গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

পবিত্র কুরআন সংকলনের ইতিহাস শুরু হয় ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর রা. এর সময়কাল থেকে।

আবু বকর রা. এর শাসনামলে যখন বিভিন্ন যুদ্ধে কুরআনের হাফেজরা শহীদ হচ্ছিলেন এবং বিশেষ করে ইয়ামামার যুদ্ধে সাহাবীরা শহীদ হন তখন তিনি নবীজির ওহী লেখক জায়েদ ইবনে সাবিত রা. কে তলব করেন।

এই ঘটনা জায়েদ ইবনে সাবিত রা. নিজের মুখে বলেন। ইয়ামামার যুদ্ধের সময় খলিফা আবূ বকর রা. আমাকে জরুরি তলব করলেন। তখন উমর ফারুক রা. খলিফার নিকট উপবিষ্ট ছিলেন।

আবূ বকর রা. বললেন, ‘উমর ইবনুল খাত্তাব আমার কাছে এসে জানিয়েছে যে, রণাঙ্গণ খুবই উত্তপ্ত। কুরআনের হাফিজগণের জন্য এখন কঠিন সময়। আমার ভয় হয়, রাষ্ট্রের হাফিজগণ এরূপ শহীদ হইতে থাকিলে আমরা কুরআনের অনেকাংশ হারিয়ে ফেলবো। তাই আমি মনে করি, এখন কুরআন গ্রন্থাকারে সংকলিত করা অতি প্রয়োজন।’

আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূল সা. যা করেন নি, আমরা তা কিভাবে করতে পারি?

উমর রা. বললেন, আল্লাহর শপথ! এটি উত্তম কাজ।

তখন আবূ বকর রা. জায়েদকে বললেন- ‘তুমি বিচক্ষণ যুবক ও সর্বাধিক অপবাদমুক্ত নির্দোষ ব্যক্তি। তুমি রাসূল সা.-এর ওহী লেখক ছিলে। সুতরাং তুমিই কুরআন সংগ্রহ করে কাজ শুরু করো।’

যায়েদ বিন সাবেত বলেন, আল্লাহর কসম! আমাকে যদি বলা হতো যে, একটি পাহাড় বহন করে আরেকটি পাহাড়ের কাছে নিয়ে যাও। তাহলে সেটি আমার কাছে এত ভারী মনে হইতো না, যা এই নির্দেশে মনে হলো।”

আমি আবু বকরকে প্রশ্ন করলাম, ‘রাসূল সা. যা করেন নি তা আপনারা কি করে করছেন?’

 আবু বকর জবাব দিলেন- আল্লাহর কসম! এটি উত্তম কাজ।’

তারপর যতদিন আমার বুঝ আসেনি, ততদিন আবু বকর রা. আমার কাছে আসতে লাগলেন।

অবশেষে আল্লাহ্ তা’আলা আবূ বকর ও উমরকে যেই বুঝ দান করেয়াছেন, আমাকেও সেই বুঝ দান করলেন।

অতঃপর আমি কুরআন সংগ্রহ করা শুরু করলাম। তা গাছের বাকল, পাথরের টুকরা ও মানুষের অন্তরে গ্রথিত ছিল।

আবু খুযায়মা আনসারী রা.-এর কাছে সূরা তাওবার শেষাংশ পেলাম। এই সহীফা হযরত আবূ বকর রা.-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত তাঁহার কাছেই ছিল। তারপর তা হযরত উমর রা.-এর কাছে রক্ষিত থাকে।”

কুরআন সংকলনের ইতিহাস ও পরবর্তী কার্যক্রম

এটাই ছিল কুরআন সংকলনের ইতিহাস এর প্রথম ধাপ। হযরত সিদ্দীকে আকবর রা. এটি সম্পন্ন করে আল্লাহর দীনকে মজবুত ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আল্লাহ্ তাঁকে তাঁর রাসূলের স্থলাভিষিক্ত করেছেন।

তিনিই যাকাত বিরোধীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন। তেমনি তিনিই জিহাদ পরিচালনা করেন মুরতাদদের বিরুদ্ধে এবং রোমক ও পারস্য সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে।

তিনি অভিযান পরিচালনা করেন। দূত প্রেরণ করেন। সৈন্য প্রেরণ করেন। বিশৃঙ্খল অবস্থাকে সুশৃঙ্খল করেন ও বিক্ষিপ্ত কুরআনকে গ্রথিত করেন।

ফলে সমগ্র কুরআনের অসংখ্য কারী ও হাফিজ তৈরি হয়। অবশ্যই এটি আল্লাহ্র বাণীর হুবহু বাস্তবায়ন মাত্র।

পরবর্তীতে হযরত উসমান রা. এর সময়ে কুরআন সংকলনের ইতিহাস এর দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়।

তিনি বিশিষ্ট সাহাবীদেরকে নিয়ে একটি দল গঠন করেন।

উসমান রা. এর উক্ত ঘটনা এভাবে বর্ণিত আছে। একদিন হযরত উসমান রা. মিম্বরে দাঁড়িয়ে লোকজনের উদ্দেশ্যে বললেন,

তোমাদের নবী ১৩ বছর পূর্বে তোমাদের প্রতি দায়িত্ব দিয়ে চলে গেছেন। কিন্তু আজ তোমরা কুরআন সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়ছো। তোমরা একেকজন একেকভাবে কুরআন তেলওয়াত করো এবং বলো, এটা উবাই ইবনে কা’বের কিরাত, এটা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের কিরাত। আবার তোমরা একেকজন অন্যকে সম্বোধন করে বলো, আল্লাহর কসম! তোমার কিরাত টিকিবে না। আমি তোমাদের প্রত্যেককে বলছি, যার নিকট কুরআনের যেই অংশ আছে সেগুলো আমার নিকট নিয়ে এসো।

তখন লোকেরা তাদের নিকট থাকা কুরআনের আয়াতগুলো নিয়ে আসলো।

কেউ লিখেছে কাগজে। কেউ বা হাড্ডিতে। আবার কেউ গাছের পাতায়, পশুর চামড়ায় অথবা পাথরে।

হযরত উসমান রা. প্রত্যেকে আলাদা আলাদাভাবে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি কুরআনের এই আয়াত রাসূল সা. এর নিকট হতে শুনেছ?

তারা প্রত্যেকেই আল্লাহর কসম করে বললো, হ্যাঁ অবশ্যই। কোনো সন্দেহ নেই।

তখন উসমান রা. লোকদের জিজ্ঞাসা করলেন, লেখালেখিতে কে সবচেয়ে দক্ষ? লোকেরা বললো, জায়েদ ইবনে সাবিত রা.।

এরপর উসমান রা. বললেন, সবচেয়ে বিশুদ্ধ আরবি উচ্চারণ কার? লোকেরা বললো, সাঈদ ইবনে আস রা. এর। তখন উসমান রা. বললেন, সাঈদ উচ্চারণ বলে দিবে আর জায়েদ তা লিপিবদ্ধ করবে।

কাজের জন্য পূর্বে আবু বকর রা. এর সময়ে লিখিত পাণ্ডুলিপিটি আনা হলো।

সেটি তখন হযরত হাফসা রা. এর নিকট সংরক্ষিত ছিল। উনাকে উসমান রা. বলেছেন কাজ শেষ হলেই এটি আপনাকে দিয়ে দেওয়া হবে।

এভাবেই উসমান রা. এর নির্দেশ অনুসারে কুরআনের অনেকগুলো অনুলিপি তৈরি করা হলো। এরপর উসমান রা. উক্ত অনুলিপিগুলো বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

পৃথিবীতে কুরআন সংকলনের ইতিহাস হিসেবে হযরত উসমান রা. এর এই কাজ আজীবন স্বরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি উম্মাহকে একটি বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়েছেন।

তথ্যসুত্র

তাফসিরে ইবনে কাসির, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৮-৩৯

সর্বপ্রথম কুরআন সংকলনের উদ্যোগ নেন কে

ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা. সর্বপ্রথম কুরআন সংকলনের উদ্যোগ নেন।

কুরআন সংকলন করেন কে

কুরআন সংকলন করার কাজটি করেন হযরত জায়েদ বিন সাবিত রা.।

কে সর্বপ্রথম কুরআন সংকলনের কথা বলেন

সর্বপ্রথম কুরআন সংকলনের কথা বলেন হযরত আবু বকর রা.।

সর্বপ্রথম কুরআন সংকলনের উদ্যোগ গ্রহন করেন কে

সর্বপ্রথম কুরআন সংকলনের উদ্যোগ গ্রহন করেন হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা.।

সর্বপ্রথম কুরআন সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন কে

সর্বপ্রথম কুরআন সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর রা.।

আল কুরআনের সর্ব প্রথম কোন ভাষায় কে অনুবাদ করেন

আল কুরআনের সর্ব প্রথম অন্য অনুবাদ করেন হযরত সালমান ফারসি রা.। তিনি ফারসি ভাষায় কুরআন অনুবাদ করেন

মাসহাফ মানে কি

মাসহাফ বলা হয় কুরআনের সংকলনকে। আমাদের নিকট যেই কুরআন আছে, এটি উসমান রা. এর সময়ে তার উদ্যোগে সংকলন করা হয়। তাই এটিকে মাসহাফে উসমানী বলা হয়।

abdur rahman blogtaxi fare calculatordowndetector

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top