যসুত্র

জীবন ও কর্ম: ওমর রাঃ ১৫৮-১৭৮

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস। খন্ড ৩। পৃষ্ঠা ৯২-৯৫

আবু বকর রা. । কালান্তর প্রকাশনী। পৃষ্ঠা ৫৫৭-৫৬৬

বাহ্যিক লিংক থেকে পড়ুন

মুতা বিয়ে বা চুক্তিভিত্তিক বিয়ে কি বৈধ? পড়ুন

নবীজি কি নিজের পালকপুত্রের বউকে ভাগিয়ে বিয়ে করেছিলেন? পড়ুন

নাস্তিকদের বইতে দেখুন বৈজ্ঞানিক গাঁজাখুরি তথ্য

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমাদের লেখাগুলো সূচিপত্র অনুযায়ী দেখুন www.subject.arhasan.com এই ওয়েবসাইটে। আমরা কোন প্রকাশনীর বই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করি তা জানতে ভিজিট করুন www.arhasan.com/book এই ওয়েবসাইটে। আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করতে পারেন এই লিংক থেকে। আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করুন এই লিংক থেকে। এই লেখার লেখক সম্পর্কে আরো জানুন এই লিংক থেকে

আবু বকর রাঃ কবে ইন্তিকাল করেন?

১২ জুমাদাল আখিরাহ ১৩ হিজরী

উমর রাঃ কে খলিফা বানানোর পূর্বে কাদের মতামত নেয়া হয়েছিল?

হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাঃ, উসমান ইবনে আফফান রাঃ, উসাইদ বিন হুদাইর রাঃ, তালহা বিন উবায়দুল্লাহ রাঃ সহ সকল সাহাবীর মতামত নিয়েছিলেন

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com