ওমরের যুগে বিদ্যাপীঠ

ওমরের যুগে বিদ্যাপীঠ – হযরত ওমর রাঃ এর যুগে মানুষের শিক্ষা-দীক্ষাকে প্রসারিত করার জন্য তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।

সেখানে তিনি অভিজ্ঞ সাহাবীদেরকে মানুষকে জ্ঞান শিক্ষা দেয়ার জন্য নিয়োগ দিতেন।

মদীনা, বসরা ও কূফায় তিনি আলাদা আলাদা বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠা করেন। আমরা নিচে এক এক করে তা বর্ণনা করছি।

মদীনার বিদ্যাপীঠ – ওমরের যুগে বিদ্যাপীঠ

হযরত ওমর রাঃ এর সময় রাজধানী ছিল ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শহর মদীনা। এখান থেকেই ইলম চর্চার শুরু। ওমর রাঃ মদীনাকে আরো সমৃদ্ধ করেন।

রাসূল সাঃ এর গুরুত্বপূর্ণ সাহাবী এবং বিখ্যাত ওহী লেখক যায়েদ বিন সাবেত রাঃ কে মদীনায় রাখেন ইলম চর্চার জন্য।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ বলেন, ওমর রাঃ অনেক সাহাবীকেই বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়েছিলেন।

কিন্তু যায়েদ রাঃ কে মদীনাবাসীদের জন্য রেখে দেন।

হুমায়েদ ইবনে আসওয়াদ রহঃ বলেন, যায়েদ রাঃ এর পরে হযরত ইমাম মালেক রহঃ ব্যতিত অন্য কারো মতামত মদীনাবাসীরা গ্রহণ করতে পারে নি।

রাসূল সাঃ নিজে যায়েদ রাঃ কে উত্তারিধারের জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন। কিভাবে মৃত ব্যক্তির সম্পদ বন্টন করবে? কিভাবে সকলেই তার প্রাপ্য অংশ পাবে, ত শিখেছিলেন যায়েদ রাঃ।

এমনকি রাসূল সাঃ তার ব্যাপারে বলেছিলেন, উত্তরাধিকারের ব্যাপারে যায়েদ সবচেয়ে জ্ঞানী।

যায়েদ বিন সাবেত রাঃ এর সোহবতে যেসব তাবেয়ী ধন্য হয়েছিলেন,

সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব রহঃ, উরওয়া বিন আয যুবায়ের রহঃ, কুবায়সা বিন যুহায়েদ রহঃ সহ আরো অনেকে।

বসরার বিদ্যাপীঠ – ওমরের যুগে বিদ্যাপীঠ

ওমর ওমর রাঃ এর নির্দেশে বিখ্যাত সাহাবী উতবা ইবনে গাযওয়ান বসরা নগরীর গোড়াপত্তন করেন। পূর্বে এটি একটি গ্রাম ছিল।

১৪ হিজরীতে তিনি এখানে একটি শহর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এরপর থেকে আস্তে আস্তে এটি অন্যতম ব্যস্ত নগরী হয়ে উঠে।

রাসূল সাঃ এর অনেক সাহাবী স্থায়ীভাবে বসরায় এসে বসবাস শুরু করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন,

হযরত আবু মুসা আশআরী রাঃ, ইমরান ইবনে হুসাইন রাঃ সহ আরো অনেকে।

সর্বশেষ নবীজির খাদেম আনাস ইবনে মালেক রাঃ ও বসরায় এসে বসবাস শুরু করেন।

এসব সাহাবীদের মধ্যে আবু মুসা আশআরী রাঃ ও আনাস রাঃ সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন।

ওমর রাঃ এর নির্দেশে মুসা আশআরী রাঃ বসরার শাসনভার গ্রহণ করেন। তিনি সেখানে বিচার ব্যবস্থা, স্বাধীনতচেতা মনোভাব সহ সকল ধরণের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করেন।

আবু মুসা আশআরী রাঃ জনগণকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। তার তেলওয়াত ছিল অত্যন্ত সুমধুর। ওমর রাঃ তার তেলওয়াতের প্রশংসা করতেন।

একবার তিনি ওমর রাঃ এর নিকট হঠাৎ আগমন করলেন। তখন সবেমাত্র নামাজ শেষ হয়েছে।

ওমর রাঃ জিজ্ঞাসা করলেন, কি বিষয়ে এসেছ?

আবু মুসা আশআরী রাঃ বললেন, ফিকহী বিষয়ে আলোচনা ছিল।

ওমর রাঃ তখন সেখানে বসে পড়েন। তার প্রায় দীর্ঘসময় ধরে মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আলোচনা করলেন। আলোচনা শেষে আবু মুসা রাঃ হেসে বললেন,

আমিরুল মুমিনীন! আমরা কিন্তু ইবাদতেই লিপ্ত ছিলাম।

একবার ওমর রঃ এর নিকট বসরা থেকে এক ব্যক্তি আসলো। তখন ওমর রাঃ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আবু মুসা আশআরীকে কোন অবস্থায় দেখে এসেছ?

তিনি  বললেন, তাকে কুরআন শিক্ষাদানে দেখে এসেছি।

কুফার বিদ্যাপীঠ – ওমরের যুগে বিদ্যাপীঠ

হযরত ‍ওমর রাঃ কুফাবাসীদের নিকট চিঠি লিখে বলেছিলেন, হে কুফাবাসী! তোমরা আরবদের মাথা ও খুলি। তোমাদের নিকট আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে পাঠালাম।

আমি তাকে তোমাদের জন্য পছন্দ করেছি। তোমরা তাকে মেনে চলো এবং তার আনুগত্য করো।

ওমর রাঃ কুফার প্রতি সর্বদা দৃষ্টি রাখতেন। একবার তিনি জানতে পারলেন, কুফার অধিবাসীরা তাদের আঞ্চলিক ভাষায় কুরআন পড়ে।

তখন তিনি তাদেরকে এভাবে পড়তে নিষেধ করলেন। বললেন, কুরআন কুরাইশদের ভাষায় নাজিল হয়েছে। এভাবেই শিক্ষা করা উচিৎ।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ এমন এক প্রজম্ম তৈরি করতে চাচ্ছিলেন, যারা কুরআনের ধারক-বাহক হবে। তারা আল্লাহর আদেশ ছড়িয়ে দিবে।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ এর জ্ঞান ওমর রাঃ নিজেও স্বীকার করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ সর্বদা ওমর রাঃ কে মান্য করতেন।

তার কোনো মত যদি ওমর রাঃ এর মতের সাথে না মিলতো তাহলে তিনি ওমর রাঃ এর মতামত গ্রহণ করার জন্য বলতেন।

সিরিয়ার বিদ্যাপীঠ

সিরিয়া বিজয়ের পরে ইয়াজিদ ইবনে আবু সুফিয়ান রাঃ ওমর রাঃ এর নিকট চিঠি লিখে বললেন, সিরিয়ার মানুষ জ্ঞান আরোহনে আগ্রহী।

এখানে কয়েকজন দক্ষ ব্যক্তিকে পাঠিয়ে দিন। ওমর রাঃ তখন সিরিয়াতে মুআয বিন জাবাল রাঃ, ‍উবায়দা ইবনে সামিত রাঃ ও আবু দারদা রাঃ কে সিরিয়ায় পাঠান।

ওমর রাঃ তাদেরকে বললেন, হিমস শহর থেকে শিক্ষা দেয়া শুরু করবেন। সেখানে অনেক মানুষ রয়েছে, যারা দ্রুত জ্ঞান শিক্ষা করতে পারে।

এই সাহাবীরা আস্তে আস্তে সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও দামেষ্কের মানুষদের জ্ঞান শিক্ষা দেন। জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়ে দিকে দিকে।

মিসরের বিদ্যাপীঠ

হযরত আমর ইবনে আস রাঃ রোমানদের সাথে জিহাদ করে মিসর জয় করেন। ইসলামের পতাকাতলে মানুষ দলে দলে আসতে লাগলো।

কিন্তু তাদের অধিকাংশই ইসলামের পূর্ণ জ্ঞান রাখতো না। আমর ইবনে আস রাঃ এর সাথে অনেক সাহাবী ছিলেন। উকবা উবনে নাফে রাঃ সহ আরো অনেক সাহাবীর পদচারণায় মিসর ধন্য হয়েছিল।

তথ্যসুত্র

জীবন ও কর্ম: ওমর রাঃ। পৃষ্ঠা ৩৬১-৩৮৭

আরো পড়ুন

আবু বকর রাঃ এর উসামা রাঃ এর বাহিনী প্রেরণ ও উমর রাঃ এর মতামত

আবু বকর রাঃ এর খেলাফতকালে উমর রাঃ

খলিফা হিসেবে ওমর রাঃ এর বাইয়াত গ্রহণ

ওমর রাঃ কেমন চরিত্রের ব্যক্তি ছিলেন, পড়ুন

বাহ্যিক লিংক থেকে পড়ুন

জাহান্নামের উত্তাপ থেকে কি জ্বর হতে পারে?

বজ্রপাত কি ফেরেশতাদের গর্জনের মাধ্যমে আসে

ইসলামে জিজিয়া কর কি শোষণমূলক বিধান?

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমাদের লেখাগুলো সূচিপত্র অনুযায়ী দেখুন www.subject.arhasan.com এই ওয়েবসাইটে। আমরা কোন প্রকাশনীর বই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করি তা জানতে ভিজিট করুন www.arhasan.com/book এই ওয়েবসাইটে। আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করতে পারেন এই লিংক থেকে। আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করুন এই লিংক থেকে। এই লেখার লেখক সম্পর্কে আরো জানুন এই লিংক থেকে

ওমর রাঃ মদীনায় কোন সাহাবীকে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন?

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ কে

বসরা শহরে কাকে ওমর রাঃ শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেন?

হযরত আবু মুসা আশআরী রাঃ

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com