উসামার বাহিনী প্রেরণ

উসামার বাহিনী প্রেরণ – রাসূল সা. জীবনের শেষদিনগুলোতে রোমানদের টুটি টেপে ধরার জন্য একটা বাহিনী তৈরী করেন। যারা জিহাদে যেতে কার্পণ্য করে না।

এই বাহিনীর সেনাপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন মুতার যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এবং শহীদ যায়েদ বিন হারিসা রা. এর সন্তান উসামা বিন যায়েদ রা.।

এই রোমানরা মুসলমানদের জন্য অনেক বড় হুমকি ছিল। তারা বারবার মুসলমানদের এবং আরব সীমান্তে আক্রমণের চেষ্টা করতো।

সর্বপ্রথম তাদের সাথে মুতার প্রান্তরে মুসলমানদের সাথে লড়াই হয়। পরবর্তীতে তাবুক যুদ্ধ হয়। এরপর ছিল এই উসামার বাহিনী।

উসামার বাহিনী প্রেরণ

উসামার নেতৃত্ব ও সাহাবাদের ভিন্ন মতামত

সে সময় উসামা রা. এর বয়স ১৯ পার হয় নি। তাই অনেক সাহাবারা নবীজিকে বলেছিলেন আমির বা সেনাপ্রধান পরিবর্তন করে দিতে।

তখন নবীজি তাদেরকে বললেন, আজ যদি তোমরা তার নেতৃত্বের উপর আপত্তি উত্থাপন কর (এটা আশ্চর্যের কিছু নয়, কেননা) এর পূর্বে তোমরা তার পিতার নেতৃত্বের ওপরেও আপত্তি তুলেছিলে।

আল্লাহর শপথ! তার পিতা ছিল এ নেতৃত্বের যোগ্যতম ব্যক্তি এবং সে ছিল আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়।”

নবীজি ইন্তিকালের দুইদিন আগে খুব জোর দিয়ে বলেছেন, তোমরা উসামার বাহিনীকে প্রেরণ করে দাও।

নবীজি উসামা রা. কে বলেছিলেন, তোমার পিতার শাহাদাতস্থলের দিকে বেরিয়ে পড়ো। আর আমি তোমাকে এই বাহিনীর সেনাপ্রধান নিযুক্ত করলাম।

হযরত আবু বকর রা. খেলাফতের আসনে আরোহণের পর সর্বপ্রথম তিনি গুরুত্বারোপ করে উসামার বাহিনীকে প্রেরণ করার। কারণ নবীজি তাড়াতাড়ি এই বাহিনীকে পাঠাতে বলেছিলেন।

ঠিক এমন সময় আরবের বিভিন্ন দিকে বিদ্রোহ এবং মুরতাদ হওয়ার হিড়িক পড়ে গেল। তখন অন্যান্য সাহাবারা আবু বকরের নিকট বললো,

আপনি উসামার বাহিনীকে পরে প্রেরণ করুন। আগে এই বাহিনীকে মুরতাদদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করুন। আবু বকর রা. তা করতে অস্বীকার করলেন।

এরপর তিনি বললেন, যদি আমার প্রবল ধারণা হয়, হিংস্র জন্তুরা মদীনায় প্রবেশ করবে এবং আমাকে ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে তবুও আমি এই বাহিনীকে প্রেরণ করবো।

আমি কিভাবে এই বাহিনী পাঠানো থেকে বিরত থাকতে পারি, যেখানে রাসূল সা. আদেশ দিয়েছেন।

চূড়ান্তভাবে উসামার বাহিনীকে প্রেরণ

হযরত আবু বকর রা. উসামার বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধির জন্য তাদের সাথে চলতে থাকেন। আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রা. খলিফার বাহন নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন।

উসামা রা. তখন ঘোড়ার উপর বসে ছিলেন। তিনি তখন বললেন, হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা! আমি সওয়ারিতে আরোহণ করুন। অন্যথায় আমরা পায়ে হেঁটে চলবো।

আবু বকর রা. তখন জবাবে বললেন, তোমারও ঘোড়া থেকে নামা দরকার নেই। আমারও ঘোড়া থেকে উঠা দরকার নেই।

এতে কোনো অসুবিধা নেই। আমি আমার পা আল্লাহর রাস্তায় ধুলোমলিন করতে চাই।

ওমর রা. কে মদীনায় রাখা

উক্ত বাহিনীকে অন্যন্য মুজাহিদদের মতো হযরত উমর রা. ও ছিলেন। হযরত আবু বকর রা. তখন উসামাকে বললেন,

তুমি যদি চাও তাহলে ওমরকে আমার নিকট রেখে যেতে পার। তাকে আমার প্রয়োজন হতে পারে।

উসামা রা. তৎক্ষণাৎ অনুমতি দিয়ে দেন। এই ঘটনা দ্বারা আমিরের মর্যাদা ও মতামতের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।

আবু বকর রা. তখন ছিলেন মুসলিম বিশ্বের খলিফা। তার আদেশ মানতে সকলে বাধ্য।

তিনি চাইলে ওমর রা. কে নিজের নিকট রাখতে পারতেন।

কিন্তু তা না করে সেনাপ্রধানের নিকট তিনি অনুমতি চাইলেন।

উসামার বাহিনী চলে যাওয়ার পর মদীনার প্রতিরক্ষা

হযরত উসামা রা. তার বাহিনী নিয়ে মদীনা ত্যাগ করার পর মদীনার সামরিক শক্তি কমে যায়।

এ কারণে মুরতাদরা মদীনার আশেপাশে একত্রিত হতে থাকে।

মদীনার উত্তর দিক থেকে আবস ও জুবইয়ান গোত্র, উত্তর-পূর্বদিক থেকে বনু ফাযারা গোত্র, দক্ষিণ-পূর্ব থেকে বনু গাতফানের মুরতাদরা মদীনার দিকে ধেয়ে আসে।

আবু বকর রা. তখন প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি শহরের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন এবং মদীনাবাসীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন।

মুরতাদের আতঙ্ক

উসামা রা. এর বাহিনী শামের সীমান্ত দিয়ে অতিক্রম করছিল। এখানে একটা গোত্র মুরতাদ হওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছিল।

তারা যখন এত বড় মুসলিম বাহিনী দেখে তখন ভড়কে  যায়।

তারা বিদ্রোহের চিন্তা পরিত্যাগ করে।

কুজাআ অঞ্চল জয়

এই অঞ্চলে আসার পর উসামা রা. অশ্বারোহীদের ছড়িয়ে দেন। নবী সা. এই নির্দেশ করেছিলেন। আল্লাহর রহমতে মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করে।

এই অভিযানে ৪০ দিন অতিবাহিত হয়।

রোম সম্রাটের পলায়ন

উসামার বাহিনী প্রেরণ – রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস নবীজির মৃত্যু সংবাদ এবং উসামার বাহিনীর ধেয়ে আসার খবর একসাথে পায়। এ কথা শুনে সে বিস্ময়ের সাথে বলতে থাকে,

এরা কেমন মানুষ? একদিকে তাদের প্রধান ইন্তিকাল করেছে অন্যদিকে তারা আমাদের উপর চড়াও হতে আসছে? এরপর হিরাক্লিয়াস আক্রমণের উদ্দেশ্যে পরিত্যাগ করে শহরেরে দিকে পলায়ন করে।

মদীনার পার্শ্ববর্তী মুরতাদদের পলায়ন

হিরাক্লিয়াস পালিয়ে যাওয়ার পর উসামা রা. বাহিনী নিয়ে মদীনায় যাত্রা করেন।

উসামার বিজয়ের সংবাদ শুনে মদীনার আশেপাশে থাকা মুরতাদরা মদীনা আক্রমণের ইচ্ছা পরিত্যাগ করে ভেগে গেল।

 

আমি একজন ইসলামিক আলোচক, লেখক। ছোটবেলায় পড়ালেখা করেছি কওমী মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাইন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। বর্তমানে আমি ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নরত। অবসরে আমি বই পড়তে পছন্দ করি। নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু জানতে ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা, ভালো মানুষ হয়ে সমাজকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বিরত রাখার চেষ্টা করা।

https://www.arhasan.com