ক্রমবর্ধমান মুসলিম বিদ্বেষ এবং আড়ালে কারা?

ক্রমবর্ধমান মুসলিম বিদ্বেষ এবং আড়ালে কারা ? দৈনিক কালবেলা পত্রিকা “ধর্মান্তরকরণে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর নতুন মিশন!” শিরোনামে ৪ মে ২০২৪ তারিখে একটি প্রতিবেদন প্রকাশন করে। যেটি লিখেছে রাজন ভট্টাচার্য।

লেখাটির শিরোনাম দেখে যদিও মনে হয়, বড় কোনো শিল্পকর্ম। কিন্তু এতে রয়েছে মিথ্যাচারে ভরপুর। কালবেলার ব্যাপারে পূর্ব থেকেই অভিযোগ আছে, তাদের ভুল দেখিয়ে দেওয়ার পরও তারা তা স্বীকার করে না।

কালবেলা এখানে মোটাদাগে কয়েকটি অভিযোগ উত্থাপন করে।

১. হিন্দুদের ফাঁদে ফেলে মুসলিম বানানো বা লাভ জিহাদ।

২. একটি বেসরকারি ব্যাংক কর্তৃক নওমুসলিমদের দেওয়া অনুদান।

৩. পূর্বের সরকারের আমলে ধর্মমন্ত্রণালয় থেকে নওমুসলিমদের অনুদান দেওয়া হতো। এখন তা দেওয়া হয় না। কিন্তু ইসলামিক ফাউন্ডেশন নওমুসলিমদের অনুদান দেয়।

৪. ধর্মমন্ত্রণালয় কর্তৃক ধর্মীয় ক্ষেত্রে দেওয়া অনুদান। যেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা পায় মাত্র ৬.৪%।

কালবেলার উক্ত প্রতিবেদনটি দেখে মনে হয়েছে, শেষের ৪টা অভিযোগকে তারা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রথম মিথ্যা অভিযোগটি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য উত্থাপন করেছে।

আমরা প্রতিটা বিষয় নিয়েই বিষদভাবে পর্যালোচনা করছি।

হিন্দুদের ফাঁদে ফেলে মুসলিম বানানো বা লাভ জিহাদ

মাসখানেক আগে বাংলাদেশ জমিয়তে আহলে হাদীসের একটি অফিসিয়াল প্যাডের নোটিশকে ফটোশপ দিয়ে এডিট করে তাতে উগ্র ও ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক কথাবার্তা লিখে সোস্যাল মিডিয়াতে প্রচার করা হয়।

ক্রমবর্ধমান মুসলিম বিদ্বেষ এবং

সেখানে বলা হয়, ধর্মান্তর করে মুসলিম ধর্মে আনলে বিভিন্ন পুরষ্কার দেওয়া হবে। অথচ এমন কোনো চিন্তা বা কাজ ইসলামে নেই।

এই নোটিশটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তখন কালবেলা, ভোরের কাগজসহ ভারতের কয়েকটি পত্রিকা তা নিউজ করে।

এছাড়াও ব্যাপকভাবে পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য স্থানে উক্ত নোটিশটি ট্রান্সলেট করে ফেসবুক ও এক্স/টুইটারে প্রচার করা হয়।

এটি নিয়ে সেই সময়ে রিউমার স্ক্যানার ফ্যাক্ট চেক করে তাদের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়,

ভূয়া মুসলিম বিরোধী সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে টুইটারে
ক্রমবর্ধমান মুসলিম বিদ্বেষ
মুসলিম বিদ্বেষ

এই সকল ফ্যাক্ট চেক এবং অন্যান্য তথ্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, কালবেলা ধর্মান্তকরণের এই মিথ্যা তথ্য নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা নিয়ে প্রকাশ করছে।

দাওয়াহ নিয়ে কালবেলার মিথ্যাচার

নিউজ পোর্টালগুলো মুক্তচিন্তা বা ফ্রিডমের নামে কখনো কখনো ভালো কিছু কথা বললেও পরক্ষণে এমনভাবে আঘাত করে, যা পূর্বের ভালো থেকে বড় ভয়ঙ্কর।

কালবেলা, ভোরের কাগজ ও অন্যান্য নিউজ মিডিয়াগুলোর মূল সমস্যা হলো ইসলামী দাওয়াহ্ ও তাযকিয়া।

কালবেলা ৪ তারিখের উক্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সাথে অপ্রাসঙ্গিকভাবে অন্য একটি অভিযোগ আনে।

ক্রমবর্ধমান মুসলিম বিদ্বেষ এবং

ইসলামী দাওয়াহ ইনস্টিটিউট এর দাওয়াহ বিভাগের ব্যাপারে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করে কালবেলা।

একজন মুসলিম সর্বদা অন্যের নিকট ধর্ম প্রচার করবে। সত্যোর বাণী পৌঁছিয়ে দিবে সকলের নিকট।

এটি তো কোনো অপরাধ নয়। বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে ও গ্রামাঞ্চলে বিদেশী এনজিওগুলোর খৃস্টধর্মের প্রচার-প্রসার অনেক বেশি।

এমনকি কোনো কোনো এনজিও সরকারের চেয়েও বেশি ক্ষমতাবান। এই বিষয়ক কোনো প্রতিবেদন এই সকল পত্রিকাকে করতে দেখা যায় না।

অন্য ধর্মের নিকট দাওয়াহ নিয়ে গেলে তাদের কিছু কমন প্রশ্ন থাকে। সেগুলো তারা উত্থাপন করবেই।

সেই সকল প্রশ্নের উত্তর ও দাওয়াতি মেহানত নিয়েই মাওলানা যুবায়ের হাফিঃ এর ইসলামী দাওয়াহ ইনস্টিটিউট।

এখন যদি এই দাওয়াতি কার্যক্রমকে অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করা হয় তাহলে তো সকল মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা ও ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থাকেই পরোক্ষভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হবে।

আগামীকাল তারা কুরআনের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলবে। কেননা কুরআনে কাফেরদের ষড়যন্ত্র, দাওয়াহ, জিহাদ, বিধান সহ আরো বিভিন্ন বিষয়ে বর্ণনা আছে।

নওমুসলিমদের জন্য অনুদান – ক্রমবর্ধমান মুসলিম বিদ্বেষ এবং উগ্রতা

উগ্র হিন্দুরা ও তাদের দোসররা নওমুসলিমদেরকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখে। কারণ এককালে তারা তাদের লোক ছিল। এখন মুসলমানদের সহায়ক হয়েছে।

নওমুসলিম কেয়ার এইড নিয়ে মিথ্যাচার

দেশের বেসকারি একটি ব্যাংক নওমুসলিম কেয়ার এইড নামে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে। যেখান থেকে নওমুসলিমদের সহায়তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

এটি নিয়েও কালবেলা রানা দাশগুপ্ত এর বরাতে মিথ্যাচার করেছে। পূর্বেই ফ্যাক্ট চেকার থেকে দেখানো হয়েছে, ধর্মান্তর নিয়ে কালবেলা ও ভোরের কাগজের মিথ্যাচার।

সেটিরই বরাতে এখন তারা নওমুসলিমদের জন্য কর্মসংস্থান, যাকাত ফান্ড ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে হুমকি হিসেবে বর্ণনা করছে।

এছাড়াও কালবেলা উগ্র ধর্মীয় নেতাদের বরাতে উল্লেখ করেছে, ধর্মান্তরকরণ প্রক্রিয়াকে ২০০১ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়।

হিন্দুদের মিথ্যাচার

এখানে বিষয়টা তারা এমনভাবে উল্লেখ করছে, যেন পাঠক ভেবে নেয় তাদেরকে ভুলভাল বুঝিয়ে বা প্ররোচনা দিয়ে মুসলিম বানিয়েছে।

আওয়ামীলীগ নওমুসলিমদের জন্য পূনর্বাসন ব্যবস্থা বাতিল করেছে পরবর্তীতে।

তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যাকাত ফান্ড থেকে তা এখনো চালু আছে। এটি নিয়েও উগ্রদের চুলকানির শেষ নেই।

ধর্মমন্ত্রণালয় কর্তৃক ধর্মীয় ক্ষেত্রে দেওয়া অনুদান – ক্রমবর্ধমান মুসলিম বিদ্বেষ এবং উগ্রতা

প্রতিবছর ধর্মমন্ত্রণালয় থেকে একটি নির্দিষ্ট বাজেট থাকে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ মনে করে এখানেও তাদের প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে।

আমি ভেবে আশ্চর্য হই, মূর্তিপূজক, নাস্তিক, ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসীরা কিভাবে ঐক্য পরিষদ গঠন করে? কিভাবে সম্ভব?

ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতি বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে বড় একটি অংক দেয়।

যাতে দেশে মুসলিমদের বিভিন্ন কার্যক্রমে তা থেকে খরচ করা সম্ভব হয়।

অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতি তথা হিন্দু, খৃস্টান, বৌদ্ধদের জন্যও একটি নির্দিষ্ট অংক থাকে।

২০২৩-২৪ অর্থ বছরে মন্ত্রণালয় থেকে মোট বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৩৬ কোটি টাকা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন এখান থেকেই টাকা পেয়ে থাকে। আর হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টানদের বিভিন্ন ধর্মীয় ট্রাস্টগুলো চলে সুদের টাকায়।

এই সুদ আসে হিন্দুদের একটি ট্রাস্ট থেকে। সেখানে তাদের ১০০ কোটি টাকা রয়েছে।

প্রতিবছর সেখানে থেকে ৫ বা সাড়ে ৫ কোটি সুদ আসে।

এখানে সবচেয়ে বড় আশ্চর্যজনক বিষয় হলে, হিন্দুরা এই ১০০ কোটি টাকা কোথায় পেল? কিভাবে এই টাকা তাদের হাতে আসলো?

হিন্দুদের ১০০ কোটি টাকা

এদিকে মন্ত্রণালয় থেকে তারা পায় মোট ৬ বা ৭ কোটি টাকা। সুদের ৫ ও মন্ত্রণালয়ের ৬ কোটি।

এই মোট ১১কোটি টাকা তারা বছরান্তে পায়।

তাদের অভিযোগ এখানেই যে, বাজেটের মাত্র ২.২৫% টাকা তাদেরকে দেওয়া হয় মন্ত্রণালয় থেকে। বেশি দেওয়া হয় না।

অন্যদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত কখনো কখনো পায়। তাদের এই ভিত্তিহীন অভিযোগ একটু চিন্তা করলেই বের করা সম্ভব।

এই দেশের শতকরা ৯২% মুসলমান। সেখানে মুসলমানদের ট্যাক্সের টাকায় তারা নিজেরা আল্লাহর অবমাননা করবে, আর এটিও সহ্য করতে হবে, এতটা খারাপ দিন আল্লাহ না দেখান!

আরো পড়ুন

Hate crime in India: Muslim man hacked, burned to death

India: Hate crimes against Muslims and rising Islamophobia must be condemned

লেখাটি শেয়ার করতে সর্ট লিংক কপি করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top