আলী রা. এর খেলাফতের পরবর্তী অবস্থা

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

আলী রা. এর খেলাফতের পরবর্তী অবস্থা – ৩৬ হিজরী সনে মদীনার সকল মানুষ হযরত আলী রা. এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে। তাদের মধ্যে হযরত উসমানের হত্যাকারী ও বিদ্রোহীরাও ছিল।

এটি ছিল হযরত আলী রা. এর খেলাফতের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর মধ্যে একটি।

হযরত আলীর খেলাফতকালে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল।

শুরাভিত্তিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হযরত আলীর হাতে মদীনার বিশিষ্ট সাহাবীরা হযরত আলীর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন।

পূর্বেও খলীফা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মদীনাবাসীর বাইয়াতকেই যথেষ্ঠ মনে করা হতো। কারণ, এটি ছিল রাজধানী ও জ্ঞানীদের মিলনস্থল।

বিদ্রোহীরা কেন আলীর হাতে বাইয়াত নিল?

হযরত আলী রা. বিদ্রোহীদের নিকট হতে বাইয়াত নেওয়া কেবল রাজনৈতিক কারণেই হয় নি, রবং তা ছিল কুরআনের নির্দেশ।

সূরা মায়েদার ৩৩-৩৪ নং আয়াতে আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন।

‘যারা নিজের আয়ত্তে আসার আগেই তাওবা করে নেয়, (তাদেরকে শাস্তি দেওয়া দরকার নেই।)’

তাই ফিকহের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়,

যদি কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকরীর উপর নিজের ক্ষমতা আসার আগেই তারা শাসকের নিকট আত্মসমর্পণ করে আনুগত্য স্বীকার করে তাহলে তারা ক্ষমার যোগ্য।

এছাড়াও মদীনার লোকেরা এই বিদ্রোহীদের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত ছিল না। কারণ, তারা এসেছিল মিসর, সিরিয়া থেকে।

তাই হযরত আলী রা. এর হেকমত ছিল, বিদ্রোহীরা আনুগত্য করে নিলে পরবর্তীতে তাদের উপর শাস্তি কার্যক্রম করা হলে তারা কোনো আপত্তি তুলতে পারবে না।

এমনকি হযরত আলী রা. এর বিদ্রোহে যুক্ত থাকা কয়েকজনকে পরবর্তীতে তিনি যোগ্যতা অনুযায়ী পদ প্রদান করেছিলেন। যেমন, মুহাম্মাদ বিন আবু বকর, মালেক বিন আশতার নাখায়ি প্রমুখ।

হযরত উসমানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের শ্রেণীবিভাগ

হযরত উসমান রা. কে যারা শহীদ করেছিল, তারা ছিল সংখ্যায় খুবই কম। অন্যরা শুধু বাসভবন অবরোধ ও হট্টগোল করেছিল।

আলী রা. এই অবরোধকারীদের শাস্তি দেওয়া ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে সমীচীন মনে করেন নি।

তাই এই বিদ্রোহীকারীদের কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।

১. তারা পর্দার আড়ালে কাজ করতো এবং তাদেরকে পাকড়াও করার মতো কোনো প্রমাণ সামনে রাখতো না। যেমন, আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা।

২. কিছু মানুষকে হত্যাকারী হিসেবে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছিল। অথচ তারা ছিল নির্দোষ।

যেমন, হযরত আমর ইবনে হামিক ও আব্দুর রহমান বিন উদায়েস রা.।

৩. হযরত উসমান রা. এর হত্যাকারীদের কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই জনগণ মেরে ফেলেছিল।

যেমন, কুলসুম বিন তুজাইব, সুদান বিন হুমরান, কুতাইরা বিন হুমরান।

৪. উসমান রা. এর যেই সকল হত্যাকারীরা বেঁচে ছিল, তারা ছিল পলাতক। পরবর্তীতে মুআবিয়া রা. এর শাসনামলে জানা যায়,

তারা শাম ও মিসরের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে আত্মগোপন করে আছে। আর এই অঞ্চল আলী রা. এর নিয়ন্ত্রণে ছিল না।

৫. এরা ছিল সাধারণ হুজুগে দল। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল না। কিন্তু বিদ্রোহীদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল। পরে নতুন খলিফা হলে তার হাতে বাইয়াত হয়।

তথ্যসুত্র

মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৫৯-২৬৭

গাজ্জার জন্য অনুদান

৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে তুফানুল আকসা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জায় অসংখ্য মানুষ আহত ও শহীদ হয়েছে। বহু মানুষ নিজেদের ঘর-বাড়ী হারিয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে গাজ্জার ৯৮% মানুষ অনাহারে জীবন-যাপন করছে। গাজ্জার মানুষের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে?

আর-রিহলাহ ফাউন্ডেশন তুফানুল আকসা যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের গাজ্জার জন্য ডোনেশন সংগ্রহ করে আসছে। এই মহান কাজে আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।

অনুদান দিন

Scroll to Top